Sunday, July 23, 2017

মোরাল অব দ্য স্টোরি

এই গল্পটার শুরু এক আর শেষ আরেক!
পুরোই উল্টো পুরাণ!!
পিঁপড়া আর ঘাসফড়িং দুই বন্ধু।
বিশ্ববিদ্যালয়ে উঠে ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট খুলল তারা। 
পিঁপড়া তার আইডির নাম দিল ‘অর্থহীন পিপীলিকা’,
আর ঘাসফড়িং তার আইডির নাম দিল ‘ড্রিমবয় হপার’। 
টাইমলাইনে প্রতিদিন মেয়েদের এডিট করা ছবি দেখে দেখে পিঁপড়া আর ঘাসফড়িং মিনিটে মিনিটে ক্রাশ খেতে লাগল।
ঘাসফড়িং একদিন নিউজফিড স্ক্রল করতে করতে আফসোস করে বলল, ‘আহা, এ রকম একটা মেয়েরে পেলে লাইফে আর
কী লাগে!’ 
এ কথা শুনে পিঁপড়া বলল, ‘তাহলে দোস্ত চল, আমরা ফেসবুকিং বাদ
দিয়ে ঠিকমতো লেখাপড়া করি।
লেখাপড়া শেষ করে ভালো কোনো চাকরি পেলে আমরাও এ রকম সুন্দরী মেয়েকে বিয়ে করতে পারব।’
ঘাসফড়িং মাথা নাড়ল, ‘উহু, আমার পক্ষে চার বছর অপেক্ষা করা পসিবল না। 
আমি এখনই একটা মেয়ের প্রেমে পড়তে চাই।’
অতঃপর একদিকে পিঁপড়া আইডি ডিঅ্যাকটিভ করে মন দিয়ে লেখাপড়া করতে লাগল; 
অন্যদিকে ঘাসফড়িং ফেসবুকে সারা দিন মেয়েদের ইনবক্সে
ইনবক্সে নক করতে শুরু করল। 
বন্ধুর ডিএসএলআর ক্যামেরা দিয়ে তুলতে লাগল ছবি।
সেগুলো আপলোড করতে লাগল প্রোফাইল পিকচার হিসেবে। 
সঙ্গে দিতে লাগল লুতুপুতু রোমান্টিক স্ট্যাটাস। 
কিছু কিছু মেয়ে পছন্দ করে ফেলল ঘাসফড়িংকে।
তার দিন কাটতে লাগল চ্যাটিং আর ডেটিং করে। 
এভাবে পেরিয়ে গেল পুরো চার বছর।
অনার্স ফাইনাল ইয়ারের রেজাল্ট দিল। 
পিঁপড়া ফার্স্টক্লাস সেকেন্ড হয়েছে আর ঘাসফড়িং কোনোমতে
টেনেটুনে থার্ডক্লাস। 
ভার্সিটি থেকে বের হয়েই পিঁপড়ার সরকারি চাকরি হয়ে গেল। 
বিয়ে করে ফেলল পরির মতো সুন্দর এক মেয়েকে।
আর অন্যদিকে ঘাসফড়িং অল্প বেতনে একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি পেল। 
তার দিন কাটতে লাগল শহরে একটা মেসে একা একা। 
কোনো মেয়েই তাকে বিয়ে করতে রাজি হয় না। 
তার যেসব গার্লফ্রেন্ড ছিল, তাদের সবারই বড় বড় চাকরিওয়ালা ছেলের সঙ্গে বিয়ে হয়ে গেছে।

প্রায় দুই বছর পরের কথা। 
ঘাসফড়িং এক রাতে ফেসবুকিং করছিল। 
নিউজফিড স্ক্রল করতে করতে হঠাৎ করেই তার একটা ছবিতে এসে চোখ আটকে গেল।
বন্ধু পিঁপড়া ভীষণ সুন্দরী এক মেয়ের সঙ্গে কাপল পিক আপলোড করেছে।
ক্যাপশনে লেখা: ‘বিয়ের আগেই হোক আর পরে; কোনো মেয়ের প্রথম প্রেম হতে পারার অনুভূতি আসলেই স্বর্গীয়।’
ঘাসফড়িং সেখানে কমেন্ট করল, ‘আহা দোস্ত, তোমারই তো ভাগ্য। ইউ আর সো লাকি ম্যান। 
ইশ্, আমিও যদি এমন কাউকে বিয়ে করতে পারতাম!’ 
পিঁপড়া কমেন্টের রিপ্লাই দিল, ‘যখন লেখাপড়া করার টাইম ছিল, তখন তুমি ফেসবুকিং করে কাটিয়ে দিয়েছ, এখন আর আফসোস করে কী লাভ? 
সময়ের কাজ সময়ে না করলে তার ফল কখনো ভালো হয় না।’
ঘাসফড়িং রিপ্লাইয়ে কী লিখবে ভাবছিল। 
এমন সময় মেসেঞ্জারে টুং করে শব্দ। 
একটা মেসেজ রিকোয়েস্ট এসেছে। 
পাঠিয়েছে পিঁপড়ার স্ত্রী ‘অ্যাঞ্জেল খরগোশ’।
মেসেজ রিকোয়েস্ট অ্যাকসেপ্ট করে ঘাসফড়িং লেখাটা পড়ল, ‘প্লিজ হপার, তোমার সাথে ভার্সিটি লাইফে আমার যে দুই বছর প্রেম ছিল, সেটা তুমি পিঁপড়াকে বোলো না, প্লিজ! 
তুমি আমার সংসার ভেঙো না, প্লিইইইজ!’
মোরাল অব দ্য স্টোরি: লেখাপড়া শেষ করে অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ করলে অন্যের প্রেমিকাকেবিয়ে করতে হয়।

Thursday, June 22, 2017

মানবতা শেষ হয়ে যায়নি

জীবন খুব কম সময়।
আর জন্ম আমাদের শুধু একবার।
তবুও কেন এত হিংসা , মারামারি। কেন এত নিষ্ঠুরতা! 
Helpful Persons - Bhalobasa
এক গলি রাস্তার মোড় দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ করে তাকিয়ে দেখি ইলেকট্রিক পোষ্টের সাথে একটি কাগজ ঝুলছে। 
উৎসাহ নিয়ে সামনে এগিয়ে দেখি কাগজের গায়ে লেখা,
''আমার ৫০ টাকার একটা নোট এখানে হারিয়ে গেছে। আপনারা যদি কেউ খুঁজে পান তবে আমাকে সেটি পৌছে দিলে বাধিত হব, আমি বয়স্ক মহিলা চোখে খুব কম দেখি"। 
তারপরে নিচে একটি ঠিকানা ।
আমি এরপর খুঁজে খুঁজে ঐ ঠিকানায় গেলাম।
হাঁটা পথে মিনিট পাঁচেক। 
গিয়ে দেখি একটি জরাজীর্ণ বাড়ির উঠোনে এক বয়স্ক বিধবা মহিলা বসে আছেন। 
আমার পায়ের আওয়াজ পেয়ে জিজ্ঞাসা করলেন "কে এসেছ?"
আমি বললাম, "মা, আমি রাস্তায় আপনার ৫০ টাকা খুঁজে পেয়েছি আর তাই সেটা ফেরত দিতে এসেছি।"
এটা শুনে মহিলা ঝরঝর করে কেঁদে দিয়ে বললেন, 'বাবা, এই পর্যন্ত অন্তত ৩০-৪০ জন আমার কাছে এসেছে এবং ৫০ টাকা করে দিয়ে বলেছে যে তারা এটি রাস্তায় খুঁজে পেয়েছে। 
বাবা, আমি কোন টাকা হারাই নাই, ঐ লেখাগুলোও লিখিনি। 
আমি খুব একটা পড়ালেখা জানিও না।
আমি বললাম, সে যাইহোক সন্তান মনে করে আপনি টাকাটা রেখে দিন। 
আমার কথা শোনার পর টাকাটা নিয়ে বললেন 'বাবা আমি খুব গরীব কি যে তোমায় খেতে দি! একটু বসো। একটু জল অন্তত খাও। 
'বলে ঘরে গিয়ে এক গ্লাস জল নিয়ে এলেন। 
ফেরার সময় তিনি বললেন, "'বাবা, একটা অনুরোধ তুমি যাওয়ার সময় ঐ কাগজটা ছিঁড়ে ফেলো সত্যি আমি লিখিনি।"
আমি ওনার বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় মনে মনে ভাবছিলাম, সবাইকে উনি বলার পরেও কেউ ঐ কাগজটি ছেড়েনি!!
আর ভাবছিলাম ঐ মানুষটির কথা যিনি ঐ নোটটি লিখেছেন। 
ঐ সহায়সম্বলহীন বয়স্ক মানুষটাকে সাহায্য করার জন্য এত সুন্দর উপায় বের করার জন্য তাকে মনে মনে ধন্যবাদ দিচ্ছিলাম। 
হঠাৎ ভাবনায় ছেদ পড়লো একজনের কথায়। 
তিনি এসে বললেন, 'ভাই, এই ঠিকানাটা কোথায় বলতে পারেন, আমি একটি ৫০ টাকার নোট পেয়েছি , এটা ওনাকে ফেরত দিতে চাই।'
ঠিকানাটা দেখিয়ে দিয়ে হঠাৎ করে দেখি চোখে জল চলে আসল, আর আকাশের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বললাম, দুনিয়া থেকে মানবতা শেষ হয়ে যায়নি!

Tuesday, May 23, 2017

মনের কথা

অগোছালো কথা।
আগা মাথা কিচ্ছু নেই, পড়ে যান...
Mon Theke Valobasi - Valobasa
অবহেলার একটা লিমিট থাকা দরকার...।
কেউ একজন তোমাকে দিনের পর দিন কেয়ার করে যাচ্ছে 
আর তুমি সেগুলো মুচকি হেসে এড়িয়ে গিয়ে ভাবছো 'এসবই তোমার প্রাপ্য...
এরকম তো কতোজনই আছে কেয়ার করার মতো,
যদি এমনটি ভেবে থাকো তাহলে তুমি ভুল ভাবছো...।
হাজার মানুষের কেয়ারের ভিড়ে তুমি আসল মানুষের আলাদা কেয়ারটুকু টের পাচ্ছোনা। একদম না।
কেউ একজন তোমার ছোট্ট একটি "লেখার আশায় ঘন্টার পর ঘন্টা মোবাইলে ডাটা অন রেখে
কি পরিমান ছটফট করতে পারে তুমি সেটা দেখতে পাওনা বলে এমনটা ভাবছো...।
মেসেজবক্সে হাজার হাজার শব্দ মিলিয়ে দু-ঘন্টা ধরে সাজানো কষ্টের
ভাষা গুলো লিখে সেন্ড করার ঠিক আগ মূহুর্তে ডিলিট বাটনে
চাপ দিয়ে ধরে রাখাটা যে কতটা যন্ত্রনার তুমি সেটা বোঝোনা বলে এমনটি করো...।
তোমার একটি মাত্র ফোন কলের আশায়
বিছানার এপাশ-ওপাশ করে কতো যে নির্ঘুম রাত কেটে গেছে।
তুমি সেটা কখনই জানতে চাওনি বলে মানুষটিকে সস্তা ভাবো...।
বিশ্বাস করো তোমার থেকে অবহেলা পাওয়া এই মানুষটা মোটেই সস্তা কোনো মানুষ নয়.., অদ্ভুত রকমের একটা ধর্য্য- শক্তি আছে এর মাঝে...।
মনে রাখবে "ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া মানুষের অভাব নেই পৃথিবীতে...।
কিন্তু পড়ে যাওয়া মানুষটিকে হাত ধরে টেনে তোলার মানুষের বড়ই
অভাব..। খুব, খুব অভাব..।
তাই কাউকে পেয়েও হারিয়ে যেতে দিওনা।

Saturday, April 15, 2017

শুভ নববর্ষ

শুভ নববর্ষ
সবাইকে  নববর্ষের অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল। 
আর একটা কথা, এর আগের লেখাটা না পড়ে থাকলে, পড়ে নিন, অনেক ভালো লেখাটা। 
Esho He Boishakh - Bhalobasa.com

বর্ষশেষের বিদায় মালা
   কেমন করে খুলি ?
বছর ভরা অনেক স্মৃতি
    কেমন করে ভুলি ?

যা পেয়েছি সারা বছর
   আঁকড়ে ধরেছি,
ভাল মন্দ সব কিছুকে
   হৃদয়ে ভরেছি।

বিশ্লেষনে দুঃখ বাড়ে
    উদাস থেকেছি,
অন্ধকারকে সরিয়ে দিয়ে
      স্বপ্ন গড়েছি।

সবার স্বপ্ন সজীব থাকুক
   নববর্ষের কোলে,
সবাই যেন সুখের আলোয়
    খুশীর হাওয়ায় দোলে।

Thursday, April 13, 2017

সৎমা কোনো নির্দিষ্ট শব্দ নয়

এই লেখাটা সবাই পড়বেন অবশ্যই।
সত্যি খুব ভালো লাগলো, আপনারও ভালো লাগবে আশা করি।
Mom - Baby Lovly Pic - Valobasa.com
ঘরের একটা কোনে চুপটি করে দাঁড়িয়ে আছে রোহিনী।
বছর সাতের রোহিনী ,ভয়ে জড়োসড়ো, একটা নতুন অপরিচিত মানুষ হঠাৎ তাদের বাড়িতে এসে ঢুকলো।
রোহিনীর বাবার নতুন বউ। রাঙা দিদা বলেছে ,নতুন মা বলতে।
রোহিনী বলেছিলো, আন্টি বললে হয় না?
মায়ের ছবিটা চোখের সামনে এখনো ভাসছে। 
মাত্র বছর খানেক হলো কিডনি অকেজো হয়ে মা চলে গেলো রোহিনীকে ছেড়ে।
রোহিনী তো ভীষণ শান্ত তবুও যে কেন বাবা রোহিনীকে সামলাতে পারছে না বলে একটা নতুন মা নিয়ে এলো কে জানে!! 
এই মায়ের নাম নাকি নিবেদিতা। বেশ মিষ্টি মিষ্টি দেখতে ,ফর্সা ,রোহিনীর মত কালো নয়। 
রোহিনীকে নাকি আর বাবা ভালোবাসবে না, নতুন মাকে নাকি সৎ মা বলে, সে তো রোহিনীকে খেতেও দেবে না। পাশের বাড়ির আন্টিরা বলেছে। ভীষণ ভয় করছে রোহিনীর।

সোফায় বসেই নতুন মা রোহিনীকে ডাকলো, রোহিনী জড়সড় হয়ে গিয়ে বলল, আমি তোমাকে আমার সব টেডি দিয়ে দেব, প্লিজ আমাকে মেরো না। 
নতুন মা বললেন, ওসব কথা পরে হবে এখন তুমি আমাকে কি বলে ডাকবে বলো তো?
রোহিনী বললো, আন্টি বলবো না, নতুন মা বলবো,তাহলে...
কথা শেষ না হতে দিয়েই উনি রোহিনীকে কোলের কাছে বসিয়ে বললেন, ঐ যে ছবিটা দেখছো ওটা তোমার মা। 
আমি তোমার একটা বন্ধু। তুমি আমাকে নিনি ডেকো, ওটা আমার ডাকনাম।
আরেকটা কথা আমি ঐ তুলোর কথা না বলা টেডি পছন্দ করি না, আমার এইরকম চোখ নাক নড়ছে, মিষ্টি মিষ্টি কথা বলা টেডিই পছন্দ, আমার এটাকে চাই। বলেই রোহিনীর গলায় কাতুকুতু দিতে লাগলো।

তারমানে বাবা রোহিনী একা থাকে বলে রোহিনীর জন্য একটা বন্ধু এনেছে, সৎ মা নয়...
বন্ধ নিঃশ্বাসটা একটু একটু করে বেরিয়ে গেলো রোহিনীর। 
নিনি বেশ ম্যাজিক জানে....দশ মিনিটের মধ্যেই ওর পছন্দের এগ টোস্ট বানিয়ে দিলো। রাত্রিবেলা রোহিনী ভয় পাবে বলে নিনি রোহিনীর পাশেই ঘুমোতো।
যেদিন স্কুলের স্পোর্টসে রোহিনী হেরে গিয়েছিলো, খুব কাঁদছিলো, সেদিন ওর নিজের সেই চুলে ঝোটকন বাঁধা ছবিটা দেওয়া একটা কফি মগ  নিনি ওকে প্রাইজ দিয়েছিলো। বলেছিলো, হেরে যাওয়া আছে  বলেই না জয়ের আনন্দ আছে। তাই হেরে যাওয়াকেও সেলিব্রেট করো। 
Mom Dressing Her Baby - Valobasa.com


তারপর কবে যেন রোহিনী বড় হয়ে গেছে, কিন্তু নিনি কোনোদিন মা হয়নি। রোহিনী এখন কলেজের স্টুডেন্ট, নিনির সাথে একই বিছানায় শোয় না। নিনিও বাবার ঘরে ঘুমায় না, ও বাবার স্টাডির ছোট্ট ডিভানে ঘুমোয়।

মাঝে মাঝে নিনিকে মা বলে ডাকতে ইচ্ছে করে রোহিনীর কিন্তু এতো বছরের অনভ্যাসে, সংকোচ কাটিয়ে ডাকা হয়ে ওঠেনি।
রোহিনীর খুব ইচ্ছে ফিল্ম মেকিং নিয়ে পড়ার, পুনেতে গিয়ে থাকতে হবে শুনেই রোহিনীর বাবা এক বাক্যে না করে দিয়েছে। এখন একমাত্র ভরসা নিনি। 
রোহিনী অপেক্ষা করছিল নিনির ঘরে, নিনি বোধহয় বাথরুমে ঢুকেছে।  ভিজে কাপড়েই নিনি ঘরে ঢুকলো। রোহিনী অবাক হয়ে দেখছিল, দুধে আলতা গায়ের রঙে আকাশনীল ভিজে কাপড়টা কি অদ্ভুত ভাবে নিনির শরীরের মধ্য যৌবন ফুটিয়ে তুলেছে। 
হঠাৎ রোহিনীর মনে একটা প্রশ্ন জাগলো! আচ্ছা নিনি আর বাবাকে তো কোনোদিন কোনো অন্তরঙ্গ মুহূর্তে দেখেনি  সেই ছোট্ট থেকে।রোহিনীর ছোট বেলায় নিনি ঘুমোতো ওর ঘরে এখন বাবার স্টাডিতে।বাকি সময় হয় রান্না ঘর নয় ডাইনিংয়ের টিভির সামনে তাহলে নিনির সাথে কি বাবার কোনো স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক নেই?

নিনির আদরের মধ্যেও এমন একটা গাম্ভীর্য আছে যেটার জন্য রোহিনী কিছুতেই প্রশ্নটা করে উঠতে পারে না।

নিনি রোহিনীর মুখের দিকে তাকিয়ে বলল, মনের ভিতরের কথাটা মনে চেপে না রেখে বলে ফেলাই উচিত। রোহিনী লজ্জা পেয়ে বললো, আমি পুনেতে গিয়ে পড়তে চাই বাবাকে রাজি করানোর দায়িত্ব তোমার। 

নিনি যেন চমকে উঠলো, অথচ এর আগে রোহিনীর খেলনার বায়না, চকলেটের বায়না, পোশাকের বায়না  সবই তো বাবাকে বলে নিনিই সামলেছে, আজ কেন নিনি এতটা ফ্যাকাসে হয়ে গেলো?

রোহিনীর মাথায় আস্তে আস্তে সেই ছোটবেলার মতো হাত বোলাতে বোলাতে নিনি বললো, রোহিনী আমার বোধহয় এতটা অধিকার নেই। তুমি ফিল্ম মেকিং নিয়ে ডিগ্রি কোর্স করার জন্য পুনে যেতে চাও সেটাতে তো তোমার বাবার আপত্তি আছে। অন্য মায়ের মতো সন্তানের ওপর অধিকার তো আমার নেই তাই, রোহিনী অবাক হয়ে দেখছে অন্য এক নিনিকে। যে খুব কষ্ট করে কান্নাগুলোকে গলার মধ্যে গিলে নিচ্ছে। রোহিনী ,তুমি বড় হয়েছ সত্যিটা জানানোর সময় এবার এসেছে ....।
আমি ছিলাম তোমার বাবার অফিসের পি.এ। আমার সৎ মা আমাকে একটা খারাপ পাড়ায় বিক্রি করে দিচ্ছিল, সেই অবস্থায় আমি খুব বিপদে পড়ে তোমার বাবার কাছে সাহায্য চাই। উনি তোমার দেখাশোনার জন্য গভর্নেস হিসেবে আমাকে নিযুক্ত করেন কিন্তু আমরা রেজিস্ট্রি ম্যারেজ করি শুধু সমাজের ভয়ে। এক বাড়িতে থাকবো কোনো পরিচয় ছাড়াই তা হয়না। 
রোহিনীর এই প্রথম মনে হলো নিনি নয়, নতুন মা নয়, শুধু মা বলে ডাকা উচিত নিনিকে। 
রোহিনী গলাটা জড়িয়ে ধরে মা বলে ডেকে উঠলো নিবেদিতাকে। 
নিবেদিতা যেন সর্বস্ব দিয়ে আগলে ধরলো রোহিনীকে। 

মায়ের ছোঁয়ায় কোথাও সৎ মায়ের স্পর্শ ছিল না। সেই তেরো বছর  আগের এক রাতের কথা মনে পড়ে গেলো রোহিনীর....।

জ্বরে রোহিনীর গা পুড়ে যাচ্ছে। চোখ মেলে দেখলো একটা ঠান্ডা হাত ওর কপালে, আর দুটো রক্তিম নির্ঘুম চোখ ওর মুখের দিকে এক দৃষ্টে তাকিয়ে আছে। 

সেদিনও নিনির ছোঁয়াটা ঠিক আজকের মতোই ছিল তারমানে এই তেরো বছরে রোহিনী বদলেছে কিন্তু নিনি বদলায়নি একটুও। তারমানে সত্যিই সৎ মা বলে নির্দিষ্ট কোনো শব্দ হয় না। ভালোবাসা থাকলে মা হয়ে উঠতে দেরি হয়না। আর বন্ধনহীন সম্পর্ক যতই নাড়ি ছেড়া হোক সেটা দূরে যেতেও সময় লাগে না। 
Mom and Baby Playing - Valobasa.com
রোহিনীর বাবা রাধাকান্ত সরকার আজ একটু তাড়াতাড়ি অফিস থেকে ফিরে এসে দেখলেন, নিবেদিতার কোলে রোহিনী শুয়ে আছে আর নিবেদিতা ওর চুলে বিলি কেটে দিচ্ছে। ওকে দেখেও মা মেয়ের কারোর নিজেদের সুখানুভুতি থেকে  একটুও সরতে ইচ্ছে করছে না সেটা ওদের দেখেই বোঝা যাচ্ছে। রাধাকান্তর সত্যিই মাঝে মাঝে অবাক লাগে নিবেদিতাকে দেখে, সেই যে কথা দিয়েছিলো শুধুই রোহিনীর মা হবার চেষ্টা করবে বাড়ির গৃহিণী নয়, সে কথার মর্যাদা ও রেখেছে। 

রোহিনী ডেকে উঠলো,বাবা! 
আমার একটা অনুরোধ তোমায় রাখতে হবে। আজ থেকে তোমার বেডরুমটা মায়ের হবে, মা আর স্টাডিতে শোবে না। 
নিবেদিতা রোহিনীর মুখে হাত চাপা দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করছে। রাধাকান্ত অবাক!!
রোহিনী কোনোদিন ওর সামনে দাঁড়িয়ে এভাবে কথা বলেনি, আজ হঠাৎ কি হলো?
রাধাকান্ত বললো, আমি তোমার মাকে বলিনি কোনোদিন আমার ঘরে ঢোকা তার বারণ আছে। সে যেকোনো সময় এই বাড়ির যেকোনো ঘরে যেতেই পারে, তার সে অধিকার আছে। 

নিবেদিতা আবার মনে মনে প্রণাম করলো ভগবানের মত মানুষটাকে।মারা যাবার আগে নিশ্চয় স্ত্রীর পরিচয়ে তার বুকে একবার মাথা রাখবেই নিবেদিতা।

রোহিনীর পাগলামি মাত্রা ছাড়িয়েছে। নিবেদিতার কোনো কথাই সে শুনছে না আজ, কিছু বারণ করতে গেলেই বলছে তাহলে কিন্তু জলে ভিজে ঠান্ডা লাগবো। রোহিনীর জলে ভিজলেই জ্বর আসে নিবেদিতা তাই ওই ব্যাপারে খুব সাবধানে রেখেছে মেয়েকে। 
গতকাল থেকে আর একবারও রোহিনী নিনি বলে ডাকেনি।
কারণে অকারণে মা বলে ডেকে চলেছে। ভালোলাগায় শিউরে উঠেছে নিবেদিতা কিন্তু রোহিনী এখন যেটা শুরু করেছে সেটা তো মানা যায় না!!
Maa R Meyer Bhalobasa

নিবেদিতার সমস্ত শাড়ি, জিনিসপত্র সব এনে বাবার আলমারিতে বাবার জামা কাপড়ের পাশে সাজিয়ে রাখছে। 
লজ্জায় মরে যাচ্ছে নিবেদিতা। রাধাকান্ত বাবু মেয়ের কান্ড দেখে মুচকি মুচকি হাসছেন।

রাতে জোর করে নিবেদিতাকে বাবার ঘরে পাঠিয়ে দিলো রোহিনী।
ওর চোখে মুখে যেন বিশ্ব জয়ের হাসি। 
নিবেদিতা ধীর পায়ে ঘরে ঢুকছে। ৪১ বছরের নিবেদিতা যেন নববধূ এতটা সংকোচে সে আর কখনো পড়েনি।
রাধাকান্ত বাবু হাত ধরে নিবেদিতাকে পাশে বসালেন, ধীরে ধীরে বললেন, একটা জীবন চালানোর জন্য স্ত্রীর থেকেও বেশি দরকার হয় একজন বন্ধুর। যে মনের কাছাকাছি থাকবে, যার সাথে সুখ দুঃখের সব কথা প্রাণ খুলে বলা যাবে, কিছু কিছু সম্পর্ক থাকে যেগুলোর হয়তো সঠিক নাম নেই কিন্তু সে না হলে সব অকেজো হয়ে যায় নিমেষে, তুমিও ঠিক তেমনই আমার কাছে। নিবেদিতা চলো আমরা বন্ধু হই আজ থেকে। 

নিবেদিতা নীরবে নিজের হাতটা রাধাকান্ত বাবুর হাতের উপর আলতো করে দিয়ে নিজের সম্মতি জানালো। 
 - অর্পিতা সরকার

Thursday, March 23, 2017

বেশ্যার ছেলে কি স্কুলে যাই

আজ একটু অন্য ধারার লেখা।
তবে..., না কিছুনা, আসুন সুরু করি।
Baby With Mother - India - Valobasa
কিরে মাগী তুই নাকি আবার ছেলে টাকে মডার্ণ স্কুলে ভর্তি করেছিস? 
হাঁ বাবু ছেলে টা পড়াশোনায় খুব ভালো! 
ওই যে অপু মাস্টর আসতো আমাদের বস্তিতে পড়াতে ঔ তো বলতো মালতী তোর ছেলেটার মাথা আছে রে,ওকে ভালো করে পড়াস! 
তাই ভর্তি করলাম বাবু! 
একরাশ গর্ব যেনো মালতীর ঠোঁটে, আর না হবারই বা কি আছে ; বস্তির এই রকম শরীর বেঁচা কটা মায়ের ছেলে মর্ডান স্কুলে পড়ে? 
উফ শালা বেশ্যা মাগী তোর ছেলে শালা মর্ডান স্কুলে পড়বে ? 
শালি কোনো পার্থক্য রাখবি না নাকি ভদ্রলোকেদের সাথে, তুই জানিস শালা আমার ছেলে টাও ওই স্কুলে পড়ে একপ্রকার মারতে মারতে বলে দেবীবাবু ! 
শালী ডাক তোর ছেলেকে বলছি শালা বেশ্যার ছেলে হয়ে এতো শখ কিসের ওর, ডাক শালী তোর ছেলেকে !
মালতী দেববাবুর পায়ে ধরে কোনো রকম বোঝাতে সম্মত হয় যে যেনো ওর ছেলেকে দেবীবাবু ওর বেপারে কিছু না বলে, নাহলে ওর ছেলে যে আর সভ্য জগতে মিশতে পারবে না, তাহলে ওর পড়াশোনায় ক্ষতি হবে !! 
যাইহোক সেদিন হয়তো সামলানো গেলো দেবীবাবুকে এই মর্মে যে আজ তাকে বিনি পয়সায় শরীর দিতে হবে ! 
বেশ্যা তো ! দিতে রাজি হয়ে গেলো মালতী ! 
এখন মালতী নিজের ছেলের দিকে ঠিক ঠাক তাকাতেও পারেনা লজ্জাই ! 
ছেলে ভদ্র লোকের স্কুলে পড়ে যে আর সে তো বেশ্যা, কোথাও যেনো ভেতর থেকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছিলো মালতীকে ! 
ভয় ছিলো যদি ছেলে ভদ্র হয়ে বেশ্যা মাকে ছেড়ে দেই, এই সব চিন্তা ভয় আর মর্ডান স্কুলের খরচ চালাতে গিয়ে হিমশিম খেয়ে গেছে মালতী ! 
Indian Baby With Mom -Valobasa

এভাবেই চলতে থাকে মালতীর সংসার ! 
তবে এই বেশ্যা টাকেও হয়তো সাথ দিয়েছিলো ভগবান, তার ছেলে পরীক্ষায় প্রথম হয়েছে যে !
আজ মালতী তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরেছে আজ ও ধান্দা করেনি, কাওকে ছুঁতেও দেইনি! 
ছেলে বাড়ি ফিরতেই মাকে জড়িয়ে ধরে বলে মা আমাদের স্কুলে কাল পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান, তোমাকে নেমন্তন্ন করেছে, এই দেখো কার্ড ! 
তুমি যাবেনা মা ? 
নারে তোদের মস্ত স্কুল, সব বড় বড় লোক জন আমি গরীব মানুষ গিয়ে কি করবো বল?
না মা তোমাকে কাল যেতেই হবে, নাহলে আমিও যাবোন ! 
কোনো রকম জোর পূর্বক মালতী যেতে রাজি ! 
পরদিন ভোর ভোর উঠে মালতী খুঁজে রেখেছে মালতীর বরের দেওয়া প্রথম উপহারের তাঁতের শাড়ী টা, খুব আনন্দ তার আজ যে আবার সে ভদ্র লোকেদের সাথে মিশবে কিছুক্ষনের জন্য, স্বামী মারা যাওয়ার পর প্রথম !
যাইহোক মর্ডান স্কুলে ছেলের সাথে মালতী, অপূর্ব অনুভূতি হচ্ছে তার,কতো লোক, ভদ্র লোক, কতো বড় বড় বেপার, কিন্তু সেই ভয় টা পিছু ছাড়েনি "ছেলে যদি বুঝে যায় আমি বেশ্যা" !
অনুষ্ঠান হলে ঢুকতেই মালতী দেখে সামনের সিটে বসে দেবীবাবু ! 
মালতী লজ্জায়, ভয়ে পিছনে গিয়ে এক সিটে মাথা নামিয়ে বসে পড়ে, পাছে দেবীবাবু যেনো দেখে না নেই, দেখলেই আজ হয়তো সব জেনে যাবে সবাই, ছেলের কাছে মালতীও আজ বেশ্যার পরিচয় পাবে হয়তো !
অনুষ্ঠান তখন শুরু হয়ে গেছে, এবার মালতীর ছেলেকে স্টেজে ডাকলো পুরস্কার নেওয়ার জন্য কিন্তু মালতীর চোখ নীচে, মুখ নীচে সে দেখবে না কারণ যদি দেবীবাবু দেখে ফেলে !
স্টেজে মালতীর ছেলে, পুরস্কার নেওয়ার পর কিছু বলার জন্য অনুরধ করলো প্রিন্সিপল মেম ! 
Mom And Son - Valobasa

"আমি দেহব্যাবসায়ির ছেলে " হাঁ মেডাম আমি গর্বিত,আমি ওনার ছেলে " গোটা ঘর নিস্তব্ধ হয়ে গেলো মালতীর ছেলের কথায়!
ওই দেখো সবাই আমার মা!!!
শেষ সিটে মাথা লুকিয়ে বসে আছে। 
মাথা তোলো মা, সবাই আজ দেখুক তোমায় তুমি আমার মা, আমি গর্বিত মা তোমার জন্য !
সেদিন যখন দেবীবাবু তোমাকে অপমান করেছিলো সেদিন আমি দরজার পাশে দাঁড়িয়ে সব শুনেছি, সেদিনই প্রতিজ্ঞা করেছিলাম মা তোমার মাথা উঁচু করবো , এটাই তোমার উপহার মা !
আজ আমি প্রথম হয়েছি এটা সাধারণ কিন্তু এক দেহব্যাবসায়ির ছেলে প্রথম এটাই অসাধরণ কিছু মা ! মালতীর চোখে আনন্দ অশ্রু, সেও আজ গর্বিত, এখন তার লজ্জা নেই, নেই ভয় !
সমগ্র ঘর শুনে যাচ্ছিলো সেদিন এক বেশ্যার ছেলের চিত্কার !!!

Thursday, March 9, 2017

ডাক্তারি ভালোবাসা

বড্ডো খারাপ লাগে কারন আপনাদের জন্য কিছু পোস্ট করাই হয়না।
আর যদিও করা হয় তা খুব একটা ভালো কিছু হয়না।
আজ আর একবার কিছু অগোছালো কথা আপনাদের জন্য।
Daktari Bhalobasa - Valobasa
"তুমি আমার সারা জীবনের ভালোলাগা হইও না ...
বরং, "ভাল্লাগেনা" রোগের ডাক্তার হয়ে যেও !!
মাঝে মাঝে ইনজেকশনের তীক্ষ্ণ সূচের মত এক চিমটি ব্যথা দিও ... দাঁতে দাঁত চেপে ঠিকই সয়ে নেবো !!
কিংবা তেতো ওষুধের মত এক চামচ বিষণ্ণতার স্বাদ দিও ... একটুখানি চোখ মুখ কুঁচকে আবার ঠিকই মুচকি হাসি দেবো !!
হোক না তোমার মনের ভাষা দুর্বোধ্য কোন প্রেসক্রিপশন এর মতই।
ঠিকই আমি বুঝে নেবো !!
স্টেথোস্কোপ লাগবে না, বুকের ভেতরের ধকধক আওয়াজটুকু স্টেথোস্কোপ ছাড়াই স্পষ্ট শুনিয়ে দেবো !!
তুমি শুধু রোগ সারাতে এসো... 
এক মুঠো না, এক চিমটি ভালোবেসো !!"

Saturday, February 25, 2017

সে তো বুঝলোনা

ভালোবাসা যে কি তা কেউ বলে বোঝাতে পারে না।
মন দিয়ে সবাই আবার সেটা বুঝতে পারে!
Love Love Love - Valobasa

বার বার রাগ করে তোমার সাথে কথা বলা থামিয়ে দিই...
আবার বার বার ফিরে আসি তোমার কাছে।
কিন্তু আমার বারবার এই ফিরে আসার পিছনে একটা কারন রয়েছে, 
আর কারনটা হল আমি তোমাকে কখনো হারাতে চাই না। 
জানি তুমি একজন কে খুব ভালোবাসো। 
আর হয়ত সে সব দিক থেকেই আমার চেয়ে ভালো......।
তাছাড়া আমিও চাই যে, তুমি যেন তাকে পেয়ে অনেক অনেক ভালো থাকো।
তাই আমিও আর কখনো আমার ভালো লাগার কথা তোমাকে বলিনি, কারন আমার ভয় হয় যদি তুমি আমাকে উওরে ''না, বলে আমাদের বন্ধুত্বটাও ভেঙে দাও! 
তাহলে আমি কি করে থাকব.....!!! 
আর তুমিও এই স্বার্থপর দুনিয়ার এমন এক স্বার্থপর মানুষ যে সবসময় তোমার নিজের কথাই ভেবেছ।
তোমার সাথে আমার কাটানো এতটা সময়, এত কথায়ও কখনো আমার মনের কথা বুঝতে পারলে না!!! 
I will not miss you - valobasa

Monday, February 20, 2017

বোল্টূ চাকরি পেয়েছে

বোল্টু চাকরি পেয়ে গেলে কি হতে পারে!!
ভাবতে পারছেন??
থাক আপনাকে ভাবতে হবেনা কষ্ট করে। আমিই বলছি।
All Girls Are Angel On Facebook - Valobasa
বল্টু এক অফিসের ম্যানেজার পদে চাকরি পেল। :-D
তো, বল্টু চাকরিতে জয়েন করার পরই কর্মচারীরা সময়মতো অফিসে আসা শূরু করল। 
কেউ লেট করেনা।
তাই দেখে অফিসের এম.ডি একদিন বল্টুকে বললঃ ঘটনা কি?
আগেতো কেউই সময় মতো অফিসে আসতোনা! 
আপনাকে ম্যানেজার করার পর থেকেই সবাই টাইমের আগেই চলে আসে। 
আপনি কি জাদু জানেন নাকি?? ;-)
বল্টুঃ না স্যার, জাদু-টাদু কিছুনা। 
আসলে,
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
আমি অফিস থেকে একটা চেয়ার বিক্রি করে ফেলেছি আর বলেছি যে সবার পরে আসবে, 
তাকে দাঁড়িয়ে কাজ করতে হবে তাই সবাই টাইমের আগেই চলে আসে_____।।।। :D :D 

Sunday, January 29, 2017

ভালোবাসার গল্প , পাশে থাকার গল্প

আজ আপনাদেরকে,
একটা ভালোবাসার গল্প, একটা পাশে থাকার গল্প শোনাবো।
Maa - The Best and Funny Alarm Clock

একবার একটা লঞ্চ দূর্ঘটনায় পড়লো।
লঞ্চের এক দম্পত্তি একটা লাইফবোট পেল।
কিন্তু স্বামীটা বুঝে ফেললো সেখানে একজনের বেশি উঠতে পারবে না।
লোকটা তার স্ত্রীকে আটকে রেখে নিজে লাফ দিয়ে বোটে লাফিয়ে উঠে পড়লো।
ডুবন্ত লঞ্চে দাঁড়িয়ে থেকে মহিলা স্বামীর উদ্দেশ্যে একটাই মাত্র বাক্য চিৎকার করে বলেছিলো।
শিক্ষক এটুকু বলে থামলেন,
চারদিকে তাকিয়ে ছাত্রদের প্রতিক্রিয়া বুঝতে চাইলেন, 
“তোমাদের কি মনে হয়? 
কি বলেছিলো মহিলা!?”-
“তুমি একটা ইতর, আমি কি অন্ধই না ছিলাম!” 
অধিকাংশ  ছাত্রই এ ধরনের জবাব দিলো।
শিক্ষক খেয়াল করলেন একটা ছেলে পুরোটা সময় ধরেই চুপ, 
তার মতামত জানতে চাইলে সে বললো,
“স্যার, আমার বিশ্বাস, মহিলাটি বলেছিল, আমাদের বাচ্চাটার যত্ন নিও, ওকে দেখে রেখ।”
বিস্মিত হয়ে শিক্ষক জিজ্ঞাসা করলেন, 
“তুমি এই গল্প আগে শুনেছ, তাই না!”
ছেলেটি মাথা নেড়ে জবাব দিলো, “ আমার মা-ও অসুখে মারা যাওয়ার পূর্বমূহূর্তে বাবাকে একথাই বলেছিলো।”
শিক্ষক একমত হলেন, তুমিই ঠিক।
লঞ্চটা ডুবে গেলো এবং বাড়ি ফিরে লোকটা একাকী মেয়েকে যত্ন করে বড় করলো।
লোকটি মারা যাওয়ার বেশ কয়েক বছর পরে তাদের কন্যা বাবার একটি ডায়েরী পেল।
সেখানে সে আবিষ্কার করলো, 
লঞ্চযাত্রায় যাওয়ার আগেই মায়ের দুরারোগ্য অসুখ ধরা পড়েছিলো, 
চরম মূহূর্তে তার বাবা তাই বাঁচার একমাত্র উপায়ের সদ্ব্যবহার করেছে।
ডায়েরীতে তার বাবা লিখেছে, 
“আমারও তোমার সাথে সাগরের তলে ডুবে যেতে ইচ্ছে হচ্ছিলো, 
কিন্তু শুধু মেয়ের কথা ভেবে তোমাকে একাই সাগর তলে চিরদিনের জন্য ছেড়ে আসতে হলো।”
গল্প শেষ হলো, ক্লাস একদম চুপ।
শিক্ষক বুঝলেন, ছাত্রেরা গল্পের শিক্ষাটা ধরতে পেরেছে।
ভালো এবং মন্দ, পৃথিবীর সব কিছুর পেছনেই অনেক জটিলতা আছে যা সব সময় বোঝা যায় না।
আমাদের কখনোই শুধুমাত্র উপরের তল দেখেই যাচাই করা উচিত না। 
অন্যকে না বুঝেই বিচার করে ফেলাটা বেশ বোকামি।
যারা খাবারের বিলটা সবসময়ই নিজে দিতে চায়, তার মানে এই নয় যে তার টাকা উপচে পড়ছে, 
এর কারন সে টাকার চেয়ে বন্ধুত্বকে বড় করে দেখে।
যারা আগে ভাগেই কাজ করে ফেলে, 
এর মানে সে বোকা না, আসলে তার দায়িত্বজ্ঞান রয়েছে।
যারা ঝগড়া বা বাকবিতন্ডার পরে আগে মাফ চেয়ে নেয়, 
সেই ভুল ছিলো এমনটা নয়, বরঞ্চ সে চারপাশের মানুষকে মূল্যায়ন করে।
তোমাকে যে সাহায্য করতে চায় সে তোমার কাছে কোন কিছু আশা করে না, বরং একজন প্রকৃত বন্ধু মনে করে।
কেউ আপনাকে প্রায়ই টেক্সট করে তার মানে এটা নয় যে তার কোন কাজ নেই, 
আসলে আপনাকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসে।
একদিন আমরা একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবো, 
কিন্তু আমাদের আচরণ ও ভালোবাসাগুলো মানুষের হৃদয়ে থেকে যাবে। 
কেউ না কেউ স্মরণ করবে।
নতুন বছরের মূল্যায়ন এই রকমই হোক।
শুভ হোক নতুন বছর সবার যারা আনন্দের আলো থেকে বঞ্চিত ছিলে।