Thursday, May 17, 2018

অ্যারেঞ্জড ম্যারেজেও ভালোবাসা হয়

অ্যারেঞ্জড ম্যারেজেও ভালোবাসা হয়। 
Love in Arranged Marriage
Love in Arranged Marriage

বাসর ঘরে ঢুকে পাশে বসতেই বৌ আমাকে বলল,
----------------ঘড়িতে তাকিয়ে দেখুন তো কয়টা বাজে??
বাসর রাতে বৌয়ের এমন সাহসী প্রশ্নে কিছুটা বিচলিত হলাম।
তখন ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি রাত ২.৩০মিঃ।
আমি বৌয়ের পাশে বসে আস্তে করে বললাম----
শোনো, আমার এখন বিয়ে করার কোন ইচ্ছেই ছিলো না। 
আমার বাবা-মায়ের পছন্দেই তোমাকে বিয়ে করেছি।
তবে আমার কারো সাথে কোন সম্পর্ক ও নেই।
কিন্তু আমি বিয়ের জন্য মানসিক ভাবে প্রস্তুত ছিলাম না।
তাই আমি এখন চাইলেও এত সহজে তোমাকে বউ হিসেবে মানতে বা বৌয়ের অধিকার দিতে পারবোনা।
কথা গুলো বলে শেষ করা মাত্রই নতুন বউ আমার পাঞ্জাবির কলারটা চেপে ধরে বলল,
--------------আমাকে কি খেলার পুতুল মনে হয় নাকি??
পছন্দ হয়নি, বিয়ে করতে চাননি এইটা আগে বলতে পারলেন না??
নিজের মায়ের মন রক্ষা করতে আমার সব আশা-স্বপ্ন কে কেন বলিদান দিতে হবে?
বিয়ে করার ইচ্ছে নেই, এইটা আমাকে আগে বললেই পারতেন।
তবেই আমি আমার পক্ষ থেকে বিয়ে ভেঙে দিতাম।
মায়ের প্রতি ভন্ড ভক্তি শ্রদ্ধা দেখাতে গিয়ে আমার জীবনটা কেন এইভাবে নষ্ট করে দিলেন হুম?
আমি তো আপনার কোন ক্ষতি করিনি।
এখন আমি যেভাবে বলব সেভাবেই সব হবে। ঠিক আছে????
বলেই কলার টা ছেড়ে দিলো।
পরে আবার বলল....
----আচ্ছা যা হবার তা তো হয়েই গেছে।
দিতে হবে না আপনাকে বউয়ের অধিকার।
যান নিচে গিয়ে ঘুমান।
একদম খাটে ঘুমাতে পারবেন না।
বলেই আমার বালিশ পা ফ্লোরে ছুড়ে মারলো।
আমি ও বাধ্য ছেলের মতো ফ্লোরেই শুয়ে পড়লাম।
আর মনে মনে ভাবতে লাগলাম, কেমন গুন্ডি মেয়ে রে বাবা।জীবনেও এমন মেয়ে দেখিনী।
মনে তো হচ্ছে জীবন পুরাই তেজপাতা করে ছাড়বে।
|
|
ফ্লোরে ঘুমই আসছেনা।
কখনই ফ্লোরে ঘুমাইনি।
কিন্ত আজকে নিজের অমতে বিয়ে করার কারনেই ফ্লোরে
ঘুমাতে হচ্ছে।
এর মধ্যে মশার আন্দোলন। 
ইসসসসসস,,,,,,সহ্য হচ্ছেনা।
চোখ বন্ধ শুয়ে করে আছি।কখন জানি ঘুমটা লেগে গেছে
বুঝতেই পারিনি।
হঠাৎই সজাগ হয়ে দেখি আমার শরীরে কম্বল আর পাশে ও মশার কয়েল লাগানো।
মনটাতে একটু স্বস্তি পেলাম,ও মানুষ ভালো, মনে মায়া-দয়া আছে।


পরের দিন ঘুম থেকে উঠেই দেখি টেবিলে চা রাখা।
চা খেয়ে, ফ্রেশ হয়ে রুমে বসে ফোন টিপছিলাম তখনই তানিয়া (আমার বৌ) এসে বললো.....
----এইযে সেই কতক্ষন যাবত খাবার নিয়ে সবাই অপেক্ষা করছে
আর আপনি ঘরে বসে আছেন কেন?
এখনি নিচে চলুন আগে......!!
বলেই আমার কানের কাছে এসে আস্তে করে বললো...
-----নাকি খাবার টা রুমে নিয়ে আসবো?
আমি তো হার্ট এ্যাটাক হতে হতে বেচেঁ গেছি।
আমি তো ভাবছিলাম,বউ বুঝি এইবার ও কলার ধরেই আমাকে খাবার টেবিলে নিয়ে যাবে।
কিন্তু না,বউয়ের স্বর পাল্টে গেছে, তবে কি বউ আমার প্রেমে পড়ে গেল নাকি??
কথাটা ভাবতে ভাবতেই বউয়ের দিকে তাকালাম।
হা হয়ে তাকিঁয়ে আছি, বউ তো আমার হেব্বি সুন্দরী।
রাতে তো ভাবছিলাম হিটলারনি। এখন দেখি না মায়াময়ী।
এইবার যে আমি বউয়ের প্রেমে পড়ে গেলাম।
নিজেই নিজেকে বললাম...
---- মনে হয় তুই তোর হিটলারনি বউয়ের প্রেমে পড়ে গেছিস।
হঠাৎ একটা বিকট শব্দে বাস্তবে ফিরলাম।
সামনে তাকিঁয়ে বউ আমার ফ্লোরে পড়ে চোখ বন্ধ করে
আছে।
বুঝতে পারলাম,পাগলীটা খুবই ব্যথা পেয়েছে।
দৌড়ে গিয়ে টেনে তুলে বসাতে গেলাম আর অমনি আস্তে করে বলল.....
----কেমন স্বামী গো আপনি??
আমি তো একটু ভ্যাবাচ্যকা খেয়ে গেলাম।
বললাম...
----আমি আবার কি করলাম।
বৌ বলল....
----আমি মাটিতে পড়ে আছি কই কোলে করে নিয়ে
বিছানায় শোয়াবেন, তা না করে আমার হাত ধরে টানছেন।
সাথে সাথেই আমি কোলে করে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিলাম।
আমায় শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল....
----ইচ্ছে করে এইভাবেই ধরে রাখি সারাটা জীবন।
কিন্তু আপনি তো আমাকে পছন্দই করেন না।
কথা শেষ করেই তানিয়া দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়লো।
আমারও বুকের ভিতরটা দুমড়ে মুচড়ে গেল।
আমারো খুব বলতে ইচ্ছা হচ্ছিল, কপালে একটা চুমো একেঁ দিয়ে বলি ...
----পাগলী আমি যে তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি গো।
কিন্তু পারলাম না।
কোথায় জানি একটা বাধাঁ পাচ্ছিলাম।
এই সুযোগে তানিয়া আমাকে ঠেলে বিছানায় ফেলে দিয়ে দৌড়ে পালালো।
আমি শুধু ওর চলে যাওয়ার দিকে তাকিঁয়ে রইলাম।
পরক্ষনেই খেয়াল হলো,ও তো ব্যথা পেয়েছে।
যার কারনে কোলে করে উঠাতে হলো।
বুঝতে আর বাকি রইলো না, এইবারও আমাকে বোকা বানানো হয়েছে।
Arranged Marriage

পাগলিটার সাথে খুনসুটি প্রেম করতে করতেই কেটে গেল
২টা বছর।
এখন কেউ কাউকে ছাড়া কিছু ভাবতেই পারিনা।
আমার পাগলীটা এখন গর্ভবতী।
তাই খুব যত্ন নিই তার।
আজকেই বাচ্চা হবার তারিখ দিয়েছে ডাক্তার।
আমি অফিসে ছিলাম, হঠাৎই বাবার ফোন পেয়ে ছুটে
গেলাম হসপিটাল।
গিয়েই শুনলাম আমার ঘর আলো করে এসেছে এক ছোট্ট রাজকন্যা।
কিন্তু....
আমার পাগলিটার কোন সাড়া শব্দ পাচ্ছিনা কেন??
ভয়ে আৎকে উঠলাম।
অনেকের মুখেই শুনেছি,বাচ্চা জন্ম দিতে গিয়ে মারা গেছে অনেক মা।
সে ভয়েই বাচ্চা নিতে চাইনি।
কিন্তু ওর নাকি বাচ্চা লাগবেই।
ওর ইচ্ছে পূরন করতে গিয়েই কি তবে......???
আর ভাবতেই পারছিনা।
আর একটা মিনিট ও নষ্ট না করে, দৌড়ে গেলাম কেবিনে।
গিয়ে দেখি বাচ্চা টা হাত পা নাড়িয়ে খেলছে।
কিন্তু তানিয়া চোখ বন্ধ করে রেখছে।
ওর নিঃশ্বাস আছে কি নাই তা দেখার মতো ধৈর্য আমার
ছিলোনা।
তাই তানিয়াকে জড়িয়ে চিৎকার করে ফেললাম।
সাথে সাথেই কানের কাছে একটু ব্যথা অনুভব করলাম।
পরে দেখি তানিয়া আমার আস্তে করে কানে কামড় দিয়ে বলল....
-----কি ভাবছিলা তোমাকে একা রেখে চলে যাবো??
আরে না গো, আমি চলে গেলে, তোমাকে জ্বালাবে কে??
আমিও বুকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রাখলাম।
আর বললাম,বড্ড ভালোবাসি রে পাগলি তোকে।
ছাড়বোনা কখনই। 💗💗

Monday, May 7, 2018

শুধু Success আর Competition

সময় এখন খুব অল্প, মানুষের কাছে।
সবাই শুধুই ছুটছে,
Heaven
পৃথিবীতে কোন কিছুই success নয়।
এক মৃত ব্যক্তির পকেট থেকে পাওয়া চিঠি :
যখন জন্মালাম বাবা মা ভাবল এটা তাদের success,
যখন হাটতে শিখলাম মনে হল এটাই success,
যখন কথা বলতে শিখলাম মনে হল এটাই success,
ভুল ভাঙল,
এরপর স্কুলে গেলাম, শিখলাম first হওয়াটা success,
এরপর বুঝলাম না আসলে মাধ্যমিকে স্টার পাওয়াটা success,
ভুল ভাঙল,বুঝলাম উচ্চমাধ্যমিকে এই রেসাল্টটা ধরে রাখাই success,
এখানেই শেষ নয়,
এরপর বুঝলাম ভালো সাবজেক্ট নিয়ে ভালো কলেজে চান্স পাওয়াটাই success,
পরে বুঝলাম না কলেজ শেষে চাকরী পাওয়াটা success,
এরপর বুঝলাম না,নিজের টাকায় একটা ফ্ল্যাট কেনাটা success,
সেটাও নয়, নিজের টাকায় এরপর গাড়ি কেনাটাই আসল success,
আবার ভুল ভাঙল,
এরপর দেখলাম বিয়ে করে সংসার করাটাই success,
বছর ঘুরলো, দেখলাম আসলে বিয়ে করে বংশধর এনে তাকে বড় করাটাই success,
ছেলে হলে সে প্রতিষ্ঠিত হওয়াটাই success, মেয়ে হলে ভালো বাড়িতে বিয়ে দেওয়াটাই success,
এরপর এলো রিটায়ারমেন্ট, সারা জীবনের জমানো টাকার সঠিক utilization ই success...
এরপর যখন সবাই মিলে চিতায় উঠিয়ে দিল, তখন বুঝলাম পৃথিবীতে কোন কিছুই success নয় ,

পুরো টাই competition, যার মুলে আকাশ ছোঁয়া আকাঙ্ক্ষা, যা কখনো পূর্ণ হয়না।

Tuesday, May 1, 2018

মানুষ হও

মানুষ আর মানুষ নেই।
সব অমানুষ!

খোদ কলকাতার ঘটনা ! দমদম মেট্রো ! .. 
ভাবুন, শুধুমাত্র আলিঙ্গনের জন্যে যুবক-যুবতীকে গণপ্রহার .. আচ্ছা! সমাজ ব্যবস্থা সামলানোর দায়িত্ব কি এই মধ্যবয়সী/বৃদ্ধ চুতিয়াগুলোকে কে দিয়েছে? এরা কে বলার? কে কি করবে না করবে ? শালা! ওদিকে আবার ভীড় ট্রেন-বাসে-মেট্রোয় এদেরই হাত কনুই ঝুলে পরা চিবি সবথেকে সক্রিয় হয়ে ওঠে, চুলকানির তো শেষ নেই, তারাই আবার দেশের সংষ্কৃতি রক্ষণের জন্যে প্রহার করতে উদ্যত হলেন, This is Irony ! 👏👏 
..
আনন্দবাজারে উজ্জ্বল চক্রবর্তী লিখেছেন : 
চাঁদনি চক থেকে মেট্রোয় উঠেছিলাম। রোজ যেমন উঠি। সোমবার রাত তখন প্রায় পৌনে ১০টা। সঙ্গে আমার এক সহকর্মী। স্টেশন ছাড়তেই একটা উত্তেজিত কথোপকথন কানে এল। আমরা যেখানে দাঁড়িয়েছিলাম, তার থেকে দুটো গেট দূরেই হইচইটা হচ্ছিল।
প্রথমে বুঝতে পারিনি, কোনও গুরুত্বও দিইনি। কারণ পথেঘাটে ও রকম হইচই তো হয়েই থাকে। কিন্তু, সেই গোলমালটা যে একটা দুঃস্বপ্নের চেহারা নেবে কিছু ক্ষণের মধ্যেই, তা একেবারে বুঝতে পারিনি।
এখনও বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। দশকের পর দশক ধরে যে শহরটাকে চিনি, সেই কলকাতা তলে তলে এত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে! এত অসংবেদনশীল, এত নিষ্ঠুর হয়ে গিয়েছে শহরটা! এখনও ভাবতে পারছি না। আক্ষরিক অর্থেই দুঃস্বপ্ন মনে হচ্ছে।
বেশ ভিড় ছিল মেট্রোয়। ঠেলেঠুলেই ঢুকতে হয়েছিল ভিতরে। যে সহকর্মীর সঙ্গে ফিরছিলাম, তাঁর পোস্টিং পটনায়। কয়েক দিনের জন্য কলকাতায় এসেছেন। অনেক দিন পরে একসঙ্গে ফিরছিলাম। তাই খোশগল্পে মশগুল ছিলাম। যদি জানতাম, এমন অসভ্যতা এবং বর্বরতার সলতে পাকানো হচ্ছে অন্য দিকে, তা হলে সম্ভবত ও ভাবে মজে থাকতে পারতাম না।
সহকর্মী নেমে গেলেন শোভাবাজারে। তত ক্ষণে বেশ বেড়ে উঠেছে গোলমাল। ভিড়টা সরিয়ে সে দিকেই এগিয়ে গেলাম কৌতূহলের বশে। বুঝলাম, ভিড়ের মাঝে আলিঙ্গনাবদ্ধ যুগলকে দেখে এক জন বড্ড উচাটনের মধ্যে পড়ে গিয়েছেন। কেন মেট্রোয় পরস্পরকে আলিঙ্গন করা হবে? কেন ‘ওরা’ পার্ক স্ট্রিটের কোনও বারে যাবেন না? বা বিছানায়? এমন নানা অবান্তর প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন?

যিনি মূলত প্রশ্নগুলো তুলছিলেন এবং হইচইটা করছিলেন, তিনি বয়সে বেশ প্রবীণ। মাথা প্রায় পুরোটাই সাদা।

সুদর্শন, সুঠাম তরুণ কিন্তু নির্ভীক ভঙ্গিতেই উত্তর দিচ্ছিলেন। তাঁদের আলিঙ্গনে অন্য সহযাত্রীরা কী ধরনের সমস্যায় পড়তে পারেন? বেশ ঠান্ডা গলায় প্রশ্ন করেছিলেন তরুণ। উত্তর খুঁজে না পেয়ে আরও তেতে গেলেন প্রৌঢ়। আরও জোরে চিৎকার করতে লাগলেন।

যুগল কিন্তু তাতেও মেজাজ হারায়নি। তরুণী প্রশ্ন করলেন, ‘‘ভিড়ের মধ্যে যদি আমরা নিজেরা নিজেদের সিকিওরিটির ব্যবস্থা করে নিই, তা হলে আপনার সমস্যা কোথায়?’’ উত্তর নেই প্রৌঢ়ের কাছে এ বারও। অতএব, রেগে আরও কাঁই। আরও চিৎকার। দু’জনকেই গালিগালাজ এবং উচিত শিক্ষা দেওয়ার শাসানি।

তরুণকে কটাক্ষে বিঁধতে গিয়ে প্রৌঢ় এ বার বললেন, ‘‘নিজেকে সলমন খান মনে করছে।’’ এই মন্তব্যে বেশ কৌতুক বোধ করলেন তরুণ। আশপাশের সহযাত্রীদের উদ্দেশে এক গাল হেসে তিনি বললেন, ‘‘আপনারা সবাই শুনলেন তো? উনি কিন্তু আমাকে সলমন খান বললেন। আমি এটা কমপ্লিমেন্ট হিসেবেই নিচ্ছি।’’

সুদর্শন তরুণ বুঝতে পারেননি, আশেপাশে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের মনটা তাঁর মতো তরতাজা নয়। তিনি বুঝতে পারেননি, ভিড়ে ঠাসা মেট্রোয় খোলা হাওয়া খেলছে না, বরং একটা বদ্ধ-দূষিত বাষ্প ঘুরপাক খাচ্ছে। তাই বিপর্যয়টা ঘনিয়ে উঠল দ্রুত।

এত ক্ষণ এক জনই চিৎকারটা করছিলেন। ওই তরুণ তাঁর দিকে কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন দেখে এ বার আরও অনেকেরই যেন ‘বিবেক’ জাগ্রত হল। ‘‘এ ভাই, বড্ড বেশি কথা বলছ কিন্তু।’’ গলা চড়ল একে একে। ধমক-ধামক আর নয়, সরাসরি হুমকি শুরু হয়ে গেল— ‘‘দমদমে নাম, তোদের দেখছি।”

তখনও বুঝিনি, এত দূর গড়িয়ে যাবে ঘটনাটা। হুমকি শুনতে পাচ্ছিলাম। কিন্তু দমদমে পৌঁছে সত্যিই ধুন্ধুমার কাণ্ড বাঁধিয়ে দেওয়া হবে, কর্মক্লান্ত একটা দিনের শেষে ঘর-সংসার-পরিবারের কাছে ফেরার তাড়না ভুলে এক ঝাঁক লোক আলিঙ্গনের শালীনতা-অশালীনতার বিচার করতে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন, এমনটা আঁচ করতে পারিনি। তাই বিপদটা ঘটে যাওয়ার আগে হস্তক্ষেপ করতে পারিনি।
দমদমে মেট্রোর দরজা খুলতেই ওই যুগলকে হিড় হিড় করে টেনে প্ল্যাটফর্মে নামালেন কয়েক জন। তার পর শুরু হল গণপ্রহার। প্ল্যাটফর্মের দেওয়ালে ঠেসে ধরে শুরু হল বেদম মার। সঙ্গীকে বাঁচাতে তখন অসহায়, উদভ্রান্ত তরুণী। কিল-চড়-ঘুসি-লাথির মাঝে ঢুকে পড়ে সামনে থেকে জাপটে ধরলেন তরুণকে, আড়াল করার চেষ্টা করলেন। তাতেও থামল না অতি-উৎসাহী ভিড়। তরুণীর পিঠের উপরেই পড়তে থাকল কিল-চড়। ফাঁকফোকর দিয়ে মার চলল তরুণের উপরেও। আমি ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলাম। পারিনি।

যাঁরা এই গণপ্রহারে অংশ নিয়েছিলেন, তাঁদের প্রায় প্রত্যেকেই কিন্তু মধ্যবয়সী বা প্রৌঢ় বা প্রবীণ। অনেক বেশি সংযত, পরিশীলিত আচরণ প্রত্যাশিত যাঁদের থেকে, তাঁদের আচরণই সবচেয়ে উশৃঙ্খল হয়ে উঠল।

ত্রাতা হিসেবে এগিয়ে এলেন কয়েক জন তরুণ এবং মহিলা। মেট্রোরই অন্য কামরায় ছিলেন ওঁরা। উত্তপ্ত ভিড়টার মাঝে ঢুকে পড়ে কোনও রকমে আটকে দিলেন মারধর। তার পর ভিড়ের মাঝখান থেকে উদ্ধার করে সিঁড়ির নীচের দিকে কিছুটা এগিয়ে দিলেন তরুণ-তরুণীকে।

অকারণে মারের মুখে পড়েছিলেন যুগল। তাঁদের রক্ষা করতে কয়েক জন এগিয়েও গেলেন। কিন্তু, গোটা ঘটনাটা আমার বহু দিনের পরিচিত শহরটাকে যেন কয়েক শতাব্দী পিছিয়ে দিল। ২০১৮-র কলকাতায় এই রকম একটা ঘটনার সম্মুখীন হব! ভাবতেই পারছি না। আমি আটকাতে পারিনি অঘটনটা। তাতেই সাংঘাতিক মানসিক কষ্ট বোধ করছি। আক্রান্ত যুগলের মানসিক অবস্থাটা তা হলে ঠিক কী রকম এখন? আমরা কি আদৌ ভাবতে পারছি?

সিনেমার পর্দায় আলিঙ্গন বা চুমু খাওয়ার দৃশ্য দেখে অভিভূত হয়ে পড়ি আমরা। ‘হাম দিল দে চুকে সনম’ নামের একটা হিন্দি ছবির কথা লহমায় মনে পড়ছে। বিদেশের ট্রেন। ভারতীয় যুগল। টিকিট নেই। টিকিট পরীক্ষককে এড়াতে হিরো-হিরোইন ট্রেনের কামরায় গভীর আলিঙ্গনে আবদ্ধ। বিরক্ত করলেন না পরীক্ষক। টিকিট না দেখেই চলে গেলেন। আর টিকিট পরীক্ষকের সেই প্রস্থান দেখে হাততালিতে ফেটে পড়ল সিনেমা হল।

বাস্তবে মেনে নিতে পারলাম না একই ধাঁচের একটা দৃশ্য। মেট্রোর কামরায় প্রাপ্তবয়স্ক তরুণ-তরুণী পরস্পরকে আলিঙ্গন করায় তাঁদের ট্রেন থেকে হিড়হিড় করে টেনে নামিয়ে উন্মত্তের মতো মারধর করলাম আমরা।

প্রায় দু’দশকের আলাপ কলকাতা শহরের সঙ্গে। ভেবেছিলাম শহরটার নাড়ির স্পন্দন আমি চিনে গিয়েছি। কিন্তু কলকাতা মেট্রোয় একটা ১৫ মিনিটের যাত্রা, সে ভুল ভেঙে দিল। এই শহরটা আমার কাছে একদমই অচেনা। হয় আমি কোনও দিন চিনতেই পারিনি এই শহরকে। নয়তো শহরটা আমাদের অনেকের অগোচরেই ভীষণ রকম বদলে ফেলেছে নিজেকে।
লেখা - বন্য ট্রল পেজ

Thursday, April 5, 2018

মন খারাপের ট্রেন - লভ স্টোরি

অসাধারন ভালোবাসার গল্প
একটা ভালোলাগা, একটা বুক ফাটা কষ্ট।
সবকিছু মিলেমিশে আছে এই গল্পে।
Bhalobashar Golpo on Rail Station

হঠাৎ একটা Msg পেয়ে রীতিমত চমকে উঠল সুস্মিত।
নম্বর টা খুব পরিচিত ..
এ নম্বর কোনোদিনও ভুলবার নয়। 
কোনোদিনও যে আবার  এ নম্বর থেকে MSG আসবে ভাবেনি কোনোদিনও.. 
"তোর সেই ভ্যালেন্টাইন্স ডে তে দেওয়া Show Piece টা নিয়ে যেতে পারবি ?? আমি মেস ছেড়ে দিচ্ছি , বাড়ি থেকেই যাতায়াত করব ..তো বাড়িতে ম্যানেজ করতে পারবনা " ...
সে বিষ্মিত হয়ে Reply দিল , " হ্যা! ফেরত দিয়ে দিস ! 
কোথায় Meet করবি বল" ..  
সুস্মিত এর হৃদস্পন্দন টা বেড়ে গেল , কতদিন পর চেনা চেনা লাগছে তার এই শব্দ গুলো , ইনবক্স থেকেও পুরোনো চেনা মেঠো গন্ধ পেল সে  , কতদিন সে  দেখেনি আহেলি কে..। 
এই সেই আহেলি , যার সাথে সারাদিন হন্যে হয়ে হাটত সে , যার সাথে টেক্সট এর চুপচাপ আনাগোনায় কথা হত সারাদিন , যার মিসকল এর আওয়াজে ঘুম ভাঙতো, ঘুমোতে যাওয়াটাও হত ওর "গুড নাইট" নামক ঘুমপাড়ানি শব্দটির মধ্যে দিয়ে, যার সাথে এক ছাতায় উদ্যম বৃষ্টি তে ভিজেছিল, গঙ্গার পাড়ের উত্তাল হওয়ায় ওর উড়ন্ত চুলের গন্ধ নিয়েছিল .. কত কথা , কত ভালোবাসা, কত অভিমান, রাগ .. নাহ! 
সব কোথায় হারিয়ে গেল ? 
স্মৃতিগুলি মনের চিলেকোঠায় সকালের রোদ্দুরের মতো উকি দিতে শুরু করল ..।
বুকটা বড্ড ভারী হয়ে গেল ...। 
তার ভাবনার রাশিমালায় দাড়ি টানলো , Msg টুংটাং আওয়াজ , .. 
"শোন কাল স্টেশন এ ৩টের সময় দাড়াস ! 
আমি ট্রেন থেকে নেমেই তোকে দিয়েই চলে যাব.. ওকে? " .. 
সুস্মিত reply করল , " হম ওকে, একটা Question করব ?" .. 
তৎক্ষণাৎ reply এল , "কর" । 
সুস্মিত কৌতূহলী চোখে TYPE করতে লাগল , " তুই তো বলেছিলি Show Piece টা ভেঙে ফেলেছিস .. তো? .. "
জবাব এল , "নাহ! ভাঙ্গিনী রে , বেশ যত্নেই আছে, কিন্তু তোর স্মৃতি আর আগলে রাখতে চাইনা , কাল এসে নিয়ে যাস প্লিজ" .. 
সুস্মিতের বুকের ভিতর টা মুচড়ে উঠল , একফোটা চোখের জল গাল বেয়ে স্মার্টফোনটার উপর পড়ল  ... 
Tears - Bhalobasar Golpo - Kanna - Chokher Jol

সেদিন রাতে কিছুতেই ঘুম আসছেনা সুস্মিত এর .. নানা চিন্তা-ভাবনার-স্মৃতি-উত্তেজনার বড় বড় ঢেউয়ে মনের কিনারা টা অস্থির হয়ে উঠছে বারবার ..। 
"ও কি সেই আগের মতোই আছে , না এই দেড় বছরেই পাল্টে গেছে অনেক টা, কতদিন ওর Innocence মাখানো সুন্দর মুখটা দেখা হয়না..।
কত আদরে-অনুরাগে কানের পাশ থেকে সে চুল সরিয়ে ঠোঁটের চিন্হ একে দিত মসৃন গাল গুলোয় .. আর আজ ? .. 
বুকটা হুহু করে উঠল , খুব একা লাগল সুস্মিত এর .. তার ঘরের অন্ধকারগুলো যেন তাকে চেপে ধরল ...।
"নাহ! কাল নীল জামাটা পরে যাব , ওর খুব ভালো লাগতো নীল জামাটায়...।
''ও দেখুক সুস্মিত কতটা পাল্টে গেছে, কতটা Develop করেছে নিজেকে"..ওই তো বলতো "তোকে আমার পাশে একদম মানায় না" .. আজ দেখুক সেই বেমানান সুস্মিত কতটা পাল্টে নিয়েছে সময়ের সাথে সাথে .. ।
তার কষ্টগুলো অভিমানে রূপান্তরিত হতে লাগল ... । 
অনেক কষ্টে চোখ ঘুম আনার চেষ্টা করল .. কিন্ত ঘুমটা যেন আগের সেই টেক্সট msg এর টুংটাং শব্দ টা কেড়ে নিয়েছে ; 
আজ কেন এত মনে পড়ছে আবার ওকে ? 
বেশ তো ভুলেই এসেছিল প্রায় ; কেন আবার আজ যে শক্ত স্মৃতির বাঁধ গড়েছিল ধীরে ধীরে , তা এক লহমায় চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিল আহেলি ..।
 সুস্মিতের তাদের প্রথম meet করার দিনটা খুব মনে পড়ল। 
প্রায় ছমাস ফেসবুক এ কথা বলা আর বন্ধুত্বের পর.. যখন ওরা finally decide করেছিল যে "চল! meet করা যাক , কাছাকাছিই তো থাকি " ..।
আহেলির থেকে সুস্মিত এর দূরত্ব একটি স্টেশন মাত্র , আহেলি বলেছিল , 
"শোন! আমি কাল ৮.০৮ এর লেডিস ট্রেন টা ধরব , তুই কি তার আগে  আসতে পারবি আমাদের এই স্টেশনটায় ? এত সকালে প্রবলেম হবে না তো ? " .. 
খুশি - উত্তেজনা -আনন্দে ভরপুর সুস্মিত বলেছিল না! না! , আমি পৌঁছে যাব স্টেশন এ , তুই ব্যাস সময় মতো আসিস".. 
রীতিমতো আকাশে ভাসছিল সুস্মিত .. সেকি আনন্দ , কত ভবিষ্যৎ এর জীবনের চিন্তা-ভাবনা, কত স্বপ্ন, কত উত্তেজনা ...।
..
সেইরকম উত্তেজনা কেন আবার হচ্ছে ?
নিজেকে আনমনে প্রশ্ন করল সুস্মিত.. 
ঘরের জমাটি অন্ধকার গুলো থেকে কোনো উত্তর পেলনা সে।
নাহ! সেদিনও রাতেও ঘুম আসেনি তার।
সুন্দর এক নতুন জীবনের স্বপ্ন বুনেছিল সারা রাত..।
আহেলিরও কি একই অবস্থা ছিল ?
পরে আর জিজ্ঞাসা করা হয়ে ওঠেনি ...।
সকাল ৫টায় উঠে যখন স্নান করে কেত মেরে রেডি হচ্ছিল , 
মা রীতিমতো অবাক হয়েছিল , 
"কিরে এত সকাল সকাল কোথায় যাচ্ছিস?" 
সুস্মিত এক খুশি খুশি সলজ্জ excuse দিয়েছিল,"মা আজ Communication skill এর উপর একটা সেমিনার আছে, তাই তাড়াতাড়ি যেতে হবে ..৭.৩০ টার ট্রেন টা ধরব !"... 
আগে আগে ৭.৩০টা তেই আহেলিদের স্টেশন এ পৌঁছে গেছিল সে , খুব excited আজ , সময় যেন কাটছেনা আজ , সে ২ নাম্বার প্লাটফর্মের একটা বেঞ্চে বসে অপেক্ষা করতে লাগল। 
বুকটা দুরুদুরু .. বারবার ফোন চেক করছে.. যদি ও কোনো msg করে .. আনমনে পা টা নাচাতে লাগল ..। 
উফঃ! কখন যে আসবে , ঘড়িটা মাঝেমাঝেই দেখতে লাগল, আহেলি বলেছিল , ১নম্বর প্লাটফর্ম থেকে আসবে , বারবার সেদিকে তাকিয়ে ভিড়ে কোঁকড়া চুলের অলিভ কালার এর কুর্তিপরা মেয়েটাকে খুঁজতে লাগলো..
"কাল কি রঙের ড্রেস পরবি ?... 
-ওই তো অলিভ কালারের একটা কুর্তি ..তুই?
-নীল রঙের একটা শার্ট আর জিন্স...।
সামনে থেকে একের পর এক ট্রেন বেরিয়ে চলে যাচ্ছিল ..উফঃ! আর সইছেনা ! 
ঘড়িতে দেখলো , ৭.৫৫!!..আর কখন আসবে ? 
উত্তেজনার বসে একটা টেক্সটই করে দিল সে "তুই কোথায় ? 
কখন থেকে বসে আছি.. কখন আসবি?"... 
হঠাৎ ১নম্বর প্লাটফর্ম এ চোখে পড়ল , একটি মিষ্টি দেখতে মেয়ে, লক্ষী ঠাকুরের মতো কোঁকড়া কোঁকড়া চুল, অলিভ কালারের কুর্তি, জিন্স ..চোখে রিমলেস চশমা...। 
ততক্ষনে..
সুস্মিত এর বুকের ভিতর এ হৃদস্পন্দন ঢাক বাজাতে শুরু করেছিল...।
আহেলি সুস্মিত কে দেখে ১নম্বর স্টেশন এ দাঁড়িয়েই মিষ্টি করে হেসেছিল ....।
Waiting Girl on Station - Bhalobasar Golpo

নাহ! সেই মিষ্টি হাসিটা আজ বড্ড মনে পড়ছে !!! ..
..
সকালে যখন ঘুম ভাঙলো তখন ৮টা..।
কাল স্মৃতি রোমন্থনের ঘূর্ণিপাকে কখন যে চোখ টা বুজে এসেছিল ,খেয়াল নেই সুস্মিত এর। 
না আজ কলেজ যাবেনা সে ..।
 আজ দিন টাতে একটা পুরোনো ভালোলাগার গন্ধ আছে , কেমন একটা খুশির চিনচিনে ব্যাথা আছে। 
সময়গুলো উদ্বিগ্ন হয়ে কাটতে লাগল .. কিছুইতেই যেন মন বসছেনা। 
মনে মনে এক অদ্ভুত উত্তেজনা, অস্থির, একটু ব্যাথা .. আগের মতোই মাঝে মাঝে মোবাইল টা চেক করছে .. যদি আহেলি কোনো msg করে ..। 
না ! 
করেনি ..।
সইছে না নিস্তব্ধতা..।
ইচ্ছে করছে খুব কথা বলতে আবার.. কিন্তু না! 
ওই বা কেন আগে থেকে msg করবে..?? 
তার অভিমানগুলো জেগে উঠলো..।
এলোপাথাড়ি চিন্তাগুলো মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে ..শেষে Ego এর কাছে ইচ্ছেরই জয় হলো , সদ্বিগ্ন চোখে Type করল , " তুই আজ আসবি তো ?"... 
অপেক্ষার অনেকটা সময় পর ফোনটার নোটিফিকেশন রিংটোন টা বেজে উঠল , সুস্মিত তৎক্ষণাৎ হাতে নিয়ে দেখলো , 
"হ্যা! আমি আসব! 
ল্যাব এ ছিলাম, আমি ২.০৫ এর ট্রেন টা ধরব, তুই প্লাটফর্মে দাড়াস! ৩টের মধ্যে পৌঁছে যাব"...।
..
তাড়াতাড়ি স্নান টা সেরে ফেলল সুস্মিত, খাওয়া-দাওয়া টা কোনোমতে সেরে , নীল শার্ট আর জিন্স টা পরল। 
আজ দেখুক আহেলি আবার নীল শার্টটায় .. যদি ওর আগের কথা কিছু মনে পড়ে ..। 
বেশ পরিপাটি হয়ে স্টেশনের পথে রওনা হল সুস্মিত। 
মনে যেন সেই প্রথম দিনকার মতো উত্তেজনা, কৌতুহল, আবেগ...।
স্টেশন ২০ মিনিট এর রাস্তা । 
অনেক আগেই চলে এসছে সে ।
স্টেশন টা খুব চেনা চেনা লাগল আজ, স্মৃতির ফুলকি গুলো উস্কে দিচ্ছে যেন...।
ষ্টেশনের একটা বেঞ্চে ..বসে পড়ল সে।
বসে বসে সে উদাসীন চোখে .. স্টেশন এর ভিড় , লোকজন , রোজকার একঘেয়ে ক্লান্ত ট্রেনগুলি দেখতে লাগল..।
এরকম সময়েই ফিরতো আহেলি, সুস্মিত এভাবেই বসে থাকত চোখে একরাশ অপেক্ষা নিয়ে; তারপর অটো, মিলিনিয়াম পার্ক, গোধূলির শ্রান্ত-আলসে আলোতে ওর সুন্দর চোখে চোখ হারাত; ওর কোলে মাথা রেখে শুয়ে মনে করত সারা পৃথিবী টা কত সুন্দর।
হাতের মুঠোয় ওর নরম হাত যখন সুস্মিত এর চুল স্পর্শ করে বিলি কাটত , চোখ বুঝে আবেশে আহেলির বুকে নিজেকে সপে দিত সে .. "আর কি চাই জীবনে ?
শুধু তোকে চাই"
কিন্তু কেন সব পাল্টে গেল এক ঝটকায় ? 
দুনিয়াটাই পাল্টে গেল একদিনে ? 
কেন তার সবুজ সাজানো পৃথিবী টা একদিনে শুকিয়ে,চৌচির হয়ে ভয়ংকর খরায় পরিণত হল ?
 চোখের কোনে যখন চোখের জলের একটা কণা অনুভব করল , হঠাৎ ট্রেনের announcement এ ঘোর কাটল সুস্মিতের।
ঘড়িটায় চোখ বুলিয়ে দেখলো ২.৫২ , ট্রেন টা ঢুকছে ।
হ্যা! এই ট্রেনেই তো আসার কথা আহেলির ....।

বিরাট হুঙ্কার দিয়ে যখন ট্রেনটা স্টেশন এ ঢুকল , সুস্মিতের মনের ভিতরের  সাইরেনটা যেন প্রচন্ড শব্দে কানে বিঁধল ..।
বুকের ভিতর উথালপাতাল ..।
সে এদিক ওদিকে তাকাতে লাগল।
অন্বেষী চোখ খুঁজে বেড়াতে লাগল পরিচিত এক মুখ কে।
অবশেষে চোখে পড়ল কোকড়া চুলের মেয়েটিকে।
সাদা রঙের কুর্তি , জিন্স .. সেই রিমলেস চশমা ..।
সে সুস্মিত কে দেখে আবার মিষ্টি করে হাসল ..।
আজকের হাসিটা  বুকে গেথে গেল তীরের মতো ।
এই হাসিই তার আনন্দ-বিহলতার কারন হয়েছিল।
কতদিন সে অপেক্ষা করেছে এই হাসিটা দেখার জন্যে ।
না! 
আর ফিরে যেতে দেবে না এই হাসিকে। 
আজ কিছু একটা করতেই হবে।
ওকে ছাড়া যে জীবনটা কত দুর্বিষহ জানিয়ে দেবে আহেলি কে । .. না আর পারছেনা এভাবে রোজ আধমরার মতো ধুকে ধুকে বাঁচতে।
হঠাৎ স্তম্ভিত হয়ে গেল তার সমস্ত চিন্তা ভাবনা।
হতবাক হয়ে সে দেখল , হঠাৎ পিছন থেকে স্মার্ট দেখতে একটা ছেলে, কালো টি-শার্ট , মুখে ছাগলে দাড়ি, আহেলি কে সঙ্গ দিল , দুজনেরই মুখ টা একটু খুশি খুশি।
তারা দুজনেই এগিয়ে আসতে লাগল .. সুস্মিত এর দিকে । 
"কিরে কেমন আছিস ?
" স্বাভাবিকভাবেই এক পরিচিত মেয়েলি কণ্ঠ কর্ণকুহর এ ধাক্কা গেল সুস্মিত এর..।
"বেশ লাগছে তো তোকে... ,পুরো পাল্টে গেছিস দেখছি...."
সুস্মিত সামলে নিল নিজেকে .. মনের সমস্ত জাগ্রত চিন্তা ভাবনাগুলি দূরে ঠেলে , বেঁকে যাওয়া মেরুদণ্ড টা সোজা করে মুখে একরাশ হাসি নিয়ে বলল , "ভালোই রে .. তোর কিরকম চলছে ? 
আহেলিকে লক্ষ্য করল সুস্মিত ভালোভাবে। 
মুখে  হালকা হালকা ব্রণের দাগ হয়েছে, একটু সাস্থবতী হয়েছে , খুব ইচ্ছে করছিল , আগের মতো মাথায় হালকা চাটি মেরে জিজ্ঞেস করতে , "কিরে পাগলী! 
বাড়িতে রাক্ষসীর মতো খাচ্ছিস তাই না ?
মুখে শুষ্ক হাসি নিজের মনকে আটকে রাখল সুস্মিত।
"আমিও ভালো আছি রে , যাইহোক ও আমার একটা বন্ধু ,পরিচয় করিয়ে দি , ও  সায়ন , আমাদের ওখানেই পাশের পাড়ায় থাকে"। 
বুকটা ভারী হয়ে এল .. কৌতূহলে বুক ফেটে যাচ্ছে ..নিশ্চই এই ছেলেটা ওর নতুন বয়ফ্রেন্ড ।
কারো একজন মুখে শুনেছিল , যে "তোর ex কে তো একটা ছেলের সাথে দেখলুম!"।
 বিশ্বাস করেনি সেদিন .. তার প্রাণের চেয়ে প্রিয় আহেলি একদিনেই তাকে ভুলে যেতে পারেনা ।
মুখে কাষ্ঠ হাসি এনে ছেলেটার সাথে হ্যান্ডশেক করল। 
তারপর আহেলি কে বললো , "চল ওদিকটায় দাড়াই, পরের ট্রেন টা ১৫ মিনিট পর, ততক্ষন তো থাক "।
আহেলি একটু ইতস্তত করে বলল "চল।" 
তারা সরে গিয়ে দাঁড়াল প্লাটফর্মে  এক ফলের দোকানের সামনে। 
সেই ফলওয়ালার মুখ টা আজ চেনা চেনা লাগল , মনে আছে , সেই মিলিনিয়াম পার্ক থেকে ফিরে এইখানেই দাঁড়িয়েই ট্রেনে তুলে দিত আহেলিকে।
যতক্ষন না চোখের সামনে থেকে ট্রেনটা আড়াল হত , ঠায় দাঁড়িয়ে থাকত এখানে সে। 
ফলওয়ালার মুখের দিকে তাকালো, কেমন জানি অবাক অবাক লাগল তার।
"যাইহোক , যেটার জন্যে আসা , এই নে এটা ধর .. " আহেলি বলে ব্যাগ থেকে পলিথিন মোরা একটি বাক্স বের করে সুস্মিত এর হাতে ধরিয়ে দিল "। 
সুস্মিত এর বুকটা মুচড়ে উঠল , এত সহজে দিয়ে দিলি আমার শেষ স্মৃতিটুকু ?
কিন্তু মুখে সে সহজভাব এনে বলল , "হুম! থাঙ্কস! আর কেমন চলছে জীবন ..?" 
Girl Returning Gifts To Her EX Boyfriend - Bhalobashar Golpo

আহেলি স্বাভাবিক ভাবে উত্তর দিল .. ," একদম ভালো ছিলাম তা বলবো না , তবে সায়ন আসার পর থেকে বেশ ভালো আছি, একজন বন্ধুর দরকার ছিল ... .. আর তোর ? 
সুস্মিত এর হৎস্পন্দন বন্ধ হল । পৃথিবী টা শূন্য হল। 
সে উত্তর খুঁজে পেলনা বলে সায়ন এর দিকে তাকিয়ে হাসল, সেই ভুবন ভোলানো হাসি ... উফঃ! 
দেখতে দেখতে পরের ট্রেনের announcement টা হয়েছে ! 
ট্রেনটা শব্দ করে ঢুকছে,
আহেলি একটু কাছে এসে গভীর চোখে তাকিয়ে আবার বলল "কি রে বল " ... 
সুস্মিত ওর চোখটা আহেলির চোখ থেকে সরিয়ে বলল , " এই তো বেশ ভালো আছি রে। 
ওর কথা টা ট্রেন এর হুইসেল এর সাথে মিশে একাকার হয়ে কোথায় যেন হারাল...।
সেই আগের মতোই ট্রেন এ তুলে দিল ওদের .. ট্রেনটা চলতে শুরু করল ..আহেলি ট্রেনের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল ..সুস্মিত এর  দিকে তাকিয়ে মিষ্টি করে হাসল আবার..। 
কিন্তু ওর কালো গভীর চোখ টা কেমন ব্যাথাতুর লাগল ... আস্তে আস্তে আহেলি চোখের আড়াল হল।
শীতকাল, তার উপরে মেঘলা আকাশ, চারদিক টা বিকেল হতেই একটু অন্ধকার অন্ধকার ! 
চারদিকে হালকা কুয়াশার প্রলেপ কেমন রহস্যাবৃত পরিবেশের সৃষ্টি করেছে।
তারই মাঝে শ্লথ-মন্থর গতিতে ট্রেনটা এগিয়ে যাচ্ছে তার গন্তব্যে।সেই আগের মতোই আজও সুস্মিত নির্বাক চোখে ছেড়ে যাওয়া আগুয়মান ট্রেনটার দিকেতাকিয়ে আছে।
একটুপরেই চোখের আড়াল হবে।
মিশে যাবে কুয়াশায়।
হারিয়ে যাবে কোথায়....।
ঝাপসা চোখে ট্রেনটির দিকে তাকিয়ে সুস্মিত দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে বলল, "ভালো থাকিস"...।
লিখেছেন- অপূর্ব
বন্য ট্রল পেজ থেকে সংগৃহীত

Monday, March 26, 2018

বোল্টূর ফ্রিতে চকলেট খাওয়া

এক ছিলেন আমাদের গোপাল ভাড়,
ওনার মাছি সেজে ফ্রিতে মিষ্টি-সন্দেস খাবার গল্প তো সবাই জানেন।
আজ আপনাদের বোল্টূর ফ্রিতে চকলেট খাবার গল্পটা বলবো, এটা হয়তো আপনি জানেন না।
Boltu Funny Bengali Jokes
Boltur Bangla Mojar Golpo, Boltur Funny Story

বোল্টূ আর পোল্টূ গেছে দোকানে...!
.
দোকানে গিয়ে পোল্টূ চুপি চুপি ৩ টা চকলেট পকেটে ঢুকিয়ে নিলো..!
.
এরপর তারা দোকান থেকে বেরিয়ে এসে..পোল্টূ বোল্টূকে দেখালো সে ৩ টা চকলেট চালাকি করে নিয়ে এসেছে..!
‌.
এটা দেখে বোল্টূ বলল...
.
বোল্টূ - ধুর ,,,চকলেট আবার চুরি করা লাগে। 
তুই আমার সাথে চল দোকানে আমি দোকানদারের সামনে চকলেট খাবো .!
.
পোল্টূ - আচ্ছা দেখি,,তুই কত্ত পারিস...!

এরপর দুইজন আবার দোকানে গেলো...!
.
বোল্টূ- দোকানির কাছে গিয়ে বলল কাকা আমি একটা জাদু দেখাবো আপনাকে..!
.
দোকানি বলল কি জাদু দেখাবি দেখা..!
.
বোল্টূ দোকানির কাছে একটা চকলেট চাইলো, দোকানি চকলেট দিলো,,,আর বল্টু খেয়ে ফেললো..।
.
এই ভাবে তিনবার চকলেট চেয়ে চেয়ে খেয়ে ফেললো..!
.
এটা দেখে দোকানি বলল, কিরে বোল্টূ কই তোর জাদু..?
.
এরপর বল্টু বলল...
কাকু আপনি এবার পোল্টূর পকেট চেক করেন দেখবেন ওর পকেটে ৩ টা চকলেট..!

Thursday, March 22, 2018

মোটর মেকানিক যখন ডাক্তার

মজার গল্প
বাংলা মজার গল্প,
Mojar Golpo, Bangla Mojar Golpo, Funny Bengali Story
এক ডাক্তার হাসপাতালে সার্জন হিসেবে জয়েন করেছেন। 
প্রথমদিন অপারেশন করবেন। জটিল কেস। 
নার্স, অ্যানাস্থেটিষ্ট, সার্পোটিং ডাক্তার, সবাই অপারেশন থিয়েটারে প্রস্তুত। রুগী টেবিলে শুয়ে আছে। 
ডাক্তারবাবু এসে প্রথমেই বললেন। “রুগী কে উপুড় করে শুইয়ে দাও”। 
সে আবার কি কথা!

“স্যার, পেটের টিউমার অপারেশন। উপুড় কেন করব স্যার”? সার্পোটিং ডাক্তার বলল। 
“আঃ। যা বলছি তাই কর”। 
সবাই মুখ চাওয়া-চাওয়ি করে রুগীকে উপুড় করে দিল। বড় সার্জন, মুখের উপর কিছু বলা যায় না।

“এবার একটা বড় চাদর দিয়ে পেশেন্টকে ঢেকে দাও। ফ্লোর অবধি যেন চাদরটা ঝুলে থাকে”।

একজন একটা বড় কাপড় দিয়ে ঢাকা দিয়ে দিল।

“গ্লাভস”। একজন নার্স সার্জনের হাতে গ্লাভস পড়িয়ে দিল।

সবাইকে অবাক করে সার্জন টেবিলের তলায় ঢুকে পড়লেন। 
একটু পরেই টেবিলের তলা থেকে একটা হাত বেরিয়ে এল, “সীজার্স”। থতমত খেয়ে নার্স সেই হাতে কাঁচি ধরিয়ে দিল। 
এরপর একে একে “নাইফ”, “কটন” ইত্যাদি যা যা চাইলেন সব দেওয়া হল।

খানিক্ষন পরে ডাক্তারবাবু নীচ থেকে বেরিয়ে এসে বললেন, “দা অপারেশন ইজ সাকসেসফুল। আপনাদের ধন্যবাদ”।

বলে কি? 
ঢাকা সরিয়ে রুগীকে সোজা করে দেখা গেল সত্যিই তো!!! 
একদম পারফেক্ট। হৈ হৈ পড়ে গেল। এরকমও সম্ভব!!! 
খবর পেয়ে সি এম ও ছুটে এলেন। 
জানতে চাইলেন কি করে এটা সম্ভব হল।

গম্ভীর মুখ করে সার্জন বললেন,


“আমি এর আগে মোটর মেকানিক ছিলাম”।

Monday, March 5, 2018

ব্লকলিস্ট

অসাধারন ভালোবাসার গল্প।
Osadharon Bhalobasar Golpo Eta. Porun, Valo lagbe.
Romantic Bengali Couple Photo - Bhalobasar Golpo
হঠাৎ একটা মেসেজ টোনে ঘুম ভেঙে গেল দ্বীপের ..।  
কলেজ থেকে ফিরে ক্লান্ত চোখে ঘুমটা সবে জাকিয়ে এসেছিল, বিরক্তি মুখে আড়মোড়া ভাঙতে ভাঙতে অলস হাতে ফোনটা হাতে নিয়ে মেসেজটা দেখতেই একরকম লাফিয়ে উঠল সে। 
সৌমিলির দীর্ঘ একটা মেসেজ, "আমি চলে যাচ্ছি তোর জীবন থেকে সারাজীবনের মতো, তুই খুব ব্যস্ত,আমার জন্যে একদম সময় নেই,অনেকবার বলেছিস শুধরবি, শুধরাসনি, নাহ! 
আমি আর পারছিনা, থেকেও না থাকার মতো থেকে আমায় আর কষ্ট দিস না, প্লিজ আমায় আমার মতো থাকতে দে, তুই তোর মতো থাক,জানিস তো আমি প্রথমের দ্বীপ কে খুব মিস করি, কোথায় যে হারিয়ে গেল সে,অনেক মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছি,আর পারছিনা রে! 
আমি সরে যাচ্ছি তোর জীবন থেকে,আমায় কোনো Msg বা Call করে কন্টাক্ট করার চেষ্টা করবি না! 
গুড বাই "....  মেসেজটা পরেই ঘামতে শুরু করল দ্বীপ .. .।
মনটায় যেন কেউ পটাশিয়াম সায়ানাইড ছড়িয়ে দিল ,চারদিকে আধার দেখল সে,আলোয় ঝলমল ঘরটায় কেউ যেন হঠাৎ দুম করে সুইচ অফ করে দিল।
সে চিৎকার করে উঠল, "নাহ! 
কিছুতেই  না... " এরকম ভয়ানক মেসেজ তো সৌমিলি কখনো করে না ,না রাগ অভিমানেও না ,ব্যাপারটা ঘোরতর সিরিয়াস মনে হল দ্বীপের । 
বুক টা হুহু করে উঠল । 
সৌমিলির নাম্বারে ডায়াল করল সে, ঘর্মাক্ত হাতে ফোনটা কানে ধরল,বুকটা বড্ড ধুকপুক করছে আজ, যেন এক আলোকবর্ষ পরে কল করছে সে। ফোনের অপরপ্রান্ত  থেকে Busy Tone শুনিয়ে ফোনটা কেটে গেল, আবার ফোন করল সে, নাহ! 
সেই busy Tone ..! 
এবার সৌমিলির আর একটা নম্বরে ডায়াল করল সে, সেখানেও Busy tone ..।  
উফঃ! আচ্ছা জ্বালা তো .. বলে কপাল চাপড়াল দ্বীপ।  
হঠাৎ খেয়াল পড়ল, যখনই রাগ-অভিমান বা খুনসুটি হতো,সৌমিলি তার নম্বর টা ব্লক করে দিত।
অনেক কষ্ট করে মানানোর পর আনব্লক করত সৌমিলি । সৌমিলির রাগটা বড্ড বেশী, কথায় কথায় রাগ করে সে,বড্ড অভিমানী.. কিন্তু দ্বীপ কে খুব ভালোবাসে, প্রচন্ড খেয়াল রাখে সে,সেই সকাল থেকে রাত,সারাদিন। 
মাধ্যম সেই Text বা ফোনকল । 
দ্বীপ বুঝল ওর নম্বর টা ব্লক করে দিয়েছে সে ।  
দ্বীপের বুকের ব্যাথা টা গভীর হলো,বড্ড অসহায় লাগে যখন যখন সৌমিলি তাকে ব্লক করে দেয় ,এটাই তো একমাত্র মাধ্যম,এটা না থাকলে তো দেখাও পর্যন্ত করা যায় না , না না কিছুতেই না ! 
সৌমিলি কে কিছুতেই যেতে দেবে না সে, সৌমিলি কে ছাড়া তার একদিনও থাকা দায় । 
সকালের ঘুমভাঙ্গানো থেকে শুরু করে রাতে ঘুমপাড়ানো সবকিছুতেই সৌমিলি ।  
প্রায় দুবছর হতে চলেছে তাদের সম্পর্কের,প্রথম দিকে দ্বীপের পুরো সময়টাই সৌমিলি পেত, তারপর ধীরে ধীরে যা হয় আর কি! ভালোবাসার ফ্যান্টাসি কেটে গেলে বাস্তবতার কষাঘাত এসে আছড়ে পরে, .. সবকিছু ধীরে ধীরে ম্রিয়মান হয়,সেই স্বপ্ন,আদর,ভালোবাসা, কল্পনাগুলোতে একঘেয়েমীর মরিচা পড়তে শুরু করে ।কিন্তু কিছু মানুষের মনে সেই প্রথমের ভালোবাসার মানুষটি বেঁচে থাকলেই হয় সমস্যা, সেই একঘেয়েমিতে জরাজীর্ণ মানুষটির মধ্যে কিছুতেই পুরাতন মানুষটিকে খুঁজে পায়না.. .. ট্রেনে করে রোজ রোজ জার্নি ,কলেজ-কাচারী,রোজ রোজ Assignments,ফেসবুক,হোয়াটসআপ, COC ইত্যাদির মধ্যে সৌমিলির জন্যে সময়টা কমে এসেছিল ঠিকই,তাই বলে ...   ..  দ্বীপের কষ্টটা বেড়ে গেল ,সে দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করল,"নাহ! কিছুতেই না!
কিছুতেই যেতে দেব না ওকে"... সে ঘড়িতে চোখ বুলিয়ে দেখল ৮.৩০,এখনো মোড়ের মাথার দোকানটা খোলা আছে, সে চটজলদি উঠে জিনসের উপর একটা ফতুয়া গলিয়ে ছুটল। 
মোড়ের মাথার মুদি দোকান সঙ্গে PCO/STD বুথ ।দ্বীপ সযত্নে  অস্থির আঙুলে সৌমিলির নম্বরটা ডায়াল করল, অনেকখন রিং হয়ে যাওয়ার পরও কেউ ধরলো না, দ্বীপের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে,বড্ড টেনশন হচ্ছে তার। 
সে আবার সৌমিলির নম্বরটা ডায়াল করল,অনেক্ষন রিং হওয়ার পর একজন ফোনটা ধরল,শান্ত-ম্লান নারীকণ্ঠে,বলল ,"হ্যালো ! কে বলছেন?" ..  আজ সৌমিলির কন্ঠটা শুনে বড্ড মিষ্টি লাগল দ্বীপের,তার হৃদস্পন্দনের ধুকপুকোনিটা তীব্র হল, সেই পুরোনো দিনের কথা মনে পরল,তারা যখন ঘন্টার পর ঘন্টা ফোনে কথা বলে কাটাত,কথাই যেন শেষ হতো না .. আর আজ ! 
যেন একটা কর্তব্যের দায় সারা হয় ..   .. কেন আজ সেই প্রথম দিনের মতো অনুভব হচ্ছে তার, যখন তিন-চারমাস ফেসবুকে বন্ধুত্বের পর হঠাৎ সৌমিলির কাছে নম্বর চেয়েছিল সে ..।
সেই নম্বর পেয়ে বিশ্ব জয়ের মতো আনন্দ করেছিল দ্বীপ .. দু-তিনঘন্টা প্রাকটিস করে,কি বলবে ঠিক করে কাঁপা কাঁপা বুকে ফোন করেছিল সৌমিলিকে .. , একটা মিষ্টি মতন কণ্ঠে আজকের মতোই উত্তর এসেছিল," হ্যা! কে বলছেন ?" ..  আজ যেন সেই প্রথম দিনের সৌমিলি কে খুঁজে পেল..  দ্বীপ নিজেকে সামলে কাঁপা কাঁপা বলে উঠল, "হ্যালো! সৌমিলি ! ..আমার বড্ড ভুল..." দ্বীপের কথা না শেষ হতেই "বিপ!" করে আওয়াজ করে ফোনটা কেটে গেল ...  .. 
Couple
সৌমিলির ফোনটা হঠাৎ কেটে দেওয়ায় দ্বীপের বুকটা কেঁপে উঠল," তাহলে কি সত্যি ও ......." সৌমিলিকে ছাড়া আগন্তুক শোচনীয় দিনগুলির কথা ভাবলে বুকটা হুহু করে উঠছে। 
"নাহ! ও কিছুতেই ছেড়ে যেতে পারেনা আমায়! 
" ... সে জানে এখন এই নম্বর থেকে কল করা বৃথা, সৌমিলি আর ফোন ধরবে না ।
সে নিরাশ মনে অন্ধকারের রাস্তা ধরে ধীরে ধীরে হেটে বাড়ির দিকে যেতে লাগল । 
হাটতে হাটতে সৌমিলির কথা বড্ড মনে পড়ল, রাতের অন্ধকারটা যেন হঠাৎ ধুপ করে তার বুকে চাপা পড়ল, এই তো সেদিনই সৌমিলির হাত ধরে হাটছিল দ্বীপ,ময়দানের সবুজ ঘাসে তার পাশে বসেছিল, মেঘলা আকাশ ছিল, মাঝে মাঝে মৃদু-মন্দ হালকা বাতাস বয়ে যাচ্ছিল,হওয়ার দমকায় সৌমিলির ঘন কালো চুলগুলো উড়ছিল..একটু হেলান দিয়ে সৌমিলির কোলে  শুয়ে পড়েছিল দ্বীপ। 
সৌমিলির আঙ্গুলগুলো তখন দ্বীপের অবিন্যস্ত চুলে বিলি কাটতে ব্যস্ত ...। 
হালকা হালকা বাতাস আর মেঘলা আকাশ আর ঘাসের সবুজতা নিয়ে এক ভিন্ন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল সেদিন, সৌমিলি একটু ঝুকে মাথা নিচু করে ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করেছিল, "এই ,তুই আমায় ছেড়ে কখনো যাবি নাতো ?" ...
দ্বীপ ওর মুখটা আরো কাছে টেনে হেসে বলেছিল,"ধুর! পাগলি!" ...  ..আর আজ সৌমিলি তাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে - এটা ভাবতেই বুকের ভিতর টা দুমড়ে-মুচড়ে উঠল ,চোখ ফেটে জল এল।  
ছলছল চোখটা কব্জি দিয়ে মুছে নিজেই আত্মবিলাপ করল দ্বীপ ,"না কিছুতেই ওকে যেতে দেব না আমি,আমি কিভাবে থাকবো তাহলে ?" 
... এই শুনশান রাস্তায় বড্ড এক লাগল দ্বীপের।
কথাগুলি এদিকওদিক বারি খেতে খেতে তার কাছেই ফিরে এল।এরকম একাকিত্ব সে কখনো অনুভব করেনি আগে। 
যখনই সৌমিলি রাগ করত, তখনও মনে হত ও সবসময় পাশে আছে, মুখ বেকিয়ে অন্য দিকে ফিরে আছে। 
কিন্তু আজ সত্যি বড্ড এক লাগল,মনে হল খুব জরুরি একটা ট্রেন বেরিয়ে যাচ্ছে তার সামনে দিয়ে, আর সে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে সেদিকে।
দ্বীপের দু-চোখ জলে ভরে গেল ...  .. বাড়ি ঢুকতেই মা শুধল,"কি রে? 
কোথায় চিকিৎসা এতক্ষন? 
আয় খেয়ে নিবি" ..  "আমার খিদে নেই" ... বলে দ্বীপ সটান তার ঘরে এসে দরজা বন্ধ করে দিল ।তার মা অবাক চোখে শুধু বন্ধ দরজাটার পানে চেয়ে রইল।
Nice

খাটে চুপচাপ বসে আছে দ্বীপ, সামনে অনেক গিফট,গ্রিটিংস কার্ড ,লেটার আর বইয়ের পাতায় সযত্নে রাখা গোলাপ ফুলের জীবাশ্ম। আজ সৌমিলি কে বড্ড মনে পড়ছে তার,আজ মন জুড়ে শুধু সৌমিলি আর সৌমিলি ,নাহ! 
আজ তার একবারও ফেসবুক,হোয়াটসআপ,Coc কিংবা Assignment এর কথা মনে পড়েনি, বড্ড তুচ্ছ লাগছে এসব, ঘেন্না লাগছে ,হয়তো সেরকম কেউই ব্যস্ত হয় না ,সব priority-এর খেল। সে আজ বুঝেছে সৌমিলি তার জীবনে কতটা জায়গা জুড়ে আছে, কতটা অবদান তার দ্বীপের জীবনে ...সৌমিলির কাছে এসব পার্থিব জিনিসগুলো বড্ড তুচ্ছ লাগলো আজ .. পুরোনো কথাগুলো বড্ড মন কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে আজ। 
সে এই পুরোনো স্মৃতির নিদর্শনের মধ্যে সৌমিলি কে আবার আকড়ে ধরতে চাইছে।
সামনে পরে থাকা একটু পুরোনো গ্রিটিংসকার্ড খুলে দেখল, সযত্নে গোটা গোটা করে লেখা,"তুই শুধু আমার, সারাজীবন শুধু আমারই থাকবি" ...  সেই গতবারের ভ্যালেন্টাইনস ডে তে দিয়েছিল,পুরোনো গিফট কিংবা চিঠির শব্দগুলো থেকে সৌমিলির গন্ধ খুঁজতে লাগল সে ...নিজেকে সংবরন করতে পারলে না, ডুকরে কেঁদে উঠল দ্বীপ , তার অশ্রুধারা গেল বেয়ে সৌমিলির পুরোনো একটি চিঠি ভেজাল।  
"নাহ! আমি এভাবে থাকতে পারবনা, ওকে ছাড়া থাকা একেবারেই অসম্ভব" ..  ঘরের লাইট তা নিভিয়ে বিছানায় লুটিয়ে পড়ল সে, না আজ আর আলো ভালো লাগছে না , মনটা যে বড্ড অন্ধকার হয়ে আছে।  
তার স্মার্টফোনটা নিয়ে সৌমিলিকে দু-তিনবার কল করল  , নাহ! সেই অসহ্য Busy tone। 
"উফঃ প্লিজ আমায় আন ব্লক করনা , বড্ড এক লাগছে ! 
পারছিনা এভাবে .. তোকে ছাড়া .." নিজ মনেই বলে উঠল দ্বীপ। কিন্তু গভীর কালো অন্ধকার পেরিয়ে সৌমিলি অবধি পৌছাল না কথাগুলি ,কোথায় যেন হারাল। 
সৌমিলির পুরোনো ছবি,Msg দেখে অন্ধকারে সৌমিলি কে হাতড়াতে লাগল দ্বীপ।
পুরোনো কথোপকথনগুলি আজ তার বুক চিড়ে যেন কষ্টের ফলক বসিয়ে দিচ্ছে,কেন এত কষ্ট হচ্ছে তার, ..  এই তো মাস দুয়েক আগের কথোপকথনের Msgগুলো দেখতে লাগল সে,  -এই কাল 9.17 ট্রেন ধরবো, সঙ্গে ছাতা,ব্যাগ,চশমা নিবি,ট্রেনের টিকিট টা তুই-ই কাটবি, আর জিন্স আর নীল শার্ট টা পরে আসবি। 
-ওকে ম্যাডাম! বলছি ব্যাগ নিতেই হবে ! 
বড্ড গরম লাগে.. -হ্যা! 
নিতে হবে ,নইলে ফাঁকা ফাঁকা লাগে যে বড় ।আর এই শীতেও গরম? 
- হুম তুই সাথে থাকলে তো এমনিই Temperature বেড়ে যায়, So hot ..:-P -ধ্যাৎ! 
অসভ্য একটা ! শুধু দুষ্টুমি ! দাড়াও কাল তোমার হচ্ছে !  
..আর নিতে পারলো না দ্বীপ, চোখের অশ্রুর বাঁধ ভাঙল, টপটপ  করে কিছু নির্বাক অশ্রু বালিশ ভেজাল।  
আজ তার মন খারাপের রাত । 
So sweet love birds

অনেক রাত, চোখ দিয়ে অনবরত জল পড়েই যাচ্ছে,
লাল লাল হয়ে ফুলে গেছে চোখ , 
তার বুকে বড্ড কষ্ট হচ্ছে আজ,যেন দুমড়ে মুচড়ে বেরিয়ে যেতে চাইছে ,
"আমি কিভাবে থাকব ওকে ছাড়া, এ স্মৃতির পাহাড় অতিক্রম করা যে অসম্ভব! নাহ আমি পারব না ! 
হঠাৎ তার খেয়াল পড়ল,নম্বর ব্লক করলেও Msg পাঠানো যায় ,এমনকি সৌমিলিও দেখতে পাবে সেই msg গুলো। 
এরকম আগেও অনেকবার অভিমান ভাঙানোর সময় করেছে সে।ঝাপসা ঝাপসা চোখে সৌমিলি কে একের পর এক Msg করতে লাগল সে, যেন আজ রাতে সমস্ত মনের কথা উজাড় করে দেবে, কত যে না বলা কথা আজ তার স্মার্ট ফোনের উপর আঙুলের আঁকিবুকিতে ব্যক্ত হল কে জানে ... " দেখ! I'm Really extremely Sorry for Everything, জানি তোকে বড্ড অবহেলা করেছি, কিন্তু বিশ্বাস কর আজ আমি বুঝলাম তুই আমার জীবনে কি ! 
তোকে ছাড়া যে আমার এক মুহূর্তও থাকা দায় রে ,বড্ড কষ্ট পাচ্ছি , আমায় ছেড়ে যাস না প্লিজ, তোর সমস্ত অভিযোগ মিটিয়ে দেব, আগের মতো তোর প্রিয় দ্বীপ হয়ে উঠব আবার ,প্লিজ, I can't live without you..যাসনা" .....   .. Msg গুলো টাইপ করার সাথে সাথে বড্ড কষ্ট হচ্ছিল তার, চোখ দিয়ে অনবরত জল পড়তে লাগল। আজ এত চোখের জল যে কোথা থেকে আসছে, কে বলেছে ছেলেরা কাঁদে না?  
আসলে তা কেউ দেখতে পায়না, তারা নীরবে কাঁদে, নিভৃতে কাঁদে ,একাকী কাঁদে ...  আবার কাঁপা কাঁপা আঙুলে আর ঝাপসা চোখে Msg করতে লাগল সে, "দেখ সোনা, আমি পারফেক্ট নই, প্রচুর ভুল করি, আগেও করেছি, ভবিষ্যতেও করব,আমাকে সবসময় সোয়েছিস,মানিয়ে নিয়েছিস, এখন কেন এরকম করছিস? আমি তো তোরই ,তাই না? 
আমি তোকে ছাড়া পারবনা থাকতে, আমাকে একটা সুযোগ দে ..প্লিজ dont go .I need You badly ..আমার খুব শিক্ষে হয়েছে আজ, দয়া করে যাস না ... তুই বল কে আমায় ঘুম থেকে ডেকে তুলবে রোজ ,কেই বা রোজ ঘুমের আগে গুড নাইট কিস দেবে?কে "গবেট" বলে ডাকবে, আমার স্পাইক করা চুল ঘেটে দেবে, কে গভীর রাতে চুপি চুপি আমার সাথে কথা বলবে ..কে আমার সাথে কারন অকারনে ঝগড়া করবে , আবার আদর করে বুকে টেনে নেবে ,আর .. ওই সেই হাত ধরে হাটা .. কে ধরবে বল? 
আর আমাকে তোর বান্ধবী ভেবে কে এত এত PNPC করবে? আমার মন খারাপ করলে কে আমায় বাজে বাজে জোকস শুনিয়ে হাসানোর চেষ্টা করবে বল .. এত ভালোবাসা, আদর, Care, Affections .. আমি কোথায় পাবো বল ..  তুই তুই তুই!  
তুই ছাড়া আমি কিচ্ছুই নই। 
তুই ছাড়া আমি Incomplete, সেটা আজ realize করলাম, আমার সবকিছুতে তোকে চাই, সারাটা দিন তোকে নিয়েই মত্ত থাকতে চাই আগের মতো ..পৃথিবীতে শুধু একটাই সৌমিলি আছে আমার জন্যে। 
Please come back honey .. I miss you .. "  .. এরকম Msg এর বন্যা বয়ে চলল, আজ যেন সব মনের কথা উজাড় করে দেওয়ার দিন! 
চোখের জলে ঝাপসা হয়ে যাওয়া চোখও বাঁধ সাধল অস্তির আঙ্গুলগুলোর দৌরাত্ম ...  Msg এর আঁকিবুকি টানতে টানতে যে কখন ঘুমের দেশে পাড়ি দিয়েছিল ক্লান্ত অবসন্ন দ্বীপ... কে জানে।   সকাল ঠিক, 7.00টা। 
ফোনের রিং এ গভীর ঘুমটা ভেঙে গেল দ্বীপের, সে অনেক কষ্ট করে ঘুমে কাতর চোখটা খুলে ফোনটা হাত বাড়িয়ে এনে দেখল , সৌমিলির ফোন!  
Super Romantic Lovers

তড়াক করে লাফিয়ে উঠল সে, বসে যেই কলটা রিসিভ করতেই সঙ্গে সঙ্গে ফোনটা কেটে গেল ...  আবার বিষন্ন মনে বিছানায় লুটিয়ে পড়ল সে। 
এটা তার অভ্যেস।
রোজ সকাল 7টায় কল করে জাগিয়ে দেয় দ্বীপ কে এলার্ম ক্লক সৌমিলি।  
সঙ্গে সঙ্গে আবার MsgTone বেজে উঠল ,দ্বীপ তৎক্ষণাৎ Msgটা  ঝলমল চোখে দেখতে লাগল,  "ওঠো ওঠো, আর কত ঘুমাবে, না আজ আমার বাবুটা সত্যিকারের ঘুম ভেঙে উঠেছে ..হুম! অনেকদিন পর " ...  
Copied From - Bonno Troll 
Writer - অপূর্ব

Saturday, February 17, 2018

ভালোবাসা ছিল ঠিকই, বোঝানো হয়নি।

Bhalobasha Chilo
Bhalobasha Chilo Thik-e, Bojhano Hoyni 
Bhalobasha Chilo Thik-e, Bojhano Hoyni

বৃদ্ধ দেখলেন, একটা গাড়ি এসে থামলো বিশাল গেটের সামনে।দরজা খুলে বেরিয়ে এল একমাত্র ছেলে,...
চল বাবা, আর না এই বৃদ্ধাশ্রমে। 
চটপট গুছিয়ে নাও সব। আবার আমরা একসাথে...
বৃদ্ধের চশমা ঝাপসা।
ভালোবাসা ছিল ঠিকই..বোঝানো হয়নি।


বিকেলে বান্ধবীদের সাথে আড্ডা দিয়ে ফিরছিল অল্প বয়সী বৌটা।কাটলেটের গন্ধটা নাকে আসতেই.....
মা, তোমার জন্য আনলাম, ভাবলাম ভালোবাসো...
তিন মাস কথোপকথন বন্ধ শাশুড়ির সাথে।
এরকম সুস্বাদু কাটলেট কোনদিন খাননি মা নাম্নী মহিলা টি।
ভালোবাসা ছিল ঠিকই..বোঝানো হয়নি।


রোগা বৌটা ভয়ে কাঠ হয়ে যায়, যত রাত বাড়ে।
রিক্সাচালক স্বামী এই বুঝি চুল্লুর ঘোরে মারধর শুরু করল।
আধ প্যাকেট বিরিয়ানি চেটেপুটে খেল বউটা।
কে যেন দিয়েছে লোকটাকে.. নিজে অর্ধেক খেয়ে বাকিটা বউ এর জন্য...অমৃত পান করছে রিক্সাওয়ালার বউটা।
ভালোবাসা ছিল ঠিকই..বোঝানো হয়নি।


জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে বউটার। 
তাও রান্নাঘরে যেতে হবে।
রাতের রান্না.. বাইরের খাবার খাবেনা ও একদিন ও।
...হ্যালো, শোনো..খাবার নিয়ে ফিরব।
আর রান্নাঘরে গিয়ে কাজ নেই।
রেষ্ট নাও...
জ্বর যেন অর্ধেক সেরে গেল।
ভালোবাসা ছিল ঠিকই..বোঝানো হয়নি।


স্কুলের ত্রাস ছিলেন ওই দিদিমণি।
ওনার বিষয়ে সবচাইতে দূর্বল মেয়েটা।
উনি ক্লাসে আসা মানেই আতঙ্ক। রোজ কান ধরে ক্লাসের বাইরে।
রিটায়ারমেন্টের দিন, দারুন মজা..মুক্তি।
অনুষ্ঠান শেষে প্রণাম করার সময় সকলকে অবাক করে দিয়ে, ওই রোজ শাস্তি দেওয়া ছাত্রী কে বুকে জড়িয়ে হাউহাউ কান্না..
মুক্তি কই? শাস্তি মনে হচ্ছে তো...
ভালোবাসা ছিল ঠিকই..বোঝানো হয়নি।


অফিস ফেরত বারে সময় কাটিয়ে বেশ রাতে বাড়ি ফিরল ছেলেটা।কি হবে বাড়ি ফিরে? 
সারাদিন তো ছেলেকে নিয়েই ব্যাস্ত বউ, তার পড়াশোনা.. গিটারের ক্লাস.. হোমওয়ার্ক.. আরও কি কি সব।
অন্ধকার ঘরে আচমকাই জ্বলে উঠল আলো..বন্ধুদের চিৎকার.. হ্যাপি বার্থডে টু ইউ...কিরে ভেবেছিলি আমরা জানতে পারবনা?দেখ কেমন সারপ্রাইজ দিলাম।
প্ল‍্যান অবশ্য তোর বউ এর...এরকম জন্মদিন বছরে একবারই কেন আসে?
ভালোবাসা ছিল ঠিকই.. বোঝানো হয়নি।


মায়ের মন টা খারাপ।
মেয়েটা কেন এরকম করে?যত কাছে টানতে যাই, ছিটকে সরে যায় যেন।
দুবছরে বুঝতেই পারলাম না ওকে।
জন্ম দিই নি বলেই কি মা নই?কথাই বলেনা নিজে থেকে, কিছু জিজ্ঞেস করলেও চুপ।
আমি তো সৎ মা,মন থাকতে নেই।
প্রচন্ড জ্বরে অচেতন মা। কপালে জলপট্টি দিতে ব্যাস্ত মেয়েটা।কলেজ যাওয়া হবেনা আজ আর..বাবাও বাড়ি নেই..দেখবে কে?
অন্তর অবধি শীতলতা টের পাচ্ছিল মা।
রোজ হোক এরকম জ্বর।
ভালোবাসা ছিল ঠিকই..দেখানো হয়নি।


ছোট্ট ফ্ল্যাটের স্্সার ওদের।
ছেলেটার বাবা মা মুখ দেখেনি বউয়ের।
ডিভোর্সি মেয়েটাকে মানতেই পারেনি ওরা।
বৌটা অন্তসত্ত্বা।
খবরটা ছেলের বন্ধুর কাছ থেকে পেল বাবা মা।
বিশাল দুটো ট্রলি ব্যাগ নিয়ে হাজির পরদিন।
..তোর মাকে রেখে গেলাম।
একা একা সারাদিন.. তুই তো অফিসে সন্ধে অবধি।
অনেক যত্ন দরকার এসময়ে।
বউটা সদ্য ধারণ করা গর্ভে হাত রাখল, আরও আগে আসিসনি কেন?
ভালোবাসা ছিল ঠিকই..দেখানো হয়নি।

Bhalobasha Bhalobasha

ভালোবাসি, সেটাতো বলবোনা আমি তোমাকে।
বুঝে নিতে হবে তোমাকেই.. আমার বিদ্যুৎ চাহনিতে,আমার প্রাণ খোলা হাসি তে, একনাগাড়ে বলে যাওয়া কথায়...আমার গাল ফোলানো, চুটিয়ে ঝগড়া, বিরক্ত হয়ে চিৎকার, তারস্বরে গেয়ে ওঠা বেসুরো গান...সবকিছুতে তোমাকেই বুঝে নিতে হবে।
যদি বিশেষ দিনে তোমাকে বলে বোঝাতে হয়, ভালোবাসি...তবে কিসের ভালোবাসা সে?
না বুঝতে পার,আমার মন্দবাসা নিয়েই দিব্যি আছি আমি।।

Friday, February 2, 2018

কিপ্টা বন্ধুদের সাথে মজা

বাংলা মজার গল্প।
Bengali Funny Story 
Bangla Mojar Funny Golpo
Bengali Funny Photo For Facebook - Valobasa
Bengali Funny Photo For Facebook - Valobasa
আবিরের বাড়িতে চারজন বন্ধু এসেছে।
আর তখন আবির তার বউকে চা বানাতে বললেন।

আবিরের বউ রান্নাঘরে আবিরকে ডাকলো এবং বললোঃ- চিনি তো সব শেষ, একফোঁটাও নেই, চা বানাবো কি করে?

আবিরঃ- তুমি বানাও তো চা, বাকিটা আমি ম্যানেজ করে নেবো।

আবিরের বউ চা বানিয়ে পরিবেশন করলেন।

তখন আবির বললেনঃ - বন্ধুরা আজ আমরা একটা মজার খেলা খেলবো। এই 4টা চা-এর কাপগুলোর মধ্যে একটা কাপে চিনি
দেওয়া নেই, এখান থেকে সবাই একটা করে কাপ নেবে আর যার কাপে চিনি থাকবে না, সে আগামী মঙ্গলবার আমাদের সবাইকে একটা বড় রেস্টুরেন্টে নিয়ে গিয়ে খাওয়াবে।


অতঃপর চা খাবার পর প্রশ্ন করা হলে সবাই স্বীকার করে নিলেন যে তাদের চায়ে চিনি ঠিকই ছিলো।
আর একজন তো বলেই বসলেন যেঃ- বৌদি আপনি কি আমার কাপে ডবল চিনি দিয়েছিলেন নাকি ?? :D :D

Saturday, January 13, 2018

ফ্রি WIFI লভ স্টোরি

আজ একটা Love Story তোমাদের জন্য।
তবে অন্য টাইপের, মজার।
তাহলে শুরু করি...
Funny Love Story, Very Funny Love Story, Bengali Funny Love Story
Funny Love Story, Very Funny Love Story, Bengali Funny Love Story
একটা মেয়ে প্রতিদিন কোচিং থেকে ফেরার সময় এক ছেলেকে তার বাড়ির সামনে অপেক্ষা করতে দেখতো।
.
আর এভাবেই দেখতে দেখতে প্রায় মাসখানেক
কেটে গেল। মেয়েটি বুঝতে পারল ছেলেটি তার জন্যই প্রতিদিন কষ্ট করে অপেক্ষা করে। তাই মেয়েটিও ছেলেটির প্রতি দূর্বল হতে লাগলো !...
.
ছেলেটি মুখ ফুটে কিছুই বলত না, শুধু বাড়ির সামনে পায়চারি করতো আর নয়তো ফোন হাতে নিয়ে সময় কাটাতো। 
.
মেয়েটি বুঝতে পারলো এই ছেলে খুব লাজুক,  তাই যা করার নিজেকেই করতে হবে...!!
একদিন মেয়েটি ছেলেটিকে গিয়ে বললো, "আর কত দিন এভাবে কাটাবে? 
বলো তুমি কি বলতে চাও।
আমি রাজি আছি।"
.
একথা শুনে ছেলেটির চোখে মুখে রাজ্য জয়ের ভাবমুর্তি ফুটে উঠলো। আর সব ভয় জয় করে সে বলল...
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
"দিদি...
আপনাদের বাড়ির wifi এর পাসওয়ার্ড দেওয়া নেই, তাই
নেট use করতে এখানে আসি। 
আপনাদের wifi এর speed আরেকটু fast করতে পারেন না!? ভিডিও ডাউনলোড করতে দিলে অনেকক্ষন দাঁড়িয়ে থাকতে হয়....!!"
Wifi at Girl Laptop