অন্যান্য গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অন্যান্য গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ভুবনবাবু, আপনি রানু মন্ডলকে চেনেন?

 Valobasa dot com Bhalobasa dot com Valobasha dot com Bhalobasha dot Com Valobasa.com

Valobasa dot com

সামপ্লেস এলসে তো জমিয়ে দিলেন দেখছি। 

আবার বললেন, বাদাম বিক্রি করব না। শুধু গান গাইব । সিদ্ধান্তকে স্বাগত এবং অফুরান ভালোবাসা। 

জানেন তো ভুবনবাবু, আপনি ভুবন জোড়া ভাইরাল হওয়ার ঠিক ২ বছর আগে একজন মহিলা রানাঘাট স্টেশনে বসে ভিক্ষা করতেন। গান গাইতেন আপন মনে। 

জনৈক সেই গান শুনে ভিডিও করলেন। ভাইরাল হল। 

সময়ের নিয়মে প্রতিভার উড়োজাহাজে মুম্বই পৌঁছে গেলেন তিনি। হিমেশ রেশমিয়ার সঙ্গে জবরদস্ত গান রেকর্ডিং করলেন। 

পাড়ার মোড়, নদীর চরে বাজল সেই গান। আ-আআআআআ। 

এখন উনি কি করে জানেন? 

বাড়িতে যায় তৃতীয় সারির কিছু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের লোকজন। গিয়ে বাংলা খিল্লি করেন। 

কখনও বলেন কাঁচাবাদাম গাইতে। কখনও বলেন শ্রীভাল্লি গানে নাচুন। 

আর উনিও দম দেওয়া পুতুলের মত নেচে চলেন। 

আর যখন সম্বিত ফেরে, তখন উনি খোলস ছেড়ে বেরিয়ে দাঁত নখ খিঁচিয়ে নেমে পড়েন আক্রমণে। 

বেসিক্যালি, এখন উনি নিপাট আনন্দের বস্তু হয়ে উঠেছেন। 

অথচ এমন তো ছিল না! 

ভুবনবাবু, ভয় কোথায় জানেন? 

আপনি এখন ভাইরাল। সিরিয়ালের লোকজন কোমর  দোলায় আপনার গানে। আপনাকে ধুতি পাঞ্জাবি খুলিয়ে ঝিকিমিকি ব্লেজার পরিয়ে পারফর্ম করানো হয়। 

হয়ত আপনার মত নিয়েই। কিন্তু সত্যি বলুন তো, ঝিকিমিকি ব্লেজার পরে সামপ্লেসের মঞ্চে অতবার গলা থমকালো কেন আপনার? হয়ত, পোশাকটা আপনার কমফোর্ট জোন নয়। 

মঞ্চ আপনার কমফোর্ট জোন হতেই পারে। 

হয়ত আপনি অভ্যস্ত নন। আপনার কাঁচা বাদাম গানের সামনে মানুষজন সল্টেড বাদামেরই চাট নিয়ে হুইস্কিতে চুমুক দেবেন। ভুবনবাবু আপনার ভুবনের সঙ্গে এই ভুবনের ঢের পার্থক্য। 

এই ভুবন মানিকে মাগে হিতেকে ভুলে যেতে ৩ মাস সময় নিয়েছে। আপনি কতদিন মনে থাকবেন, তা আপনি ঠিক করবেন না। 

করবে অন্য ভুবন। 

এটাকে বলে ভাইরাল ভুবন। 

যেই ভুবনটা এখনও আপনি চেনেননি। রানু মন্ডলও চিনতে পারেননি।

দিন বদলাচ্ছে








গতকাল ট্রেনে যাচ্ছি। এমনিতেই অফিস টাইমের ট্রেনে বসার জায়গা পাওয়াটা রীতিমত চাপের। যথারীতি চ্যানেলে দাঁড়িয়েই আছি। আমার সামনে দুজন আদিবাসী মহিলা বসে ছিলেন। একজন সম্ভবত মালার ব্যবসা করেন, অন্যজন ফলের। ওদের কথা শুনে বুঝলাম হাওড়া যাচ্ছিলেন। বেশ পরিষ্কার বাংলায় কথা বলছিলেন। একজন বললেন, তা তোর সোয়ামী যখন এত বার তোকে ফিরিয়ে নিতে চাইছে, তখন চলেই যা তার ঘরে। দুদিন একটু সুখ ভোগ করে নে। কম কষ্ট তো করলি না!▪

ভদ্রমহিলা উত্তর দিলেন, যখন পথ ঘাট চিনতাম না, ভয় পেতাম রাতের অন্ধকারে, অচেনা মানুষকে, যখন ওর পায়ে পায়ে ঘুরতাম তখনই যখন তাড়িয়ে দিলো, কোলেরটাকে নিয়ে রাস্তায় নামলাম....এখন আর কি দরকার বলো? চলছে তো, চালিয়ে তো নিচ্ছি নিজের আর মেয়েটার পেট।

আরেকজন বললেন, মেয়েটা বড় হচ্ছে, লোকে তো বাপের কথা জিজ্ঞেস করবে, তখন কি বলবি?•

ভদ্রমহিলা একটু অন্যমনস্ক হয়ে বললেন, এই যে সরস্বতী ঠাকুর একা আসেন, কই তাকে তো লোকে তার সোয়ামীর কথা জিজ্ঞেস করে না।° বেশ জাঁকজমক করে তো লোকে পুজো করে সোয়ামী ছাড়াই। তাহলে আমি একা থাকলে কেন লোকে আমায় জিজ্ঞেস করবে? আমি তো কারোর কাছে হাত পাতছি না, কারোর দুয়ারে গিয়ে পড়েও নেই, তাহলে অসুবিধে কোথায়! আমি কি একা থাকতে পারি না?°

যে একবার পথে বের করে দিয়েছিল, সে যে আবার তাড়িয়ে দেবে না তার ভরসা কোথায় গো! ফলের দোকানটা দাঁড় করিয়েছি এই তিনবছরে, আর একূল অকূল দুকূল যেতে দেব না দিদি। মেয়েটাকে মানুষ করে তারপর বিয়ে দেব। মা সরস্বতীর মত মানুষ করবো, যেন একা থাকলে কেউ তার সোয়ামীর কথা না জিজ্ঞেস করে।

আমার ঠোঁটের কোণে অজান্তেই একটুকরো হাসির রেখা দেখা দিয়েছিল বোধহয়। বদলাচ্ছে, মানসিকতা বদলাচ্ছে, এই তো ঋজুতা ফিরে আসছে ভাঙা শিরদাঁড়াগুলোতে। দুর্বলতা কেটে শক্ত হচ্ছে মনগুলো। এটুকুই শান্তি। পড়ে পড়ে আর মার খাবে না অন্তত এরা।°

সেই ছেলেটা


 চেম্বার থেকে বেরিয়েই দেখি, আবহাওয়ার বেহাল অবস্থা l কৃষ্ণমেঘের চাদরে পুরো আকাশটা ঢেকে গেছে l বুঝলাম, কপালে দুর্ভোগ আছে l মনে মনে, খুব রাগ হল, আজকেই আমার প্রাইভেট কারটাকে  খারাপ হতে হল l চেম্বারে আসার সময় একটা আন্দাজ করেছিলাম , প্রকৃতির মেজাজ ক্ষিপ্ত আছে, কিন্তু এতটাও খারাপ হবে, ভাবিনি l যাই হোক, এখন আমাকে বিষ্ণুপুর থেকে যেতে হবে চাকদহ স্টেশনে, সেখান থেকে কল্যাণী l বাসে উঠেই জানলার ধারে সিট পেয়ে গেলাম l বেশ লাগছিলো, ঠান্ডা হওয়ার স্পর্শ সারাদিনের  ক্লান্তি ঘুচিয়ে দিলো, বহুদিন এমন শান্তি পাইনি,এমন শান্তি শুধু মায়ের কোলেই পাওয়া যায় l

 চাকদহ বাসস্ট্যান্ডে বাস থামলো l নেমে দেখলাম, আকাশের আরও অবনতি ঘটেছে l ঝিরিঝিরি বৃষ্টি শুরু হয়েছে l এখন আর সেই সাময়িক আরাম, আমার মনে  শান্তি দিচ্ছেনা, বরং চিন্তা হতে লাগলো যে, কী করে বাড়ি পৌঁছবো l  ভাবতে ভাবতে স্টেশনে চলে এলাম l স্টেশনে পৌঁছে দেখলাম, স্টেশনে লোক সংখ্যা হাতে গুনে বলা যাবে l স্টেশনের উপরে সব দোকানও বন্ধ হয়ে গেছে l হবেই তো, অনেক রাত যে হলো l শুধু সুবলদার চায়ের দোকানটা খোলা ছিল l  সুবলদার সঙ্গে আমার বহুদিনের আলাপ l আমি যখন প্রথম প্রথম চাকদায় আসতাম, ট্রেনেই আসতাম, তখন ওনার দোকানের চা খেতাম l ভারী ভালো মানুষ, সরল মানুষ l সুবলদাও দোকানের ঝাঁপি নামিয়ে আমায় দেখে হাসি মুখে এগিয়ে এলেন : আরে! ডাক্তার বাবু! অনেকদিন পর! তা হঠাৎ স্টেশনে! কী ব্যাপার?'

আমি : ' আর বলবেননা দাদা! আমার প্রাইভেট কার খারাপ হয়ে গেছে l তাই ট্রেনে করে কল্যাণী যাব l কখন ট্রেন আছে দাদা?'

সুবলদা  : 'আরে ডাক্তারবাবু, আজ রাতে এদিকের সব ট্রেন বাতিল l কদিন ধরে যা বৃষ্টি হয়েছে,এদিকের লাইনে জল জমে গেছে l কাল ভোর ৫টার আগে ট্রেন নেই l আপনি বরং  আজকের রাতটা ওয়েটিং রুমে কাটিয়ে দিন l একটু সামনে এগিয়ে যান, একটা তরকা রুটির দোকান এখনও খোলা পাবেন l খেয়ে নেবেন l ওয়েটিং রুমে আপনার আশা করি অসুবিধা হবেনা l একটা রাত একটু কষ্ট করুন l ভোর ৫টায় ট্রেন পেয়ে যাবেন l'

সুবল দা ছাতা মাথায় দিয়ে এগিয়ে গেলেন l যা ভেবেছিলাম তাই হলো, দুর্ভোগের সূচনা হয়ে গেল l  সামনের দোকান থেকে রুটি আর তরকা কিনে খেয়ে, ওয়েটিং রুমে গিয়ে বসলাম l হঠাৎ দেখি আমার ফোনটা বেজে উঠলো l ফোনের স্ক্রিনে ভেসে উঠলো 'জয়দীপ ইস কলিং ' l জয়দীপ, আমার ছোটবেলার বন্ধু, পেশায় উকিল, ওই আমার কেসটা নেবে l ফোনটা রিসিভ করেই বললাম : '   বল জয়দীপ l'

ফোনের ওপাশ থেকে জয়দীপের গম্ভীর কণ্ঠস্বর : ' শোন মৃদুল,  এই রবিবার তু্ই কিন্তু আমার বাড়িতে আসিস l আমি বাড়িতে থাকবো l'

আমি : ' হ্যাঁ অবশ্যই যাব l তোর সাথে অনেক কথাও আছে l'

জয়দীপ  : 'তু্ই কী সিরিয়াস? আমি আবার বলছি, কোনো ডিসিশন নেওয়ার আগে বারবার ভেবে দেখ l'

আমার গলা ভারী হয়ে এলো l আমি মনে শক্তি সঞ্চয় করেই বললাম : 'ইয়েস, আই অ্যাম সিরিয়াস l এছাড়া আমার আর কোনো উপায় নেই l শোন আমি রাস্তায় l তোকে বাড়ি পৌঁছে ফোন করছি l'

ফোনটা রাখার পর, মনের মধ্যে হাজার হাজার স্মৃতি ভিড় করলো l মল্লিকার সাথে আমার প্রথম দেখা, এক সাথে কত স্বপ্নের মায়াজাল বোনা, কতো কমিটমেন্ট, কতো সুন্দর মুহূর্ত, কখনো ভাবিনি, এমন দিন আসবে l কিন্তু সুখস্মৃতির পর্দা নিমেষে ছিঁড়ে পরক্ষনেই উপচে পড়ল, তিক্ত স্মৃতির বিষক্রিয়া l একে অপরের প্রতি শুধু অভিযোগ, দোষারোপ l না ও আমায় বুঝেছে, না আমি ওকে l শুধু না পাওয়া, অভিমান, অভিযোগের পাহাড়ে অশান্তি আর অশান্তি l অসহ্য, তার থেকে দুজনে দুজনের মতো শান্তিতে থাকাই শ্রেয় l চিন্তা করতে করতে আমার মাথায় প্রচন্ড যন্ত্রনা হতে লাগলো, আমি চোখ বুজে ফেললাম l চোখের সামনে ভেসে এলো আমার ছেলে ঈশানের নিষ্পাপ মুখ l এমন সময়  হঠাৎ বিদ্যুৎ চমকানোর শব্দে আমি সম্বিৎ ফিরে পেলাম l ঘড়িতে তখন রাত সাড়ে বারোটা, আমি একাই ওয়েটিং রুমে বসে l ওয়েটিং রুম থেকে দেখছি আকাশ ছিন্ন করে জলধর তার সর্বশেষ জলবিন্দু  দিয়ে হলেও নির্জন শহরকে ধুয়ে , যেন তার সমস্ত কালিমা মুছে দিচ্ছে l গোটা শহর আজ স্নাত, পরিশুদ্ধ l

আমার চোখটা বুজে এলো l আবার ঈশানের মুখ ভেসে উঠলো l আচ্ছা, নিশ্চয়ই মল্লিকাই ওর কাস্টডি পাবে, মা বলে কথা l তখন ঈশানকে ও আমার কাছে আসতে দেবে? খুব মিস করবো ঈশানকে l আমি যে ওকে খুব ভালোবাসি l ভাবতে ভাবতে, কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম l  হঠাৎ শুনতে পেলাম :

'কাকু! ও কাকু!'

আচমকা, আমার ঘুম ভেঙে গেল l চোখ খুলে দেখলাম, আমার সামনে একটা তেরো - চৌদ্দ বছরের ছেলে দাঁড়িয়ে l পরনে একটা টি শার্ট আর হাফ প্যান্ট l দেখে ভদ্র ঘরের ছেলেই মনে হচ্ছে l আমি অবাক হলাম, এতো রাতে একা একটা বাচ্চা ছেলে,এখানে কী করছে?

ছেলেটি আবার বলল  : 'কাকু! ট্রেন কখন আসবে?'

আমি : 'ভোর ৫টার আগে ট্রেন নেই l তুমি কোথায় যাবে?'

ছেলেটি : ' ব্যারাকপুর l'

আমার যতদূর পর্যন্ত দৃষ্টি গেলো,  আমি আর এই ছেলেটি ছাড়া, আর কেউ চোখে পড়লোনা l এমনকি স্টেশনে একটা কুকুর পর্যন্ত নেই l আমি একটু অবাক হয়েই জিজ্ঞাসা করলাম : ' তোমার সাথে কে আছেন?'

ছেলেটি : 'কে থাকবে? কেউ নেই l আমি একাই যাবো l'

আমি আরও অবাক হলাম : 'এতো রাতে একা?'

ছেলেটি : ' তো কী হয়েছে? আমি এখন বড়ো হয়ে গেছি l একাই যেতে পারবো l'

আমি বুঝলাম, ডেপো ছেলে l সবে গোঁফের রেখা উঠেছে তো , তাই নিজেকে হিরো দেব ভাবছে l হয় হয়, এই বয়সে এমন হয় lমনে হয়, বাড়ি থেকে পালিয়েছে l সকাল হলেই, জি. আর. পি. এফ এর কাছে দিয়ে আসবো l কোন বাড়ির ছেলে, কে জানে l আমি এবারে জিজ্ঞাসা করলাম : 'তোমার নাম কী? ব্যারাকপুরে কারোর বাড়ি যাচ্ছো?'

ছেলেটি : 'আমার নাম ঋদ্ধি l আমি ব্যারাকপুরে আমার দিদির বাড়ি যাচ্ছি l'

আমি কৌতূহলী হয়েই জিজ্ঞাসা করলাম : ' কেন জানতে পারি? '

ঋদ্ধি মুখ বেকিয়েই বলল  : 'আর বলোনা কাকু! মা বাবা শুধু ঝগড়া করে l আমার একদম ভালো লাগেনা l তাই আমি দিদির কাছে চলে যাবো l'

আমি : 'মা বাবা ঝগড়া করলে বুঝি এভাবে চলে যেতে হয়? তুমি মা বাবাকে বোঝাও, যাতে তারা ঝগড়া না করেন l'

ঋদ্ধি  : 'ওরা বুঝবেনা l ওরা শুধু ঝগড়া করবে l চিৎকার করবে l আর আমি দরজা বন্ধ করে কান চেপে রাখি l আমার মাথায় যন্ত্রনা করে, আমি ওদের চিৎকার সহ্য করতে পারিনা l আমি পড়াশোনা করতে পারিনা l'

আমার মনে আবার ঈশানের মুখ ভেসে এলো l আমার আর মল্লিকার যখন ঝগড়া হয়, তখনও হয়তো ঈশান এইভাবেই ভয়ে কুঁকড়ে থাকে l কিংবা হয়তো ওরও খুব কষ্ট হয় l

ঋদ্ধি বলতেই লাগলো : 'জানোতো কাকু, মা বাবা আগে খুব ভালো ছিল l আমরা তিনজনে মিলে পুরী বেড়াতে গিয়েছিলাম l কতো মজা করেছি l ওরা যখন ঝগড়া করে, আমি পুরীর সেই ছবিগুলো দেখি l মনে হয় আবার এমন দিন কবে আসবে l বাবাকে যখন বলি  বাবা পুরী যাবো l বাবা বলে, সামার ভ্যাকেশনে যাবো l সামার ভ্যাকেশন এলে  বলে পুজোর ছুটিতে যাবো l আসলে আমি জানি, বাবা আমাদের আর পুরীতে নিয়ে যাবেনা l '

আমার আবার ঈশানের কথাই মনে পড়ল l ঈশানও তো ভূগোল বইতে কাঞ্চনজঙ্ঘা সম্পর্কে পড়ে, কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে চেয়েছিলো l বলেছিল পুজোর ছুটিতে নিয়ে যেতে l আমিও ওকে কথা দিয়েছিলাম যে, নিয়ে যাবো l

ঋদ্ধি আরও বলতে লাগলো : 'জানোতো কাকু, আগে দুর্গাপুজোর সময় আমি, মা বাবা দুজনের সাথে ঠাকুর দেখতে যেতাম, কতো মজা হতো l এখন হয় মা আমায় ঠাকুর দেখাতে নিয়ে যায়, নয় বাবা আমায় ঠাকুর দেখাতে নিয়ে যায় l আমি মা বাবা একসাথে কোথাও যাইনি, একসাথে খাইনি, একসাথে গল্প করিনি - কতদিন হয়ে গেলো l ওরা খুব ঝগড়া করে l বলছে আলাদা আলাদা থাকবে l আমি শুনেছি l কিন্তু আমার খুব কষ্ট হবেl আমি তো দুজনের সাথেই থাকতে চাই l আমার আর ভালো লাগছেনা l তাই আমি দিদির কাছে যাবো l'

আমার কাছে তো ঋদ্ধি, ঈশানের মতোই l ঈশানেরও হয়তো এমনটা মনে হয় l এতোদিন এতো অশান্তি, জ্বালা যন্ত্রণার মধ্যে আমি আর মল্লিকা কেউই ঈশানকে নিয়ে তো একবারও ভাবিনি, যে ও কী চায় l আমি আবার চিন্তায় মগ্ন হয়ে গেলাম l কানে এলো- 

'ডাক্তারবাবু, কাল রাত কেমন কাটল? আপনার ট্রেন আসার সময় তো হয়ে এলো l'

সামনে তাকাতে দেখতে পেলাম সুবলদা দোকানের ঝাঁপি তুলছেন l রাতের কালিমা কেটে সূর্যদেব সহাস্যে জাগ্রত হয়েছেন l কিন্তু,পাশে তাকাতেই বুকটা ছ্যাক করে উঠলো  - একি! ছেলেটা কোথায়? কোথায় গেলো? আমি দৌড়ে ওয়েটিং রুম থেকে বাইরে বেরিয়ে দেখি,কোত্থাও ছেলেটি নেই l

আমি প্রায় হন্তদন্ত হয়ে সুবলদাকে জিজ্ঞাসা করলাম :'দাদা একটা বাচ্চা ছেলেকে কী আপনি দেখেছেন? তেরো চৌদ্দ বছর হবে l হাফ প্যান্ট আর টি শার্ট পড়া l'

সুবলদা বিস্মিত হয়েই বললেন  : ' না তো ডাক্তাবাবু! কাউকে দেখিনি l তবে দিন সাতেক আগে একটা তেরো চৌদ্দ বছরের ছেলে ট্রেনে কাটা পড়েছিল l সে নাকি তাড়াতাড়ি দৌড়ে লাইন পার হতে গিয়েছিল l আর ওই সময় ট্রেন দিয়েছে ধাক্কা l'

আমি শুনে স্তব্ধ, বাক্যহারা l নিজের চোখ, কান, পঞ্চইন্দ্রিয়কে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না l একটা জ্বলজ্যান্ত ছেলে এভাবে নিমেষে উধাও হয়ে গেল l আবার আমার ফোনটা বেজে উঠলো l ফোনটা বের করতেই দেখলাম, স্ক্রিনে ভেসে উঠেছে - ' মল্লিকা ইস কলিং l' ফোনটা কানে দিয়ে বললাম : 'হ্যাঁ, বলো 'l

ফোনের ওপাশ থেকে ভেসে এলো মল্লিকার কাতর কণ্ঠস্বর : ' শোনো, বলছি,তুমি কী আজকে আমার বাড়িতে আসতে পারবে? ঈশানের খুব জ্বর l কাল রাতে কাঁদতে কাঁদতে ওর জ্বর এসে গেছে l ও মনে হয় আমাদের ব্যাপারটা বুঝে গেছে আর আপসেট হয়ে পড়েছে l সবকিছু ভুলে নতুন করে কী আবার শুরু করা যায়না? অন্তত ঈশানের জন্য?'

আমার মনটা ভারাক্রান্ত হয়ে গেলো l আমি বললাম : 'এই ব্যাপারে তোমার সাথে আমিও কথা বলবো মল্লিকা l আমি  যাবো l ঈশানকে দেখে রেখো l'

ভুল তো মানুষ মাত্রই করে l আবার ভুল থেকেই 

 তো মানুষের শিক্ষা  হয় l আমরাও ভুল করেছিলাম l এখন সেই ভুলগুলোকে শুধরে অ্যাডজাস্টমেন্ট করতে হবে, ঈশানের জন্য, আমাদের নিজেদের জন্য l গতকাল রাতের  বারিধারা শহরের কালিমার সাথে সাথে, আমার মনের কালিমা, আর ভুলগুলোকে যেন ধুয়ে মুছে সাফ করে দিয়েছে l আজকের সকালটা যেন আমার নবজীবনের নবসকাল l

ইতিমধ্যে ট্রেন চলে এসেছে l ভোরের ট্রেন তো, বেশ ফাঁকা l ভোরের মিঠে আলোতে ট্রেনের কামরার ভিতরটাও সোনালী আভায় পরিপূর্ণ হয়ে গেছে lমনটাও বেশ হালকা লাগছে l মনে হচ্ছে, এতদিনের বহন করা কতো বোঝা, কতো ভার ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে এসেছি l তবে,একটা প্রশ্ন মনে বারবার আসছে,হয়তো এই প্রশ্ন আমার মনে সারাজীবন থেকেও যাবে -  মাঝরাতে আসা যে ছেলেটি এতক্ষন ধরে  আমার সাথে এতো কথা বলল - সে কী আদৌ মানুষ? নাকি কোনো দেবদূত? নাকি ট্রেনে কাটা পড়া সেই ছেলেটির..............????

লিখেছেন...

Sayani Gupta Banerjee


শুধু Success আর Competition

সময় এখন খুব অল্প, মানুষের কাছে।
সবাই শুধুই ছুটছে,
Heaven
পৃথিবীতে কোন কিছুই success নয়।
এক মৃত ব্যক্তির পকেট থেকে পাওয়া চিঠি :
যখন জন্মালাম বাবা মা ভাবল এটা তাদের success,
যখন হাটতে শিখলাম মনে হল এটাই success,
যখন কথা বলতে শিখলাম মনে হল এটাই success,
ভুল ভাঙল,
এরপর স্কুলে গেলাম, শিখলাম first হওয়াটা success,
এরপর বুঝলাম না আসলে মাধ্যমিকে স্টার পাওয়াটা success,
ভুল ভাঙল,বুঝলাম উচ্চমাধ্যমিকে এই রেসাল্টটা ধরে রাখাই success,
এখানেই শেষ নয়,
এরপর বুঝলাম ভালো সাবজেক্ট নিয়ে ভালো কলেজে চান্স পাওয়াটাই success,
পরে বুঝলাম না কলেজ শেষে চাকরী পাওয়াটা success,
এরপর বুঝলাম না,নিজের টাকায় একটা ফ্ল্যাট কেনাটা success,
সেটাও নয়, নিজের টাকায় এরপর গাড়ি কেনাটাই আসল success,
আবার ভুল ভাঙল,
এরপর দেখলাম বিয়ে করে সংসার করাটাই success,
বছর ঘুরলো, দেখলাম আসলে বিয়ে করে বংশধর এনে তাকে বড় করাটাই success,
ছেলে হলে সে প্রতিষ্ঠিত হওয়াটাই success, মেয়ে হলে ভালো বাড়িতে বিয়ে দেওয়াটাই success,
এরপর এলো রিটায়ারমেন্ট, সারা জীবনের জমানো টাকার সঠিক utilization ই success...
এরপর যখন সবাই মিলে চিতায় উঠিয়ে দিল, তখন বুঝলাম পৃথিবীতে কোন কিছুই success নয় ,

পুরো টাই competition, যার মুলে আকাশ ছোঁয়া আকাঙ্ক্ষা, যা কখনো পূর্ণ হয়না।

মানুষ হও

মানুষ আর মানুষ নেই।
সব অমানুষ!

খোদ কলকাতার ঘটনা ! দমদম মেট্রো ! .. 
ভাবুন, শুধুমাত্র আলিঙ্গনের জন্যে যুবক-যুবতীকে গণপ্রহার .. আচ্ছা! সমাজ ব্যবস্থা সামলানোর দায়িত্ব কি এই মধ্যবয়সী/বৃদ্ধ চুতিয়াগুলোকে কে দিয়েছে? এরা কে বলার? কে কি করবে না করবে ? শালা! ওদিকে আবার ভীড় ট্রেন-বাসে-মেট্রোয় এদেরই হাত কনুই ঝুলে পরা চিবি সবথেকে সক্রিয় হয়ে ওঠে, চুলকানির তো শেষ নেই, তারাই আবার দেশের সংষ্কৃতি রক্ষণের জন্যে প্রহার করতে উদ্যত হলেন, This is Irony ! 👏👏 
..
আনন্দবাজারে উজ্জ্বল চক্রবর্তী লিখেছেন : 
চাঁদনি চক থেকে মেট্রোয় উঠেছিলাম। রোজ যেমন উঠি। সোমবার রাত তখন প্রায় পৌনে ১০টা। সঙ্গে আমার এক সহকর্মী। স্টেশন ছাড়তেই একটা উত্তেজিত কথোপকথন কানে এল। আমরা যেখানে দাঁড়িয়েছিলাম, তার থেকে দুটো গেট দূরেই হইচইটা হচ্ছিল।
প্রথমে বুঝতে পারিনি, কোনও গুরুত্বও দিইনি। কারণ পথেঘাটে ও রকম হইচই তো হয়েই থাকে। কিন্তু, সেই গোলমালটা যে একটা দুঃস্বপ্নের চেহারা নেবে কিছু ক্ষণের মধ্যেই, তা একেবারে বুঝতে পারিনি।
এখনও বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। দশকের পর দশক ধরে যে শহরটাকে চিনি, সেই কলকাতা তলে তলে এত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে! এত অসংবেদনশীল, এত নিষ্ঠুর হয়ে গিয়েছে শহরটা! এখনও ভাবতে পারছি না। আক্ষরিক অর্থেই দুঃস্বপ্ন মনে হচ্ছে।
বেশ ভিড় ছিল মেট্রোয়। ঠেলেঠুলেই ঢুকতে হয়েছিল ভিতরে। যে সহকর্মীর সঙ্গে ফিরছিলাম, তাঁর পোস্টিং পটনায়। কয়েক দিনের জন্য কলকাতায় এসেছেন। অনেক দিন পরে একসঙ্গে ফিরছিলাম। তাই খোশগল্পে মশগুল ছিলাম। যদি জানতাম, এমন অসভ্যতা এবং বর্বরতার সলতে পাকানো হচ্ছে অন্য দিকে, তা হলে সম্ভবত ও ভাবে মজে থাকতে পারতাম না।
সহকর্মী নেমে গেলেন শোভাবাজারে। তত ক্ষণে বেশ বেড়ে উঠেছে গোলমাল। ভিড়টা সরিয়ে সে দিকেই এগিয়ে গেলাম কৌতূহলের বশে। বুঝলাম, ভিড়ের মাঝে আলিঙ্গনাবদ্ধ যুগলকে দেখে এক জন বড্ড উচাটনের মধ্যে পড়ে গিয়েছেন। কেন মেট্রোয় পরস্পরকে আলিঙ্গন করা হবে? কেন ‘ওরা’ পার্ক স্ট্রিটের কোনও বারে যাবেন না? বা বিছানায়? এমন নানা অবান্তর প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন?

যিনি মূলত প্রশ্নগুলো তুলছিলেন এবং হইচইটা করছিলেন, তিনি বয়সে বেশ প্রবীণ। মাথা প্রায় পুরোটাই সাদা।

সুদর্শন, সুঠাম তরুণ কিন্তু নির্ভীক ভঙ্গিতেই উত্তর দিচ্ছিলেন। তাঁদের আলিঙ্গনে অন্য সহযাত্রীরা কী ধরনের সমস্যায় পড়তে পারেন? বেশ ঠান্ডা গলায় প্রশ্ন করেছিলেন তরুণ। উত্তর খুঁজে না পেয়ে আরও তেতে গেলেন প্রৌঢ়। আরও জোরে চিৎকার করতে লাগলেন।

যুগল কিন্তু তাতেও মেজাজ হারায়নি। তরুণী প্রশ্ন করলেন, ‘‘ভিড়ের মধ্যে যদি আমরা নিজেরা নিজেদের সিকিওরিটির ব্যবস্থা করে নিই, তা হলে আপনার সমস্যা কোথায়?’’ উত্তর নেই প্রৌঢ়ের কাছে এ বারও। অতএব, রেগে আরও কাঁই। আরও চিৎকার। দু’জনকেই গালিগালাজ এবং উচিত শিক্ষা দেওয়ার শাসানি।

তরুণকে কটাক্ষে বিঁধতে গিয়ে প্রৌঢ় এ বার বললেন, ‘‘নিজেকে সলমন খান মনে করছে।’’ এই মন্তব্যে বেশ কৌতুক বোধ করলেন তরুণ। আশপাশের সহযাত্রীদের উদ্দেশে এক গাল হেসে তিনি বললেন, ‘‘আপনারা সবাই শুনলেন তো? উনি কিন্তু আমাকে সলমন খান বললেন। আমি এটা কমপ্লিমেন্ট হিসেবেই নিচ্ছি।’’

সুদর্শন তরুণ বুঝতে পারেননি, আশেপাশে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের মনটা তাঁর মতো তরতাজা নয়। তিনি বুঝতে পারেননি, ভিড়ে ঠাসা মেট্রোয় খোলা হাওয়া খেলছে না, বরং একটা বদ্ধ-দূষিত বাষ্প ঘুরপাক খাচ্ছে। তাই বিপর্যয়টা ঘনিয়ে উঠল দ্রুত।

এত ক্ষণ এক জনই চিৎকারটা করছিলেন। ওই তরুণ তাঁর দিকে কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন দেখে এ বার আরও অনেকেরই যেন ‘বিবেক’ জাগ্রত হল। ‘‘এ ভাই, বড্ড বেশি কথা বলছ কিন্তু।’’ গলা চড়ল একে একে। ধমক-ধামক আর নয়, সরাসরি হুমকি শুরু হয়ে গেল— ‘‘দমদমে নাম, তোদের দেখছি।”

তখনও বুঝিনি, এত দূর গড়িয়ে যাবে ঘটনাটা। হুমকি শুনতে পাচ্ছিলাম। কিন্তু দমদমে পৌঁছে সত্যিই ধুন্ধুমার কাণ্ড বাঁধিয়ে দেওয়া হবে, কর্মক্লান্ত একটা দিনের শেষে ঘর-সংসার-পরিবারের কাছে ফেরার তাড়না ভুলে এক ঝাঁক লোক আলিঙ্গনের শালীনতা-অশালীনতার বিচার করতে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন, এমনটা আঁচ করতে পারিনি। তাই বিপদটা ঘটে যাওয়ার আগে হস্তক্ষেপ করতে পারিনি।
দমদমে মেট্রোর দরজা খুলতেই ওই যুগলকে হিড় হিড় করে টেনে প্ল্যাটফর্মে নামালেন কয়েক জন। তার পর শুরু হল গণপ্রহার। প্ল্যাটফর্মের দেওয়ালে ঠেসে ধরে শুরু হল বেদম মার। সঙ্গীকে বাঁচাতে তখন অসহায়, উদভ্রান্ত তরুণী। কিল-চড়-ঘুসি-লাথির মাঝে ঢুকে পড়ে সামনে থেকে জাপটে ধরলেন তরুণকে, আড়াল করার চেষ্টা করলেন। তাতেও থামল না অতি-উৎসাহী ভিড়। তরুণীর পিঠের উপরেই পড়তে থাকল কিল-চড়। ফাঁকফোকর দিয়ে মার চলল তরুণের উপরেও। আমি ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলাম। পারিনি।

যাঁরা এই গণপ্রহারে অংশ নিয়েছিলেন, তাঁদের প্রায় প্রত্যেকেই কিন্তু মধ্যবয়সী বা প্রৌঢ় বা প্রবীণ। অনেক বেশি সংযত, পরিশীলিত আচরণ প্রত্যাশিত যাঁদের থেকে, তাঁদের আচরণই সবচেয়ে উশৃঙ্খল হয়ে উঠল।

ত্রাতা হিসেবে এগিয়ে এলেন কয়েক জন তরুণ এবং মহিলা। মেট্রোরই অন্য কামরায় ছিলেন ওঁরা। উত্তপ্ত ভিড়টার মাঝে ঢুকে পড়ে কোনও রকমে আটকে দিলেন মারধর। তার পর ভিড়ের মাঝখান থেকে উদ্ধার করে সিঁড়ির নীচের দিকে কিছুটা এগিয়ে দিলেন তরুণ-তরুণীকে।

অকারণে মারের মুখে পড়েছিলেন যুগল। তাঁদের রক্ষা করতে কয়েক জন এগিয়েও গেলেন। কিন্তু, গোটা ঘটনাটা আমার বহু দিনের পরিচিত শহরটাকে যেন কয়েক শতাব্দী পিছিয়ে দিল। ২০১৮-র কলকাতায় এই রকম একটা ঘটনার সম্মুখীন হব! ভাবতেই পারছি না। আমি আটকাতে পারিনি অঘটনটা। তাতেই সাংঘাতিক মানসিক কষ্ট বোধ করছি। আক্রান্ত যুগলের মানসিক অবস্থাটা তা হলে ঠিক কী রকম এখন? আমরা কি আদৌ ভাবতে পারছি?

সিনেমার পর্দায় আলিঙ্গন বা চুমু খাওয়ার দৃশ্য দেখে অভিভূত হয়ে পড়ি আমরা। ‘হাম দিল দে চুকে সনম’ নামের একটা হিন্দি ছবির কথা লহমায় মনে পড়ছে। বিদেশের ট্রেন। ভারতীয় যুগল। টিকিট নেই। টিকিট পরীক্ষককে এড়াতে হিরো-হিরোইন ট্রেনের কামরায় গভীর আলিঙ্গনে আবদ্ধ। বিরক্ত করলেন না পরীক্ষক। টিকিট না দেখেই চলে গেলেন। আর টিকিট পরীক্ষকের সেই প্রস্থান দেখে হাততালিতে ফেটে পড়ল সিনেমা হল।

বাস্তবে মেনে নিতে পারলাম না একই ধাঁচের একটা দৃশ্য। মেট্রোর কামরায় প্রাপ্তবয়স্ক তরুণ-তরুণী পরস্পরকে আলিঙ্গন করায় তাঁদের ট্রেন থেকে হিড়হিড় করে টেনে নামিয়ে উন্মত্তের মতো মারধর করলাম আমরা।

প্রায় দু’দশকের আলাপ কলকাতা শহরের সঙ্গে। ভেবেছিলাম শহরটার নাড়ির স্পন্দন আমি চিনে গিয়েছি। কিন্তু কলকাতা মেট্রোয় একটা ১৫ মিনিটের যাত্রা, সে ভুল ভেঙে দিল। এই শহরটা আমার কাছে একদমই অচেনা। হয় আমি কোনও দিন চিনতেই পারিনি এই শহরকে। নয়তো শহরটা আমাদের অনেকের অগোচরেই ভীষণ রকম বদলে ফেলেছে নিজেকে।
লেখা - বন্য ট্রল পেজ

মানবতা শেষ হয়ে যায়নি

জীবন খুব কম সময়।
আর জন্ম আমাদের শুধু একবার।
তবুও কেন এত হিংসা , মারামারি। কেন এত নিষ্ঠুরতা! 
Helpful Persons - Bhalobasa
এক গলি রাস্তার মোড় দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ করে তাকিয়ে দেখি ইলেকট্রিক পোষ্টের সাথে একটি কাগজ ঝুলছে। 
উৎসাহ নিয়ে সামনে এগিয়ে দেখি কাগজের গায়ে লেখা,
''আমার ৫০ টাকার একটা নোট এখানে হারিয়ে গেছে। আপনারা যদি কেউ খুঁজে পান তবে আমাকে সেটি পৌছে দিলে বাধিত হব, আমি বয়স্ক মহিলা চোখে খুব কম দেখি"। 
তারপরে নিচে একটি ঠিকানা ।
আমি এরপর খুঁজে খুঁজে ঐ ঠিকানায় গেলাম।
হাঁটা পথে মিনিট পাঁচেক। 
গিয়ে দেখি একটি জরাজীর্ণ বাড়ির উঠোনে এক বয়স্ক বিধবা মহিলা বসে আছেন। 
আমার পায়ের আওয়াজ পেয়ে জিজ্ঞাসা করলেন "কে এসেছ?"
আমি বললাম, "মা, আমি রাস্তায় আপনার ৫০ টাকা খুঁজে পেয়েছি আর তাই সেটা ফেরত দিতে এসেছি।"
এটা শুনে মহিলা ঝরঝর করে কেঁদে দিয়ে বললেন, 'বাবা, এই পর্যন্ত অন্তত ৩০-৪০ জন আমার কাছে এসেছে এবং ৫০ টাকা করে দিয়ে বলেছে যে তারা এটি রাস্তায় খুঁজে পেয়েছে। 
বাবা, আমি কোন টাকা হারাই নাই, ঐ লেখাগুলোও লিখিনি। 
আমি খুব একটা পড়ালেখা জানিও না।
আমি বললাম, সে যাইহোক সন্তান মনে করে আপনি টাকাটা রেখে দিন। 
আমার কথা শোনার পর টাকাটা নিয়ে বললেন 'বাবা আমি খুব গরীব কি যে তোমায় খেতে দি! একটু বসো। একটু জল অন্তত খাও। 
'বলে ঘরে গিয়ে এক গ্লাস জল নিয়ে এলেন। 
ফেরার সময় তিনি বললেন, "'বাবা, একটা অনুরোধ তুমি যাওয়ার সময় ঐ কাগজটা ছিঁড়ে ফেলো সত্যি আমি লিখিনি।"
আমি ওনার বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় মনে মনে ভাবছিলাম, সবাইকে উনি বলার পরেও কেউ ঐ কাগজটি ছেড়েনি!!
আর ভাবছিলাম ঐ মানুষটির কথা যিনি ঐ নোটটি লিখেছেন। 
ঐ সহায়সম্বলহীন বয়স্ক মানুষটাকে সাহায্য করার জন্য এত সুন্দর উপায় বের করার জন্য তাকে মনে মনে ধন্যবাদ দিচ্ছিলাম। 
হঠাৎ ভাবনায় ছেদ পড়লো একজনের কথায়। 
তিনি এসে বললেন, 'ভাই, এই ঠিকানাটা কোথায় বলতে পারেন, আমি একটি ৫০ টাকার নোট পেয়েছি , এটা ওনাকে ফেরত দিতে চাই।'
ঠিকানাটা দেখিয়ে দিয়ে হঠাৎ করে দেখি চোখে জল চলে আসল, আর আকাশের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বললাম, দুনিয়া থেকে মানবতা শেষ হয়ে যায়নি!

তুমি পারবে, তোমাকে পারতেই হবে



অনেক বড় একটা কোম্পানী হঠাৎ করে ব্যবসায় লোকসান করে বসলো।
এক দুপুরে সেই কোম্পানীর কর্মচারীরা বাইরের ক্যান্টিনে লাঞ্চ করে ফেরার সময় অফিসের প্রবেশমুখে একটি নোটিশ দেখতে পেল।



নোটিশে লেখা ছিল,
'আমাদের কোম্পানীর লোকসানের জন্য যে ব্যক্তিটি দায়ী, সে গতকাল মারা গেছে।

সেমিনার রুমে একটি কফিনে তার লাশ রাখা হয়েছে। যে কেউ তা দেখতে চাইলে আমন্ত্রিত।'

একজন সহকর্মীর মত্যুর খবর শুনে প্রথমে লোকেরা দুঃখ পেল।
তবে এরপর তারা কৌতুহলী হয়ে উঠলো এই ভেবে যে আসলে কে হতে পারে সেই ব্যক্তি।
তারা সবাই সেমিনার রুমে এসে একত্রিত হল,সবাই ভাবতে লাগলো,'আসলে কে সেই লোক যে আমাদের সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল? 
তবে সে যেই হোক, এখন সে আর বেঁচে নেই।
একে একে তারা যখন কফিনের কাছে গেল এবং ভেতরে তাকালো হঠাৎ তারা কেমন যেন বাকশূন্য হয়ে গেল, হতভম্ভ হয়ে গেল।  যেন তাদের খুব আপন কারো লাশ সেখানে রাখা ছিল।
কফিনের ভেতর আসলে রাখা ছিল একটা আয়না।
যে ভেতরে তাকিয়েছিলো সে তার নিজের চেহারাই দেখতে পাচ্ছিলো।

আয়নার একপাশে একটা কাগজে লেখা ছিল, তোমার সাফল্যের পথে বাধা দিতে সক্ষম শুধুমাত্র একজনই আছে গোটা পৃথিবীতে, আর সে হচ্ছো 'তুমি' নিজে।
তুমিই সেই একমাত্র ব্যক্তি যে তোমার জীবনে পরিবর্তন আনতে পারে, তোমাকে সুখী করতে পারে, তোমাকে সাহায্য করতে পারো,সুখী করতে পারো।

তোমার জীবন তখন বদলে যায় না, যখন তোমার অফিসের বস বদলায়, যখন তোমার অভিভাবক বদলায়, তোমার বন্ধুরা বদলায়, তোমার জীবন তখনই বদলায় যখন তুমি নিজে বদলাও।
তোমার সক্ষমতা সম্পর্কে তোমার নিজের বিশ্বাসের সীমাটা যখন তুমি অতিক্রম করতে পারো, শুধু তখনই তোমার জীবন বদলায়, পূরন হয় জীবনের লক্ষ্য গুলো।
নিজের আলোয় আলোকিত করো চারপাশ।

এটা আপনার জন্য, পড়ুন...


২৭ বছর বয়সে যখন হন্যে হয়ে ব্যাংকে চাকরি খুঁজছেন,
তখন আপনারই বয়েসি কেউ একজন সেই ব্যাংকেরই ম্যানেজার হয়ে বসে আছেন।
আপনার ক্যারিয়ার যখন শুরুই হয়নি, তখন কেউ কেউ নিজের টাকায় কেনা দামি গাড়ি হাঁকিয়ে আপনার সামনে দিয়েই চলে যাচ্ছে।
কর্পোরেটে যে সবসময় চেহারা দেখে প্রমোশন দেয়, তা নয়।
দিন বদলাচ্ছে, কনসেপ্টগুলো বদলে যাচ্ছে।
শুধু বেতন পাওয়ার জন্য কাজ করে গেলে শুধু বেতনই পাবেন।
কথা হল, কেন এমন হয়?
সবচাইতে ভালটি সবচাইতে ভালভাবে করে কীভাবে?
কিছু ব্যাপার এক্ষেত্রে কাজ করে। দুএকটি বলছি।
প্রথমেই আসে পরিশ্রমের ব্যাপারটা।
যারা আপনার চাইতে এগিয়ে, তারা আপনার চাইতে বেশি পরিশ্রমী। এটা মেনে নিন।
ঘুমানোর আনন্দ আর ভোর দেখার আনন্দ একসাথে পাওয়া যায় না। তবে শুধু পরিশ্রম করলেই সব হয় না।
তা-ই যদি হত, তবে গাধা হত বনের রাজা।
শুধু পরিশ্রম করা নয়, এর পুরস্কার পাওয়াটাই বড় কথা। অনলি ইওর রেজাল্টস্ আর রিওয়ার্ডেড, নট ইওর এফর্টস্।
আপনি এক্সট্রা আওয়ার না খাটলে এক্সট্রা মাইল এগিয়ে থাকবেন কীভাবে!
সবার দিনই তো ২৪ ঘণ্টায়।
আমার বন্ধুকে দেখেছি, অন্যরা যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন সে রাত জেগে আউটসোর্সিং করে।
ও রাত জাগার সুবিধা তো পাবেই! আপনি বাড়তি কী করলেন, সেটাই ঠিক করে দেবে, আপনি বাড়তি কী পাবেন।
আপনি ভিন্নকিছু করতে না পারলে আপনি ভিন্নকিছু পাবেন না।
বিল গেটস রাতারাতি বিল গেটস হননি।
শুধু ইউনিভার্সিটি ড্রপআউট হলেই স্টিভ জবস কিংবা জুকারবার্গ হওয়া যায় না। বড় মানুষের বড় প্রস্তুতি থাকে।
নজরুলের প্রবন্ধগুলো পড়লে বুঝতে পারবেন, উনি কতটা স্বশিক্ষিত ছিলেন। শুধু রুটির দোকানে চাকরিতেই নজরুল হয় না।
কিংবা স্কুল কলেজে না গেলেই রবীন্দ্রনাথ হয়ে যাওয়া যাবে না।
সবাই তো বই বাঁধাইয়ের দোকানে চাকরি করে মাইকেল ফ্যারাডে হতে পারে না, বেশিরভাগই তো সারাজীবন বই বাঁধাই করেই কাটিয়ে দেয়।
স্টুডেন্ট লাইফে কে কী বলল, সেটা নিয়ে মাথা ঘামাবেন না।
যাকে নিয়ে কেউ কোনদিন স্বপ্ন দেখেনি, সে এখন হাজার হাজার মানুষকে স্বপ্ন দেখতে শেখায়।
সব পরীক্ষায় মহাউত্‍সাহে ফেল করা ছেলেটি এখন একজন সফল ব্যবসায়ী। আপনি কী পারেন, কী পারেন না, এটা অন্যকাউকে ঠিক করে দিতে দেবেন না।
পাবলিক ভার্সিটিতে চান্স পাননি? প্রাইভেটে পড়ছেন? কিংবা ন্যাশনাল ভার্সিটিতে?
সবাই বলছে, আপনার লাইফটা শেষ?
আমি বলি, আরে! আপনার লাইফ তো এখনো শুরুই হয়নি। আপনি কতদূর যাবেন, এটা ঠিক করে দেয়ার অন্যরা কে? লাইফটা কি ওদের নাকি?
আপনাকে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হতেই হবে কেন?
কিংবা ডাক্তারি পাস করে কেন ডাক্তারিই করতে হবে? পড়াশোনা করেন না কেন, আপনার এগিয়ে যাওয়া নির্ভর করে আপনার নিজের উপর।
শুধু 'ওহ শিট', 'সরি বেবি', 'চ্যাটিংডেটিং' দিয়ে জীবন চলবে না।
আপনি যার উপর ডিপেনডেন্ট, তাকে বাদ দিয়ে নিজের অবস্থানটা কল্পনা করে দেখুন।
যে গাড়িটা করে ইউনিভার্সিটিতে আসেন, ঘোরাঘুরি করেন, সেটি কি আপনার নিজের টাকায় কেনা? ওটা নিয়ে ভাব দেখান কোন আক্কেলে?
একদিন আপনাকে পৃথিবীর পথে নামতে হবে।
তখন আপনাকে যা যা করতে হবে, সেসব কাজ এখনই করা শুরু করুন।
জীবনে বড় হতে হলে কিছু ভাল বই পড়তে হয়, কিছু ভাল মুভি দেখতে হয়, কিছু ভাল মিউজিক শুনতে হয়, কিছু ভাল জায়গায় ঘুরতে হয়, কিছু ভাল মানুষের সাথে কথা বলতে হয়, কিছু ভাল কাজ করতে হয়।
জীবনটা শুধু হাহা হিহি করে কাটিয়ে দেয়ার জন্য নয়।
একদিন যখন জীবনের মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে, তখন দেখবেন, পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাচ্ছে, মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ছে।
স্কিল ডেভেলাপমেন্টের জন্য সময় দিতে হয়।
এসব একদিনে কিংবা রাতারাতি হয় না। "আমি আপনার মত রেজাল্ট করতে চাই। আমাকে কী করতে হবে?" এমন কথা নতুন কিছু নয়!
"অসম্ভব পরিশ্রম করতে হবে। নো শর্টকাটস্। সরি!"
রিপ্লাই আসে, "কিন্তু পড়তে যে ভাল লাগে না। কী করা যায়?"
এর উত্তরটা একটু ভিন্নভাবে দেওয়া যাক।
আপনি যখন স্কুলকলেজে পড়তেন, তখন যে সময়ে আপনার ফার্স্ট বয় বন্ধুটি পড়ার টেবিলে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকত, সে সময়ে আপনি মেয়েদের সাথে থাকতেন।
এখন সময় এসেছে, ও এখন মেয়েদের সাথে থাকবে আর আপনি পড়ার টেবিলে বসে থাকবেন।
জীবনটাকে যে সময়ে চাবুক মারতে হয়, সে সময়ে জীবনটাকে উপভোগ করলে, যে সময়ে জীবনটাকে উপভোগ করার কথা, সে সময়ে জীবনটাকে উপভোগ করতে পারবেন না, এটাই স্বাভাবিক। এটা মেনে নিন। মেনে নিতে না পারলে ঘুরে দাঁড়ান। এখনই সময়!
বড় হতে হলে বড় মানুষের সাথে মিশতে হয়, চলতে হয়, ওদের কথা শুনতে হয়।
এক্ষেত্রে ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় বন্ধু নির্বাচনটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আপনার সাবকনশাস মাইন্ড আপনাকে আপনার বন্ধুদের কাজ দ্বারা প্রভাবিত করে।
আমরা নিজেদের অজ্ঞাতসারেই আমাদের চাইতে ইনফেরিয়র লোকজনের সাথে ওঠাবসা করি, কারণ তখন আমরা নিজেদেরকে সুপিরিয়র ভাবতে পারি। এ ব্যাপারটা সুইসাইডাল।
আশেপাশে কাউকেই বড় হতে না দেখলে বড় হওয়ার ইচ্ছে জাগে না। আরেকটা ভুল অনেকে করেন। সেটি হল, ধনীঘরের সন্তানদের সাথে মিশে নিজেকে ধনী ভাবতে শুরু করা।
মানুষ তার বন্ধুদের দ্বারা প্রভাবিত হয়। উজাড় বনে তো শেয়ালই রাজা হয়। আপনি কী শেয়ালরাজা হতে চান, নাকি সিংহরাজা হতে চান, সেটি আগে ঠিক করুন।
'বিনীত' হতে জানা টা মস্ত বড় একটা আর্ট।
যারা অনার্সে পড়ছেন, তাদের অনেকের মধ্যেই এটার অভাব রয়েছে।
এখনো আপনার অহংকার করার মত কিছুই নেই, পৃথিবীর কাছে আপনি একজন নোবডি মাত্র।
বিনয় ছাড়া শেখা যায় না। গুরুর কাছ থেকে শিখতে হয় গুরুর পায়ের কাছে বসে।
আজকাল শিক্ষকরাও সম্মানিত হওয়ার চেষ্টা করেন না, স্টুডেন্টরাও সম্মান করতে ভুলে যাচ্ছে।
আপনি মেনে নিন, আপনি ছোটো। এটাই আপনাকে এগিয়ে রাখবে।
বড় মানুষকে অসম্মান করার মধ্যে কোন গৌরব নেই। নিজের প্রয়োজনেই মানুষকে সম্মান করুন।
সমাপ্ত

আবার ছোট হতে চাই


যখন আমরা ছোট ছিলাম...
  •  হাতগুলো জামার মধ্যে ঢুকিয়ে নিয়ে বলতাম, আমার হাত নেই।
  • একটা পেন ছিল, যার চার রকম কালি, আর আমরা তার চারটে বোতাম একসাথে টেপার চেস্টা করতাম।
  • দরজার পিছনে লুকিয়ে থাকতাম কেউ এলে চমকে দেব বলে, সে আসতে দেরি করছে বলে অধৈর্য হয়ে বেরিয়ে আসতাম।
  • ভাবতাম আমি যেখানে যাচ্ছি, চাঁদটাও আমার সঙ্গে সঙ্গে যাচ্ছে।
  • ইলেকট্রিক সুইচের দুদিকে আঙুল চেপে অন্-অফ এর মাঝামাঝি ব্যালেন্স করার চেষ্টা করতাম।
  • দু -ফোটা জল ফেলে রেস করাতাম, কোনটা গড়িয়ে আগে নীচে পড়ে।
  • বৃষ্টি হলে ছাতা না নিয়ে কচু বা কলাপাতা মাথায় দিয়ে বলতাম, দ্যাখ জল গায়ে লাগছে না।
  • তখন আমাদের শুধু একটা জিনিসের খেয়াল রাখার দায়িত্ব ছিল, সেটা হল স্কুলব্যাগ।
  • ফলের বিজ খেয়ে ফেললে দুশ্চিন্তা করতাম, পেটের মধ্যে এবার গাছ হবে!
  • ঘরের মধ্যে ছুটে যেতাম,তারপর কি দরকার ভুলে যেতাম, ঘর থেকে বেরিয়ে আসার পর মনে পড়ত।
এছাড়া আরও কত কি করতাম, মনে আছে তো তোমাদের?
যখন আমরা ছোট ছিলাম তখন ধৈর্য্য সহ্য হতনা যে কবে বড় হব, বড় হলে কত কিছু করতে পারতাম সেটা ভেবে কত কিছু কল্পনা করতাম!
আর এখন মনে করি, কেন যে বড় হলাম!
আমাদের এই ছোট্ট জীবনে শৈশব হল সবথেকে সবথেকে ভালো, মজার এবং গুরুত্বপূর্ণ।
আমি জানি তুমি এগুলো পড়ছো আর তোমার মুখেও হাসি ফুটে উঠেছে, ছটবেলার কিছু মজার কথা মনে করছ আর সেগুলোকে মিস করছ।
ছোটবেলায় সবথেকে বেশিবার জিজ্ঞাসিত প্রশ্নটার উত্তর আমি পেয়েছি অবশেষে - তুমি বড়ো হয়ে কি হতে চাও?
উত্তর-আবার ছোট হতে চাই৷ আবার শৈশবে ফিরে যেতে চাই।
আজ একটু অন্য ধরনের পোস্ট করলাম, আশা করি ভালো লেগেছে।

কারা ভালো বন্ধু, ছেলেরা নাকি মেয়েরা


এই ব্যাপারটা আমরা সকল ছাত্রছাত্রীরাই জানি।
তবুও চলো একটা গল্পের মাধ্যমে জানি কারা ভালো বন্ধু? ছেলেরা নাকি মেয়েরা?
তবে গল্প হলেও ঘটনা কিন্তু ১০০% সত্যি। তাহলে শুরু করা যাক।
পরীক্ষার হলে দুই বান্ধবীর কথোপকথন...
১ম বান্ধবীঃ এই, ৭ নং লিখেছিস?
২য় বান্ধবীঃ নারে, ৭ নং টা ভালো করে পারিনা।
১ম বান্ধবীঃ ৮ নং লিখেছিস?
২য় বান্ধবীঃ না, ঐটা দেবোনা।
১ম বান্ধবীঃ ৯ নং পারিস?
২য় বান্ধবীঃ নারে।
১ম বান্ধবীঃ ১০ নং লিখেছিস?
২য় বান্ধবীঃ লিখেছি। তবে বানিয়ে বানিয়ে লিখেছি !!
এবার রেজাল্টের সময় ঐ দুই বান্ধবীর কথোপকথন শুনুন...
১ম বান্ধবীঃ কত পেয়েছিস তুই?
২য় বান্ধবীঃ ভালোনারে . . .
১ম বান্ধবীঃ আহা, বলনা?
২য় বান্ধবীঃ ৯৫।
১ম বান্ধবীঃ ৯৫ পেয়েছিস, তবুও বলছিস ভালোনা !! কিন্তু তোর কাছে তো ৪টে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তুই পারবিনা বলেছিলি। এখন ৯৫ কিকরে পেয়েগেলি???
পরীক্ষার হলে দুই বন্ধুর কথোপকথন...
১ম বন্ধুঃ ভাই, ৭ নং লিখেছিস?
২য় বন্ধুঃ হুম।
১ম বন্ধুঃ দেখা।
২য় বন্ধুঃ এই নে ধর, খাতা দিয়ে দিলাম। যত খুশি দেখ। কিন্তু সাবধানে! আর বেশি কথা বলিসনা আমার সাথে, তাহলে স্যার আবার বকা দেবে।
১ম বন্ধুঃ থ্যাংকস ভাই। পাশ করবো তো?
২য় বন্ধুঃ আরে শালা, আমি পাশ করলে তুইও করবি। বেশি কথা না বলে এখন লেখ তো।
এবার রেজাল্টের সময় ঐ দুই বন্ধুর কথোপকথন শুনুন...
১ম বন্ধুঃ ভাই, থ্যাংকস !! তোর জন্য পাশ করে গেলাম।
২য় বন্ধুঃ ধুর শালা, অত ভাও খেতে হবেনা, কবে খাওয়াবি বল? আর হ্যাঁ কত পেয়েছিস?
১ম বন্ধুঃ ৯০।
২য় বন্ধুঃ কিকরে! তুই তো আমার খাতা হুবহু কপি করেছিলি। তাহলে আমার চেয়ে ৫ কম পেলি কেন? বানান ভুল করেছিলি নাকি?
না, আপনাদের আর কিছু বলা লাগবে না সেটা বুঝেছি।
আশা করি সবাই বুঝে গিয়েছেন যে কাদের বন্ধুত্ব বেশি মজবুত।

ছেলেদের কান্না


মেয়েদের বলি,  খুব সহজেই একটা ছেলেকে কাঁদাতে চান?
ছেলেদের কাঁদানো এত সহজ না।
একটা ছেলে রাস্তায় মার খেয়ে পড়ে থাকলেও কাঁদে না।
তাকে তার বাবা মা খুব করে বকলেও কাঁদে না। বরং শান্তি পায়।
তার উপর তার দিদি বা দাদা রাগ করলেও সে কাঁদে না।
এতে সে সুখ খুঁজে পায়।
তাকে ক্লাসে টিচার হাজারটা বেতের মার দিলেও সে কাঁদে না। এটা বাস্তব।
তাকে তার প্রিয়জন রাগ করে থাপ্পড় দিলেও কাঁদে না।
সে তাতে ভালবাসা খুঁজে নেয়।
ছেলেরা বলতে গেলে কাঁদেই না। কাঁদানো এত সহজ না।
কাঁদানোর একটা সহজ উপায় হলো তাকে অবহেলা করুন।
তার উপর থেকে গুরুত্ব তুলে নিন।
তার ইমোশনাল কথাগুলো হেসে উড়িয়ে দিন।
তার ভালবাসাকে মজা হিসাবে নিন।
সেদিনই ছেলেটা কাঁদবে, তবে রাতে বা সবার আড়ালে, কেউ জানবে না।
এটুকু করে আপনি তাকে একরাতে যতটা কাঁদাতে পারবেন আপনি সারা জীবনেও ততোটা কাঁদতে পারবেন না।
হাস্যকর হলেও কথাগুলো মিথ্যে নয়।

সম্পূর্ণ না জেনে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে নেই


পৃথিবীতে যত ঝামেলা, ব্রেকাপ, ডিভোর্স হচ্ছে,
তার অনেকগুলোর কারন একটাই, সেটা হল ভুল বোঝাবুঝি।
আমরা সাধারণত ছোট একটা ঘটনা দেখে বা অন্যের কাছে কিছু কথা শুনে নিজের প্রিয়জনেদের সাথে খারাপ আচরণ করি।
এটা কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয়।
আগে সমস্ত কিছু যাচায় করে নিতে হবে এবং যা করার ঠাণ্ডা মাথায় করা উচিত।
রাগ করে কিছু একটা হটাত করে একদম করা উচিত নয়।
এই ব্যাপার নিয়েই একটা গল্প আপনাদের শোনাবো।
তাহলে আর কথা নয়, পড়তে থাকুন...
একটা ছেলে তার বাবাকে বলছে, সামনের মাসে আমার পরীক্ষার রেজাল্ট দেবে।
আমি A+ পেলে আমাকে একটা মটর বাইক কিনে দিতে হবে।
পরীক্ষার রেজাল্টের দিন ছেলেটি খুব খুশী হয়ে বাবার কাছে এসে বলছে বাবা আমি A+ পেয়েছি।
এইবার কিন্তু আমাকে একটা বাইক কিনে দিতেই হবে।
বাবা বললেন, আমি তোমার উপহার তোমার পড়ার টেবিলের উপর রেখে এসেছি।
ছেলেটি গিয়ে দেখল একটা বাক্স।
তো ছেলেটি ভাবতে লাগল সেটাতেই চাবি আছে, কিন্তু খুলে দ্যাখে তার ভিতরে একটা গীতা রয়েছে।
ছেলেটি রাগ করে বাবার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিল এবং কয়েকদিন পরেই বিদেশে চলে গেল পড়াশোনার জন্য।
বিদেশ যাওয়ার পর বাবার সাথে কোন যোগাযোগ করেনি ছেলেটা।
কয়েক বছর পর একদিন ফোন আসল ছেলেটির কাছে।
জানতে পারল বাবা খুব অসুস্থ, কিন্তু রাগের কারনে ছেলেটি বাবাকে দেখতে যায়নি।
কয়েকদিন পর ছেলেটির কাছে আরেকটা ফোন আসে।
জানতে পারল তার বাবা মারা গেছেন।
বাবা মারা যাবার পর ছেলেটি বাড়ি আসলো কারণ ঘরবাড়ি, জমিজায়গা সব তার নামে করে দিয়ে গেছেন তার বাবা এবং সেসব তাকেই দেখাশোনা করতে হবে এখন থেকে।
একদিন ছেলেটির তার বাবার কথা মনে পড়ল এবং বাবার ঘরে গিয়ে কাঁদতে লাগল।
হঠাৎ দেখল তার বাবার পড়ার টেবিলের উপরে রাখা সেই বাক্স, যে বাক্স তার বাবা তাকে দিয়েছিলেন উপহার হিসেবে।
ছেলেটি এসে বইটা হাতে নিলো এবং পড়া শুরু করল।
হঠাৎ বইয়ের ভিতর থেকে একটা চাবি ও একটা চিঠি নিচে পড়ল।
চিঠিতে লিখা ছিল,
বাবা আমি অনেক খুশী যে তুমি A+ পেয়েছ। আমি চাইব তুমি জীবনের পরীক্ষাতেও এই ভাবে A+ পাও।
আর এই চাবিটা হচ্ছে তোমার নতুন মটর-বাইকের চাবি, আমাদের গ্যারেজে রাখা আছে তোমার নতুন বাইক।
ছেলেটির চোখে জল চলে আসলো।
ছেলেটি গ্যারেজে গেল এবং দেখতে পেল তার পছন্দের বাইক সেখানে রাখা।
সমাপ্ত