কে বলে আমার সন্তান মানুষ হয়নি - এক মাস্টারমশায়ের গল্প


 

একটা আন্তর্জাতিক সেমিনার শেষে দেশে ফিরছিলাম। প্লেনে উঠে সুন্দরী এয়ার হোস্টেসের দেখিয়ে দেওয়া সিটে আরাম করে বসলাম। প্রায় পনেরো ঘণ্টার একঘেয়ে ননস্টপ জার্নি। আটলান্টিকের উপর দিয়ে বারমুডা ট্র্যাঙ্গেল কে একপাশে রেখে উড়ে যাবো প্রথমে দুবাই। সেখান থেকে আবার কলকাতায় নিজের দেশে। যদিও এই বিদেশী এয়ারওয়েসের ব্যবস্থা খুব ভাল তবুও এত লম্বা জার্নি করতে ভাল লাগে না আর।

একটা গল্পের বই এর পাতায় চোখ রেখেছিলাম। তখনো টেক-অফ করতে একটু দেরি ছিল। হঠাৎ কানে ভেসে এলো বঙ্গভাষা। যথারীতি একটু এদিক ওদিক তাকিয়ে বুঝে নিলাম কথার উৎস স্থল আমার সামনের রো ছেড়ে তার পরের রো। এখান থেকে যেটুকু চোখে পরল এক জোড়া বৃদ্ধ বৃদ্ধা ; একজনের চকচকে টাকের চারপাশে সাদা পাকা চুলের সমারোহ, অন্য আরেক জনের সাদা চুলের খোপার মাঝে কয়েকটা কালো চুল কিছুটা যেন বলছে স্মৃতি টুকু থাক। খুব নিচু স্বরে উত্তপ্ত কিছু আলোচনা হচ্ছিল বুঝতে পারছিলাম। এভাবে উঁকিঝুঁকি মারাটা অশোভন, তাই নিজেকে সংযত করে গল্পের বইয়ের পাতায় মন দিতে চেষ্টা করলাম। কিন্তু টুকরো টুকরো কয়েকটা শব্দ ভেসে এসে আমার কানে ঢুকছিল, তার মধ্যে আমার জন্মস্থানের নামটা দুবার কানে আসায় কৌতূহল বেড়েই চলল। টয়লেট ঘুরে ফেরার সময় ভাল করে লক্ষ্য করলাম।

বহু বছর পর আমার স্কুলের হেড স‍‍্যার শ্রী শুভময় চ‍‍্যাটার্জীকে দেখে চিনতে কয়েক সেকেন্ড সময় লেগেছিল। ততক্ষণে প্লেন মাঝ আকাশে। ওনাদের পাশের সিটটা খালি দেখে এয়ার হোস্টেস কে বলে ওখানেই বসলাম। আমি বসায় ওনারা চুপ করে গেছিলেন। আমি হাত জোর করে নমস্কার করে বললাম -"স‍‍্যার, আমি নীলাদ্রী ঘোষাল। ৯২ র মাধ্যমিকের ব্যাচ স‍‍্যার, মনে পরছে?"

হাই পাওয়ার লেন্সের ভেতর থেকে দুটো ঘোলাটে চোখ আমার দিকে ফিরে তাকাল। আস্তে আস্তে চোখের দৃষ্টি উজ্জ্বল হয়ে উঠে সারা মুখে সেই সুন্দর হাসি ছড়িয়ে পরল। বললেন - "নীল..... ঘোষাল বাবুর ছেলে!! শুনেছিলাম বড় বিজ্ঞানী হয়েছিস, খুব নাম হয়েছে তোর..."

শেষ কথাটায় কেমন একটা শ্লেষের সুর বেজে উঠলো। মাসিমাকে নমস্কার করে বললাম - "সুজয়দার কাছে এসেছিলেন?"

সুজয়দা হেড স‍‍্যারের একমাত্র ছেলে, আমার থেকে দু বছরের সিনিয়র ছিল। বড় ইঞ্জিনিয়ার, পিটসবার্গে থাকে জানতাম।

মাসিমা মাথা নেড়ে মুখ ঘুরিয়ে জানালার দিকে চেয়ে মেঘ দেখতে লাগলেন। স‍‍্যার ও গম্ভীর হয়ে গেছিলেন। বললাম, - "কতদিন ছিলেন ওখানে? কোথায় কোথায় ঘুরলেন স‍‍্যার?"

- "ছিলাম প্রায় দুমাস। ছেলে আর বৌ খুব ব্যস্ত, তাও ঘুরিয়েছে টুকটাক।" স‍‍্যার বললেন।

একবার মনে হল নিজের সিটে ফিরে যাই, ওনারা বোধহয় কথা বলতে চাইছেন না। কিন্তু যেতে গিয়েও পারলাম না। হেডস্যারের কাছে দীর্ঘদিন পড়েছিলাম, খুব কাছ থেকে ওনাকে দেখেছিলাম। উনি ছিলেন মানুষ গড়ার কারিগর। এতো সুন্দর করে সব কিছু বোঝাতেন, পড়ানো ছাড়াও অনেক কিছুই ওনার থেকে শিখেছিলাম। পয়সা নিয়ে প্রাইভেটে উনি কোনোদিন পড়ান নি। তবে আমাদের পাশের চা বাগানের বস্তি গুলোতে গিয়ে সন্ধ্যাবেলায় বিনা-পয়সায় অনেককে পড়াতেন। এছাড়া বই পত্র দিয়ে গরীব ছাত্রদের যথেষ্ট সাহায্য করতেন। কত গরীব ছাত্রর পরীক্ষার ফি দিয়ে দিতেন প্রতিবছর। 

মাধ্যমিকের আগে বাবার ভীষণ শরীর খারাপ হয়েছিল। বহুদিন বাবা বিছানায় ছিল। জমানো টাকা কড়ি সব শেষের দিকে। আমাদের একটুকরো জমি মা বিক্রি করবে ভেবেছিল সে সময়। কিন্তু স‍‍্যার কোথা থেকে খবর পেয়ে একদিন এসে মাকে বলেছিলেন জমি বিক্রি করতে না।আমার দায়িত্ব উনি নিয়েছিলেন। কয়েক মাস ওনার বাড়ি খাওয়া দাওয়া করে পড়াশোনা করেছিলাম। মাসিমা নিজেদের গরুর দুধ, গাছের ফল , পুকুরের মাছ, লাউ , কুমড়ো শীতের সবজি সব আমার হাত দিয়ে মা কে পাঠাতেন। আমাদের গাছের নারকেল সুপুরি স‍‍্যার নিজে দাঁড়িয়ে বিক্রির ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। সেই টাকায় বাবার চিকিৎসা হয়েছিল।

কোনোদিনও কোনো ছাত্রকে বকতে বা শাস্তি দিতে দেখি নি ওনাকে। একবার আমার বন্ধু তরুণ কারো টিফিন চুরি করে খেতে গিয়ে ধরা পরেছিল। তরুণের মা পাঁচ বাড়ি কাজ করে ওকে পড়াতো।ও টিফিন কখনোই আনত না। স‍‍্যার সব জানতে পেরে ওকে নিজের বাড়ি নিয়ে গিয়ে খাইয়ে ছিলেন। তারপর থেকে প্রায় প্রতিদিন দুপুরেই স‍‍্যারের বাড়ি ওকে খেতে ডাকতেন মাসিমা।

মাসিমার ছিল দয়ার শরীর, সব ছাত্রদের মাতৃস্নেহে ভালবাসতেন। আমরা কখনো কোনো কাজে গেলে মাসিমার হাতের নাড়ু , তক্তি খেয়ে আসতাম। সুজয়দা পড়াশোনায় মেধাবী ছিল। অনেক কষ্টে স‍‍্যার ওকে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়িয়ে ছিলেন। স‍‍্যারের ইচ্ছা ছিল না ও বিদেশে যাক। স‍‍্যার পড়ানোর সময় সর্বদা বলতেন দেশের সব স্কলার ছেলেরা বাইরে চলে গেলে দেশের উন্নতি হবে কি করে? আজ নিজের খুব লজ্জা লাগছিল এই কথাটা মনে পরায়। আমিও বহু বছর বাড়ির বাইরে, যদিও দেশের মাটিতে বসেই আমি গবেষণা করছি।

আমিও স‍‍্যারের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ডাক্তারি পাস করে প্রথম কিছুদিন এক গ্রামীণ হাসপাতালে ছিলাম। রাজনৈতিক পার্টির দাপটে আর রুগীদের আত্মীয় দের অত্যাচারে সব নীতি বিসর্জন দিয়ে কয়েক মাসেই পালিয়ে এসেছিলাম। তারপর পড়তে বাইরে এসে গবেষণায় ঢুকে গেছিলাম। বিদেশে কাটিয়েছি বহু বছর। বাবা মা বহুবার ফিরতে বললেও ফিরতে পারি নি। অবশেষে বাবা মারা যেতে ফিরে এসেছিলাম।তারপর গবেষণার জন্য ব‍‍্যঙ্গালোরে চলে যাই। গত পাঁচ বছর ব‍‍্যঙ্গালোরেই আছি। 

একটা এয়ার বাম্পে পরে প্লেনটা লাফিয়ে ওঠায় সম্বিত ফিরল। দেখলাম স‍‍্যার একটা বই পড়ছেন। এয়ার হোষ্টেস সবাইকে খাবার দিচ্ছিলেন। ওনারা নিরামিষ খাবার নিলেন। স‍‍্যার আমায় জিজ্ঞেস করলেন - "তোর ফ‍‍্যামেলি কোথায়? একা যাচ্ছিস !!"

আবার একটা ধাক্কা, ঝনক আমাকে ছেড়ে চলে গেছির দশ বছর আগেই। আসলে বিদেশে এসে আমার কাজের চাপ এতো বেশি ছিল ওকে সময় দিতে পারতাম না। ওর কোনো বন্ধু ছিল না। একা কোথাও যেতে পারতো না। অবসাদে ভুগে ভুগে শেষ হয়ে যাচ্ছিল ও। দশ বছর আগে ফিরে গেছিল একাই। যদিও ডিভোর্স হয় নি কিন্তু যোগাযোগ ছিল না বহু বছর। ও ওর বাবা মা এর কাছেই থাকত। দেশে ফিরে ফোনে কয়েকবার কথা হয়েছিল। একবার দেখা করেছিলাম। স‍‍্যারকে অর্ধসত্য বললাম যে ও দেশেই আছে।

মাসিমা বললেন - "বাঃ, ভাল, তোমার মা অন্তত বৌ নাতি নাতনি নিয়ে আনন্দে আছেন তাহলে।" লজ্জায় তাকাতে পারছিলাম না।

মাসিমা বলে চলেছিলেন - "আমার ছেলেটা কি করে এতো বদলে গেল জানি না। আমাদের বোধহয় কোথাও কোনো ফাঁক ছিল।" ওনার চোখ দিয়ে কয়েক ফোটা জল গড়িয়ে পরল।

- "আঃ, কি হচ্ছে!! নিজেকে সামলাও।"  স‍‍্যার একটা চাপা ধমক দিলেন যেটা ওনার চরিত্রের সাথে বেমানান। 

- "কেন চুপ করবো? এভাবে ফিরে যাচ্ছি..... ওখানে গিয়ে সবাইকে কি বলবো বল তো? জমি বাড়িটাও বিক্রি করে দিয়ে এলে তুমি ...."

- "সে কিছু একটা ব্যবস্থা হবেই। আগে তো পৌঁছাই।" স‍‍্যার উত্তর দিলেন।

বুঝতে পারছিলাম কোথাও তাল কেটে গেছে। বললাম - "স‍‍্যার, আমি আপনার ছেলের মতো। আমাকে খুলে বলবেন কি হয়েছে? যদি আমি কিছু করতে পারি ........"

- "সবে চার ঘণ্টা কেটেছে। এখনো ১১ ঘণ্টার পথ বাকি। তুই দেশে ফেরার আগেই সব জেনে যাবি।" স‍‍্যার একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেললেন।

-  "সুজয় আর ওর বৌ বহু বছর বিদেশে। বহু বছর পর এ বছর সুজয়ের ছেলে হয়েছিল, বহুদিন ওরা দেশে আসে না। সুজয় আমাদের পাকাপাকি ওর কাছে চলে আসতে বলেছিল অনেক দিন ধরেই। ওরা ওদেশের গ্রীনকার্ড পেয়ে গেছিল। এতদিন আসি নি। কিন্তু নাতির ফটো দেখে তোর মাসিমাকে আর রাখতে পারলাম না। সুজয় চাইছিল আমরা পাকাপাকি ভাবে চলে যাই। ও নিজে এসে সব ব্যবস্থা করে জমি বাড়ি সব বিক্রি করে আমাদের নিয়ে গেছির দু মাস আগে। আমার ইচ্ছা ছিল না। কিন্তু এই বেকার বৃদ্ধর কথায় কেউ কান দেয় নি। এখানে এসেই বুঝলাম ওদের আসলে বাচ্চা দেখার জন্য আয়ার দরকার ছিল। ক্রেস গুলো ছমাসের আগে বাচ্চা নেবে না। বৌমা বাধ্য হয়ে আমাদের আনিয়েছিল। বাচ্চার ছমাস হতেই ওকে ক্রেসে দিয়ে আমাদের ফেরার টিকিট ধরিয়ে দিল ছেলে। বলল শীত আসছে, আমাদের কষ্ট হবে ঠাণ্ডায়। কোনও বৃদ্ধাশ্রমে থাকার ব্যবস্থাও করে দিয়েছে নেট ঘেঁটে।" স‍‍্যার এটুকু বলেই চোখ বুঝলেন।

- "বাচ্চাটা এই দুমাসেই আমাদের ন্যাওটা হয়ে গেছিল। খুব মুখ চিনত। দেখলেই দু হাত বাড়িয়ে কোলে উঠতে চাইত।" মাসিমা কান্না ভেজা গলায় বললেন।

- "জমি বাড়িটাও বিক্রি করে দিয়েছি। টাকা পয়সা সব নাতির নামে করে দিয়েছিলাম। আমাদের আর কি প্রয়োজন!! কিন্তু এখন ভাবছি কি করবো!!" স‍‍্যার বললেন।

সুজয়দাকে যতটুকু দেখেছিলাম পড়াশোনা ছাড়া কিছুই জানত না। আজ নিজের বাবা মা কে এভাবে অবহেলা করেছে শুনে খুব রাগ হল। আমাদের পাশের বাড়ির নগেন জেঠুর ছেলে কলকাতায় ভাল চাকরী করতো। বাবা মা কে সেভাবে দেখত না। বহু পুরানো জরাজীর্ণ বাড়ি ভেঙ্গে পরছিল। মেরামতের দরকার ছিল। ওনাদের ও চিকিৎসার দরকার ছিল। স‍‍্যার স্কুলের সব ছাত্রদের নিয়ে নিজেই ওনাদের বাড়ি মেরামত করে দিয়েছিলেন। চিকিৎসাও করিয়েছিলেন। এমনি টুকরো টুকরো বহু কথা মনে পরছিল।

আলম বলে একটা মুসলিম ছেলে পড়তো আমাদের সাথে। ওর বাবা ডাকাতি করতে গিয়ে ধরা পরে গুলি লেগে মারা গেছিল। সবাই ওকে একঘরে করেছিল ডাকাতের ছেলে বলে। একমাত্র স‍‍্যার আমাদের বুঝিয়ে বলেছিলেন কেউ শখ করে ডাকাত হয় না। আর ওতে আলমের কোনো দোষ নেই তাও বলেছিলেন। সস্নেহে আলমের চোখের জল মুছিয়ে ওকে বুকে টেনে নিয়েছিলেন। সেই আলম আজ একটা এনজিও চালায়। বন্ধ চা বাগানের পরিবার গুলোকে সাহায্য করে নানা ভাবে। সেদিন স‍‍্যার ওর পাশে না দাঁড়ালে ভেসে যেতো ও। হয়তো বাবার থেকেও বড় ডাকাত তৈরি হত একদিন।

আমাদের উত্তরবঙ্গে বর্ষা কালে পাহাড়ি নদীতে খুব হড়কা বান আসতো। সেবার নাগরাকাটা টাউনটা রাতারাতি ভেসে গেছিল ডায়না নদীর জলে। কত লোক যে গৃহহারা হয়েছিল হিসাব নেই। গরমের ছুটি চলছিল স্কুলে। হেডস্যার একাই নেমে পরেছিলেন সাহায্য করতে। স্কুলে ঠাঁই দেওয়া হয়েছিল গৃহহারা পরিবার গুলোকে। আমদের কয়েকজনকে নিয়ে স‍‍্যার একাই ঐ বৃষ্টিতে ঘুরে ঘুরে সাহায্য তুলে ওদের কয়েকদিন খাওয়া দাওয়া শুকনো জামা কাপড়ের ব্যবস্থা করেছিলেন। সরকারী সাহায্য এসেছিল বেশ কিছুদিন পরে। সে বছর রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পেয়েছিলেন স‍‍্যার। আজ ওনার ছেলের কৃপায় ওনার ঠিকানা হতে চলেছে বৃদ্ধাশ্রম। মনটা খচখচ করছিল।

দুবাইতে নেমে স‍‍্যার আর মাসিমাকে বসিয়ে চটপট কয়েকটা দরকারি কাজ করে নিলাম। মেল পাঠানোর ছিল কয়েকটা। এতো বড় জার্নি তে মাসিমার শরীরটা একটু খারাপ করেছিল। তিনঘণ্টা পর কলকাতার ফ্লাইটে উঠে আমার সিটটা বদলে ওনাদের কাছেই বসেছিলাম। স‍‍্যার বললেন - "একটা উপকার করবি নীল, তত্কালে আমাদের উত্তরবঙ্গে যাওয়ার টিকিট করে দিতে পারবি? ওখানেই সারা জীবন কাটিয়েছি। ওখানেই শেষ দিন পর্যন্ত থাকতে চাই। তোর মাসিমারও তাই ইচ্ছা। ঐ বৃদ্ধাশ্রম কে না বলে দেবো। যে কটা টাকা পেনসিয়ান পাই তা দিয়ে আমাদের চলে যাবে। একটা এক-কামরার বাড়ি ভাড়া নিয়ে নেবো।"

এবার আমার চোখের কোন ভিজে উঠেছিল। বললাম - "আপাতত আমার উপর সব ছেড়ে দিন। ব্যবস্থা করছি।"

দমদম এয়ার পোর্টে লাগেজের জন্য দাঁড়িয়ে ছিলাম ওনাদের নিয়ে। নেট ওয়ার্ক আসতেই কয়েকটা দরকারি ফোন করে নিলাম। বাইরে আসতেই চোখে পরল স‍‍্যারেদের নাম লেখা একটা বোর্ড হাতে বৃদ্ধাশ্রমের লোক দাঁড়িয়ে। কত আধুনিক ব্যবস্থা করেছে সুজয়দা!!

ওনাদের নিয়ে বাইরে এসে দেখলাম কাজল, অনীশ, রাহুল , তরুণ, প্রতিকদা সবাই ওয়েট করছে। সবাই ছুটে এসে স‍‍্যারের ট্রলিটা টেনে নিলো। আমি পরিচয় করালাম স‍‍্যারের সাথে ওনার সব প্রাক্তন ছাত্রদের, আজ সবাই নিজের নিজের জায়গায় সুপ্রতিষ্ঠিত। আমার মেল পেয়ে সবাই আজ ছুটে এসেছে স‍‍্যারের জন্য। আলম ও কলকাতায় এসেছিল কোনো কাজে। কিছুক্ষণের মধ্যে ও এসে গেলো। রাহুলের ফ্ল্যাট বাগুইহাটিতে, ওখানে সবাই মিলে স‍‍্যার আর মাসিমাকে নিয়ে গেলাম। আলম জানালো সে স‍‍্যারদের নিয়ে যেতে চায়। ওদের এনজিও একটা অনাথ আশ্রম খুলেছে ওখানেই। স‍‍্যার কে ওখানেই রাখতে চায় ও। এভাবেই শ্রদ্ধাঞ্জলী দিতে চায় আমাদের হেড স‍‍্যার কে।বিভিন্ন বয়সের বাচ্চাদের মাঝে স‍‍্যার খুব ভাল থাকবেন ওর ধারনা। যে কাজ সারা জীবন করেছেন তাই নিয়েই থাকবেন। স‍‍্যার আর মাসিমা রাজি হলেন অবশেষে। 

স‍‍্যার মাসিমাকে বললেন - "কে বলে আমার সন্তান মানুষ হয়নি। এরাও তো আমার ছেলে। আজ কেমন সবাই আমাদের আপন করে নিলো"। স‍‍্যারের চোখে আনন্দের অশ্রু।

সমাপ্ত।

ডিজিটাল যুগ - Fake Account

ডিজিটাল যুগ - Fake Account


ঘর ঝাঁট দিতে এসে কাজের মেয়ে নিচু গলায় বললো, দিদি আমার রিকোয়েস্টটা এক্সেপ্ট করেন।

আমি হতভম্ব গলায় বললাম, কিসের রিকোয়েস্ট?

-ফেসবুক। রিকোয়েস্ট পাঠাইছি।

: ও আচ্ছা! নাম কি?

-ড্যাডিস প্রিন্সেস শাপলা!

আমি নিজেকে সামলালাম।‌ এত অবাক হ‌চ্ছি কেন? কিছুদিন আগেই তো আরেক কাজের মাসি আমাকে ইমোতে ইনভাইট করেছিল। আমার ইমো নাই কিন্তু তার আছে। এত অবাক হলে চলবে না‌ এই যুগে।

আমি হাসিমুখে আইডি খুঁজে বের করে রিকোয়েস্ট এক্সেপ্ট করে রাখলাম। প্রোফাইল পিকে একটা মেয়ের রংচংয়া সেলফি। আমি প্রশ্ন করলাম, কার ছবি গো?

-আমার দিদি! ইউক্যাম পারফেক্ট দিয়ে ইডিট করেছি।

: বাহ্! খুব সুন্দর।

ইদানিং আমার বেশ সুবিধাই হচ্ছে। কাজে আসতে না পারলে শাপলা মেসেজে একটা দুঃখী স্টিকার পাঠালেই আমি বুঝে যাই। স্টিকারে একটা মেয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলে, sorry!

আবার রান্নাঘরে কিছু খুঁজে না পেলেও শাপলাকে মেসেজ দিলে সাথে সাথেই রিপ্লাই পাওয়া যায়।

এছাড়াও প্রায়‌ই ফেসবুকের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সে আমার কাছে আসে।

একদিন ফোন নিয়ে এসে বললো, দিদি ! মেসেঞ্জার নাকি কালো করা যায়,একটু করে দেন। আর ফলোয়ার অপশন একটু অন করে দিবেন।

দিলাম।

একদিন এসে বলল,দিদি ! এবাউটে লিখে দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি।

দিলাম।

আরেকদিন বললো,দিদি ইংরেজিতে একটা স্টাটাস লিখে দেন। আমি বাংলা বলছি,

"ফিলিং বোর! গরমের ছুটি চলছে,এখন পড়াশোনা নাই, কোনো কাজকর্ম‌ও নাই। সময় কাটে না!"

দিদি হাঁ করে তাকিয়ে আছেন কেন? এইটা লেখেন ইংরেজিতে।

আমি লিখে দিলাম।

আরেকদিন আমার কাছে এসে বললো,দিদি ! রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস দিয়ে দেন।

আমি অবাক হয়ে বললাম,প্রেম করছো নাকি?

সে লাজুক গলায় বললো, হ্যাঁ দিদি ! রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস দিয়ে দেন। ছেলের নাম স্বপন সাগর!

আমি রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস দিয়ে দিলাম। ছেলের প্রোফাইল দেখে বড় ধরনের ধাক্কা খেলাম। ছেলে ঢাকা মেডিকেলে পড়ে।

আমি শাপলার দিকে খানিকক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললাম, কোথায় পেয়েছো এই ছেলেকে?

সে হাসিমুখে বললো, ফেসবুকে !

:ও আচ্ছা!!!

পৃথিবীটা দিন দিন মনুষ্যবাসের অনুপযুক্ত হয়ে যাচ্ছে এই জাতীয় চিন্তা করতে করতে ব‌ইয়ের পৃষ্ঠা উল্টাচ্ছিলাম। বড় দি এসে ব‌ইয়ের পাতার মধ্যে একটা ছেলের ছবি রেখে দিলেন। সেদিকে না তাকিয়ে আমি চমকে উঠে দিদিকে জড়িয়ে ধরলাম। বহুদিন পর দিদি শ্বশুরবাড়ি থেকে এসেছে।

দিদি নির্লিপ্ত গলায় বললেন, ছেলেটাকে দেখ। পছন্দ হলে হলো, না হলেও না হলো। এরসাথে তোর বিয়ে‌।

আমি হাসিমুখে তাকালাম। যার সাথেই আমার বিয়ে হোক আমার কোনো আপত্তি নাই, পছন্দের কেউ নাই আগেই বলেছি।

দিদির মুখ গম্ভীর। এর কারণ আছে। মাসখানেক আগে দিদির বড় জায়ের সাথে খুব ঝগড়া হয়েছে। দিদি তাকে চ্যালেঞ্জ করেছে, যে তার বোনের আগে দিদি আমার বিয়ে দেবে। দুজনের বয়স‌ অনেকটা এক‌ই।

দুপুরে খাওয়া-দাওয়ার পর ছেলের ছবি দেখে আঁতকে উঠলাম। ছেলেটা কে সেটাতো বলার অপেক্ষা রাখে না। সেই মেডিকেলে পড়া ছেলে। কিন্তু এর নাম স্বপন সাগর না, অয়ন চৌধুরী।

আমি কাঁদতে কাঁদতে গিয়ে বললাম,দিদি ! এই ছেলেকে ক‌োথায় পেয়েছো? এরতো চরিত্র খারাপ। আমাদের কাজের মেয়ে শাপলার সাথে ফষ্টিনষ্টি চলে।

দিদি প্রচন্ড ‌অবাক হয়ে সবটা শুনলেন।‌তারপর রেগে আগুন হয়ে গেলেন। তারপর হতাশায় ডুবে গেলেন।

এতগুলো অনুভূতির মিশ্রণ ঘটার প্রধান কারণ সেই ছেলে আজ সন্ধ্যায় পরিবার নিয়ে আমাদের বাড়ি আসছে।

দিদি রেগেমেগে বললেন, ঝাঁটা রেডি রাখ। ঐ চরিত্রহীন ছেলের পরিবারের দম্ভ যদি আমি ধূলায় না মিশিয়ে দিয়েছি আমার নাম........

সন্ধ্যার সময় ছেলে তার পরিবার নিয়ে আমাদের বাড়িতে এলো। তাদের জন্য কোনোপ্রকার খাবার আয়োজন রাখা হয়নি। বরং আমাদের মুখ গম্ভীর। আচ্ছা করে অপমান করা হবে আজ এদের।

কাজের মেয়ে শাপলাও ছেলে দেখে চমকে তাকিয়েছে, তারপর দৌড় দিয়ে পালাতে গিয়েছিল দিদি ওর হাত ধরে আটকে ফেলেছে।

ছেলের মা আমার দিদির দিকে তাকিয়ে বললেন, কেমন আছো মা?

দিদি তার প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে ছেলের দিকে তাকিয়ে শাপলাকে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে বললেন,একে চেনো?

শাপলা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

ছেলে অবাক হয়ে বললো,না তো!

-নাটক করো? তোমার নাটক আমি বের করছি। আমার বোনের জীবন‌ নষ্ট করতে আসা?

দিদি ল্যাপটপে ফেসবুক ওপেন করে শাপলার সাথে তার রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস দেখালো।

ছেলেটা খানিকক্ষণ অবাক হয়ে সেদিকে তাকিয়ে থেকে ফোন দিয়ে তাদের ড্রাইভারকে ডাক দিলো।

ড্রাইভার ওপরে এসে শাপলাকে দেখে বড় ধরনের ধাক্কা খেলো। মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে র‌ইলো।

ছেলেটা এতক্ষনে ড্রাইভারের দিকে তাকিয়ে কঠিন গলায় বললো, তুই বলেছিলি দাদা নতুন ফোন কিনেছি আপনার একটা ছবি রেখে দিই।

এইজন্য নিয়েছিলি আমার ছবি? আমার ছবি আর বায়ো ব্যবহার করে ফেসবুকে আইডি খুলে প্রেম করার জন্য????
😂😂😀😀

মাতৃ দিবস - একটা অসাধারন গল্প

স্বার্থ লুকিয়ে থাকে সকল সম্পর্কের মধ্যে মাতৃ দিবস

-হ্যাঁ রে, দিনে কত টাকা দেয় তোর মালিক? 
- পাঁচশো টাকা মা।
- এ-ত। তা ক'টা সিঙাড়া গড়িস?
- হাজার দুয়েক। জানো মা, আমি না আজকাল টিভির দিকে তাকিয়েও সিঙাড়া গড়তে পারি।
-তাই নাকি?
-হ্যাঁ গো মা। এই দু' বছরে অভ্যেস হয়ে গেছে।

তেরো বছরের কানুর এ এক বড় গর্ব। মায়ের কোলের কাছে ঘেঁষে স্বপ্ন দেখে, অভাবী সংসারের হাত থেকে সে বাঁচাবে তার মাকে। বড় করবে ভাইদের। নিজের একটা সিঙাড়ার দোকান হবে....

-তা বাড়িতে যখন এসেছিস ভাইবোনদের জন্য একদিন বানা না। দেখি আমার বড় ছেলের হাতের সিঙাড়া কেমন? তোর বাবাও খুব খুশি হবেন।
আনন্দে চকচক করে কানুর চোখ। বাবা খুশি হবে? বেশ কালই হবে। খুব ভাল করে বানাব মা।
কানুর বাবা চোখে বিশেষ দ্যাখেন না। কারখানার আগুন ছিটকে চোখে লেগে সেই যে দু বছর আগে শয্যা নিয়েছেন, আজও সেভাবেই পড়ে। একটা চোখ যাওয়ার পর থেকে মনটাও খান খান হয়ে গেছে। সেই বাবা...
-মা, ময়দা-টয়দা আমিই কিনে আনব। তুমি শুধু আলু-টালুগুলো কেটে দিও।
-ঠিক আছে।
-মা, একটু নারকোল কোরা দেব? বেশ লাগবে খেতে।
-না। না। নারকোলের অনেক দাম। দরকার নেই।
সিঙাড়া, তার আনুষঙ্গিক...দোকানের গল্প, মালিকের গল্প... মায়ের পাশে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়ে কানু। মায়ের কাপড়ে একটা অদ্ভুত গন্ধ। অনেকবার ভেবেছে মার একটা না-কাচা কাপড় সে নিয়ে যাবে দোকানে।

বড়বাজার অঞ্চলের দোকানঘরের মধ্যে থাকতে থাকতে এমন অভ্যেস হয়ে গেছে, ভোর চারটেতে ঘুম ভেঙে যাবেই যাবে। কী আশ্চর্য সেই চারটেতেই উঠে পড়ে কানু! কী করবে। সবাই ঘুমোচ্ছে। পা টিপে টিপে বেরোয়। উঠোনে এসে আকাশের দিকে তাকায়। মেঘলা। বৃষ্টি হবে বোধহয়। 
নাহ্। উনুনটা ধরিয়ে রাখি। মা খুব খুশি হবে। কয়লা-কাঠ জড়ো করে উনুন ধরায় কানু। আস্তে আস্তে উনুনে আঁচ ওঠে। কানু তাতে ভাতের জল চাপায় হাঁড়িতে। ইস্ টাকা জমিয়ে যদি মাকে একটা গ্যাসের ব্যবস্থা করে দিতে পারি।
-তুই ওখানে কী করছিস কানু? ও মা! উনুন ধরিয়ে ফেললি? সোনা ছেলে রে আমার! 
তার পর চেঁচিয়ে অন্য ভাইদের উদ্দেশে বলে, হ্যাঁ রে তোরা দেখে যা ছেলে আমার কেমন উনুন ধরিয়ে দিয়েছে। তোমরা তো হাত পা নেড়েও বসো না।
মায়ের চেঁচামেচিতে জেগে উঠোনে চলে আসে বাকি চার ভাই। তার পর এত সামান্য ব্যাপার দেখে ওরা আবার ঘুমোতে চলে যায়।
-মা, বলো না কী সাহায্য করব তোমাকে?
- দু বালতি জল এনে দিবি সোনা?
এক ছুটে দুটো বালতি হাতে বেরিয়ে পড়ে কানু।
লাফাতে লাফাতে তেরো বছরের আনন্দে উচ্ছ্বল ছেলেটা জল আনতে যায়। ভাবে পুজোয় যখন আসবে তখন একটা চাকাওয়ালা ড্রাম বানিয়ে নিয়ে আসবে মালিককে বলে। মালিকরা দোকানে ওই ভাবেই জল আনায়। আর পুজোর ছুটিতে তিন দিন নয়, এ বার দশ দিন থাকবে মার কাছে। ভাইদের সঙ্গে খেলবে। কিন্তু পুজোয় কাজ করলে তো ডবল টাকা দেয়। দৃর। দরকার নেই। পুজোর সময় মা-কে ছাড়া ও থাকতে পারবে না।

ভাবতে ভাবতে বাড়ি ফেরে কানু। দু' হাতে দু বালতি জল।
-আয় আয় কানু। নে, আলু আমি কেটে রেখেছি। তুই ময়দাটা নিয়ে আয়।
বালতি রেখে আবার ময়দা আনতে ছোটে কানু। কী আনন্দ! আজ সবাইকে প্রাণ ভরে খাওয়াবে সে।
বাড়ি ফিরে বড় গামলায় ময়দা মাখতে বসে। একে একে ভাইরা এসে কানুর এই কাজ দেখে যায়। 
-তোমাদের দ্বারা কিস্যু হবে না। যাও পড়তে বসো। দ্যাখো যদি পাস করতে পারো। অন্য ভাইদের মুখ ঝামটা দেয় মা। 
কানু মনে মনে এত খুশি হয়! মা তাকেই সবচেয়ে বেশি ভালবাসে। তার সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি 'আপন' হয়। তার ওপরেই সবচেয়ে ভরসা। চোখে জল আসে কানুর। এ বার মাত্র দুদিন ছুটি নিয়ে এসেছে। পুজোয় দশ দিন নেবেই সে।
-হ্যাঁ রে বেলা যে বয়ে যায়। তোদের হল?
-এই আর একটু বাবা। তাড়াতাড়ি করে বাকিগুলোও গড়ে নেয় সে। তার পর উনুনে কড়াই বসায়। তেল ঢালে। 
-মা। এ বার তুমি এ গুলো ভেজে দাও। আমি ভাজতে পারি না। জানো ভাজতে পারলে আরও আট আনা করে বেশি পেতাম। কিন্তু মালিক আমাকে ভাজতে দেয় না। বলে ছোট ছেলে হাত পুড়ে যাবে।
-দূর। কেন পারবি না। আমার কোলে বোস, আমি শিখিয়ে দিচ্ছি।
-না মা, আমার ভয় করে। থাক।
-দূর পাগল। ভয় কী রে। আয় না। আমি শেখাচ্ছি।
প্রায় জোর করেই শিখিয়ে দেয় গরম তেলে কী করে ছাড়বে। ছেঁকে তুলবে। "আট আনা ছাড়বি কেন!"
মা কানুর গলা জড়িয়ে বলে এই ছেলেটাই আমাকে ভালবাসে। কানু মায়ের বুকে মুখ গুঁজে জড়িয়ে ধরে। 
-মা এ বার পুজোয় তোমার কাছে দশ দিন এসে থাকব জানো। আবেশে বুজে আসে কানুর চোখ। 
-সে কী রে, তুই যে বললি পুজোর সময় ডবল মাইনে?
-মা।
-বোকা ছেলে। কেউ এ সুযোগ হারায়। তুই দশমীর দিন আয়।
-ও দিন তো মায়ের ভাসান।
-তাতে কী।
-মা।
-সোনা। তুই তো ভাইদের মতো অবুঝ নয়। তোর ওপরেই তো জোর করতে পারি বল। পুজোয় আসিস না বাবা। ওই টাকাটায় ভাইদের পরীক্ষার ফিজ জমা করতে হবে।
এতক্ষণে মায়ের বুকের মধ্যে থেকে মাথা তোলে কানু। যার ভাল নাম কর্ণ। এ যুগের কর্ণও বলা যায়। 
তার চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ে আবেশ।
-বোকা ছেলে। কাঁদছিস কেন। দশমীর দিন আসবি। খুব গল্প করব দুজনে।
-তাই হবে মা। ভাইদের সঙ্গে আমার কোনও দিনই আর খেলা হবে না।
চোখের জল মুছে মা-ও দ্রুত বাড়ির ভিতরে চলে যায়। দূরের ঘর থেকে ভেসে আসে খরখরে এক স্বর। 
-কী রে কর্ণ, ও কানু তোদের হল? আমার তো খিদেতে পেট জ্বলে যাচ্ছে।

 -Somdutta Chakraborty

বিসর্জন

বিসর্জন - Bengali Story - Bangla Golpo

Bosorjon

জলের ধারে বসে থাকতে থাকতে বিজয়ার অনেককালের কথা মনে পড়ছে আজ। 
কোথাকার এই নদী,কোথাকার এই জল আজ কোথায় এসে দাঁড়িয়েছে!তার জীবনও তাই!
"দোল দোল দুলুনি" ছড়ার বয়সে সে সিঁথি রাঙা করে এ বাড়িতে এসেছিল। পাঁচ বছরের মেয়ে বিয়ের কী বোঝে? 
তবে সাজতে ভারী ভালো বাসত বিজয়া। 
ওইটুকু বয়সেই নাকে নথ পড়তো টেনে, কানে ঝোলা দুল, শ্বশুরবাড়ির মেয়ে-ঝিরা তো কচি মেয়ের সাজের বহর দেখে হেসে খুন হত। 
তার কিশোর বর একবার নথ ধরে নাড়া দিয়েছিল বলে বিজয়া সাত সাতটে দিন মান করেছিল। 
শেষে একজোড়া পায়ের মল গড়িয়ে দিয়ে তার মান ভাঙানো গেল।

বর বলতে কতটুকু মনে পড়ে বিজয়ার? 
সেই এক কিশোর ছেলে, এই এত্তো বড়ো বাড়িতে সেই ছিল তার খেলার সাথী। 
অথচ খেলা কত তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে গেল তাদের। 
বিয়ের একবছর পর বিজয়ার স্বামী কিশোর ব্রজমোহন জমিদারির কাজে গিয়েছিল বায়রের গ্রামে। 
নদী পেরোনোর সময় নৌকাডুবিতে মারা যায় সে। 
ছয় বছরের বয়সে বৈধব্য এসে গ্রাস করল বিজয়ার সমস্ত সজ্জা,সুখ আনন্দের সামগ্রী। সেও প্রায় বারো তেরো বছর আগের কথা।

এতদিনে গায়ের চামড়ার সাথে এক হয়ে গেছে সাদা থানখানি। 
তবুও দুর্দান্ত অষ্টাদশী যৌবন শরীরের সমস্ত বেড়া ভেঙে বেড়িয়ে আসতে চাইছে যেন। 
বিজয়ার গায়ের রঙ শ্যামলা, বৈধব্যের কৃচ্ছসাধনে কিঞ্চিৎ কৃশ। 
বড়ো বাড়ির বিধবা বিজয়ার দিন কাটে গোয়াল ঘর পরিষ্কারে, ঠাকুরঘরের জোগাড়ে। 
যৌবনের দরজায় দাঁড়িয়ে একটা ফুল ক্রমশ যেন শুকিয়ে উঠছে। 
কেউ খোঁজ রাখছে না সে ফুলের, কেউ বলছে না একবারও -'জল খাবে ফুল, জল?'

এবছর শ্রাবনে বাড়ির ছোট ছেলের বিয়ে হয়েছে। 
নতুন বউ কিশোরী, কিন্তু সুন্দরী। 
অল্পদিনেই সে স্বামী ও নতুন সংসারের মনের মধ্যিখানে জায়গা করে নিয়েছে। আশ্বিনের মাঝামাঝি দুর্গাপুজো। 
উৎসবের আনন্দে বড়োবাড়ি আত্মহারা হয়ে উঠেছে। 
বাড়ির বউরা গা ভরা গয়না পরে ঠাকুর দালানে বসে আলতা পায়ে দিচ্ছে, সে দৃশ্য এ বাড়িতে চেনা। 
অথচ বিজয়ার ভারী অসহ্য লাগছে এবার। 
এতোবছর বৈধব্য নিয়ে এ বাড়ির পুজো দেখছে। 
কিন্তু এবছর নতুন বউ আসায় সব যেন কেমন ওলটপালট হয়ে গেছে। নতুন বউ স্বভাবতই সৌন্দর্যে অহংকারী, তার ওপরে স্বামী সোহাগিনী। সে আসা অবধি বিজয়াকে হীন চোখেই দেখেছে। 
যদিও এবাড়িতে কেই বা তাকে হীন চোখে দেখে না।তবু এ দৃষ্টি যেন বড়ো আঘাতের। 
কোথায় গিয়ে যেন বিজয়াকে মনে করিয়ে দিচ্ছে- "তুই বড়ো অভাগী।তোর স্বামী নেই,সুখ নেই, সোহাগ নেই। 
অথচ ওই পুচকে ছোট বউ কেমন স্বামীর বুকে রাঙাকনে হয়ে তোর সামনেই ঘুরে বেড়াচ্ছে। 
ধিক তোর আঠেরো বছরের যৌবন, ধিক তোর কৃচ্ছ্রসাধন বেঁচে থাকায়।"

বিজয়ার মনে বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে তীব্র আত্মধিক্কার - "ধিক তোর আঠেরো বছরের যৌবন, ধিক তোর কৃচ্ছ্রসাধন বেঁচে থাকায়।"

দশমীর সকালে বাড়ির মেয়ে বউরা ঠাকুরদালানে উঠে মাকে বরণ করল। 
উৎসবের শেষলগ্নে সিঁদুরখেলায় মেতে উঠল সারা বাড়ি। 
বিজয়া ঠাকুরদালানে যায়নি, শুভকাজে বিধবাদের থাকতে নেই,তায় আবার সিঁদুরখেলা। 
দুয়েকবার দালানের ওপর থেকে দেখেছিল রাঙা হয়ে যাওয়া সারা বাড়ি,সিঁদুররাঙা বউদের রাঙা মুখগুলো।

বিজয়া তখন গোয়ালের দিকে। সে দিকটা তখন নিরিবিলি, কেউ নেই। হঠাৎ বিজয়ার মনে হল গোয়ালঘরের পেছনে কারা যেন এসেছে। তাড়াতাড়ি বেরিয়ে এসে দেখল সেখানে নতুন বউ, সাথ তার স্বামী বাড়ির ছোটছেলে। 
বিজয়া একবার ভাবল চলে যাবে, অথচ পা যেন সেখানেই গাছের মতো শিকড় এঁটে বসল। 
ছোটছেলে নতুন বউয়ের সিঁথিতে একমুঠো সিঁদুর মাখিয়ে দিল। নতুন বউয়ের তখন লজ্জাবনত মুখ। 
আড়ালে বিজয়ার সর্বাঙ্গ তখন কোন এক অদ্ভুত আগুনে ক্রমশ পুড়ে যেতে লাগল। 
যে সুধাস্বাদ কোনদিন পায়নি সে, সেই সুধার ভাণ্ড চোখের সামনে নির্লজ্জ নগ্নতায় এসে দাঁড়াল হঠাৎ।দুটো মানুষ ধীরে ধীরে নিবিড় হল নিরিবিলি কোণায়, তারা জানে না তৃতীয় ব্যক্তি ক্ষুধার্ত চোখ দিয়ে গ্রহণ করছে সে দৃশ্য।

বিজয়া আর পারল না। তার মনের গভীর থেকে সেই পুরাতন ধিক্কার ধ্বনি ঘুরপাক খেয়ে উঠতে লাগল -"ধিক তোর আঠেরো বছরের যৌবন, ধিক তোর কৃচ্ছ্রসাধন বেঁচে থাকায়।"

বিজয়া এখন দাঁড়িয়ে আছে জলের সামনে। 
শরতের ভরা নদী পূর্ণযৌবনা রূপসীর মতো বয়ে চলেছে। 
বিজয়া সারা গায়ে আজ গয়না পড়েছে। 
সেকালের ভারী ওজনের বেশ কিছু গয়না আজ তার সাদাথানের ওপর উজ্জ্বল হয়ে উঠছে। 
সিঁথি রাঙা হয়ে উঠছে সিঁদুরে সিঁদুরে। 
তার আজীবনের সোহাগ-সিঁদুরের সাধ মিটছে না আর। 
বিজয়ার শ্যামবর্ণ মুখ উজ্জ্বল লাল হয়ে দেখা দিল। 
গতজন্মের যাবতীয় না পাওয়া ফেলে দিয়ে বিজয়া আজ অপরূপা সেজেছে। 
সম্মুখে রূপসী নদী দুহাত বাড়িয়ে সখীর মতো ডাকছে। 
বিজয়া দুহাত বাড়িয়ে জড়িয়ে ধরল জল, ক্রমশ নেমে যেত থাকল গভীরে....

কোথাকার এক রাজ্যে চলে যাচ্ছে বিজয়া। 
সেখানে পরিতাপ নেই,আত্মধিক্কার নেই, নিত্যদিনের বেঁচে থাকার নামে একটু একটু করে মরে যাওয়া নেই। 
সে রাজ্য থেকে বিজয়া শুধু আশা করে যেতে পারে, ভবিষ্যতের বিজয়ারা গা ভরা গয়না পরে, স্বামীর সোহাগ নিয়ে বাঁচতে পারবে। কোনও দশমীর বিকেলে বিসর্জন হবে না সেই বিজয়াদের।

ভালো থাক বিজয়ারা। ভালো থাক তাদের সুখে থাকার আকাঙ্ক্ষা। #শুভ_বিজয়া।।
-Anirban Mandal

দুগ্গা তোর দাম কতো

Bengali Dura Puja Story

Bangla Durga Puja Golpo
কয়েক কোটি টাকার গয়না পড়া দূর্গা ঠাকুর দেখতে গিয়েছিলাম। গরমে ঘেমে নেয়ে ঘন্টা তিনেক দাড়িয়ে দাড়িয়ে পায়ের দফারফা করে রাত বারোটা বেজে দশ মিনিটে যখন ভিতরে ঢুকলাম, শত শত বিনে পয়সার মোবাইল ক্যামেরায় চিত্র শিকারীদের দাপটে মা কে ভালো করে দেখার সুযোগও পেলাম না...(পেন্নাম করা তো দুরের কথা, যদিও মোবাইল ক্যামেরা হাতে আসার পর এখন আর কেউই পেন্নাম করে না, সব গুলি ছবিই বাড়িতে এনে তারপর বোধহয় একসঙ্গে পেন্নাম সেরে নেয় ) এককথায় গলা ধাক্কা না দিয়ে কতৃপক্ষ বের করে দিলো....বাইরে এসে দেখতে পেলাম আসল দুগ্গা ঠাকুর...

পথের ধারে ছেড়া ফাঁটা শাড়ি পড়ে এক মা তার কোলের (হয়ত পিতৃ পরিচয় হীন) শিশুকে আগলে নিয়ে ভিক্ষের বাটি পাশে রেখে অঘোরে ঘুমিয়ে আছে (হয়ত আধ পেটা খেয়ে)...। পেছন ফিরে চেয়ে দেখলাম কোটি টাকার দামি প্যান্ডেল টা...চোখ বুজে মনে করার চেষ্টা করলাম কোটি টাকার গয়না পরিহিত মাতৃ প্রতিমাটিকে .....মনে মনে প্রশ্ন করলাম .....দুগ্গা তুই কি সত্যিই অনেক দামী....?

রাত অনেক... এবার বাড়ি ফিরবো....পথের ধারে দাঁড়িয়ে আছি যদি কোন ট্যাক্সি পাই...একটু দূরেই একটি অপূর্ব সুন্দরী (ঠিক যেন দূর্গা ঠাকুর) তরুনী একটি ত্রিফলা লাইটের নীচে দাঁড়িয়ে তার আরেক সঙ্গিনী কে বলছে...."আজকেও যদি একজন খদ্দেরও না পাই তাহলে আর কাল ছেলেটার ওষুধ কিনতে পারবো না রে...মা দুগ্গা কে সকাল থেকেই মনে মনে বলছি আজ অন্তত একটা খদ্দের জুটিও মা...."

এমন সময়ই একটা কালো কাঁচের গাড়ি এসে থামল তার সামনে...গাড়ি তে প্রবল স্বরে উন্মাদ নৃত্যের গান চলছে...একটি কালো কাঁচ নামিয়ে একজন অসুর বিশিষ্ট পুরুষ জিজ্ঞেস করলেন-" কিরে! রেট কত...এখন? পুজোর বাজারে ডবল দেব....চারজন আছি...আসবি নাকি?....। মেয়েটি নিঃশব্দে মাথা নাড়িয়ে উঠে গেলো গাড়ি তে...।যাওয়ার আগে তার সঙ্গের সঙ্গিনীটিকে ফিসফিসিয়ে বলে গেল " দেখেছিস তো মা দুগ্গা আমার কথা শুনেছে...হোক না চারজন... মা দুগ্গা আছে তো....কাল ছেলেটার ওষুধের ব্যবস্থা ঠিক করে দিয়েছে ...।"

আমি আর ফেলে আসা প্যান্ডেল টার দিকে এবার তাকাইনি... কোটি টাকার গয়না পরিহিত মাতৃ প্রতিমাটিকেও আর মনে করিনি....দেখলাম কালো কাঁচের গাড়ি টা আমার দেখা দূর্গা ঠাকুরটিকে নিয়ে চলে গেল.... আসতে আসতে নজরের বাইরে যেতে যেতে অন্ধকার রাস্তায় হারিয়ে গেলো....আমি ঝাপসা চোখে তাকিয়ে কেন জানিনা নিজেই হঠাৎ করে বলে উঠলাম

- দুগ্গা তোর দাম কতো? 
-সংগৃহিত

পিরিয়ড

পিরিয়ড
এই যে ছবি টা দেখছেন,,
এই ছবি নিয়ে বিতর্কের অন্ত নেই,, উঠেছে হাজার টা প্রশ্ন!!
কারোর কাছে, এটা আদিখ্যেতা... কারো কাছে এই ভাবে মহান হওয়া যায় না... কারো কাছে, এটা তো বর্জ্য পদার্থ... এটাকে নিয়ে এত মাতামাতি , নাচানাচি না করাই ভালো... তাদের সবার জন্য আগেই আমি সমবেদনা জানালাম ...

এদের ভেতর বেশিরভাগই কিন্তু মহিলা ... না না অবাক হবেন না,এটাই সত্যি!!

তো তাদের উদ্দেশ্য করে বলি,, 
যে ছবি নিয়ে এতো তর্ক করছেন, সেটায় কোনো নোংরামি, বা অপবিত্রতা নেই বিশ্বাস করুন!!

প্রথমত,, বীর্য আর বর্জ্য পদার্থ এক নয়! একজন নতুন প্রাণ পৃথিবীতে আসার জন্য, বীর্যের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে,, তাই ভুলেও এই দুটো ব্যাপার কে এক করা যাবে না...

দ্বিতীয়ত, "মেয়েদের মাসিক রক্ত সেলিব্রেশন" ঠিক কোথায় কি ভাবে হয়!? 
সেলিব্রেশন!? সত্যি!? ঠাকুর ঘরে যেও না, রান্না ঘরে যেও না, প্যাড টা কেউ দেখে নি তো!! 
কালো প্যাকেট এ প্যাড টা মুড়িয়ে নাও!
আজকাল কার মেয়ে! এই নিয়ে মন্দির যাবে! কি নির্লজ্জ!! 
ব্যথা ব্যথা করে চিৎকার করো না! লোকে জানলে কি হবে! দাঁত চেপে সহ্য করো!

এটাকে সেলিব্রেশন বলে বুঝি!

আর এটা শরীর থেকে বেরোনোর পর হাজার ব্যাকটেরিয়ার জন্ম দেয় মানছি,, কিন্তু এটাও কিন্তু নতুন প্রাণ জন্ম দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়,,
তাই এটাকে যথেষ্ট ওপরে রাখা উচিৎ,

দেখুন, মাসিক রক্তকে কোন পুরুষ স্যুপের মতো পান করলো বা তা দিয়ে স্নান করলো,, তাতে আমাদের কি যাবে আসবে বলুন তো!? ব্যাসিকালি তাতে আমাদের কিছুই লাভ হবে না, 
তাহলে কি স্বীকৃতি চাই!? 
হ্যাঁ স্বীকৃতি চাই,

যদি অষ্টমীর সকালে আমি দেখি আমার পিরিয়ড হয়েছে, আমি যেন তবু অঞ্জলি দিতে পারি, সেই স্বীকৃতি চাই...

পিরিয়ডে নতুন জামা পড়ার স্বীকৃতি চাই...

আমি পিরিয়ডের ব্যথা হলে, দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করতে পারি না,, তখন যদি আমার বাবা, কাকা, বা কোনো ছেলে বন্ধু জিগ্গেস করে কি হয়েছে, তাদের মিথ্যে না বলে বলতে চাই, আমার কষ্ট টা, আমার তাতে লজ্জা করবে না, সেই স্বীকৃতি চাই...

আমি আমার প্যাড কালো প্যাকেটে লুকিয়ে আনতে পারবো না, সেই স্বীকৃতি চাই...

আমার জামায় লাল দাগ লাগলে, লজ্জায় লাল হতে পারবো না, কাজ কর্ম ফেলে ছুঁটে বাড়ি পালাতে পারবো না, সেই স্বীকৃতি চাই...

সত্যি বলতে কি, সমাজের চোখে আরেকটু বেশি নির্লজ্জ হওয়ার স্বীকৃতি চাই...

মাসিক এর রক্ত এবং বীর্য তো প্রাকৃতিক জিনিস... ছেলেদের বীর্যর কারণে তো মন্দির যাওয়া আটকায় না, নতুন জামা পড়া আটকায় না, 
তবে মাসিকের রক্ত ক্ষরণে কেন তা হবে!?
তাহলে কি বলতে চান ,, ছেলেদের বীর্য বেরোনোর এক ঘন্টা পর তা অমৃতে পরিণত হয়!? আর মাসিকের রক্ত থেকেই খালি জন্ম হয় ব্যাকটেরিয়ার!
নিশ্চই না তো!?

তবে হ্যাঁ, একটা ফারাক আছে...
ভারতে প্রায় সত্তর শতাংশ মেয়ের মাসিকের রক্ত ক্ষরণে কষ্ট হয়, আর নতুন প্রাণ জন্মের সময় ও সদ্যজাতটি মেয়ে দেরই গর্ভে আশ্রয় নেয় দশ মাস...

আর সব থেকে আশ্চর্যের ব্যাপার কি জানেন? মাসিক রক্তের যথাযথ কদর কিন্তু পুরুষ রাই করে,,
করে না কিছু ভন্ড মহিলারা! 
তারা সারাদিন সনাতন ধর্মকে গালিগালাজ করবে, আবার কেউ ভালো কিছু করলেও সহ্য হবে না, সেটাকে নিয়ে সমালোচনা করে, বিতর্কের জায়গায় নিয়ে গিয়ে দাঁড় করবে!!
এটাকে কি বলে জানেন?? ভণ্ডামি, স্রেফ ভণ্ডামি!

আমার কিন্তু ছবি টা বেশ লেগেছে... চিত্রশিল্পী কে অনেকটা শ্রদ্ধা জানালাম... 
আর হ্যাঁ, এবার পুজোয় যদি আমার পিরিয়ড হয়, তবু আমি অঞ্জলি দেবো,, 
আপনারাও দিন...

- Puja Bhowmick
(Copied)

পরকীয়া

পরকীয়া, রায় সম্পর্কে দু-চারটে কথা।
পরকীয়া সংক্রান্ত ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের
সাম্প্রতিক রায়টি সম্পর্কে একটু সঠিক ধারণা নিন।
একটা রায় বোঝার জ্ঞান আমাদের নেই! অথচ আমরা টর্নেডোর গতিতে ট্রল করে ফেললাম!
এবার দেখুন-

* ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট বললো, ‘নারী পুরুষের অধীন নয়, নারীর শরীরের মালিক নারী নিজে’। অর্থাৎ এখানে নারীকে পূর্ণাঙ্গ মানুষের সম্মান দেওয়া হয়েছে।
আর আপনারা বললেন, ‘ভারত পরকীয়া বৈধ করে দিয়েছে’।

* ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট বললো, ‘পরকীয়ায় শাস্তি আগে শুধু পুরুষ পেতো, এটা গ্রহণযোগ্য নয়। এখানে একটা বৈষম্য থাকে’।
আপনারা বললেন, ‘ভারত পরকীয়া বৈধ করে দিয়েছে’।

* ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট বললো, ‘পরকীয়া রাষ্ট্রের সমস্যা নয়। এখানে রাষ্ট্র বা পুলিশের নাক গলানোর কিছু নেই। এটা ওই নারী ও পুরুষের ব্যক্তিগত বিষয়’।
আপনারা বললেন, ‘ভারত পরকীয়া বৈধ করে দিয়েছে’।

* ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট বললো, ‘শুধু পরকীয়ায় জড়িত নারীর স্বামীর অধিকার ছিলো আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার। কিন্তু জড়িত পুরুষের স্ত্রীর সেই অধিকার ছিলো না। এখন নিতে পারবে।
আপনারা বললেন, ‘ভারত পরকীয়া বৈধ করে দিয়েছে’।

* ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট বললো, ‘মানুষ কার সাথে সম্পর্ক বা যৌন সম্পর্ক করবে তা সমাজ ঠিক করে দিতে পারে না। এই ধারাটি স্বেচ্ছাচারিতার সমান’।
আপনারা বললেন,’ভারত পরকীয়া বৈধ করে দিয়েছে’।

- সুকান্ত মোদক 
(Copied)

বলটুর বউ প্রেগন্যান্ট

Boltur Bou Pregnant Bengali Funny Story, Bengali Story



১. বল্টূ ও  ডাক্তারের গল্প-- 

বল্টূ  দৌড়ে ডাক্তারের কাছে গিয়ে বলল"

বল্টূ  :--ডাক্তার সাহেব আমার বউয়ের বাচ্চা হবে আপনি চলেন"

ডাক্তার একটা কাঠের বক্স হাতে নিয়ে বলল,আমার বাইকের পেছনে বস"

তো বাসায় পৌছে ডাক্তার বল্টূ  বউ এর রুমে গেল আর বল্টূ  বাইরে অপেক্ষা করতে লাগল"

১০ মিনিট পর ডাক্তার দরজা খুলতেই বল্টূ  জানতে চাইল,তার বউয়ের অবস্থা কেমন"

ডাক্তার:-- তোর এখানে ছেনি আছে"

বল্টু জানতে চাইল যে ছেনি দিয়ে কি হবে"

ডাক্তারের উত্তর যদি তোর বউকে বাচাতে চাস তো ছেনি লাগবে"

বল্টূ  ছেনি এনে দিল"

১৫ মিনিট পর ডাক্তার ঘর্মাক্ত শরীর নিয়ে বের হল"

বল্টূ  জানতে চাইল তার বউয়ের কি অবস্থা"

ডাক্তার:-- তোর বউকে যদি বাচাতে চাস তো একটা হাতুড়ি নিয়ে আয়"

বল্টূ  হাতুড়ি এনে দিল"

২০ মিনিট পর ডাক্তার ক্লান্ত হয়ে বের হল,তো বল্টু জানতে চাইল তার বউয়ের অবস্থা কেমন"

ডাক্তার বলল একটা করাত এনে দিতে পারবি"

বল্টূ  তো রেগে আগুন,ওই তুমি কেমন ডাক্তার,বাচ্চা হইতে কখনো এসব লাগে"

ডাক্তার মৃদু স্বরে বলল এতো উত্তেজিত হসনা বল্টূ  "

আমি যে বাক্সটা নিয়ে আসছি ওটার চাবি খুজে পাচ্ছি না" তাই তালা ভাঙ্গার চেষ্টা করছি 😀😀


২. সৌরভ : ভাই আজকাল আমার দিন ভালো যাচ্ছে না।

বল্টূ  : কেনো কি হয়েছে।

সৌরভ : ফোন চার্জে দিয়ে একটা মেয়ের সাথে চ্যাট করছিলাম।
কিছুখন পরে বললাম phone গরম হয়ে গেছে। একটু পরে কথা বলি। কিছুখন পরে এসে দেখি।
" you can ' t reply to this conversation.

বল্টু : কি বলিস এইটুকু কথার জন্য তোকে মেয়েটি Block দিল।

সৌরভ : আরে না মেসেজ চেক করতে যেয়ে দেখি phone বানানে p এর জায়গায় D লিখে ফেলছি।।

ফ্লাইওভার

ফ্লাইওভার গল্প - কলকাতা
Flyover
ফ্লাইওভারের মুখে এসে ক্যাবের ড্রাইভার জিজ্ঞাসা করল, 
'স্যর, ব্রিজের উপর দিয়ে যাবেন না নীচ দিয়ে যাবেন?" 
মহা সমস্যায় পড়লাম ! 
সিন্ডিকেটের মশলায় তৈরী ফাটল ধরা, তাপ্পি মারা পুরনো ব্রিজ। ভেঙে পড়তেই পারে। 
ভেঙে পড়লে বেওয়ারিশ লাশ হয়ে লাশকাটা ঘরে পড়ে থাকতে হবে।
প্রশ্নটা হচ্ছে, উপর দিয়ে যাব না নীচ দিয়ে। 
নীচ দিয়ে গেলে বডি তো আর কেউ পাবে না, দুদিন পরে কংক্রীটের গায়ে থ্যাঁতলান টম্যাটোর মতো মাংসের সস্ হয়ে থেকে যাব। 
বাড়ির লোককেও বডি না পেলে সাত বছর অপেক্ষা করতে হবে LIC র টাকা পেতে।
তা হলে?
বলেই ফেললাম, উপর দিয়ে। 
ভুল বলি নি মনে হল। 
প্রচুর গাড়ি দেখলাম ব্রিজে ওঠার লম্বা লাইনে। 
নীচটা পুরো ফাঁকা। 
অনেক দিন পর একটা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পেরে মনটা হাল্কা হয়ে গেল।

বউকে ফোন করে বলে দিলাম, ব্রিজে উঠছি। 
আধ ঘন্টা পরেও ফোনে না পেলে টিভির নিউজটা দেখ। 
আর LIC র কাগজ আলমারির উপরের তাকে ডান দিকে বাদামী খামের মধ্যে আছে।

চলে যাই যদি তবু মনে রেখ।
- স্বাগত গাঙ্গুলি

বন্যমামনিদের প্রতি

Bhalobasa.Com

নীলাঞ্জনা - তুমিই আমার প্রথম প্রেম । 
হাজার সবিতা.. বেকার কবিতার পরেও তোমাকে ভুলতে পারলাম কই.. ? প্রথম প্রেম কি ভোলা যায়?
..
দীপান্বিতা - সরি দীপান্বিতা !
সমান্তরাল পথের বাঁকে , তোমার নাকি দিশা থাকে,
সে দিশাতে খুঁজে খুঁজে দিশাহীন হয়ে গেলাম তাও তোমার দিশা পেলাম না ;____; 
..
মানসি - ও মানসি তোমার জন্যে চোখে স্বপ্ন একেছি, 
কালিদাস হয়ে প্রেমের কবিতা লিখেছি .. 
তারপরে জানতে পারলাম তুমি নিরক্ষর, সই করো আঙুলছাপ দিয়ে .. ;____;
.. 
মধু - আই ল্যাবু বলাতে মৌমাছিরা এমন হুল ফোটালে .. আমি আর শোভাবাজারমুখো হচ্ছিনা .. 
..
রঞ্জনা - আমি আর আসবই না, না পাড়ার দাদদের ঠ্যাং খোঁড়া করে দেওয়ার ভয় পাইনা, তোমার ছবি সেদিন বং ক্রাশ পেজে দেখলাম ;_____; 
..
পারমিতা - জানি তোমার কাছে আমার জন্যে "একদিন" ছাড়া সময় নেই, কিন্তু আমার একদিনের জন্য তোমায় চাইনা , সারাজীবনের জন্যে চাই, কিন্তু তুমি একদিন ছাড়া দিতে পারবেনা, এরকম দুশ্চরিত্র মেয়ে দরকার নেই, আমি Loyal টাইপের ছেলে, তাই আমায় ভুলে যেও .. 
..
নন্দিনী - কে তুমি নন্দিনী ? আগে তো দেখিনি.. 
এত সুন্দরী, নিশ্চয়ই বয়ফ্রেন্ড আছে, সেটাও আমি জানি.. ;___;
..
বেলা - বেলা টুইলাইট সিরিজ শেষ হয়েছে অনেকদিন হলো, এবার কি শুনতে পাচ্ছ ? 
আমি সরকারি চাকরিটা অবশেষে পেয়েই গেছি, তোমার মেয়ের বিয়ের বয়স হয়েছে শুনলাম .. ইয়ে..
..
রুবি .. : মনে পরে রুবি রায়? একদিন কবিতায়..তোমাকে কত করে ডেকেছি ..আজ হায়! রুবি রায় ডেকে বল আমাকে তোমাকে কোথায় যেন দেখেছি .. ব্যাপরটা পুরো একতরফা ..ছিল ..আউর একতরফা প্যার কি তাকত তুম ক্যা জানো রমেশ বাবু .. ?? 
কিন্তু সেই তাকত তোমায় আর তোমার হাজব্যান্ডকে আলাদা করতে পারল কই? ;_____;
.. 
লায়লা - লায়লা ও লায়লা , তুই অপরাধী রে,
মনটা তুই মজনুকে দিলি, আমার আর কই হলি রে ..
..
রাই - রাই জাগো রাই জাগো.. 
আর আমার সাথে ভাগো... 
শালা! ঘুমই ভাঙ্গেনা .. 
..
রুপা - ও রুপা খাস মহলের বেগম বানাব .. 
তোমার বাবার টাকায় বসে বসে খাব .. 
একি? কি হলো.. রুপা ব্লক করলে কেন.. 
..
নিরুপমা - ওগো নিরুপমা .. করিও ক্ষমা ..
তোমাকে ভুলিয়াছি সেদিন, ঠুকিলে শ্লীলতাহানির মিথ্যে কেস,
দিলে থানায় জমা .. 
..
বেবো- ভেবেছিলাম তোমার হবো, 
একসাথে ঘুরতে যাবো, 
একসাথে খাবো,
অনেক ভালোবাসা পাবো, 
সবকিছু বুঝে নেবো,
.. 
কিন্তু তুমি বেরোলে শেষে লেবো?

..
পিঙ্কি -পয়সা ফেক, তামাশা দেখ, 
এবার বারে শরীর না দেখিয়ে,
কষ্ট করে ইনকাম করতে শেখ । 
..
মুন্নি - বদনাম হয়েছ? কি করেছিলাম আমি ? বন্ধু ছিলাম আমরা.. নিজের বয়ফ্রেন্ড কে বাঁচাতে সব দোষ আমার কাঁধে চাপিয়ে দিয়েছিলে, সামনে যদি পাই মুখের মানচিত্র পাল্টে দেব, দূরে থেকো .. 
..
শীলা- এ তোমার কেমন লীলা? জবানি দেখাও অথচ হাতে আসো না .. এখন সয়ে গেছে .. তুমি না হাতে এলেও তোমার জবানির কথা ভেবে অন্য কিছু ঠিক হাতে চলে আসে .. 
.. 
অদিতি - হয় হয় এরকম হয়! বয়ফ্রেন্ড রা ছেড়ে যায়, আর কাঁদিস না .. 
দেখিস নিশ্চয়ই সত্যি কেউ ভালোবাসবে তোকে ..
আউর ইয়ে সোচলে Everything Gonna Be Ok ..
..
মমতা .. - ও মমতা .. ও মেরি .. থুড়ি থুড়ি .. দিদি প্রণাম নেবেন, কাল রাখি পরতে আসব ❤️
..
ঝিন্টি - তুই বৃষ্টি অবশ্যই হতে পারিস, আমি গায়েও মাখব ..কিন্তু পুজোর সময় যেন আশেপাশে না দেখি .. ! 
..
টিঙ্কু - যবতক না মানে টিঙ্কু জিয়া, 
কেন ছাইড়া গ্যালা আমারে কাদাইয়া ? 😢😭
..
সুইটি - ও সুইটি আর কেঁদোনা আমি আসছি ,
ও সুইটি আর পেদোনা আমি যাচ্ছি .. ;___;
..
প্রিয়া- প্রিয়া রে .. প্রিয়া রে..কাঁদে মন , হিয়া রে.. হ্যা! যবে থেকে দেখেছিলাম নামের আগে "Angel" আছে.. 
..
চাঁদনী - ফাগুনী চাঁদনী রাতে চাঁদনীকে নিয়ে পলায়ে যাওয়ার কথা ছিল, তোমার বাপে ধরে ফেলে এমন ক্যালাল, চাঁদ বদনের যা হাল করল, আমি আজকাল কাউকে মুখ দেখাতে পারিনা.. 
..
টুনি - জিও তো এসে গেছে এখনো কি মিসকল মারিস? 

~ অপূর্ব