পিরিয়ড

পিরিয়ড
এই যে ছবি টা দেখছেন,,
এই ছবি নিয়ে বিতর্কের অন্ত নেই,, উঠেছে হাজার টা প্রশ্ন!!
কারোর কাছে, এটা আদিখ্যেতা... কারো কাছে এই ভাবে মহান হওয়া যায় না... কারো কাছে, এটা তো বর্জ্য পদার্থ... এটাকে নিয়ে এত মাতামাতি , নাচানাচি না করাই ভালো... তাদের সবার জন্য আগেই আমি সমবেদনা জানালাম ...

এদের ভেতর বেশিরভাগই কিন্তু মহিলা ... না না অবাক হবেন না,এটাই সত্যি!!

তো তাদের উদ্দেশ্য করে বলি,, 
যে ছবি নিয়ে এতো তর্ক করছেন, সেটায় কোনো নোংরামি, বা অপবিত্রতা নেই বিশ্বাস করুন!!

প্রথমত,, বীর্য আর বর্জ্য পদার্থ এক নয়! একজন নতুন প্রাণ পৃথিবীতে আসার জন্য, বীর্যের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে,, তাই ভুলেও এই দুটো ব্যাপার কে এক করা যাবে না...

দ্বিতীয়ত, "মেয়েদের মাসিক রক্ত সেলিব্রেশন" ঠিক কোথায় কি ভাবে হয়!? 
সেলিব্রেশন!? সত্যি!? ঠাকুর ঘরে যেও না, রান্না ঘরে যেও না, প্যাড টা কেউ দেখে নি তো!! 
কালো প্যাকেট এ প্যাড টা মুড়িয়ে নাও!
আজকাল কার মেয়ে! এই নিয়ে মন্দির যাবে! কি নির্লজ্জ!! 
ব্যথা ব্যথা করে চিৎকার করো না! লোকে জানলে কি হবে! দাঁত চেপে সহ্য করো!

এটাকে সেলিব্রেশন বলে বুঝি!

আর এটা শরীর থেকে বেরোনোর পর হাজার ব্যাকটেরিয়ার জন্ম দেয় মানছি,, কিন্তু এটাও কিন্তু নতুন প্রাণ জন্ম দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়,,
তাই এটাকে যথেষ্ট ওপরে রাখা উচিৎ,

দেখুন, মাসিক রক্তকে কোন পুরুষ স্যুপের মতো পান করলো বা তা দিয়ে স্নান করলো,, তাতে আমাদের কি যাবে আসবে বলুন তো!? ব্যাসিকালি তাতে আমাদের কিছুই লাভ হবে না, 
তাহলে কি স্বীকৃতি চাই!? 
হ্যাঁ স্বীকৃতি চাই,

যদি অষ্টমীর সকালে আমি দেখি আমার পিরিয়ড হয়েছে, আমি যেন তবু অঞ্জলি দিতে পারি, সেই স্বীকৃতি চাই...

পিরিয়ডে নতুন জামা পড়ার স্বীকৃতি চাই...

আমি পিরিয়ডের ব্যথা হলে, দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করতে পারি না,, তখন যদি আমার বাবা, কাকা, বা কোনো ছেলে বন্ধু জিগ্গেস করে কি হয়েছে, তাদের মিথ্যে না বলে বলতে চাই, আমার কষ্ট টা, আমার তাতে লজ্জা করবে না, সেই স্বীকৃতি চাই...

আমি আমার প্যাড কালো প্যাকেটে লুকিয়ে আনতে পারবো না, সেই স্বীকৃতি চাই...

আমার জামায় লাল দাগ লাগলে, লজ্জায় লাল হতে পারবো না, কাজ কর্ম ফেলে ছুঁটে বাড়ি পালাতে পারবো না, সেই স্বীকৃতি চাই...

সত্যি বলতে কি, সমাজের চোখে আরেকটু বেশি নির্লজ্জ হওয়ার স্বীকৃতি চাই...

মাসিক এর রক্ত এবং বীর্য তো প্রাকৃতিক জিনিস... ছেলেদের বীর্যর কারণে তো মন্দির যাওয়া আটকায় না, নতুন জামা পড়া আটকায় না, 
তবে মাসিকের রক্ত ক্ষরণে কেন তা হবে!?
তাহলে কি বলতে চান ,, ছেলেদের বীর্য বেরোনোর এক ঘন্টা পর তা অমৃতে পরিণত হয়!? আর মাসিকের রক্ত থেকেই খালি জন্ম হয় ব্যাকটেরিয়ার!
নিশ্চই না তো!?

তবে হ্যাঁ, একটা ফারাক আছে...
ভারতে প্রায় সত্তর শতাংশ মেয়ের মাসিকের রক্ত ক্ষরণে কষ্ট হয়, আর নতুন প্রাণ জন্মের সময় ও সদ্যজাতটি মেয়ে দেরই গর্ভে আশ্রয় নেয় দশ মাস...

আর সব থেকে আশ্চর্যের ব্যাপার কি জানেন? মাসিক রক্তের যথাযথ কদর কিন্তু পুরুষ রাই করে,,
করে না কিছু ভন্ড মহিলারা! 
তারা সারাদিন সনাতন ধর্মকে গালিগালাজ করবে, আবার কেউ ভালো কিছু করলেও সহ্য হবে না, সেটাকে নিয়ে সমালোচনা করে, বিতর্কের জায়গায় নিয়ে গিয়ে দাঁড় করবে!!
এটাকে কি বলে জানেন?? ভণ্ডামি, স্রেফ ভণ্ডামি!

আমার কিন্তু ছবি টা বেশ লেগেছে... চিত্রশিল্পী কে অনেকটা শ্রদ্ধা জানালাম... 
আর হ্যাঁ, এবার পুজোয় যদি আমার পিরিয়ড হয়, তবু আমি অঞ্জলি দেবো,, 
আপনারাও দিন...

- Puja Bhowmick
(Copied)

4 comments: