সবাই যা করে আপনিও সেটা করবেন কেন


সবাই যা করে আপনিও সেটা করবেন কেন?
সবাই খারাপ কাজ করলে আপনিও সেটা কেন করবেন?
আপনি ভালো কিছু করুন।
তাহলে,
আর কিছু না পান, জীবনে শান্তি পাবেন।
চলুন একটা গল্প শোনা যাক...
এক তরুণী সকালবেলা সমুদ্রের তীরে হাটার জন্য বের হলো।
বীচে এসে তরুণীটি দেখলো সৌম্য দর্শন এক বৃদ্ধ বীচের বালু থেকে কিছু তুলছে এবং সমুদ্রের পানিতে ছুড়ে দিচ্ছে।
বৃদ্ধ লোকটি কি করছে দেখার জন্য তরুণীটি সামনে আগালো।
কাছে যাবার পর তরুণীটি দেখলো, গতরাতের ঝড়ে সমুদ্র উত্তাল থাকায় ঢেউয়ের সাথে ভেসে ভেসে কিছু স্টারফিশ চলে এসেছে।
মাইলের পর মাইল ধরে ওগুলো এখন বীচের বালুতে পড়ে আছে।
ওরা সমুদ্রে ফিরে যেতে পারছেনা।
বৃদ্ধটি স্টারফিশ গুলো এক এক করে বালু থেকে তুলছেন এবং পানিতে ছুড়ে দিচ্ছেন।
তরুণীটি কৌতূহল সামলাতে না পেরে বৃদ্ধ লোকটির কাছে জানতে চাইলো উনি এরকম করছেন কেন।
বৃদ্ধ লোকটি উত্তর দিলেন, আমি স্টারফিশ গুলকে সমুদ্রে ফিরে যেতে সাহাজ্য করছি।
তরুণীটির কৌতূহল আরো বেড়ে গেলো।
সে আবারো জিজ্ঞাসা করলো, স্টারফিশ গুলোকে সমুদ্রে ফেরত পাঠাচ্ছেন কেন?
বৃদ্ধ মৃদু হেসে উত্তর দিলেন...
সূর্য্য উঠে গেছে এবং স্রোত ও নেমে গেছে। যদি ওদের জলে ছেড়ে না দিই তাহলে ওরা মারা যাবে।
বৃদ্ধের উত্তর শুনে মেয়েটি আবারো অবাক হলো।
সে আবারো জিজ্ঞাসা করলো, আচ্ছা স্টারফিশ তো আর একটা দুটো নয়, মাইলের পর মাইল ধরে হাজার হাজার স্টারফিশ পড়ে আছে। একা একা কতগুলো স্টারফিশকে আপনি এভাবে বাঁচাতে পারবেন? আপনার এত কষ্ট তো কোনো কাজেই আসবেনা। আপনি এটা করলেও যা না করলেও তাই। কোনো পার্থক্য আসবেনা। রোদ চড়ে গেলে সবগুলোই মারা যাবে বালুর তাপে।
বৃদ্ধটি কোনো উত্তর না দিয়ে নিচু হয়ে আরেকটি স্টারফিশ তুলে নিলেন এবং সমুদ্রে ছেড়ে দিলেন।
তারপর মেয়েটির দিকে ফিরে বললেন, সবগুলোকে বাঁচাতে পারবোনা জানি, কিন্তু এটাকে তো বাচালাম!
পার্থক্যটা এখানেই
সৃষ্টিজগতের কল্যাণ সাধনের জন্য কোনো কাজে নামলে আমরাও অনেক সময় এরকম অবস্থার মুখোমুখি হই।
রিকশা করে যাচ্ছেন, পথের পাশে অনাহারী মানুষ দেখে সাহায্য করতে ইচ্ছে করে।
কিন্তু পরক্ষণেই মনে চিন্তা আসে, আরে! এরকম অনাহারী মানুষ তো অনেক আছে। কতজন কে খাওয়াবো বা হেল্প করবো!
ছেড়া কাপড় পরা কাউকে দেখে কিছুক্ষণের জন্য সহানুভূতি জেগে ওঠে, আবার পরক্ষণেই দোটানায় পড়ে যাই এরকম তো অনেকেই ছেড়া আর মলিন কাপড় পরে ঘুরে বেড়াচ্ছে, কতজন কে কাপড় দেবো!
অফিসে যাবার পথে রাস্তায় কেউ এ্যাকসিডেন্ট করে পড়ে আছে।
সাহায্যের জন্য কেউ আগাচ্ছেনা, কারন সবাই ব্যস্ত।
আপনার মনে ক্ষণিকের জন্য সাহায্য করার অনুভূতি জাগলো, পরক্ষণেই ভাবলেন ধুর! কেউ যখন আগাচ্ছেনা, আমার এত ঠ্যাকা কিসের!
এরকম অনেক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে আমরা নিজের সুকুমারবৃত্তি গুলোকে গলা চাপা দিয়ে মেরে ফেলি।
দুই হাত, দুই পা, নাক, চোখ আর কান থাকলেই যে আমরা মানুষ হয়ে যাই তা নয়।
এগুলো পশুদের ও আছে।
আমাদের সুকুমারবৃত্তি গুলোর কারনেই আমরা "মানুষ" হয়ে উঠি। আমরা হয়ে যাই সৃষ্টির সেরা জীব।
আপনি একা, আপনি সবকিছু করতে পারবেন না।
কিন্তু সবকিছু করতে না পারলেও এ্যাটলিস্ট "কিছু" তো করতে পারবেন।
তাই স্রোতের সাথে গা না ভাসিয়ে পার্থক্যটা গড়ে দিন।
শুধু মনে রাখুন কেউ না দেখুক, কেউ এ্যাপ্রিসিয়েট না করুক, উপরে একজন আছেন যিনি সবকিছুই দেখছেন।
কালের খাতায় হিসাব লেখা থাকবে, আপনি সব জায়গাতে না পারুন- অন্তত "একটি" জায়গাতে পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন!

0 comments:

Post a Comment