বিসর্জন

বিসর্জন - Bengali Story - Bangla Golpo

Bosorjon

জলের ধারে বসে থাকতে থাকতে বিজয়ার অনেককালের কথা মনে পড়ছে আজ। 
কোথাকার এই নদী,কোথাকার এই জল আজ কোথায় এসে দাঁড়িয়েছে!তার জীবনও তাই!
"দোল দোল দুলুনি" ছড়ার বয়সে সে সিঁথি রাঙা করে এ বাড়িতে এসেছিল। পাঁচ বছরের মেয়ে বিয়ের কী বোঝে? 
তবে সাজতে ভারী ভালো বাসত বিজয়া। 
ওইটুকু বয়সেই নাকে নথ পড়তো টেনে, কানে ঝোলা দুল, শ্বশুরবাড়ির মেয়ে-ঝিরা তো কচি মেয়ের সাজের বহর দেখে হেসে খুন হত। 
তার কিশোর বর একবার নথ ধরে নাড়া দিয়েছিল বলে বিজয়া সাত সাতটে দিন মান করেছিল। 
শেষে একজোড়া পায়ের মল গড়িয়ে দিয়ে তার মান ভাঙানো গেল।

বর বলতে কতটুকু মনে পড়ে বিজয়ার? 
সেই এক কিশোর ছেলে, এই এত্তো বড়ো বাড়িতে সেই ছিল তার খেলার সাথী। 
অথচ খেলা কত তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে গেল তাদের। 
বিয়ের একবছর পর বিজয়ার স্বামী কিশোর ব্রজমোহন জমিদারির কাজে গিয়েছিল বায়রের গ্রামে। 
নদী পেরোনোর সময় নৌকাডুবিতে মারা যায় সে। 
ছয় বছরের বয়সে বৈধব্য এসে গ্রাস করল বিজয়ার সমস্ত সজ্জা,সুখ আনন্দের সামগ্রী। সেও প্রায় বারো তেরো বছর আগের কথা।

এতদিনে গায়ের চামড়ার সাথে এক হয়ে গেছে সাদা থানখানি। 
তবুও দুর্দান্ত অষ্টাদশী যৌবন শরীরের সমস্ত বেড়া ভেঙে বেড়িয়ে আসতে চাইছে যেন। 
বিজয়ার গায়ের রঙ শ্যামলা, বৈধব্যের কৃচ্ছসাধনে কিঞ্চিৎ কৃশ। 
বড়ো বাড়ির বিধবা বিজয়ার দিন কাটে গোয়াল ঘর পরিষ্কারে, ঠাকুরঘরের জোগাড়ে। 
যৌবনের দরজায় দাঁড়িয়ে একটা ফুল ক্রমশ যেন শুকিয়ে উঠছে। 
কেউ খোঁজ রাখছে না সে ফুলের, কেউ বলছে না একবারও -'জল খাবে ফুল, জল?'

এবছর শ্রাবনে বাড়ির ছোট ছেলের বিয়ে হয়েছে। 
নতুন বউ কিশোরী, কিন্তু সুন্দরী। 
অল্পদিনেই সে স্বামী ও নতুন সংসারের মনের মধ্যিখানে জায়গা করে নিয়েছে। আশ্বিনের মাঝামাঝি দুর্গাপুজো। 
উৎসবের আনন্দে বড়োবাড়ি আত্মহারা হয়ে উঠেছে। 
বাড়ির বউরা গা ভরা গয়না পরে ঠাকুর দালানে বসে আলতা পায়ে দিচ্ছে, সে দৃশ্য এ বাড়িতে চেনা। 
অথচ বিজয়ার ভারী অসহ্য লাগছে এবার। 
এতোবছর বৈধব্য নিয়ে এ বাড়ির পুজো দেখছে। 
কিন্তু এবছর নতুন বউ আসায় সব যেন কেমন ওলটপালট হয়ে গেছে। নতুন বউ স্বভাবতই সৌন্দর্যে অহংকারী, তার ওপরে স্বামী সোহাগিনী। সে আসা অবধি বিজয়াকে হীন চোখেই দেখেছে। 
যদিও এবাড়িতে কেই বা তাকে হীন চোখে দেখে না।তবু এ দৃষ্টি যেন বড়ো আঘাতের। 
কোথায় গিয়ে যেন বিজয়াকে মনে করিয়ে দিচ্ছে- "তুই বড়ো অভাগী।তোর স্বামী নেই,সুখ নেই, সোহাগ নেই। 
অথচ ওই পুচকে ছোট বউ কেমন স্বামীর বুকে রাঙাকনে হয়ে তোর সামনেই ঘুরে বেড়াচ্ছে। 
ধিক তোর আঠেরো বছরের যৌবন, ধিক তোর কৃচ্ছ্রসাধন বেঁচে থাকায়।"

বিজয়ার মনে বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে তীব্র আত্মধিক্কার - "ধিক তোর আঠেরো বছরের যৌবন, ধিক তোর কৃচ্ছ্রসাধন বেঁচে থাকায়।"

দশমীর সকালে বাড়ির মেয়ে বউরা ঠাকুরদালানে উঠে মাকে বরণ করল। 
উৎসবের শেষলগ্নে সিঁদুরখেলায় মেতে উঠল সারা বাড়ি। 
বিজয়া ঠাকুরদালানে যায়নি, শুভকাজে বিধবাদের থাকতে নেই,তায় আবার সিঁদুরখেলা। 
দুয়েকবার দালানের ওপর থেকে দেখেছিল রাঙা হয়ে যাওয়া সারা বাড়ি,সিঁদুররাঙা বউদের রাঙা মুখগুলো।

বিজয়া তখন গোয়ালের দিকে। সে দিকটা তখন নিরিবিলি, কেউ নেই। হঠাৎ বিজয়ার মনে হল গোয়ালঘরের পেছনে কারা যেন এসেছে। তাড়াতাড়ি বেরিয়ে এসে দেখল সেখানে নতুন বউ, সাথ তার স্বামী বাড়ির ছোটছেলে। 
বিজয়া একবার ভাবল চলে যাবে, অথচ পা যেন সেখানেই গাছের মতো শিকড় এঁটে বসল। 
ছোটছেলে নতুন বউয়ের সিঁথিতে একমুঠো সিঁদুর মাখিয়ে দিল। নতুন বউয়ের তখন লজ্জাবনত মুখ। 
আড়ালে বিজয়ার সর্বাঙ্গ তখন কোন এক অদ্ভুত আগুনে ক্রমশ পুড়ে যেতে লাগল। 
যে সুধাস্বাদ কোনদিন পায়নি সে, সেই সুধার ভাণ্ড চোখের সামনে নির্লজ্জ নগ্নতায় এসে দাঁড়াল হঠাৎ।দুটো মানুষ ধীরে ধীরে নিবিড় হল নিরিবিলি কোণায়, তারা জানে না তৃতীয় ব্যক্তি ক্ষুধার্ত চোখ দিয়ে গ্রহণ করছে সে দৃশ্য।

বিজয়া আর পারল না। তার মনের গভীর থেকে সেই পুরাতন ধিক্কার ধ্বনি ঘুরপাক খেয়ে উঠতে লাগল -"ধিক তোর আঠেরো বছরের যৌবন, ধিক তোর কৃচ্ছ্রসাধন বেঁচে থাকায়।"

বিজয়া এখন দাঁড়িয়ে আছে জলের সামনে। 
শরতের ভরা নদী পূর্ণযৌবনা রূপসীর মতো বয়ে চলেছে। 
বিজয়া সারা গায়ে আজ গয়না পড়েছে। 
সেকালের ভারী ওজনের বেশ কিছু গয়না আজ তার সাদাথানের ওপর উজ্জ্বল হয়ে উঠছে। 
সিঁথি রাঙা হয়ে উঠছে সিঁদুরে সিঁদুরে। 
তার আজীবনের সোহাগ-সিঁদুরের সাধ মিটছে না আর। 
বিজয়ার শ্যামবর্ণ মুখ উজ্জ্বল লাল হয়ে দেখা দিল। 
গতজন্মের যাবতীয় না পাওয়া ফেলে দিয়ে বিজয়া আজ অপরূপা সেজেছে। 
সম্মুখে রূপসী নদী দুহাত বাড়িয়ে সখীর মতো ডাকছে। 
বিজয়া দুহাত বাড়িয়ে জড়িয়ে ধরল জল, ক্রমশ নেমে যেত থাকল গভীরে....

কোথাকার এক রাজ্যে চলে যাচ্ছে বিজয়া। 
সেখানে পরিতাপ নেই,আত্মধিক্কার নেই, নিত্যদিনের বেঁচে থাকার নামে একটু একটু করে মরে যাওয়া নেই। 
সে রাজ্য থেকে বিজয়া শুধু আশা করে যেতে পারে, ভবিষ্যতের বিজয়ারা গা ভরা গয়না পরে, স্বামীর সোহাগ নিয়ে বাঁচতে পারবে। কোনও দশমীর বিকেলে বিসর্জন হবে না সেই বিজয়াদের।

ভালো থাক বিজয়ারা। ভালো থাক তাদের সুখে থাকার আকাঙ্ক্ষা। #শুভ_বিজয়া।।
-Anirban Mandal

দুগ্গা তোর দাম কতো

Bengali Dura Puja Story

Bangla Durga Puja Golpo
কয়েক কোটি টাকার গয়না পড়া দূর্গা ঠাকুর দেখতে গিয়েছিলাম। গরমে ঘেমে নেয়ে ঘন্টা তিনেক দাড়িয়ে দাড়িয়ে পায়ের দফারফা করে রাত বারোটা বেজে দশ মিনিটে যখন ভিতরে ঢুকলাম, শত শত বিনে পয়সার মোবাইল ক্যামেরায় চিত্র শিকারীদের দাপটে মা কে ভালো করে দেখার সুযোগও পেলাম না...(পেন্নাম করা তো দুরের কথা, যদিও মোবাইল ক্যামেরা হাতে আসার পর এখন আর কেউই পেন্নাম করে না, সব গুলি ছবিই বাড়িতে এনে তারপর বোধহয় একসঙ্গে পেন্নাম সেরে নেয় ) এককথায় গলা ধাক্কা না দিয়ে কতৃপক্ষ বের করে দিলো....বাইরে এসে দেখতে পেলাম আসল দুগ্গা ঠাকুর...

পথের ধারে ছেড়া ফাঁটা শাড়ি পড়ে এক মা তার কোলের (হয়ত পিতৃ পরিচয় হীন) শিশুকে আগলে নিয়ে ভিক্ষের বাটি পাশে রেখে অঘোরে ঘুমিয়ে আছে (হয়ত আধ পেটা খেয়ে)...। পেছন ফিরে চেয়ে দেখলাম কোটি টাকার দামি প্যান্ডেল টা...চোখ বুজে মনে করার চেষ্টা করলাম কোটি টাকার গয়না পরিহিত মাতৃ প্রতিমাটিকে .....মনে মনে প্রশ্ন করলাম .....দুগ্গা তুই কি সত্যিই অনেক দামী....?

রাত অনেক... এবার বাড়ি ফিরবো....পথের ধারে দাঁড়িয়ে আছি যদি কোন ট্যাক্সি পাই...একটু দূরেই একটি অপূর্ব সুন্দরী (ঠিক যেন দূর্গা ঠাকুর) তরুনী একটি ত্রিফলা লাইটের নীচে দাঁড়িয়ে তার আরেক সঙ্গিনী কে বলছে...."আজকেও যদি একজন খদ্দেরও না পাই তাহলে আর কাল ছেলেটার ওষুধ কিনতে পারবো না রে...মা দুগ্গা কে সকাল থেকেই মনে মনে বলছি আজ অন্তত একটা খদ্দের জুটিও মা...."

এমন সময়ই একটা কালো কাঁচের গাড়ি এসে থামল তার সামনে...গাড়ি তে প্রবল স্বরে উন্মাদ নৃত্যের গান চলছে...একটি কালো কাঁচ নামিয়ে একজন অসুর বিশিষ্ট পুরুষ জিজ্ঞেস করলেন-" কিরে! রেট কত...এখন? পুজোর বাজারে ডবল দেব....চারজন আছি...আসবি নাকি?....। মেয়েটি নিঃশব্দে মাথা নাড়িয়ে উঠে গেলো গাড়ি তে...।যাওয়ার আগে তার সঙ্গের সঙ্গিনীটিকে ফিসফিসিয়ে বলে গেল " দেখেছিস তো মা দুগ্গা আমার কথা শুনেছে...হোক না চারজন... মা দুগ্গা আছে তো....কাল ছেলেটার ওষুধের ব্যবস্থা ঠিক করে দিয়েছে ...।"

আমি আর ফেলে আসা প্যান্ডেল টার দিকে এবার তাকাইনি... কোটি টাকার গয়না পরিহিত মাতৃ প্রতিমাটিকেও আর মনে করিনি....দেখলাম কালো কাঁচের গাড়ি টা আমার দেখা দূর্গা ঠাকুরটিকে নিয়ে চলে গেল.... আসতে আসতে নজরের বাইরে যেতে যেতে অন্ধকার রাস্তায় হারিয়ে গেলো....আমি ঝাপসা চোখে তাকিয়ে কেন জানিনা নিজেই হঠাৎ করে বলে উঠলাম

- দুগ্গা তোর দাম কতো? 
-সংগৃহিত

পিরিয়ড

পিরিয়ড
এই যে ছবি টা দেখছেন,,
এই ছবি নিয়ে বিতর্কের অন্ত নেই,, উঠেছে হাজার টা প্রশ্ন!!
কারোর কাছে, এটা আদিখ্যেতা... কারো কাছে এই ভাবে মহান হওয়া যায় না... কারো কাছে, এটা তো বর্জ্য পদার্থ... এটাকে নিয়ে এত মাতামাতি , নাচানাচি না করাই ভালো... তাদের সবার জন্য আগেই আমি সমবেদনা জানালাম ...

এদের ভেতর বেশিরভাগই কিন্তু মহিলা ... না না অবাক হবেন না,এটাই সত্যি!!

তো তাদের উদ্দেশ্য করে বলি,, 
যে ছবি নিয়ে এতো তর্ক করছেন, সেটায় কোনো নোংরামি, বা অপবিত্রতা নেই বিশ্বাস করুন!!

প্রথমত,, বীর্য আর বর্জ্য পদার্থ এক নয়! একজন নতুন প্রাণ পৃথিবীতে আসার জন্য, বীর্যের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে,, তাই ভুলেও এই দুটো ব্যাপার কে এক করা যাবে না...

দ্বিতীয়ত, "মেয়েদের মাসিক রক্ত সেলিব্রেশন" ঠিক কোথায় কি ভাবে হয়!? 
সেলিব্রেশন!? সত্যি!? ঠাকুর ঘরে যেও না, রান্না ঘরে যেও না, প্যাড টা কেউ দেখে নি তো!! 
কালো প্যাকেট এ প্যাড টা মুড়িয়ে নাও!
আজকাল কার মেয়ে! এই নিয়ে মন্দির যাবে! কি নির্লজ্জ!! 
ব্যথা ব্যথা করে চিৎকার করো না! লোকে জানলে কি হবে! দাঁত চেপে সহ্য করো!

এটাকে সেলিব্রেশন বলে বুঝি!

আর এটা শরীর থেকে বেরোনোর পর হাজার ব্যাকটেরিয়ার জন্ম দেয় মানছি,, কিন্তু এটাও কিন্তু নতুন প্রাণ জন্ম দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়,,
তাই এটাকে যথেষ্ট ওপরে রাখা উচিৎ,

দেখুন, মাসিক রক্তকে কোন পুরুষ স্যুপের মতো পান করলো বা তা দিয়ে স্নান করলো,, তাতে আমাদের কি যাবে আসবে বলুন তো!? ব্যাসিকালি তাতে আমাদের কিছুই লাভ হবে না, 
তাহলে কি স্বীকৃতি চাই!? 
হ্যাঁ স্বীকৃতি চাই,

যদি অষ্টমীর সকালে আমি দেখি আমার পিরিয়ড হয়েছে, আমি যেন তবু অঞ্জলি দিতে পারি, সেই স্বীকৃতি চাই...

পিরিয়ডে নতুন জামা পড়ার স্বীকৃতি চাই...

আমি পিরিয়ডের ব্যথা হলে, দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করতে পারি না,, তখন যদি আমার বাবা, কাকা, বা কোনো ছেলে বন্ধু জিগ্গেস করে কি হয়েছে, তাদের মিথ্যে না বলে বলতে চাই, আমার কষ্ট টা, আমার তাতে লজ্জা করবে না, সেই স্বীকৃতি চাই...

আমি আমার প্যাড কালো প্যাকেটে লুকিয়ে আনতে পারবো না, সেই স্বীকৃতি চাই...

আমার জামায় লাল দাগ লাগলে, লজ্জায় লাল হতে পারবো না, কাজ কর্ম ফেলে ছুঁটে বাড়ি পালাতে পারবো না, সেই স্বীকৃতি চাই...

সত্যি বলতে কি, সমাজের চোখে আরেকটু বেশি নির্লজ্জ হওয়ার স্বীকৃতি চাই...

মাসিক এর রক্ত এবং বীর্য তো প্রাকৃতিক জিনিস... ছেলেদের বীর্যর কারণে তো মন্দির যাওয়া আটকায় না, নতুন জামা পড়া আটকায় না, 
তবে মাসিকের রক্ত ক্ষরণে কেন তা হবে!?
তাহলে কি বলতে চান ,, ছেলেদের বীর্য বেরোনোর এক ঘন্টা পর তা অমৃতে পরিণত হয়!? আর মাসিকের রক্ত থেকেই খালি জন্ম হয় ব্যাকটেরিয়ার!
নিশ্চই না তো!?

তবে হ্যাঁ, একটা ফারাক আছে...
ভারতে প্রায় সত্তর শতাংশ মেয়ের মাসিকের রক্ত ক্ষরণে কষ্ট হয়, আর নতুন প্রাণ জন্মের সময় ও সদ্যজাতটি মেয়ে দেরই গর্ভে আশ্রয় নেয় দশ মাস...

আর সব থেকে আশ্চর্যের ব্যাপার কি জানেন? মাসিক রক্তের যথাযথ কদর কিন্তু পুরুষ রাই করে,,
করে না কিছু ভন্ড মহিলারা! 
তারা সারাদিন সনাতন ধর্মকে গালিগালাজ করবে, আবার কেউ ভালো কিছু করলেও সহ্য হবে না, সেটাকে নিয়ে সমালোচনা করে, বিতর্কের জায়গায় নিয়ে গিয়ে দাঁড় করবে!!
এটাকে কি বলে জানেন?? ভণ্ডামি, স্রেফ ভণ্ডামি!

আমার কিন্তু ছবি টা বেশ লেগেছে... চিত্রশিল্পী কে অনেকটা শ্রদ্ধা জানালাম... 
আর হ্যাঁ, এবার পুজোয় যদি আমার পিরিয়ড হয়, তবু আমি অঞ্জলি দেবো,, 
আপনারাও দিন...

- Puja Bhowmick
(Copied)

পরকীয়া

পরকীয়া, রায় সম্পর্কে দু-চারটে কথা।
পরকীয়া সংক্রান্ত ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের
সাম্প্রতিক রায়টি সম্পর্কে একটু সঠিক ধারণা নিন।
একটা রায় বোঝার জ্ঞান আমাদের নেই! অথচ আমরা টর্নেডোর গতিতে ট্রল করে ফেললাম!
এবার দেখুন-

* ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট বললো, ‘নারী পুরুষের অধীন নয়, নারীর শরীরের মালিক নারী নিজে’। অর্থাৎ এখানে নারীকে পূর্ণাঙ্গ মানুষের সম্মান দেওয়া হয়েছে।
আর আপনারা বললেন, ‘ভারত পরকীয়া বৈধ করে দিয়েছে’।

* ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট বললো, ‘পরকীয়ায় শাস্তি আগে শুধু পুরুষ পেতো, এটা গ্রহণযোগ্য নয়। এখানে একটা বৈষম্য থাকে’।
আপনারা বললেন, ‘ভারত পরকীয়া বৈধ করে দিয়েছে’।

* ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট বললো, ‘পরকীয়া রাষ্ট্রের সমস্যা নয়। এখানে রাষ্ট্র বা পুলিশের নাক গলানোর কিছু নেই। এটা ওই নারী ও পুরুষের ব্যক্তিগত বিষয়’।
আপনারা বললেন, ‘ভারত পরকীয়া বৈধ করে দিয়েছে’।

* ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট বললো, ‘শুধু পরকীয়ায় জড়িত নারীর স্বামীর অধিকার ছিলো আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার। কিন্তু জড়িত পুরুষের স্ত্রীর সেই অধিকার ছিলো না। এখন নিতে পারবে।
আপনারা বললেন, ‘ভারত পরকীয়া বৈধ করে দিয়েছে’।

* ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট বললো, ‘মানুষ কার সাথে সম্পর্ক বা যৌন সম্পর্ক করবে তা সমাজ ঠিক করে দিতে পারে না। এই ধারাটি স্বেচ্ছাচারিতার সমান’।
আপনারা বললেন,’ভারত পরকীয়া বৈধ করে দিয়েছে’।

- সুকান্ত মোদক 
(Copied)

বলটুর বউ প্রেগন্যান্ট

Boltur Bou Pregnant Bengali Funny Story, Bengali Story



১. বল্টূ ও  ডাক্তারের গল্প-- 

বল্টূ  দৌড়ে ডাক্তারের কাছে গিয়ে বলল"

বল্টূ  :--ডাক্তার সাহেব আমার বউয়ের বাচ্চা হবে আপনি চলেন"

ডাক্তার একটা কাঠের বক্স হাতে নিয়ে বলল,আমার বাইকের পেছনে বস"

তো বাসায় পৌছে ডাক্তার বল্টূ  বউ এর রুমে গেল আর বল্টূ  বাইরে অপেক্ষা করতে লাগল"

১০ মিনিট পর ডাক্তার দরজা খুলতেই বল্টূ  জানতে চাইল,তার বউয়ের অবস্থা কেমন"

ডাক্তার:-- তোর এখানে ছেনি আছে"

বল্টু জানতে চাইল যে ছেনি দিয়ে কি হবে"

ডাক্তারের উত্তর যদি তোর বউকে বাচাতে চাস তো ছেনি লাগবে"

বল্টূ  ছেনি এনে দিল"

১৫ মিনিট পর ডাক্তার ঘর্মাক্ত শরীর নিয়ে বের হল"

বল্টূ  জানতে চাইল তার বউয়ের কি অবস্থা"

ডাক্তার:-- তোর বউকে যদি বাচাতে চাস তো একটা হাতুড়ি নিয়ে আয়"

বল্টূ  হাতুড়ি এনে দিল"

২০ মিনিট পর ডাক্তার ক্লান্ত হয়ে বের হল,তো বল্টু জানতে চাইল তার বউয়ের অবস্থা কেমন"

ডাক্তার বলল একটা করাত এনে দিতে পারবি"

বল্টূ  তো রেগে আগুন,ওই তুমি কেমন ডাক্তার,বাচ্চা হইতে কখনো এসব লাগে"

ডাক্তার মৃদু স্বরে বলল এতো উত্তেজিত হসনা বল্টূ  "

আমি যে বাক্সটা নিয়ে আসছি ওটার চাবি খুজে পাচ্ছি না" তাই তালা ভাঙ্গার চেষ্টা করছি 😀😀


২. সৌরভ : ভাই আজকাল আমার দিন ভালো যাচ্ছে না।

বল্টূ  : কেনো কি হয়েছে।

সৌরভ : ফোন চার্জে দিয়ে একটা মেয়ের সাথে চ্যাট করছিলাম।
কিছুখন পরে বললাম phone গরম হয়ে গেছে। একটু পরে কথা বলি। কিছুখন পরে এসে দেখি।
" you can ' t reply to this conversation.

বল্টু : কি বলিস এইটুকু কথার জন্য তোকে মেয়েটি Block দিল।

সৌরভ : আরে না মেসেজ চেক করতে যেয়ে দেখি phone বানানে p এর জায়গায় D লিখে ফেলছি।।

ফ্লাইওভার

ফ্লাইওভার গল্প - কলকাতা
Flyover
ফ্লাইওভারের মুখে এসে ক্যাবের ড্রাইভার জিজ্ঞাসা করল, 
'স্যর, ব্রিজের উপর দিয়ে যাবেন না নীচ দিয়ে যাবেন?" 
মহা সমস্যায় পড়লাম ! 
সিন্ডিকেটের মশলায় তৈরী ফাটল ধরা, তাপ্পি মারা পুরনো ব্রিজ। ভেঙে পড়তেই পারে। 
ভেঙে পড়লে বেওয়ারিশ লাশ হয়ে লাশকাটা ঘরে পড়ে থাকতে হবে।
প্রশ্নটা হচ্ছে, উপর দিয়ে যাব না নীচ দিয়ে। 
নীচ দিয়ে গেলে বডি তো আর কেউ পাবে না, দুদিন পরে কংক্রীটের গায়ে থ্যাঁতলান টম্যাটোর মতো মাংসের সস্ হয়ে থেকে যাব। 
বাড়ির লোককেও বডি না পেলে সাত বছর অপেক্ষা করতে হবে LIC র টাকা পেতে।
তা হলে?
বলেই ফেললাম, উপর দিয়ে। 
ভুল বলি নি মনে হল। 
প্রচুর গাড়ি দেখলাম ব্রিজে ওঠার লম্বা লাইনে। 
নীচটা পুরো ফাঁকা। 
অনেক দিন পর একটা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পেরে মনটা হাল্কা হয়ে গেল।

বউকে ফোন করে বলে দিলাম, ব্রিজে উঠছি। 
আধ ঘন্টা পরেও ফোনে না পেলে টিভির নিউজটা দেখ। 
আর LIC র কাগজ আলমারির উপরের তাকে ডান দিকে বাদামী খামের মধ্যে আছে।

চলে যাই যদি তবু মনে রেখ।
- স্বাগত গাঙ্গুলি

বন্যমামনিদের প্রতি

Bhalobasa.Com

নীলাঞ্জনা - তুমিই আমার প্রথম প্রেম । 
হাজার সবিতা.. বেকার কবিতার পরেও তোমাকে ভুলতে পারলাম কই.. ? প্রথম প্রেম কি ভোলা যায়?
..
দীপান্বিতা - সরি দীপান্বিতা !
সমান্তরাল পথের বাঁকে , তোমার নাকি দিশা থাকে,
সে দিশাতে খুঁজে খুঁজে দিশাহীন হয়ে গেলাম তাও তোমার দিশা পেলাম না ;____; 
..
মানসি - ও মানসি তোমার জন্যে চোখে স্বপ্ন একেছি, 
কালিদাস হয়ে প্রেমের কবিতা লিখেছি .. 
তারপরে জানতে পারলাম তুমি নিরক্ষর, সই করো আঙুলছাপ দিয়ে .. ;____;
.. 
মধু - আই ল্যাবু বলাতে মৌমাছিরা এমন হুল ফোটালে .. আমি আর শোভাবাজারমুখো হচ্ছিনা .. 
..
রঞ্জনা - আমি আর আসবই না, না পাড়ার দাদদের ঠ্যাং খোঁড়া করে দেওয়ার ভয় পাইনা, তোমার ছবি সেদিন বং ক্রাশ পেজে দেখলাম ;_____; 
..
পারমিতা - জানি তোমার কাছে আমার জন্যে "একদিন" ছাড়া সময় নেই, কিন্তু আমার একদিনের জন্য তোমায় চাইনা , সারাজীবনের জন্যে চাই, কিন্তু তুমি একদিন ছাড়া দিতে পারবেনা, এরকম দুশ্চরিত্র মেয়ে দরকার নেই, আমি Loyal টাইপের ছেলে, তাই আমায় ভুলে যেও .. 
..
নন্দিনী - কে তুমি নন্দিনী ? আগে তো দেখিনি.. 
এত সুন্দরী, নিশ্চয়ই বয়ফ্রেন্ড আছে, সেটাও আমি জানি.. ;___;
..
বেলা - বেলা টুইলাইট সিরিজ শেষ হয়েছে অনেকদিন হলো, এবার কি শুনতে পাচ্ছ ? 
আমি সরকারি চাকরিটা অবশেষে পেয়েই গেছি, তোমার মেয়ের বিয়ের বয়স হয়েছে শুনলাম .. ইয়ে..
..
রুবি .. : মনে পরে রুবি রায়? একদিন কবিতায়..তোমাকে কত করে ডেকেছি ..আজ হায়! রুবি রায় ডেকে বল আমাকে তোমাকে কোথায় যেন দেখেছি .. ব্যাপরটা পুরো একতরফা ..ছিল ..আউর একতরফা প্যার কি তাকত তুম ক্যা জানো রমেশ বাবু .. ?? 
কিন্তু সেই তাকত তোমায় আর তোমার হাজব্যান্ডকে আলাদা করতে পারল কই? ;_____;
.. 
লায়লা - লায়লা ও লায়লা , তুই অপরাধী রে,
মনটা তুই মজনুকে দিলি, আমার আর কই হলি রে ..
..
রাই - রাই জাগো রাই জাগো.. 
আর আমার সাথে ভাগো... 
শালা! ঘুমই ভাঙ্গেনা .. 
..
রুপা - ও রুপা খাস মহলের বেগম বানাব .. 
তোমার বাবার টাকায় বসে বসে খাব .. 
একি? কি হলো.. রুপা ব্লক করলে কেন.. 
..
নিরুপমা - ওগো নিরুপমা .. করিও ক্ষমা ..
তোমাকে ভুলিয়াছি সেদিন, ঠুকিলে শ্লীলতাহানির মিথ্যে কেস,
দিলে থানায় জমা .. 
..
বেবো- ভেবেছিলাম তোমার হবো, 
একসাথে ঘুরতে যাবো, 
একসাথে খাবো,
অনেক ভালোবাসা পাবো, 
সবকিছু বুঝে নেবো,
.. 
কিন্তু তুমি বেরোলে শেষে লেবো?

..
পিঙ্কি -পয়সা ফেক, তামাশা দেখ, 
এবার বারে শরীর না দেখিয়ে,
কষ্ট করে ইনকাম করতে শেখ । 
..
মুন্নি - বদনাম হয়েছ? কি করেছিলাম আমি ? বন্ধু ছিলাম আমরা.. নিজের বয়ফ্রেন্ড কে বাঁচাতে সব দোষ আমার কাঁধে চাপিয়ে দিয়েছিলে, সামনে যদি পাই মুখের মানচিত্র পাল্টে দেব, দূরে থেকো .. 
..
শীলা- এ তোমার কেমন লীলা? জবানি দেখাও অথচ হাতে আসো না .. এখন সয়ে গেছে .. তুমি না হাতে এলেও তোমার জবানির কথা ভেবে অন্য কিছু ঠিক হাতে চলে আসে .. 
.. 
অদিতি - হয় হয় এরকম হয়! বয়ফ্রেন্ড রা ছেড়ে যায়, আর কাঁদিস না .. 
দেখিস নিশ্চয়ই সত্যি কেউ ভালোবাসবে তোকে ..
আউর ইয়ে সোচলে Everything Gonna Be Ok ..
..
মমতা .. - ও মমতা .. ও মেরি .. থুড়ি থুড়ি .. দিদি প্রণাম নেবেন, কাল রাখি পরতে আসব ❤️
..
ঝিন্টি - তুই বৃষ্টি অবশ্যই হতে পারিস, আমি গায়েও মাখব ..কিন্তু পুজোর সময় যেন আশেপাশে না দেখি .. ! 
..
টিঙ্কু - যবতক না মানে টিঙ্কু জিয়া, 
কেন ছাইড়া গ্যালা আমারে কাদাইয়া ? 😢😭
..
সুইটি - ও সুইটি আর কেঁদোনা আমি আসছি ,
ও সুইটি আর পেদোনা আমি যাচ্ছি .. ;___;
..
প্রিয়া- প্রিয়া রে .. প্রিয়া রে..কাঁদে মন , হিয়া রে.. হ্যা! যবে থেকে দেখেছিলাম নামের আগে "Angel" আছে.. 
..
চাঁদনী - ফাগুনী চাঁদনী রাতে চাঁদনীকে নিয়ে পলায়ে যাওয়ার কথা ছিল, তোমার বাপে ধরে ফেলে এমন ক্যালাল, চাঁদ বদনের যা হাল করল, আমি আজকাল কাউকে মুখ দেখাতে পারিনা.. 
..
টুনি - জিও তো এসে গেছে এখনো কি মিসকল মারিস? 

~ অপূর্ব 

ও তোর বাবা নয়

ও তোর বাবা নয় - মজার গল্প।
Bengali Funny Story - Bangla Mojar Golpo
Happy Couple - Valobasa
গদা বিয়ের উদ্যোগ নিয়েছে...!
.
.
গদাঃ বাবা আমার একজনকে পছন্দ হয়েছে।
বাবাঃ ওয়াও! কে এই সৌভাগ্যবতী?

গদাঃ বাবলি , আমাদের পাশের বাড়ির গোপালের মেয়ে।

বাবাঃ উহ! নোহ! আমি তোমাকে কিছু
বলতে চাই কিন্তু প্রমিজ করো তোমার মাকে বলবে না।

গদাঃ ওকে প্রমিজ।

বাবাঃ আসলে বাবলি তোর বোন হয়।
.
.
অনন্যোপায় গদা বাবলি কে ভুলে গেল।
.
.
আবার ২ মাস পর!!!
গদাঃ বাবা, আমি প্রেমে পড়েছি। আর ওই মেয়েটা অনেক সুন্দর।

বাবাঃ ওয়াও! এটা তো অনেক বড় খবর। তা কে সে?

গদাঃ বুল্টি, আমাদের পাশের বাসার গোবিন্দবাবুর মেয়ে।

বাবাঃ ওহ! নো! আবার? বেটা এই বুল্টি ও তোর বোন হয় !
.
.
এমন করে অনেক দিন চলে গেলো। 
গদার তো পাগল হবার দশা, মেজাজ খারাপ করে কাঁদতে কাঁদতে মায়ের কাছে গিয়ে বলল:
মা এইপর্যন্ত ৬টা মেয়েকে সিলেক্ট করেছি কিন্তু বাবা বলছে ওই ছ'জনই নাকি আমার বোন।

গদার মা গদার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলল:
আমার গদা বাবা কাঁদে না সোনা। তুই যেকোনো মেয়ের সাথে প্রেম কর।
বাবার কথা শুনবি না ।
ও তোর বাবা নয়!!!🤭😁

রূপকথা

Bengali Story - Bangla Short Story
রাত তখন ১১টা, শুনশান গলি .. । 
অফিস ফেরত মেয়েটি অন্ধকার গলিতে পা বাড়াল, এ গলি পেরিয়ে ডান দিকে দুটো গলি ছাড়িয়ে মিনিট পাঁচেক হাঁটলে তার বাড়ি । চুপচাপ, শুনশান চারদিক .. এইখানেই তো গলির দক্ষিণ কোনায় কতগুলো ছেলে রোজ আড্ডা মারে! তাহলে? .. সে এগোতে লাগল .. পায়ের প্রতিটি পদক্ষেপের শব্দ সারা এলাকা যেন শুনতে পাচ্ছে .. হঠাৎ... 
..
.
নাহ! মশাই ! হঠাৎ কিছুই নয়, আপনি যা ভাবছেন তা একদম নয়! মেয়েটি বাড়ি পৌঁছাল। 
মা বলল " কি রে মা! আজকেও এত দেরী করলি কেন, খাবার যে ঠান্ডা হয়ে গেল, আপিসে কাজের চাপ বেড়েছে?" ..
- আরে কি বলছো? রোজই তো এরকম সময়েই ফিরি, খেতে দাও তো! অত ভাবো কেন? "মেয়েমানুষ" হয়েছি কি করতে? 
..
মেয়েটি খাওয়া সেরে ঘরে টিভি চালিয়ে .. ফ্যানের তলায় সোফায় গা এলিয়ে দিল ..। উফঃ এই সরকারি চাকুরি! কি ঝক্কির বাবা! আজকাল তো মেয়েরা সরকারি চাকরি না করলে বিয়ের জন্যে ছেলেই পাওয়া যাচ্ছে না! ... তাই কোন গতি না দেখে.. মা-বাবার অনুরোধে .. ইয়ে আর কি! 
..
টিভিতে একটা নিউজ চ্যানেল দিয়ে সে মৌরি চিবোতে চিবোতে সেদিকে মনঃসংযোগ করল, কাল ১৫ই আগস্ট ছিল, ভারতের ৭২তম স্বাধীনতা দিবস, তাই বর্তমান প্রগতিশীল ভারতের কিছু ভালো ভালো খবর পরিবেশন করা হচ্ছিল .. মেয়েটি মন দিয়ে দেখতে লাগল ..
- " বর্তমানে ভারতে অর্থনৈতিক উন্নতির বিচারে চিনকেও পিছনে ফেলে বিশ্বের এক নম্বর প্রগতিশালী দেশ হিসেবে ঘোষিত হয়েছে, ঘুষ, দুর্নীতি ,করফাকি, ট্রেনের টিকিট না কাটা বা অরাজনৈতিকতা দেশ থেকে সম্পূর্ণভাবে বিতাড়িত হয়েছে, সমগ্র রাজনৈতিক দলগুলি দেশের স্বার্থে একত্রিত হয়ে একটি মাত্র দল গঠন করেছে, বিগত ২০ বছরে ভারতে একটিও ধর্ষণ ,নারী নির্যাতন, শিশুশ্রম কন্যাভ্রূণ হত্যার নিদর্শন মেলেনি, আজকাল সারা ভারতে ক্রাইমের percentage মাত্র ০.৫%, আজকাল পুলিশের সেরকম প্রয়োজনীয়তা পরছে না, শিল্প, গবেষণা, আর্ট, বিজ্ঞানে ভারত প্রভূত উন্নতি করেছে, সারা ভারতে বেকারের সংখ্যা বিলুপ্ত প্রায়, কেউ আর বেকারত্বের জ্বালায় বিগত ২০বছরে আত্মহত্যা করেনি, কোন খুব প্রতিভাশালী ব্যক্তিও বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে না, দেশের infrastructure এ একরকম নবজাগরণ আসায় ভারত সারাবিশ্ব থেকে সমাদৃত হচ্ছে, কৃষিবিদ্যায় নতুন টেকনোলজির ব্যবহারে বিশ্বে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, কোন চাষি বিগত ২০ বছরে অনাহারে থেকে আত্মহত্যা করেনি, ধর্ম-জাতি-বর্ন সব মিলেমিশে একাকার হয়েছে,সামাজিক ও শিক্ষা, ও চাকুরীর ক্ষেত্রে সংরক্ষন প্রথা বিলুপ্ত হয়েছে কারন অনগ্রসর জাতি আর অনগ্রসর নেই, সবাই সমান ।আজ খুব গর্বের দিন , শুভ স্বাধীনতা দিবস, সবাই এগিয়ে আসুন, আমরা ভারতকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাই ।"
- মেয়েটি টিভি বন্ধ করে ভাবতে শুরু করল ... কি অদ্ভুত আমাদের ভারতবর্ষ! অনেক ভাগ্য করে জন্মেছিলাম! কোন পারিবারিক চাপ নেই, প্রেমিকযুগল যে কেউ যে কাউকে বিয়ে করতে পারে, কোন ধর্ম-জাতি-বর্ন বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় না .. 
কেউ আর কার্টুন আকার জন্যে জেলে পুরে দেয় না, গণতন্ত্রের মুখ চেপে ধরে না, প্রত্যেকটি মানুষের সমান অধিকার, তুমি এটা খাবেনা, এটা বলবে না,এটা পরবে না, এটা করবে না, ওটা করবে না, কোন নিষেধাজ্ঞা নেই, এখন তো ভারতে ৯৫% মানুষ শিক্ষিত, আর দারিদ্রসীমার নীচে মাত্র ২% মানুষ, প্রত্যেকটি মানুষ, সৎ, দেশপ্রেমী, কর্মঠ, নিষ্ঠাবান... একে অপরের সাহায্যে সর্বদা সক্রিয়। এ তো ভারতবর্ষে নয় যেন স্বর্গভূমি, একদিন সারাবিশ্বে স্বাধীনতার আক্ষরিক মানেই হয়তো ভারতবর্ষকে বোঝানো হবে ।
..
রাতে কখন যে ঘুম এসে গেছিল ... কে জানে! মেয়েটি সকালে উঠে তড়িঘড়ি অফিস ছুটল ... বাস স্ট্যান্ডে এসে চারপাশের পরিপাটি গোছানো চারপাশের পরিবেশটা তাকে প্রতিদিনের মতোই মুগ্ধ করল, চারদিকে গাছপালা ,চকচকে রাস্তা,কোথাও কোন নোংরা-আবর্জনা নেই... রাস্তার কোনায় ডাস্টবিনে মেয়েটি সদ্য শেষ হওয়া চিপসের প্যাকেটটি ফেলে এল ...হঠাৎ কোথা থেকে একটি লোক দৌঁড়তে দৌঁড়তে এসে ডাস্টবিনে ...."পিক!" 
মেয়েটির দিকে লজ্জাতুর মুখে তাকিয়ে বলল "অনেকক্ষন ধরে মুখে জমে ছিল দিদিভাই,সেই কখন থেকে চিবোচ্চি, আর রাখতে পারছিলাম না,"
- মেয়েটি হেসে ফেলল ।
...
উপরের সবকিছু কেমন রূপকথার মতো লাগল তাই না? কিন্তু এই রূপকথাটাই বাস্তব হতে পারত যদি আমরা প্রত্যেকটি ভারতবাসী এরকম হতে পারতাম, সৎ, দায়িত্বশীল, কর্মঠ,দেশপ্রেমী ভারতীয় নাগরিক হতাম. ... আমাদের প্রচেষ্টাতেই এই রূপকথার মতো কথাগুলি বাস্তবায়িত হতে পারত । হ্যা! আমাদের ভারতবর্ষও স্বর্গ হতে পারত... কিন্তু।

বাঙ্গালীদের বুদ্ধি। এত বুদ্ধি আসে কোথা থেকে?

 বাঙ্গালীদের বুদ্ধি। এত বুদ্ধি আসে কোথা থেকে? 

Bengali Funny Story | Bengali Funny Jokes
Soham - Valobasa

রবার্ট ছোটবেলা থেকেই রাতে বিছানায় শুতে ভয় পেত। 
তার সবসময় মনে হতো বিছানার তলায় কেউ আছে।
বন্ধুর পরামর্শে একদিন এক সাইকোলজিস্ট এর কাছে গেল।
"ডাক্তারবাবু আমি রাতে ঘুমাতে পারি না। 
সবসময় মনে হয় আমার বিছানার তলায় কেউ আছে। 
আমি পাগল হয়ে যাব।"
"ঘাবড়াবেন না। 
এক বছরের মধ্যে আপনাকে আমি ঠিক করে দেব", বললেন সাইকোলজিস্ট।
"সপ্তাহে তিনবার আমার চেম্বারে আসবেন ।"
"আপনার চার্জ কত?"
"2000 টাকা প্রতি ভিজিটে"।
" ঠিক আছে ডাক্তারবাবু।
প্রয়োজন হলে আপনার কাছে ফিরে আসব," রবার্ট বললেন।
ছয় মাস পরে রাস্তায় রবার্টের সঙ্গে সাইকোলজিস্টের দেখা।
ডাক্তার: "কি হলো? 
আপনি যে ভয় পেয়েছিলেন সে সম্পর্কে আপনি আমাকে দেখাতে এলেন না কেন?"
রবার্ট: "ওয়েল, 2000 টাকা প্রতি ভিজিট; 
সপ্তাহে তিনবার; এক বছর -- অনেক টাকার ব্যাপার!"
"আমার এক ভারতীয় বাঙালি Bondhu আমাকে এক প্লেট বিরিয়ানি এবং এক বোতল বিয়ারের পরিবর্তে আমার প্রবলেম সলভ করে দিয়েছে।
ও আমার সব খরচ বাঁচিয়ে দিয়েছে। 
আর সেই টাকায় আমি একটা নতুন Swift গাড়িও কিনে নিয়েছি। আমি ভীষণ খুশি।"
ডাক্তার: "তাই! তা আপনার বন্ধু আপনাকে কিভাবে নিরাময় করে তুললো?'
"সে আমাকে বলল - খাট বিক্রি করে দে। 
মেঝের উপর একটা গদি পেতে তার উপর শুয়ে পড়।"