ভ্যালেন্টাইন ডে'র ইতিকথা


ভ্যালেন্টাইন

সিদ্ধার্থ সিংহ

যিনি নিজের জায়গাই ঠিক থাকবেন
মৃত্যুর পরেও তিনি বেঁচে থাকবেন।
প্রাচীন রোমে জুনো পুজোর জন্য
চোদ্দই ফেব্রুয়ারি ছুটি থাকত।
জুনো শুধু ওখানকার দেব- দেবীদের রানিই ছিলেন না
ছিলেন বিবাহেরও দেবি।
সেই পুজো উপলক্ষে বেশ কয়েক দিন ধরে চলত
লিউপারকেলিয়া উৎসব।
এই উৎসবটা ছিল ভারি মজার।
এলাকার অবিবাহিতা তরুণীরা নিজেদের নাম একটা চিরকুটে লিখে
গির্জার সামনে রাখা নির্দিষ্ট কাঁচের জারে ফেলে দিতেন
আর অবিবাহিত পুরুষরা
সেখান থেকে যে যার মত একটা চিরকুট তুলে নিতেন।
যার চিরকুটে যে মহিলার নাম থাকত
তিনি তাকে নিয়েই উৎসবের ওই কটা দিন মেতে থাকতেন।
উৎসবের শেষে যদি উভয়েরই উভয়কে ভাল লেগে যেত
তা হলে তারা বিয়ে করে নিতেন।
কিন্তু সম্রাট দ্বিতীয় ক্লাডিয়াসের রাজত্বকালে
শুরু হল ভীষণ যুদ্ধ
হাতছাড়া হয়ে গেল বহু রাজ্য।
সম্রাট বুঝলেন, ওগুলো ফেরাতে গেলে দরকার আরও সৈন্য
কিন্তু রাজ্যের কোনও যুবকই যুদ্ধে যেতে রাজি নয়।
কিন্তু কেন? সম্রাটের মনে হল, প্রেম-ভালবাসা, ঘর-সংসার
আর ছেলেমেয়েদের মায়াই
একটা পুরুষকে আটকে রাখে,
তাই বিশাল রণ-বাহিনী গড়ে তোলার জন্য
তিনি আইন জারি করলেন-কেউ বিয়ে করতে পারবে না
বিয়ে করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
যারা এই আদেশ অমান্য করবে, তাদের শিরচ্ছেদ করা হবে।
কিন্তু আইন করে তো আর সব কিছু বন্ধ করা যায় না
তাই লুকিয়ে-চুরিয়ে, চুপিসারে প্রনয়পর্ব চলতেই থাকল।
এই সময় রোমে এক যাজক ছিলেন
তার নাম ভ্যালেন্টাইন।
তিনি এই তরুন-তরুণীদের কাছে ত্রাতার মত আবির্ভূত হলেন।
তার গির্জাতেই নিশুতি রাতে
মোমবাতির কাঁপা কাঁপা আলোয়
একের পর এক বিয়ে হতে লাগল।
সময় লাগল না।
গুপ্তচরদের মারফত সম্রাটের কাছে পৌঁছে গেল সেই খবর।
একদিন গভীর রাতে ভ্যালেন্টাইন যখন একটা জুটির বিয়ে দিচ্ছেন
ঠিক তখনই, সেখানে আচমকা হানা দিল সম্রাটের অনুচরেরা।
বিয়ের জন্য আসা জুটি পালিয়ে বাঁচলেন ঠিকই
কিন্তু ফৌজের হাতে ধরা পড়ে গেলেন ভ্যালেন্টাইন।
দুশো ঊনসত্তর খ্রিস্টাব্দের চোদ্দোই ফেব্রুয়ারি
বিবাহের দেবি জুনো পুজোর দিন
তার শিরচ্ছেদ করা হল।
বন্দি থাকার সময় কারা-অধিকর্তার একমাত্র মেয়ের
প্রেমে পড়ে যান তিনি।
মৃত্যুর আগে ছোট্ট একটা কাগজের টুকরোয়
তাকে তিনি লিখেছিলেন--
'রাজা ক্লাডিয়াস কোনও দিনই ভালোবাসার গতি
রোধ করতে পারবেন না।
এই যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত প্রেমিক-প্রেমিকারাই জয়ী হবে।'
তার এই ভবিষ্যৎবাণী মিথ্যে হয়নি।
যে মানুষ নিজের জায়গাই ঠিক থাকবেন
মৃত্যুর পরেও তিনি বেঁচে থাকবেন।
ভ্যালেন্টাইন আজও বেঁচে আছেন
যত দিন এই পৃথিবীতে প্রেম থাকবে
যত দিন কুঁড়ি তার পাপড়ি মেলবে
যত দিন নদিতে বইবে তিরতিরে ঢেউ
তত দিন, তত দিন তিনি বেঁচে থাকবেন আমাদের মধ্যে
আমাদের মনের গভীরে।
ধন্যবাদ পড়ার জন্য

0 comments:

Post a Comment