ব্যাঙ্ক ম্যানেজারের প্যান্ট খোলানোর বাজী

আজ আপনাদের জন্য নিয়ে আসলাম একটা মজার গল্প।
কথা না বলে শুরু করে দিচ্ছি...

এক ব্যাঙ্কের ম্যানেজার বেশ কিছুদিন যাবৎ লক্ষ্য করছে এক কাস্টমার প্রত্যেকদিন ব্যাঙ্কে এসে এক লাখ বা দেড় লাখ টাকা জমা করছে।
ম্যানেজারের খুব সন্দেহ হল।
তাই একদিন ঐ কাস্টমারকে চেম্বারে ডেকে নিয়ে বসাল।
ম্যানেজার : আপনি কি করেন?
কাস্টমার : আমি তো কোন কাজ করি না।
ম্যানেজার : সে কি! আমি তো মনে করলাম আপনার কোনও বড় ব্যাবসা আছে।
কাস্টমার : না না আমার কোনও ব্যাবসা নেই। আমি শুধু লোকজনের সঙ্গে বাজী ধরি। আর ভগবান আমার সহায়, আমি কখনও বাজীতে হারি না। আর এটাই আমার ইনকাম।
ম্যানেজার: তার মানে ক্রিকেট খেলার বেটিং জাতীয়?
কাস্টমার: না না। আমি এইসব চক্রের সঙ্গে জড়িত নই। আচ্ছা ম্যানেজারবাবু, আমার সঙ্গে কথা বলতে বলতে আপনি দুবার পায়চারী করলেন। আপনার ত পাইলসের প্রবলেম। ব্যাথা হচ্ছে কি?
ম্যানেজার: পাইলস! না না আমার এমন কোন রোগ নাই।
কাস্টমার: আমি মানুষ দেখলেই বুঝতে পারি কার কি রোগ। আপনার আলবৎ পাইলস আছে।
ম্যানেজার: অসম্ভব। একদমই নেই।
কাস্টমার: আপনার পাইলসের প্রবলেম আছে। কালকের মধ্যেই ভীষণ ব্যাথা অনুভব করবেন। আর আমি এই জন্য এক লাখ টাকার বাজী রাখতে পারি।
ম্যানেজার সকালেই শরীর চেক আপ করিয়ে এসেছে। তাই সে নিশ্চিত এবং এক লাখ টাকার বাজীতে রাজী হয়ে গেল।
কাস্টমার: ঠিক আছে। আমি কাল সকালে আপনার এখানে ডাক্তার নিয়ে আসব।
পরদিন সকালে এক ডাক্তার এবং আরও দুজন লোক সঙ্গে নিয়ে কাস্টমার হাজির। ম্যানেজার প্যান্ট খুলে ডাক্তারকে দেখাল। 
ডাক্তার বলল যে পাইলস নেই। কাস্টমার বসে বসে হাসছে।
তাই দেখে ম্যানেজার বলে উঠল: আপনি হেরে গিয়েও হাসছেন যে!!
কাস্টমার: আমার সঙ্গে এই যে দুইজন লোক দেখছেন, এদের সঙ্গে আমি দুই দুই লাখ টাকার বাজী ধরেছি। আপনাকে এক লাখ দিয়ে আমার তিন লাখ থাকবে। 
এদের সঙ্গে আমার বাজী ছিল, ম্যানেজারের চেম্বারেই ম্যানেজারের প্যান্ট খোলানো নিয়ে! :D :D

উফফ! প্রেম কি অসম্ভব বেদনাদায়ক

একটা খবর হয়ত আপনার চোখে পড়েছে,
দুজন প্রেমিক প্রেমিকা পারিবারিক কোনও সমস্যার কারনে একসাথে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছে।
খবরটা আমিও বিস্তারিতভাবে পড়িনি, জাস্ট হেডলাইনটুকু।
তবে এটা সত্যিই যে প্রেম করলে এমন অবস্থার মধ্যে পড়তেই হয়, মাঝে মাঝে মনে আসবেই এমন কথা।
আমারও এমন অবস্থা, তবে এখনও যে চলে যাইনি সেটা তো বুঝতেই পাছেন।

তো আজ আপনাদের এমনই একটা মর্মস্পর্শী গল্প আপনাকে শোনাব। চলুন শুরু করা যাক।

সুমি এখন নবম শ্রেণীতে পড়ে। 
প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার সময় ১টা ছেলে তার দিকে তাকিয়ে থাকে সে লক্ষ করে। ছেলেটির নাম সুমন।
সুমন প্রায় ১ বছর ধরে ভালবাসে সুমিকে, কিন্তু বলতে পারে না। 
কারণ সুমি খুব ধনী পরিবারের মেয়ে। আর সুমন গরিবের ছেলে।
আজ ১৪ ফ্রেব্রয়ারি। 
সুমন সাহস করে বললো,
"আমি তোমাকে ভালবাসি সুমি। যদিও আমি জানি তুমি আমায় ভালবাসতে পারবেন না।" কথাগুলো বলে সুমন চলে গেল।
এইভাবে একটা বছর চলে গেল। 
এখন দশম শ্রেণীতে সুমি। সে লক্ষ করে আজও সুমন তার জন্য রাস্তায় অপেক্ষা করে। 
সুমি আস্তে আস্তে সুমনের প্রেমে পড়ে যায়।
তাই একদিন সুমি বলেও দিলো তার মনের কথা।
দুজনের প্রেম চলতে লাগল ১ বছর। 
এই ১ বছরের মাঝে দু'জন কখনো একাকি দেখা করেনি, কেউ কারো হাত ধরে রাস্তাতেও চলেনি।
উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পর সুমির বিয়ে ঠিক হয়ে যায়।
কিন্তু সুমি বিয়েতে রাজি না। কারণ সুমি সুমনকে ছাড়া আর কেউকে নিজের স্বামি হিসেবে গ্রহণ করতে পারবে না। 
সুমি ফোন করল সুমনকে...
-হ্যালো সুমন।
-হ্যা বলো।
-তুমি আজ রাতে আমাকে নিয়ে পালিয়ে যেতে পারবে?
-কেন? হঠাৎ করে কি হল?
-আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে এই বলে সুমি কান্না করে ফেলল।
-কান্না করোনা সুমি, আমি তোমাকে নিয়ে যাব।
ওরা ঠিক তাই করলো। সকালে দুজন বিয়ে করে সুমনদের বাড়ি চলে আসলো। 
সুমনের পরিবার থেকে কোন সমস্যা নেই কিন্তু এদিকে সুমির পরিবার সব জেনে গিয়ে সুমনের নামে ও তার পরিবারের নামে পুলিশে কমপ্লেন করলো।
তবে সুমির বক্ত্যব্যের কারণে কোন কিছু হলো না সুমন ও তার পরিবারের। 
সুমির বাবা সুমিকে উদ্দেশ্যে করে বলল, "আজ থেকে আমার কোনো মেয়ে নেই।"
সুমির নামে ব্যাংকে বেশ কিছু টাকা ও জমি ছিল, তা সব তার বাবার নামে করে দিল।
সুমন সুমিকে বলল যে, সুমির বাবার টাকার প্রতি তার কোন লোভ নেই। 

ভালো যাচ্ছিলো তাদের জীবন।
সংসার ৭ মাস। সুমি গর্ভবতী, তার পেটে ৩ মাসের বাচ্চা। 
একদিন সুমির কাকা এসে বলল, "সুমন, সুমির মা খুব অসুস্থ সুমিকে দেখতে চাইছে, আমি দু'দিন পর ওকে দিয়ে যাব।"
সুমি বলল, "আমি সুমন কে ছাড়া যাব না।"
সুমন বলল, "যাও না, দুদিন পরই তো চলে আসবে।"
অনেক বোঝানোর পর রাজি হয় সুমি। 
সুমি অনেকক্ষণ ধরে সুমনকে জরিয়ে ধরে। 
সুমন সুমির কপালে চুমু দিয়ে বলে, "পাগলী বউ আমার।"
তারপর সুমির বাপের বাড়ি এসে যা হলো তা কল্পনা করা যায় না!
সুমির বাবা সুমিকে জোর করে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়ে অজ্ঞান করে তার বাচ্চা নষ্ট করে দেয়।
তাকে দিয়ে জোর করে ডিভোর্স পেপারে সাইন করানো হয়।
ডাক্তার তার মা-বাবাকে বলে যে তাকে রেস্টে রাখতে।
আজ দুদিন সুমি কারো সাথে কথা বলে না, শুধু একা একা কাঁদে। 
সুমির দাদা - বাবা কেউ বাড়ি নেই। সুমির মা একটু পাশের বাড়ি গেছে। 
সুমি বাড়িতে একা নিজের ঘরের দরজা দিয়ে হাত কেটে রক্ত দিয়ে লিখলো, "এই পৃথিবীতে আমার আপন বলতে একজন আছে সে আমার সুমন। মা তুমি একটা মেয়ে হয়ে আমার স্বামীর ঘর ছাড়া করলে! তুমি এক মা হয়ে আমাকে মা হওয়া থেকে বঞ্চিত করতে পারলে?"
এতটুকু লিখেই সুমি আত্মহত্যা করে।

Valobasa.In কেন বদলে গেল


অনেক দিন নতুন কোন লেখা আপনারা পাননি, তার জন্য দুঃখিত।
তবে এখন আপনাদের মনে প্রস্ন জাগতে পারে, সাইটটা তো এমন ছিলনা!
কেন এমন বদলে গেল??
আমি সিম্পল করে বলছি যাতে সবাই বুঝতে পারেন, আসলে সাইটাতে এখন অনেক ভসিটর আসছে ফলে সারভার আপগ্রেড করতে হত কিন্তু অত টাকা ইনভেস্ট করা আমার পক্ষে সম্ভব না।
তাই ব্লগারে ট্রান্সফার করে দিলাম।

কি পরিবর্তন হল? 
তেমন কিছু পরিবর্তন হয়নি। আগের সমস্ত লেখা এখানে আনা হয়েছে।
সমস্ত ছবিও ঠিক ঠাক আছে। 
তবে আপনারা এখানে রেজিস্টার করতে পারবেন না। 
তবে কমেন্ট করতে পারবেন সবাই।

আপনাদের কাছে অনুরধ,
আগের মত আবার নতুন নতুন পোস্ট আমরা দেব, আপনারা কিন্তু অবশ্যই আসবেন।
মন্তব্য করবেন সমস্ত লেখাতে। আর যদি কোন ভুল চোখে পড়ে বা সাহাজ্যের দরকার হয় তাহলে আমাকে পাবেন এখানে ফেসবুক পেজ

ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে ম্যাসেজ করতে পারেন আথবা কমেন্টও করতে পারেন।

তুমি পারবে, তোমাকে পারতেই হবে



অনেক বড় একটা কোম্পানী হঠাৎ করে ব্যবসায় লোকসান করে বসলো।
এক দুপুরে সেই কোম্পানীর কর্মচারীরা বাইরের ক্যান্টিনে লাঞ্চ করে ফেরার সময় অফিসের প্রবেশমুখে একটি নোটিশ দেখতে পেল।



নোটিশে লেখা ছিল,
'আমাদের কোম্পানীর লোকসানের জন্য যে ব্যক্তিটি দায়ী, সে গতকাল মারা গেছে।

সেমিনার রুমে একটি কফিনে তার লাশ রাখা হয়েছে। যে কেউ তা দেখতে চাইলে আমন্ত্রিত।'

একজন সহকর্মীর মত্যুর খবর শুনে প্রথমে লোকেরা দুঃখ পেল।
তবে এরপর তারা কৌতুহলী হয়ে উঠলো এই ভেবে যে আসলে কে হতে পারে সেই ব্যক্তি।
তারা সবাই সেমিনার রুমে এসে একত্রিত হল,সবাই ভাবতে লাগলো,'আসলে কে সেই লোক যে আমাদের সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল? 
তবে সে যেই হোক, এখন সে আর বেঁচে নেই।
একে একে তারা যখন কফিনের কাছে গেল এবং ভেতরে তাকালো হঠাৎ তারা কেমন যেন বাকশূন্য হয়ে গেল, হতভম্ভ হয়ে গেল।  যেন তাদের খুব আপন কারো লাশ সেখানে রাখা ছিল।
কফিনের ভেতর আসলে রাখা ছিল একটা আয়না।
যে ভেতরে তাকিয়েছিলো সে তার নিজের চেহারাই দেখতে পাচ্ছিলো।

আয়নার একপাশে একটা কাগজে লেখা ছিল, তোমার সাফল্যের পথে বাধা দিতে সক্ষম শুধুমাত্র একজনই আছে গোটা পৃথিবীতে, আর সে হচ্ছো 'তুমি' নিজে।
তুমিই সেই একমাত্র ব্যক্তি যে তোমার জীবনে পরিবর্তন আনতে পারে, তোমাকে সুখী করতে পারে, তোমাকে সাহায্য করতে পারো,সুখী করতে পারো।

তোমার জীবন তখন বদলে যায় না, যখন তোমার অফিসের বস বদলায়, যখন তোমার অভিভাবক বদলায়, তোমার বন্ধুরা বদলায়, তোমার জীবন তখনই বদলায় যখন তুমি নিজে বদলাও।
তোমার সক্ষমতা সম্পর্কে তোমার নিজের বিশ্বাসের সীমাটা যখন তুমি অতিক্রম করতে পারো, শুধু তখনই তোমার জীবন বদলায়, পূরন হয় জীবনের লক্ষ্য গুলো।
নিজের আলোয় আলোকিত করো চারপাশ।

এটা আপনার জন্য, পড়ুন...


২৭ বছর বয়সে যখন হন্যে হয়ে ব্যাংকে চাকরি খুঁজছেন,
তখন আপনারই বয়েসি কেউ একজন সেই ব্যাংকেরই ম্যানেজার হয়ে বসে আছেন।
আপনার ক্যারিয়ার যখন শুরুই হয়নি, তখন কেউ কেউ নিজের টাকায় কেনা দামি গাড়ি হাঁকিয়ে আপনার সামনে দিয়েই চলে যাচ্ছে।
কর্পোরেটে যে সবসময় চেহারা দেখে প্রমোশন দেয়, তা নয়।
দিন বদলাচ্ছে, কনসেপ্টগুলো বদলে যাচ্ছে।
শুধু বেতন পাওয়ার জন্য কাজ করে গেলে শুধু বেতনই পাবেন।
কথা হল, কেন এমন হয়?
সবচাইতে ভালটি সবচাইতে ভালভাবে করে কীভাবে?
কিছু ব্যাপার এক্ষেত্রে কাজ করে। দুএকটি বলছি।
প্রথমেই আসে পরিশ্রমের ব্যাপারটা।
যারা আপনার চাইতে এগিয়ে, তারা আপনার চাইতে বেশি পরিশ্রমী। এটা মেনে নিন।
ঘুমানোর আনন্দ আর ভোর দেখার আনন্দ একসাথে পাওয়া যায় না। তবে শুধু পরিশ্রম করলেই সব হয় না।
তা-ই যদি হত, তবে গাধা হত বনের রাজা।
শুধু পরিশ্রম করা নয়, এর পুরস্কার পাওয়াটাই বড় কথা। অনলি ইওর রেজাল্টস্ আর রিওয়ার্ডেড, নট ইওর এফর্টস্।
আপনি এক্সট্রা আওয়ার না খাটলে এক্সট্রা মাইল এগিয়ে থাকবেন কীভাবে!
সবার দিনই তো ২৪ ঘণ্টায়।
আমার বন্ধুকে দেখেছি, অন্যরা যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন সে রাত জেগে আউটসোর্সিং করে।
ও রাত জাগার সুবিধা তো পাবেই! আপনি বাড়তি কী করলেন, সেটাই ঠিক করে দেবে, আপনি বাড়তি কী পাবেন।
আপনি ভিন্নকিছু করতে না পারলে আপনি ভিন্নকিছু পাবেন না।
বিল গেটস রাতারাতি বিল গেটস হননি।
শুধু ইউনিভার্সিটি ড্রপআউট হলেই স্টিভ জবস কিংবা জুকারবার্গ হওয়া যায় না। বড় মানুষের বড় প্রস্তুতি থাকে।
নজরুলের প্রবন্ধগুলো পড়লে বুঝতে পারবেন, উনি কতটা স্বশিক্ষিত ছিলেন। শুধু রুটির দোকানে চাকরিতেই নজরুল হয় না।
কিংবা স্কুল কলেজে না গেলেই রবীন্দ্রনাথ হয়ে যাওয়া যাবে না।
সবাই তো বই বাঁধাইয়ের দোকানে চাকরি করে মাইকেল ফ্যারাডে হতে পারে না, বেশিরভাগই তো সারাজীবন বই বাঁধাই করেই কাটিয়ে দেয়।
স্টুডেন্ট লাইফে কে কী বলল, সেটা নিয়ে মাথা ঘামাবেন না।
যাকে নিয়ে কেউ কোনদিন স্বপ্ন দেখেনি, সে এখন হাজার হাজার মানুষকে স্বপ্ন দেখতে শেখায়।
সব পরীক্ষায় মহাউত্‍সাহে ফেল করা ছেলেটি এখন একজন সফল ব্যবসায়ী। আপনি কী পারেন, কী পারেন না, এটা অন্যকাউকে ঠিক করে দিতে দেবেন না।
পাবলিক ভার্সিটিতে চান্স পাননি? প্রাইভেটে পড়ছেন? কিংবা ন্যাশনাল ভার্সিটিতে?
সবাই বলছে, আপনার লাইফটা শেষ?
আমি বলি, আরে! আপনার লাইফ তো এখনো শুরুই হয়নি। আপনি কতদূর যাবেন, এটা ঠিক করে দেয়ার অন্যরা কে? লাইফটা কি ওদের নাকি?
আপনাকে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হতেই হবে কেন?
কিংবা ডাক্তারি পাস করে কেন ডাক্তারিই করতে হবে? পড়াশোনা করেন না কেন, আপনার এগিয়ে যাওয়া নির্ভর করে আপনার নিজের উপর।
শুধু 'ওহ শিট', 'সরি বেবি', 'চ্যাটিংডেটিং' দিয়ে জীবন চলবে না।
আপনি যার উপর ডিপেনডেন্ট, তাকে বাদ দিয়ে নিজের অবস্থানটা কল্পনা করে দেখুন।
যে গাড়িটা করে ইউনিভার্সিটিতে আসেন, ঘোরাঘুরি করেন, সেটি কি আপনার নিজের টাকায় কেনা? ওটা নিয়ে ভাব দেখান কোন আক্কেলে?
একদিন আপনাকে পৃথিবীর পথে নামতে হবে।
তখন আপনাকে যা যা করতে হবে, সেসব কাজ এখনই করা শুরু করুন।
জীবনে বড় হতে হলে কিছু ভাল বই পড়তে হয়, কিছু ভাল মুভি দেখতে হয়, কিছু ভাল মিউজিক শুনতে হয়, কিছু ভাল জায়গায় ঘুরতে হয়, কিছু ভাল মানুষের সাথে কথা বলতে হয়, কিছু ভাল কাজ করতে হয়।
জীবনটা শুধু হাহা হিহি করে কাটিয়ে দেয়ার জন্য নয়।
একদিন যখন জীবনের মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে, তখন দেখবেন, পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাচ্ছে, মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ছে।
স্কিল ডেভেলাপমেন্টের জন্য সময় দিতে হয়।
এসব একদিনে কিংবা রাতারাতি হয় না। "আমি আপনার মত রেজাল্ট করতে চাই। আমাকে কী করতে হবে?" এমন কথা নতুন কিছু নয়!
"অসম্ভব পরিশ্রম করতে হবে। নো শর্টকাটস্। সরি!"
রিপ্লাই আসে, "কিন্তু পড়তে যে ভাল লাগে না। কী করা যায়?"
এর উত্তরটা একটু ভিন্নভাবে দেওয়া যাক।
আপনি যখন স্কুলকলেজে পড়তেন, তখন যে সময়ে আপনার ফার্স্ট বয় বন্ধুটি পড়ার টেবিলে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকত, সে সময়ে আপনি মেয়েদের সাথে থাকতেন।
এখন সময় এসেছে, ও এখন মেয়েদের সাথে থাকবে আর আপনি পড়ার টেবিলে বসে থাকবেন।
জীবনটাকে যে সময়ে চাবুক মারতে হয়, সে সময়ে জীবনটাকে উপভোগ করলে, যে সময়ে জীবনটাকে উপভোগ করার কথা, সে সময়ে জীবনটাকে উপভোগ করতে পারবেন না, এটাই স্বাভাবিক। এটা মেনে নিন। মেনে নিতে না পারলে ঘুরে দাঁড়ান। এখনই সময়!
বড় হতে হলে বড় মানুষের সাথে মিশতে হয়, চলতে হয়, ওদের কথা শুনতে হয়।
এক্ষেত্রে ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় বন্ধু নির্বাচনটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আপনার সাবকনশাস মাইন্ড আপনাকে আপনার বন্ধুদের কাজ দ্বারা প্রভাবিত করে।
আমরা নিজেদের অজ্ঞাতসারেই আমাদের চাইতে ইনফেরিয়র লোকজনের সাথে ওঠাবসা করি, কারণ তখন আমরা নিজেদেরকে সুপিরিয়র ভাবতে পারি। এ ব্যাপারটা সুইসাইডাল।
আশেপাশে কাউকেই বড় হতে না দেখলে বড় হওয়ার ইচ্ছে জাগে না। আরেকটা ভুল অনেকে করেন। সেটি হল, ধনীঘরের সন্তানদের সাথে মিশে নিজেকে ধনী ভাবতে শুরু করা।
মানুষ তার বন্ধুদের দ্বারা প্রভাবিত হয়। উজাড় বনে তো শেয়ালই রাজা হয়। আপনি কী শেয়ালরাজা হতে চান, নাকি সিংহরাজা হতে চান, সেটি আগে ঠিক করুন।
'বিনীত' হতে জানা টা মস্ত বড় একটা আর্ট।
যারা অনার্সে পড়ছেন, তাদের অনেকের মধ্যেই এটার অভাব রয়েছে।
এখনো আপনার অহংকার করার মত কিছুই নেই, পৃথিবীর কাছে আপনি একজন নোবডি মাত্র।
বিনয় ছাড়া শেখা যায় না। গুরুর কাছ থেকে শিখতে হয় গুরুর পায়ের কাছে বসে।
আজকাল শিক্ষকরাও সম্মানিত হওয়ার চেষ্টা করেন না, স্টুডেন্টরাও সম্মান করতে ভুলে যাচ্ছে।
আপনি মেনে নিন, আপনি ছোটো। এটাই আপনাকে এগিয়ে রাখবে।
বড় মানুষকে অসম্মান করার মধ্যে কোন গৌরব নেই। নিজের প্রয়োজনেই মানুষকে সম্মান করুন।
সমাপ্ত

টেট যাত্রীদের জন্য বিজ্ঞপ্তি


TET যাত্রীদের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা
১) হাতে পাউডার লাগিয়ে বাড়ি থেকে বেরোবেন। নইলে ট্রেন থেকে ঝোলার সময় হাত স্লিপ করে যেতে পারে।
২) জামাকাপড় পরবেন না। কারণ আপনার জামাকাপড় ধরে যে কেউ ঝুলে পড়তে পারে।
৩) গায়ে তেল মেখে বার হবেন। তাহলে ট্রেনে ওঠার সময় ভিড়ের মধ্যে সহজে গলে যেতে পারবেন।
৪) মাথা ন্যাড়া করে নেবেন। নইলে ভিড়ের মধ্যে ঝোলার সময় আপনার চুল ধরে অনেকে টানাটানি করতে পারে।
৫) যাত্রার সময় মাথা ঠান্ডা রাখবেন। শান্ত থাকবেন। অকারণ চেঁচামেচি বা হৈহুল্লোর করবেন না। তাতে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর সম্ভাবনা রয়েছে।
৬) সহযাত্রীদের সাথে খারাপ আচরণ করবেন না। একে অপরকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবেন। এতে আপনার পূণ্য হবে। মনে রাখবেন টেট দেওয়াটা জীবনের একমাত্র লক্ষ নয়। টেটযাত্রায় অংশগ্রহন করাটাই একটি অতি পূণ্যের কাজ। তাই ধৈর্য হারাবেন না।
৭) “টেট যাত্রা”-কে যেকোন বড় ধরনের তীর্থযাত্রার সমান স্টেটাস দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে, টেট যাত্রার সময় যদি কারোর পথে মৃত্যু বা ইন্তেকাল হয় তাহলে তিনি সরাসরি স্বর্গে পৌঁছে যাবেন।
৮) “টেট শহীদ”-দের রাষ্ট্রীয় সম্মান দেওয়া হবে। প্রত্যেক “টেট শহীদ”-এর পরিবারকে “টেটশ্রী” নামক দু’হাজার টাকা মাসিক ভাতা দেওয়া হবে।
৯) টেটযাত্রা-কে নিরাপদ এবং সফল করার জন্য “টেট-টার্গেট” নামক জপের মালা পাওয়া যাচ্ছে। যাত্রাকালীন মালা জপতে জপতে টেট দেবী-র নাম স্মরণ করতে করতে এগিয়ে যাবেন।
১০) পথে কোনো বিপদ হলে মহিলা টেটযাত্রীরা একশোবার শূন্য টিপে কল করবেন আর পুরুষ টেটযাত্রীরা হাজারবার শূন্য টিপে কল করবেন। টেট দেবী তৎক্ষনাৎ আপনাকে রক্ষা করতে আবির্ভূত হবেন।
আশা করি যারা পরিক্ষা দিতে যাচ্ছেন না তারাই পড়ছেন,
মজা পেলে একটা কমেন্ট করবেন।

মুখ দেখে মানুষ চেনা যায়না


ভালো মানুষেরা কখনই বলে বেড়াই না যে সে ভালো।
তারা ক্রেডিট নিতেও চাই না, কিন্তু খারাপ কিছু ধান্দাবাজ লোক অন্যের ক্রেডিট নিজের বলে চালিয়ে দেবে।
আপনি বুঝতেও পারবেন না যে সে খারাপ লোক। কারন তার কথায় বেশ পটু হয়।
যাই হোক আজকের গল্প শুরু করি।
অটোতে করে একটা কাজে যাচ্ছিলাম।
একটু পরেই একটা মেয়ে হাত নেড়ে অটো থামালো।
মেয়েটা উঠে আমার পাশের সিটটাতে বসল। কিউট একটা মেয়ে। সুন্দর করে চুলগুলো আঁচড়ানো।
একটু পরপরই আমার হাতের হ্যান্ডসেটটার দিকে তাকাচ্ছে।
না, আপনি যা ভাবছেন তা নয়। ও আসলে একটা বাচ্চা মেয়ে। বয়স হয়তো ছয় বছর হবে।
আমি বললাম "বারবার মোবাইলের দিকে তাকাচ্ছো কিছু বলবে?"
মেয়েটি হাসি দিয়ে বলল "আমার বাবার ফোনটাও আপনারটার মত আংকেল।"
মেয়েটার মুখে সুন্দর করে আংকেল ডাক শুনতে ভালোই লাগলো। বললাম "কোথায় যাবে?"
বলে "যেখানে অটো থামবে সেখানে। আটো ড্রাইভার আংকেল আমার বাবাকে চেনে। বাবা ওখানেই দাঁড়িয়ে আছে আমার জন্য"।
বাহ! মেয়েটাতো ভারী সুন্দর করে কথা বলতে পারে। কথা বলতে বলতে অটোর গন্তব্য শেষ। আমিও নামলাম, নামলো মেয়েটাও।
একটু দূরেই দেখি আমার পুরনো একটা ফ্রেন্ড দাড়িয়ে আছে। কাছে যেতেই আমাকে জড়িয়ে ধরল।
অনেক দিন পর দেখা আপ্লুত হয়ে বলে - কতদিন পর দেখা। কেমন আছিসরে?
  • ভালোই। তুই কেমন ?
  • আমিও ভালো। আচ্ছা তুই ওই অটোটা করে এলিনা?
  • হ্যা।
  • ওটাতে একটা বাচ্চা আসার কথা।
  • একটা বাচ্চা এসেছে। তোর কি হয়? ছোট বোন?
  • আরে না।
  • ভাতিজি?
  • না।
  • তাহলে?
  • ও আমার মেয়ে। আমার পৃথিবী।
বেশ অবাক হলাম!
বললাম, বলিস কি তুই বিয়ে করেছিস। আবার এতবড় একটা মেয়েও!
ততক্ষনে পাপা বলে মেয়েটা দৌড়ে এসে ওর বাবাকে আঁকড়ে ধরলো। বেশ শক্ত করে আঁকড়ে ধরল। বুকের সাথে মিশিয়ে নিল বাচ্চাটাকে।
একটা হোটেলে ঢুকলাম। বাচ্চাটা খাচ্ছিল। বন্ধুর মুখটা বেশ মলিন। আমার সিটে ওকে ডেকে আনলাম যাতে বাচ্চাটা যেন কিছু না শোনে।
বললাম, আসলে মেয়েটা কে? কেন যেন আমার বিশ্বাস হচ্ছেনা তোর মেয়ে!
"আসলে আমার দাদার মেয়ে। ওর মায়ের বিয়ের পাঁচ মাস পর ওর বাবা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে।
ওর ভাগ্যটা এতই খারাপ যে, জন্মের সাত মাস পর মাকেও হারায়। তুইতো জানিস আমার বাবা মা নেই। আমি তখন একা আর ওর ববাতো পাগলই।
সবাই যখন মেয়েটাকে অন্য কাউকে দেবার কথা ভাবছে। কেউ কেউ নেবার জন্য এসেছিলও।
কেন যেন আমার কাছে খুব কষ্ট লেগেছিল। আমি কাউকে দেইনি ওকে। নিজের হাতে ওকে বড় করতে লাগলাম।
আজ ও এত বড় হয়েছে। বুঝতে শেখার পর থেকেই ওর বাবাকে দেখলে ভয় পায়। আমাকেই বাবা বলে ডাকে।
জানিস আমাকে যখন বাবা বলে ডাকে আমি সব কিছু ভুলে যাই। ও এক নাগাড়ে বলতে বলতে কেঁদে ফেলল।
মেয়েটা উঠে এসে জড়িয়ে ধরে বলে "কাঁদছো কেন পাপা?"
কোনভাবে নিজেকে সামলে নিয়ে বলল "কিছুনা মা। চোখে কি যেন পড়েছে"।
বাচ্চা এই মেয়েটা বাবাকে ওড়না মুখে নিয়ে ফুঁ দিয়ে গরম করে চোখ মুছে দিচ্ছে।
আমি একটি কথাও বলতে পারিনি। চুপচাপ বন্ধুর কাছ থেকে বিদায় নিলাম। ঠিকানাটা রেখে দিলাম। অবশ্যই সময় অসময়ে যাবো।
মেয়েটার প্রতি আমারও বড্ড মায়া পড়ে গিয়েছে।
ভালো মানুষকে, পরিস্থিতি আমাদের সামনে তুলে ধরে। কখনো কখনো ভালো মানুষের মানুষিকতা প্রকাশের জন্য কোন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়না।
আর আমরা জানতেও পারিনা চোখের সামনে থাকা একটা মানুষও হতে পারে মহত্বের প্রতীক।

আবার ছোট হতে চাই


যখন আমরা ছোট ছিলাম...
  •  হাতগুলো জামার মধ্যে ঢুকিয়ে নিয়ে বলতাম, আমার হাত নেই।
  • একটা পেন ছিল, যার চার রকম কালি, আর আমরা তার চারটে বোতাম একসাথে টেপার চেস্টা করতাম।
  • দরজার পিছনে লুকিয়ে থাকতাম কেউ এলে চমকে দেব বলে, সে আসতে দেরি করছে বলে অধৈর্য হয়ে বেরিয়ে আসতাম।
  • ভাবতাম আমি যেখানে যাচ্ছি, চাঁদটাও আমার সঙ্গে সঙ্গে যাচ্ছে।
  • ইলেকট্রিক সুইচের দুদিকে আঙুল চেপে অন্-অফ এর মাঝামাঝি ব্যালেন্স করার চেষ্টা করতাম।
  • দু -ফোটা জল ফেলে রেস করাতাম, কোনটা গড়িয়ে আগে নীচে পড়ে।
  • বৃষ্টি হলে ছাতা না নিয়ে কচু বা কলাপাতা মাথায় দিয়ে বলতাম, দ্যাখ জল গায়ে লাগছে না।
  • তখন আমাদের শুধু একটা জিনিসের খেয়াল রাখার দায়িত্ব ছিল, সেটা হল স্কুলব্যাগ।
  • ফলের বিজ খেয়ে ফেললে দুশ্চিন্তা করতাম, পেটের মধ্যে এবার গাছ হবে!
  • ঘরের মধ্যে ছুটে যেতাম,তারপর কি দরকার ভুলে যেতাম, ঘর থেকে বেরিয়ে আসার পর মনে পড়ত।
এছাড়া আরও কত কি করতাম, মনে আছে তো তোমাদের?
যখন আমরা ছোট ছিলাম তখন ধৈর্য্য সহ্য হতনা যে কবে বড় হব, বড় হলে কত কিছু করতে পারতাম সেটা ভেবে কত কিছু কল্পনা করতাম!
আর এখন মনে করি, কেন যে বড় হলাম!
আমাদের এই ছোট্ট জীবনে শৈশব হল সবথেকে সবথেকে ভালো, মজার এবং গুরুত্বপূর্ণ।
আমি জানি তুমি এগুলো পড়ছো আর তোমার মুখেও হাসি ফুটে উঠেছে, ছটবেলার কিছু মজার কথা মনে করছ আর সেগুলোকে মিস করছ।
ছোটবেলায় সবথেকে বেশিবার জিজ্ঞাসিত প্রশ্নটার উত্তর আমি পেয়েছি অবশেষে - তুমি বড়ো হয়ে কি হতে চাও?
উত্তর-আবার ছোট হতে চাই৷ আবার শৈশবে ফিরে যেতে চাই।
আজ একটু অন্য ধরনের পোস্ট করলাম, আশা করি ভালো লেগেছে।

হাইকোর্টের উকিল - মজার গল্প


আজকের মজার গল্পের নাম তো বুঝতেই পারছেন।
তাহলে শুরু করছি আজকের গল্প "হাইকোর্টের উকিল"।
মধ্য রাতে শহর থেকে অনেক দুরে হাইকোর্টের এক উকিলের গাড়ি বিগড়ে গেল।
অনেক খোজাখুজির পর একটা ফার্ম হাউজের সাইন বোর্ড চোখে পড়ায় একটু আশার আলো দেখতে পেলেন তিনি।
সেই ফার্ম হাউজের দিকে গেলেন একটু সাহায্যের প্রত্যাশায়।
সেখানে গিয়ে ডাকাডাকি করতেই এক সুন্দরী মহিলা বেরিয়ে এলেন - "দেখুন আমি এখানে একা থাকি, গ্যারেজ তো আর সকালের আগে খুলবে না, কারণ ওরা গ্যারেজ বন্ধ করে চলে গেছে।"
আপনাকে সকাল পর্য্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
উকিল বললেন - ঠিক আছে, কিন্তু আমি আপনার কাছে অনুরোধ করছি পুরো রাতটা কাটাবার জন্য দয়া করে আমাকে একটু স্থান দিন।
সুন্দরী মহিলা বললেন - কিন্তু স্যার, আমি যে এখানে একা থাকি।
উকিল বললেন - আপনার ভয় পাবার কোন কারণ নেই, আমি একজন হাইকোর্টের উকিল।
সুন্দরী মহিলাটি বললেন - কিন্তু স্যার, এখানে শুধু একটাই বেডরুম আছে এবং সেটা আমি ব্যবহার করি।
উকিল বললেন - বললাম তো ভয়ের কিছুই নেই, আমি হাইকোর্টের উকিল।
তখন তারা দুজন বেডরুমে ঢোকার পর মহিলাটি বললেন - কিন্তু স্যার এখানে তো একটাই বেড আছে!
উকিল বললেন - ভয়ের তো কিছু নেই, আমি হাইকোর্টের একজন উকিল।
অতপর তারা একজন আরেকজনের দিকে পিছন ফিরে একই বেডে শুয়ে রাতটা কাটিয়ে দিলেন।
পরদিন সকালে উঠে উকিল ওই মহিলার সাথে ফার্ম হাউজের দিকে এক চক্কর দিলেন। তারা দেখলেন ফার্ম হাউসের পাশে একটা মুরগির খাঁচা পড়ে আছে, খাঁচাটির কাছে গিয়ে উকিল দেখলেন, সেখানে ২০ টা মুরগী আর ৬০ টি মোরগ রয়েছে, উকিলের মনে একটা খটকা লাগলো।
তিনি ওই মহিলাটিকে বললেন - ৬০ টা মোরগ আর মাত্র ২০ টা মুরগী!  আপনার মনে কি কোন খটকা লাগছে না?
মহিলাটি বললেন - এতে খটকা লাগার কি হলো? তাছাড়া এই ৬০ টি মোরগের মধ্যে মাত্র ১০ টিই কাজের।
উকিল জিজ্ঞেস করলেন - তাহলে বাকি ৫০ টা?
মহিলাটি বলল - বাকীরা সব হাইকোর্টের উকিল। :D :D

সাথে ছিলাম, আছি, থাকব...


একটি ছেলে তিন বছর সম্পর্কের পর মেয়েটাকে বলছে...
ছেলেঃ আমার মনে হচ্ছে আমি তোমাকে ভালোবাসি না।
মেয়েঃ কি??
ছেলেঃ হ্যা, আমি আমার জীবনকে তোমার সাথে থেকে নষ্ট করতে পারবো না।
মেয়েঃ তুমি এসব কি বলছ?? এই রকম কোরোনা আমার সাথে। প্লিজ... আমার ভুলটা কোথায়? প্লিজ বল...
ছেলেঃ আমি ব্রেক আপ চাচ্ছি।
মেয়েঃ আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবো না জান, প্লিজ আমাকে একা ফেলে যেওনা...
ছেলেঃ কিন্তু আমার ব্রেক আপ চাই। এটা বলে ছেলেটা চলে গেল। মেয়েটি রাতে অনেক কান্নাকাটি করল। সে বুঝে উঠতে পারছেলিনা যে সে কি হারিয়েছে।
এই রকম কিছু দিন যাওয়ার পরও ছেলেটি মেয়েটির সাথে যোগাযোগ করলনা।
তখন মেয়েটি নিজেকে অনেক শক্ত করল। এবং সে তার বাব-মা কে তাকে বিয়ে দেওয়ার জন্যে পাত্র দেখতে বলল। সে অন্য একটি ছেলে কে বিয়ে করল। সে সবসময় ভাল থাকার চেষ্টা করত কিন্তু পারত না। এমনকি তার বিয়ের পরও প্রত্যেক রাতে সে কাঁদত সেই ছেলেটির জন্যে যে তাকে অন্ধকারে একা রেখে চলে গেছে।
সে এখনো বিশ্বাস করে তার সেই মানুষটি তার কাছে আসবে, এবং তাকে নিয়ে একসাথে থাকবে কিন্তু তা আর হল না।
বিয়ের ২ বছর পর মেয়েটি ছেলেটির বাড়িতে গেল তার বোনের সাথে দেখা করতে।
তার বোন তাকে ছেলেটির রুমে নিয়ে গেল এবং তার হাতে একটি চিঠি দিল এবং কাঁদতে কাঁদতে বলল, যে তার দাদ ২ বছর আগে মারা গেছে।
মেয়েটি বাড়িতে গেল ,তারপর চিঠিটি খুলে পড়তে লাগলো "সোনা আমি জানি তুমি এখনো আমার জন্যে অপেক্ষা করছ, কিন্তু সেটা হয়ত আমাদের নিয়তিতে ছিল না।
তুমি মন খারাপ করো না, আমি এই কাজ করেছি শুধু তোমাকে শক্ত করার জন্যে, তোমাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্যে। ডাক্তার স্পষ্ট করে বলেই দিয়েছিল আমার বাঁচার কোন পথ নেই।
কখনো নিজেকে দোষারোপ কোরো না কোন কিছুর জন্যে।
তবে আমি তো এখনো বেচে আছি তোমার হৃদয়ের মাঝে। আছি না? এবং তোমার ভালবাসা কখনো হারাবে না।
আশা ছেড়ো না, সবসময় হাসি খুশি থাকবে, তুমি জানো আমি তোমার হাসি মুখটা দেখতে অনেক ভালোবাসি।
আমি সব সময় তোমার সাথে ছিলাম, আছি , থাকব।

বিমান দুর্ঘটনা সম্পর্কীয় একটি মর্মস্পর্শী গল্প


পুরো একটা বছর হয়ে গেল MH370 বিমানের কোনও খোঁজ মিলল না।
আস্তে আস্তে স্মৃতির আড়ালে চলে যাচ্ছে মাঝ আকাশে হারিয়ে যাওয়া মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের বেজিংগামী যাত্রীবিমান MH370।
উদ্ধারকারী দল আশা ছেড়ে দিয়েছে।
বিভিন্ন দেশের সরকারও প্রায় ধরেই নিয়েছে আর কোনও দিন পাওয়া যাবে না।
কিন্তু সবাই ভুলে যেতে বসলেও ভোলেনি MH370 বিমানের যাত্রী আর বিমানকর্মীদের পরিবারের লোকেরা।
এক বছর পর হারিয়ে যাওয়া বিমানের এক যাত্রীর ১০ বছরের ছেলে চিঠি লিখেছে তার বাবাকে।
সেই চিঠিটাই এই পোস্টে লিখলাম।
প্রিয় বাবা,
বাবা পুরো একটা বছর  কেটে গেল তবু তুমি এলে না।
তবে জানো তোমার অপেক্ষায় থাকতে থাকতে আমি একটুও ক্লান্ত হয়নি। কেন জানো! আসলে আমার বন্ধুদের কাছে একটা চ্যালেঞ্জ নিয়েছি।
ওরা ওদের বাড়ির লোকের কাছে শুনে আমায় বলেছে, তুমি নাকি আর কোনও দিন ফিরবে না কারণ নাকি তোমার খোঁজ আর কোনও দিন পাওয়া যাবে না।
ওদের কথা শুনে আমার হাসিই পেয়ে গিয়েছিল। আমি জানি তুমি ফিরবে, ফিরবে, ফিরবে।
তুমি যে প্লেনে ছিলে সেই MH370-টা কোথাও না কোথাও নিশ্চই আছে।
তুমি আমায় একটা গল্প বলেছিলে মনে আছে! গল্পের শেষে বলেছিলে, তুমিও ওই গল্পের নায়কের  মত একটা দেশ খুঁজে বের করবে। জানি ওমন একটা দেশ খুঁজতেই তুমি গিয়েছ।
তোমার সেদিন হয়তো প্লেনেই সবাই ঠিক করলে এমন একটা দেশ খুঁজবে যেখানে কোনও বাজে লোক থাকে না, যেখানে কালো সাদা লোকেদের আলাদা করে দেওয়া হয় না, যেখানে গরীব-বড়লোকে বলে কিছু নেই। সেই রকমই কোনও দেশ হয়তো তোমরা পেয়ে গিয়েছো।
জানো ক'দিন আগেই আমাদের স্কুলের সেই অডিটিরিয়ামে একটা অনুষ্ঠান হল তোমাকে আর প্লেনটাকে নিয়ে (অবশ্য এরকম অনুষ্ঠানে এই এক বছর অনেক হয়েছে, আমায় অবশ্য ওগুলোতে মা যেতে দেয়নি)।
অনেক লোকে তোমায় আর প্লেনটাকে নিয়ে অনেক কথা বলল।
সবটা আমি বুঝতে পারিনি, তবে যেটুকু বুঝলাম সেটাতে পরিষ্কার, ওরা শুধু বিজ্ঞান আর বই পড়া জিনিসগুলোই বোঝে।
কিন্তু নিখোঁজ কোনও কিছুর জিনিস যদি বই পড়ে বলে দেওয়া যেত তাহলে তো বারমুডা ট্র্যাইঙ্গেল, গড এসব কিছুই থাকত না।
অনুষ্ঠানের শেষে মাকে একটা মূর্তি দেওয়া হল, মা কাপড় দিয়ে চোখটা মুছে ছিল। মাকে কিছু বলতে খুব জোর করল ওরা। মা কিছু বলতে পারল না।
আমায় দেখে সবাই মুখ দিয়ে এমন একটা আওয়াজ করতে লাগল যেন আমার সব শেষ হয়ে গিয়েছে।
মাইকটা আমার সামনে দিলে আমি বলতাম, প্লেনটা হারিয়ে যায়নি, খুঁজতে গেছে।
খুঁজতে গেছে আমাদের হারিয়ে যাওয়া ভালবাসা, আর  আন্তরিকতাকে। এ কথাটা কেন মনে হল জানো?
তুমি চলে যাওয়ার পর টিভিতে যতবার তোমার আর হারিয়ে যাওয়া প্লেনটার কথা দেখিয়েছে ততবার বাড়ির ফোনটা বেজেছে, কলিংবেলে আওয়াজ হয়েছে।
সবাই এসে মাথায় হাতও বুলিয়েছে।
কিন্তু তুমি শিখিয়েছিলে না, আসল ভালবাসা আর মেকি ভালবাসার ফারাক কীভাবে ধরা যায় সেই পদ্ধতিটা।
তাতে করে বুঝে গেছি ওরা  ঠিক ভালবাসে না। তুমি থাকলে তুমিও এমনটাই ভাবতে....
দেখো তোমায় আর একটা কথা বলতে ভুলে গেলাম তুমি চলে যাওয়ার পর মা ক টা দিন কিচ্ছু খায়নি।
টিভিতে, কাগজে, ম্যাগাজিনে কটা দিন শুধু তোমার আর ওই MH370 প্লেনটার কথা।
তারপর আস্তে আস্তে সবাই ভুলে গেল। মা একটা চাকরি পেল।
মাঝে আরও একটা প্লেন হারিয়ে গেছিল, পরে পাওয়া গেল ধ্বংস হয়ে যাওয়া অবস্থায়।
তখন আবার আমাদের বাড়ির সামনে কদিন ক্যামেরার ভিড় ছিল, তোমার কথা হচ্ছিল, মা ইন্টারভিউও দিল।
তখন ভেবেছিলাম তুমি হয়তো এবার আসবে। কিন্তু না...
ওই প্লেনের খোঁজ পাওয়ার পর মা-ও বলতে শুরু করল তোমাদের প্লেনটাও হয়তো কোথাও ভেঙে পড়েছে।
আমি মায়ের সঙ্গে তর্ক করেছিলাম। মা তখন চুপ করেছিল।
কদিন আগে টিভিতে বলেছিল, তোমাদের প্লেনের ব্যাটারি না কী যেন একটা পাওয়া গিয়েছে।
এখন আমার ওসব ভাল লাগে না, বিশ্বাসও হয় না।
প্রথম প্রথম যখন কোনও একটা মহাসাগরে তোমাদের প্লেনের খোঁজ চলছিল তখন একদিন শুনছিলাম এই পাওয়া যাবে, এই ব্ল্যাক বক্স সাড়া দিয়েছে...ও মা তারপর দেখলাম ওসব কিচ্ছু না।
সবাই আস্তে আস্তে ভুলে গেল।
জানি সবাই ভুলে যাবে, শুধু আমি ভুলব না।

স্কুলে একটা রচনা লিখতে দিয়েছিল তুমি কী হতে চাও এটা নিয়ে। আমি লিখেছিলাম পাইলট হতে চাই।
কেন জানো!
তোমায় প্লেনে করে খুঁজতে যাবো তাই। এখন খুব মন দিয়ে পড়ছি। পাইলট হতেই হবে।
আমি এখন আর কাগজের প্লেন বানাই না। এখন ওসব খেলা আর ভাল লাগে না। তোমায় একটা মিথ্যা কথা বলেছি।
চিঠির শুরুতে বলেছিলাম না, বন্ধুরা তুমি আসবে না বললে আমার হাসি পায়, ওটা মিথ্যে কথা।
আসলে আমার কান্না পায়। স্কুলের স্যার বলেছিল, ওত বড় একটা প্লেন কখনও এতদিন নিখোঁজ থাকতে পারে না।
টিভিতে র‌্যাডার না কি বলে একটা জিনিসের কথা বলে বুঝিয়ে বলেছিল কেউ তোমাদের প্লেনটা বন্দুক দিয়ে নামিয়ে ধ্বংস করে দিয়েছে।
সব কথা শুনে আমি কেমন যেন হয়ে যাচ্ছি। মনের জোরটা কমে আসছে বোধহয়।
সব কেমন যেন গুলিয়ে আসছে। আগে দেখতাম তুমি প্লেনটা থেকে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে একটা এইয়া বড় সাগরের সামনে স্নান করতে নামছো।
এখন আর ওটা দেখতে পাই না। এখন ঘুমিয়ে পড়লে স্বপ্নে মাঝে মাঝে শুনতে পাই আসবে না, ধ্বংস হয়ে গেছে, সবাই মারা গেছে।
বাবা তুমি ফিরে এসো, এসো প্লিজ। আসার সময় কিচ্ছু আনতে হবে না।
ঠিকানা জানি না তাই লেখাটা নৌকা বানিয়ে জলে ছেড়ে দিলাম।
আমি জানি লেখাটা ভেসে ভেসে তোমার কাছে যাবে।
তুমি পড়ে নিজের কাছে রেখে দিয়ো। আর হ্যাঁ মাকে বলো না আমি তোমায় চিঠি লিখেছি, তাহলে খুব রেগে যাবে।
মা বলে বাবার কথা সব সময় ভাববে না।
ইতি- প্রিন্স

আশা করি সবার ভালো লেগেছে।
আমাদের সাথে থাকুন এবং প্রতিনিয়ত ভালোবাসা ডট ইন ভিজিট করুন।
(লেখাটি ২৪ ঘন্টা সংবাদ পত্র থেকে নেওয়া হয়েছে)