Sunday, November 19, 2017

সাঁতার জানিনা - মজার জোকস

আজ সময় খুব কম।
একটা ছোট মজার জোকস বলব শুধু।
Funny Bengali Jokes Images
একদিন পাগলা গারদের এক ডাক্তার তিন পাগলের উন্নতি দেখার জন্য পরীক্ষা নিচ্ছিলেন। 
পরীক্ষায় পাস করতে পারলে মুক্তি, আর না করলে আরো দুই বছরের জন্য আটকানো হবে। 
ডাক্তার তিনজনকে সাথে নিয়ে একটা জল শূন্য সুইমিং পুলের সামনে গিয়ে ঝাঁপ দিতে বললেন। 
প্রথম পাগল সাথে সাথেই ঝাঁপ দিয়ে পা ভেঙ্গে ফেলল। 
দ্বিতীয় পাগলটিও ডাক্তারের কথা মতো ঝাঁপ দিয়ে হাত ভেঙ্গে ফেলল। 
কিন্তু তৃতীয় পাগলটি কোনোমতেই ঝাঁপ দিতে রাজি হলো না। ডাক্তার আনন্দে চিৎকার করে উঠে বললেন, আরে, তুমি তো পুরোপুরি সুস্থ। 
তোমাকে মুক্ত করে দেব আজই। 
আচ্ছা বলো তো তুমি কেন ঝাঁপ দিলে না?
সে বললো, ‘আমি তো সাঁতার জানি না মাস্টারমশায়’।

Monday, November 13, 2017

অভাব

শুধু একটা কথা বলব,
ভালোবাসার মানুষটিকে প্লিজ অবহেলা করবেন না।

তোমাকে ভালোবেসে কেউ একজন প্রতিদিন বলে যাচ্ছে : কেমন আছো... কি করছো... খেয়েছো কিনা..!

এরকম ইত্যাদি কথাবার্তা বলে তোমার প্রতিনিয়ত খোঁজ রাখছে... কেয়ার করছে। 
কিন্তু তুমি তার কোন কথাই মূল্য দিলে না, অবহেলা করে যাচ্ছো। 
শত ব্যস্ততার মাঝেও কেউ একজন তোমাকে এইভাবে খোঁজ রাখছে অথচ এতে তোমার কিছু যায় আসে না, অবহেলা করেই যাচ্ছো !!
.তোমার অবহেলা পেয়ে মানুষটা খুব কষ্ট পাবে,

রাতে কেঁদে চোখ লাল করবে, তবুও তোমার খোঁজ রাখছে প্রতিনিয়ত। 
তুমি হয়তো ভাববে বাহ, এতো কষ্ট দেওয়ার পরেও সে আমাকে ভোলেনি, না জানি আমাকে কতো ভালোবাসে। 
এই দূর্বলতা পেয়ে তুমি প্রতিনিয়ত অবহেলা করেই যাচ্ছো।
একদিন, দুইদিন, তিনদিন... চতুর্থ দিন সে তোমার খোঁজ রাখছে না। 
তোমার মোবাইলে, ফোনে, মেসেজে তার কোন সাঁড়াশব্দ নেই। 
তুমি হয়তো অবাক হয়ে যাবে ভাববে কি ব্যাপার আজকে তার কোন খবর নেই কেন ? 
তোমার মন খারাপ হয়ে যাবে... তুমি হয়তো একটু ব্যস্ত হয়ে পড়বে তার খবর নেয়ার জন্য !!
অবশেষে জানতে পারবে যে মানুষটা রাতের পর রাত তোমার জন্য কেঁদে চোখ লাল করে দিতো, সে এখন গভীর ঘুমে মগ্ন।

যে মানুষটা তার সবকিছু বাদ দিয়ে প্রতি মুহূর্তে তোমার খোঁজ রাখতো, সে এখন তার বন্ধুদের সাথে ফুল মাস্তিতে আছে।
যে মানুষটা তিনবেলা খাওয়ার আগে তুমি খেয়েছো কিনা জানতে চাইতো, সে এখন নিজে খেয়েই টুপ করে ঘুমিয়ে পড়ছে।
ঠিক সেই মুহূর্তেই তুমি তার অভাবটা বুঝতে পারবে।
তোমার প্রতি তার কেয়ারটুকুর মূল্যটা বুঝতে পারবে।
ঠিক তখনেই মনে হবে মানুষটা তোমার জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিলো, তখন ইচ্ছা করবে তাকে ফিরিয়ে আনতে। 
মনে মনে খুব চাইবে সে যেন আগেরমত তোমার কেয়ার করে, কিন্তু তখন তুমি তাকে আর পাবে না, সে ফিরে আসবে না। 
কারণ, ততদিনে অনেক দেরি হয়ে গেছে, তুমি অনেক দেরি করে ফেলেছো!!

Friday, November 10, 2017

ঝগড়া - খুনসুটি

Young Lovly Couple -Valobasa

Boy - I hate you..
Girl- Me too..
Boy- আমি তোমার সাথে থাকতে চাইনা।
Girl- আমি ও চাইনা।
Boy-তা থাকবে কেন... :@
Girl- আমি কেন কেউ তোমার সাথে থাকবে না।
Boy- সেটা তোমায় না দেখলেও চলবে
girl- হুঃ এতোদিন দেখেছিলাম তাই বেঁচেছিলে।
boy- কি দেখেছিল ? একটা ice cream ও তো খেতে দিতেনা , শুধু ঠান্ডা লাগবে বলতে।
girl- বেশ করেছি । ice cream খেলে যে জ্বর আসতো সেটা ভূলেগেছ তাই তো!
boy- ও একটু আধটু হতেই পারে। তোমার তো ছোট ছোট ব্যপারে ঝামেলা করা চাই । gift গুলো পর্যন্ত like করতে না :@
girl- কি করে like করবো ? তুমি gift choice করতে জানো ?
boy- এখন তো বলবেই । নেবার সময় তো হাসি মুখে নিয়ে নিতে...
girl - সে তো তোমাকে hurt করতে চাইনি বলে কিছু
বলতাম না ., তাছাড়া তুমিও তো আমার gift like করতে না।
boy-কোনটা করিনি শুনি... তোমার দেওয়া violet shirt
টা আজও যত্ন করে রেখে দিয়েছি।
Girl- কোন shirt টা ? যেটা তোমার birthday তে দিয়েছিলাম !?
boy- হ্যাঁ , যার জন্য তুমি সেদিন দোকানের ছেলেটার সাথে ঝগড়া করেছিলে।
girl- বেশ করেছি । ও তোমায় অপমান করবে কেন?
boy- আমার জন্য তুমি ঝগড়া করবে.... ! এত 
ভালোবাস আমায়.. !
girl-হুম, i love u..
boy- i love u too babu...!

Friday, October 20, 2017

আলো বন্ধ করলে সাদা কালো সব সমান

আজকের লেখাটি,
একটা কালো মেয়ের কথা, যাকে অনেকবার দেখতে এসেছে 
কিন্তু কেউ বিয়ে করেনি।
Kankona San
চেয়ারে বসে বইয়ের উপর মাথা রেখে কাঁদছে রিমি। 
এই নিয়ে ৭ টা ছেলে ওকে দেখে গেছে।
কিন্তু কেউ পছন্দ করেনি। 
রিমি ভাবছে ছেলেরা তাকে পছন্দই বা করবে কেন? 
সবাই সৌন্দর্যের পাগল। 
সবাই ছোটে অপ্সরীদের পেছনে। 
তার মত কালো পেত্নী মেয়ের দিকে ছেলেরা মুখ তুলে তাকাবে কেন?
নিজের উপর রিমির রাগ হয়। 
ঈশ্বর কেন তাকে কালো করে সৃষ্টি করেছেন?
এই সমাজে যে কালো হয়ে জন্মানো অপরাধ। 
তার উপর প্রতিবেশিদের কানা-ঘুষা চলছে, 'দেখ রিমিকে
এখনো বিয়ে দিতে পারল না। বুড়ি হয়ে যাচ্ছে।'
রিমির মাঝে মাঝে ইচ্ছা হয় আত্মহত্যা করতে।
যে সমাজ তার মত কালো মেয়েদের অধিকার দিতে পারে না সেখানে বেচে থেকে লাভ কি?
আবার ভাবে ধুর আত্মহত্যা কেন করব?
আত্মহত্যা  করেলে তো সমাজের এই সব মুখোশধারি
শয়তানদের কাছে আমার পরাজয় হবে। 
রিমির চোখে মুখে যে অনেক স্বপ্ন।
না রিমি আত্মহত্যা করবে না।
সমাজে তাকে বেচে থাকতে হবে। 
এই সমাজের বিরুদ্ধে লড়াই করে জয়ী হতে হবে।
রিমির ভাবনায় ছেদ পড়ে পিঠে কারো হাতের ছোয়ায়। 
ঘুরে দেখে ওর বাবা দাঁড়িয়ে আছে। 
ওঠ রিমি, আর কত কাদবি? ভাত খেতে চল।
মেয়ের দুঃখ ভাল করেই বোঝেন তিনি। মেয়েটার গায়ের রং কালো। মেেয়টার জন্য ভীষণ কষ্ট হয়।
কোন মতে নিজের চোখের জল আড়াল করেন মেয়ের সামনে থেকে। আজ যে তিনিই এক রকম জোর করে রিমিকে ছেলে দেখিয়েছেন। বার বার প্রত্যাখাত হয়ে রিমি ঠিক করেছিল আর
কোন ছেলের সামনে যাবে না। কিন্তু যখন ওর বাবা এসে বলল চল মা ওরা বসে আছে। আমার মান সম্মানটা রাখ।ছেলেরা যদি তোকে না দেখেই ফিরে যায় তাহলে আমার আর মান-সম্মানই থাকবে না।।তখন আর রিমি বাবার অনুরোধ ফেলতে পারেনি।


চল রিমি, ভাত খেতে চল। 
তোর মা বসে আছে। 
রিমি সুবোধ বালিকার মত বাবার পেছনে পেছনে ভাত খেতে চলে যায়।
রাতে শুয়ে রিমি ভাবছে যেদিন কোন ছেলে ওর সব কিছু জেনে শুনে নিজ থেকে এসে বিয়ের প্রস্তাব দেবে সেদিনই ও বিয়ে করবে। ওর বিশ্বাস দেশে এখনও ভাল ছেলে রয়েছে।
বেশ কয়েক দিন পর ফেসবুকে রিমির নতুন একটি ছেলের
সাথে পরিচয় হয়।
চলতে থাকে তাদের দুজনের চ্যাটিং। 
রিমির কাছে ছেলেটাকে ব্যাতিক্রমি মনে হয়। 
ওর চিন্তা-ধারা, মন-মানসিকতা সম্পুর্নই ভিন্ন ধরনের। 
ছেলেটা বেশ বুদ্ধিমানও বটে। ওর নাম ইশরাক। ইন্টারনেটে কি সব
হিবিজিবি কাজ করে উপার্জন করে। উপার্জনও মন্দ না।
ইশরাককে রিমির বেশ মনে ধরেছে। 
কিন্তু ইশরাককে ওর মনের কথা বলতে সাহস পায় না।
রিমি ভাবে আমার মত মেয়েকে কি ইশরাকের মত ভাল ছেলের পাশে শোভা পায়? 
ওর পাশে শোভা পায় কোন রাজকুমারি।
ধুর এইসব আমি কি ভাবছি? 
ইশরাক হয়ত আমাকে একজন বন্ধু ভাবে। এর বেশি কিছুই না। কিন্তু ইশরাকের মাঝে মাঝে কিছু কথা রিমিকে আশান্বিত করে তোলে।
মনে মনে ভাবে ইশরাকও হয়ত আমাকে ভালবাসে। 
সে যে অন্য দশটা ছেলের মত নয়।
যদি ওর কাছে আমাকে ভাল লেগেই থাকে তাহলে বলছে না কেন ওর ভালবাসার কথা? 
আমার মনের কথা গুলি কি গাধাটা বুঝতে পারেনা? 
আমার চোখের ভাষা কি হাবাটা পড়তে পারেনা?

এইভাবে দুই মাস কেটে যায়... 

রিমি আশায় থাকে গাধাটা ওর ভাল লাগার কথা জানাবে।
আর রিমি তার ভালবাসার নায়িকা হয়ে থাকবে সারা জীবন। ইশরাকের সব কষ্ট ভুলিয়ে দেবে।
কিন্তু রিমির আশায় গুড়বালি।
ইশরাকের কোন সাড়া শব্দই নেই। 
হাবাটা কেবল ওর সাথে মজা করেই যায়। 
রিমি সিদ্ধান্ত নেয় এইবার ও নিজেই ইশরাককে বলবে ওর মনের কথা।
কপালে যা আছ হবেই।
না হলে গাধাটাকে চিরতরে হারাতে হবে।
এই যখন সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে তখন আকস্মাৎ একদিন ইশরাক ওর ভালবাসার কথা রিমিকে জানায়। 
রিমি তো আনন্দে আত্নহারা।
রিমি বলে ইশরাক তুমি জান কিনা জানিনা তোমার এই কথাটি শোনার জন্য কত কাল, কত ক্ষণ, কত মাস, কত মিনিট অপেক্ষা করেছি তা তুমি বুঝবে না।
তুমি আমার মনের ভাষা বুঝতে পারনি? 
যদি বুঝতে তাহলে আমাকে এত কষ্ট দিতেনা! 
দুঃখে সুখে সারা জীবন তোমারই পাশে থাকব। 
আমিও তোমাকে ভালবাসি। 
কথা গুলি বলতেই রিমির গাল বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে। 
তবে এই অশ্রু দুঃখের নয় সুখের।
মোবাইলটা বুকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে রিমি।


রিমি ও ইশরাকের বিয়ে হয়েছে এক বছর হল। 
বেশ সুখেই কাটছে ওদের দাম্পত্য জীবন।
আজ ইশরাক রিমিকে নিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছে, পথে ইশরাকের অনেক পুরানো বন্ধু রিফাতের সাথে দেখা।
ইশরাক – কিরে কেমন আছিস?
রিফাত- ভাল। তোর কি খবর? 
ইশরাক – আছি কোন রকম। কোথাই থাকিস শালা আজকাল তোর দেখাই পাওয়া যায় না।
রিফাত – ব্যবসা নিয়া ব্যস্ত আছিরে। রিমিকে ইঙ্গিত করে বলল এটা কি তোর বউ নাকি? 
ইশরাক – ঠিকই ধরেছিস। বিয়া করে স্বাধীণতা হারিয়ে ফেলেছি।
রিফাত – এ এ এ তোর মত ছেলে কি করে এই রকম কালো মেয়েকে বিয়ে করেছিস? আর কি মেয়ে খুজে পাসনি?
(রিফাতের উদ্দেশ্যই ইশরাককে অপমান করা) 
রিফাতের কথা গুলি শেষ হওয়ার সাথে সাথেই রিমির মনটা বিষাদে ছেয়ে যায়। নিজেকে অপরাধি মনে হয়। চোখের সামনে নিজের বউয়ের এই অপমান !! ইশরাকও ছেড়ে দেবার পাত্র নয়।
ইশরাক – শোন রিফাত তুই তো বিয়ে করেছিস নিশুকে। নিশু তো আমাদের ক্লাসমেট ছিল। ওকে তো আমি ভাল করেই চিনি। ওর গায়ের রংটা ছাড়া আর কি আছে বল? 
ও তো ভাল করে নিজের নামটাও লিখতে পারে না। 
কি করবি ওর ফরসা চামড়া দিয়ে। 
ওর রুপ কি বাজারে কেজি হিসেবে বিক্রি করবি? 
ওর ফরসা চামড়া কি তোর কোন কাজে আসবে? 
উপরের চামড়াটাই মানুষের আসল রুপ না। 
বাতি নিভালে কালো-সাদার মধ্যে কোন পার্থক্য থাকে না। 
চিন্তা করে দেখতো তোর একটা বিএ পাশ ছেলের সাথে ওর মত
একটা প্রায় মুর্খ মেয়েকে কেমন বেমানন দেখায় না?
ভুলে গেছিস ও এস.এস.সি তে টেষ্ট পরীক্ষায় ৮ বিষয়ে জোড়া চশমা পেয়েছিল?
তোর বউয়ের মত সুন্দরী মেয়ে যাদের মাথা আস্ত একটা ফাকা লাউ দিয়ে ভরা তাদের কেন আমি বিয়ে করব।
মাথায় গোবর ভরা সুন্দরীরা কোন উপকারে আসবে? 
আমার রিমি কালো হতে পারে কিন্তু ওর যা মেধা, বুদ্ধিমত্তা আছে তার শত ভাগের এক ভাগও নেই তোর নিশুর মাঝে। 
গোড়ান ফুল তো দেখেছিস।
দেখতে কত সুন্দর। কিন্তু মানুষের কাছে তার কোন কদর নেই। কারন এই ফুলের কোণ গুন নেই। 
তোর বউয়ের মত আলু মার্কা সুন্দরীরাও আমার কাছে এই গোড়ান
ফুলের মতই কোন মুল্য নেই। 
আমি কেন সুধুসুধু একটা লাউয়ের ঢোল নিয়ে ঘুরব? 
মাথা মোটা এইসব সুন্দরীদের আমি লেবেন্ডিস লেডি বলেই ডাকি।মনে রাখিস অমূল্য জিনিষ বাজার থেকে চিনিয়া লইতে হয়। 
তা তোর মত টিনের চশমা পড়া লোকদের চোখে ধরা পড়বে না। দৃষ্টি ভঙ্গি বদলাতে হবে।
পাল্টাতে হবে মন মানসিকতা। 
তবেই দেখবি সব কিছু সুন্দর লাগছে।
কথাগুলি বলেই রিফাতকে কনও কথা বলার সুযোগ না দিয়েই ইশরাক রিমিকে নিয়ে হন হন করে হেটে যায়।
ইশরাক ভেবেছিল রিমির হয়ত মন খারাপ।
কিন্তু ওর দিকে তাকিয়ে দেখে রিমি মিটিমিট হাসছে।
আজ তার স্বামী তাকে অপমান করার বদলা ফিরিয়ে দিতে পেরেছে।
আজ নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখি মানুষ মনে হচ্ছে রিমির।
মনে মনে ভাবে সমাজে ইশরাকের মত মানুষ আছে বলেই আজও সমাজ টিকে আছে।

লেখাঃ মাসুদ সরকার রানা

Wednesday, September 27, 2017

আপনি কি ছ্যাকা খেয়ে ব্যাকা হয়ে গেছেন ?

শারদীয় শুভেচ্ছা Friends...
দুর্গাপূজাতে আপনাদের জন্য টিপস নিয়ে এসেছি, 
সুখে থাকার টিপস।
Sad cute girl
আপনি ছ্যাকা খেয়ে ব্যাকা হয়ে গেছেন?
খুবকষ্ট হয় আপনার?
মরে যেতে ইচ্ছে করে?
নেশা করেন?
লেখা পড়া ছেড়ে দিয়েছেন?
মন খারাপ করে থাকেন?
আপনি আপনার জীবনটা নিয়ে খুব বোরিং?
খুব হতাশাগ্রস্থ আপনি?
জীবনটিকে তিলে তিলে শেষকরে দিচ্ছেন?
আপনার উত্তর যদিহ্যাঁ হয়, তবে আপনাকে বলছি।



তুই ছেলেই হ আর মেয়েই হ, থাপ্পড় দিয়ে দাঁত ফেলে দেবো।
কি পেয়েছিস কি?
জীবনটাকে দু-টাকার কয়েন ভেবেছিস?
তুই কি জানিস , তুই কতটা প্রিয় তোর বাবার কাছে?
তুই কি জানিস তুই তোর মায়ের কাছে সাত রাজার ধন?
তুই কি জানিস একটি সন্তান জন্ম হওয়ার জন্য, মাকে কতটা ব্যাথা সহ্য করতে হয়?
তুই কি জানিস তোর মা তোকে দশ মাস, দশ দিন গর্ভে ধারণ করে রেখেছিলো?
কে না কে তোকে ছেড়ে গেছে, তাতে তুই কষ্ট পাবি?
এত মূল্যবান একটা জীবন নষ্ট করবি?
কেনো তুই এত অবুঝ?
যে গেছে তো গেছে-ই।
ও গেছে আরেকজন আসবে।
এত ভাবিস কেনো? 
তুই ডিজিটাল যুগে এসে যদি এত বোকামী করিস তবে রাগ তো হবেই আমার!
এই জামানায় প্রেমের শোকের আয়ু বড় জোড় কয়েক সেকেন্ড।
এটা এই জামানায় বেঁচে থাকার মূল মন্ত্র।
আচ্ছা তুই যদি মরে যাস তবে যে তোকে ছেড়ে গেছে সে তো দূর থেকে বলবে,
বাব্বা বেঁচে গেছি অল্পের জন্য।
আর যদি তুই বড় মানুষ হোস তবে দেখবি, সে দূর থেকে আফসোস করে বলবে, ইস কেনো যে ওকে ছেড়ে এলাম!
সো, কিছু করে দেখাও বস।

Friday, September 1, 2017

আমি মেয়ে, আমি অবাঞ্ছিত

১৪ বয়সে প্রথম জেনেছিলাম - আমার জন্মের খবর পেয়ে ঠাম্মা মাথায় হাত দিয়ে বারান্দায় বসে পড়েছিল। 
Beautiful Baby Girl - Valobasa
আমি, বাবা মার দ্বিতীয় কন্যা সন্তান। 
এই ঘটনার ঠিক দেড় বছর পর আমার ভাইয়ের জন্ম হয়। 
ঠাম্মা আমাকে সারাজীবন 'লক্ষ্মীছাড়ী' বলেই ডাকতো। 
ছোটবেলাতেই বুঝে গিয়েছিলাম বাড়ীতে আমার আর দিদির জন্য এক রকম ব্যবস্থা, আর ভাইয়ের জন্য অন্যরকম। 
পুজোয় ভাইয়ের জন্য চারটে জামা; আমার-দিদির একটা একটা। ভাইয়ের টিফিনবক্সে আপেল-কলা-মিষ্টি। আমার-দিদির যা হোক কিছু। এসব কড়া নিয়মের বাইরে বেরোনোর ক্ষমতা আমার মায়ের ছিলনা। দিদিও কখনো নিয়ম ভাঙার চেষ্টা করেনি। 
কিন্তু আমাকে বারবার ঠাম্মার কাছে শুনতে হয়েছে, -"এ মেয়ের বড় নোলা, ভীষন লোভ, এক্কেবারে অলক্ষ্মী এসেচে কোথা থেকে।
তবুও আমার বায়নার অন্ত ছিলনা। মা মাঝে মাঝেই আমার বায়না মেটাতে, সবাই কে লুকিয়ে পয়সা দিত। দিদিকে কখনো কিছু চাইতে দেখিনি। 
আমি তখন ক্লাস সিক্স-এ। 
স্কুল থেকে ফিরে দেখি মা'র মুখ থমথমে। 
কিছু একটা হয়েছে আন্দাজ করতে পারছি। সন্ধ্যেবেলা পড়তে বসে দিদি বলল- "তুই মা কে এত বিপদে ফেলিস কেন? 
আজ ঠাম্মা দেখেছে,মার থেকে লুকিয়ে পয়সা নিচ্ছিস।"
আমার থেকে সাড়ে তিন বছরের বড় দিদি সেদিন আমাকে বুঝিয়ে ছিল 'এ বাড়ীতে মেয়েদের কি কি করতে নেই।
মেয়েদের মুখফুটে কিচ্ছু চাইতে নেই;  বেশী কথা বলতে নেই; লাফাতে নেই;  দৌড়াতে নেই। মেয়েদের চিৎকার করতে নেই; ঘুড়ি ওড়াতে নেই;  গুলি খেলতে নেই; পা ছড়িয়ে বসতে নেই;  হা হা করে হাসতে নেই, সব সময় খাই খাই করতে নেই। 

অবাক হয়ে সেদিন আমি ..."নেই"-য়ের ফর্দ শুনেছিলাম।
দিদিকে খুব বেশীদিন এত 'নেই' মানতে হয়নি। আমার রোগা ভোগা দিদিটা বিয়ের ধকল সামলাতে পারেনি। বিয়ের দু'বছর পর, মাত্র বাইশে, শ্বশুরবাড়ীতেই মারা যায়। 

সেদিন প্রথম আমার মা, সারাদিন বিছানায় শুয়ে ছিল। ঠাকুমা, ভাই আর বাবার মানবিকতা বোধকে, সেই একদিনের জন্য কিছুটা জাগ্রত অবস্থায় দেখেছিলাম। সারাদিন কেউ মাকে কোনো ফরমাইশ করেনি। 
সত্যি বলব- এত দুঃখের দিনেও, সেদিন আমার ভালোলাগছিল;  একটাই কথা ভেবে আমার কাকভোরে ওঠা মা, এই সুযোগে, একটা পূর্ণ দিনের বিশ্রাম তো পেল!!
কলেজে এক অধ্যাপক, ফাঁকা ক্লাসরুমে আমার এক বন্ধবীর হাত চেপে ধরেছিল। ব্যাপারটা প্রিন্সিপল্ কে জানাতে গেলাম। তিনি বললেন- "গার্লস কলেজে ওসব হয়েই থাকে। এ'নিয়ে বেশী সোরগোল কোরোনা। আমি দেখছি কি ব্যবস্থা নেওয়া যায়।" তিনি যে কি ব্যবস্থা নিয়ে ছিলেন আজও জানতে পারিনি। 
কিন্তু, আমার ভাই ব্যাপরটা কোনো ভাবে জেনে, আমাকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল। বাবার সামনে দাঁড়িয়ে সে সোজা ভাষায় আমাকে বলল- "তোর আর সেজেগুজে কলেজ যাবার দরকার নেই। বাড়িতে পড়ে পরীক্ষা দে।"
Baby Girl Studying - Valobasa

আমিতো দিদির মত লক্ষ্মী মেয়ে নই, তাই অন্যের করে দেওয়া ব্যবস্থা, আমার পক্ষে মানা সম্ভব হয়নি।

আমার 'মেয়েবেলার', আর এক দিনের কথা খুব মনে পড়ে। 
বাড়ীতে কি একটা পুজো ছিল। দিদি মাকে রান্নাঘরে সাহায্য করছে। ঠাম্মা আমাকে ঠাকুরঘরে নিয়ে গিয়ে প্রসাদ, ঘট, ফুল বেলপাতা সাজানোর প্রশিক্ষন দিচ্ছে। পুজোর জোগাড় শেষ হল, আমার শিক্ষা সম্পূর্ণ হল।  কিন্তু, আমার চোখ তখনো আটকে আছে, নারায়নের জন্য সাজানো প্রসাদী নৈবেদ্যর থালায়। নৈবেদ্যর চূড়ায় চূড়ামনী হয়ে বসে আছে, বেশ বড় সাইজের একটা নলেনগুড়ের সন্দেশ। 
যথা সময়ে পুজো শেষ হল। মা প্রসাদ ভাগ করার তোরজোড় করছে। হঠাৎ‌ ! সবকিছু সরিয়ে, সবাইকে অবাক করে দিয়ে,আমি - সেই মহার্ঘ্য সন্দেশ, ছোঁ'মেরে তুলে নিয়ে, মুখে পুড়ে দিলাম। 
মুখভর্তি সুস্বাদে আমি তখন অবিভূত। 
হুঁশ ফিরল, যখন সন্দেশ ভরা গালে মায়ের প্রচন্ড এক চড় এসে পড়লো। 

ঠাকুমার প্রভূত গালিগালাজ থেকে বুঝলাম--- নৈবেদ্য যতই আমার সাজানো হোক; সেই প্রসাদের সিংহভাগের অধিকারী বাড়ীর পুরুষ সদস্যরা। 
দু'গালে মায়ের পাঁচ আঙুলের দাগ নিয়ে কখন ঘুমিয়ে পড়েছি। অনেক রাতে মায়ের ছোঁয়ায় ঘুম ভাঙলো। অভিমানে-রাগে মুখ ফিরিয়ে শুয়ে রইলাম। কিন্তু,  আমার চুলে হাত বুলাতে বুলাতে,  মায়ের অসহায়  কান্না, কোনোদিন ভুলতে পারি নি।
"মরার সময় ছেলের হাতের জল না পেলে স্বর্গবাস হয়না।"...... ঠাম্মার এই কথাটা বাবা মনে প্রানে বিশ্বাস করতো। ভাই ছিল আমার বাবার সেই স্বর্গবাসের ইনভেস্টমেন্ট। 
আমার ভাই, বর্তমানে ব্যাঙ্গালোরের এক বহুজাতীক সংস্থায় কর্মরত এবং বিবাহিত। তার অবাঙালী পরিবারকে নিয়ে সেখানেই নিরাপদ জীবন যাপন করছে। এ শহরে খুব একটা আসার দরকার পড়েনা। এলেও অফিসের ভি.ই.পি গেস্টহাউজে থাকে। পূর্ব- দক্ষিণ খোলা বিশাল ফ্ল্যাটের অভ্যস্থ জীবন; এ'বাড়ীর স্যাঁতস্যাতে দেওয়ালে ওদের কষ্ট হয়। বাবা মারা গেছেন প্রায় দু'বছর হল। প্রভিডেন্ট ফান্ডের ষাট শতাংশ ছেলের ক্যারীয়ারে খরচ করেছেন। ইনভেস্টমেন্টের পুরোটাই যে জলে গেছে সেটা মৃত্যুর দিনেও বিশ্বাস করেতে পারেননি।
ঠাকুমার প্রায় চুরাশী চলছে। বৃদ্ধার আর ছেলের হাতের জল পাওয়া হলনা। আমার ছাত্র পড়ানো আর স্কুলে চাকরীর টাকায়, সংসারটা কোনো মতে দাঁড়িয়ে আছে। 
সেদিন সবে বাড়ীর দরজায় পা রেখেছি। মা ছুটে এল........
 "তাড়াতাড়ি আয়। সকাল থেকে কিচ্ছু খাচ্ছে না। বারবার তোকে খুঁজছে।"......
ঘরে ঢুকে বৃদ্ধার মাথার কাছে বসলাম। 
মনে হল আমাকে দেখে, একটু যেন হাসলো। 
আমার হাতে ধরা দুধের গ্লাস থেকে দু'চুমুক মুখে দিয়েই, আবার ক্লান্তিতে মাথাটা বিছানায় এলিয়ে দিল। 
ইশারায় আমাকে কাছে ডাকলো। আমি মুখটা নামিয়ে আনলাম মুখের কাছে। 
খুব আস্তে, প্রায় নিভে যাওয়া কন্ঠে ঠাম্মা বলল - "লক্ষ্মীছাড়ী বিয়ে কোরিস; তোর মেয়ে হতে ইচ্ছা হয়। 
বুড়িটাকে ক্ষমা করে দিস।"
Girl With Mom travelling- Valobasa
মা আর আমি সেদিন সারারাত জেগে বসে রইলাম। 
সারারাত ঠাম্মার বন্ধচোখ থেকে গড়িয়ে পড়া জল মুছলাম।
এত দিন পরে বৃদ্ধার কাছে আমার 'অলক্ষ্মী' জন্ম সার্থক হয়েছে।

# জানিনা কার লেখা, তবে Aparna Chakraborty নামের কেউ হতে পারে। 

Saturday, August 19, 2017

কিছু ভুল শোধরানো যায়না

কিছু লিখবনা ফালতু কথা।
গল্প পড়ুন,...
Boyfriend and Girlfriend with Guiter
Boyfriend and Girlfriend with Guiter

আমি আর আগের মতো অবাক হই না।
অবাক হতে পারি না।
হয়তো অবাক হওয়ার ক্ষমতা টা নষ্ট হয়ে গিয়েছে।
মানুষ কারনে অকারনে অবাক হয়।
মানুষ হওয়ার সুবাধে আমার অবাক হওয়ার প্রয়োজন ছিলো।
কারন ইন্টার্ভিউ দিতে গিয়ে আমার প্রাক্তন প্রেমিকার সাথে অনেকদিন পর দেখা হয়ে গিয়েছে।
সে কিন্তু আমার মতো ইন্টার্ভিউ দিতে আসে নি।
সে স্বয়ং একজন ইন্টার্ভিউয়ার।
এই কারনে আমার অবাক হওয়ার দরকার ছিলো।
কিন্তু আমি এখন কোনকিছুতে অবাক হওয়ার আগে জিনিসটা ব্যাখ্যা করি।
ব্যাখ্যা করতে ব্যার্থ হলেও অবাক হই না।
সবকিছুরই একটা ব্যাখ্যা আছে।
এখন না পারি পরে হয়তো এর ব্যাখ্যা অবশ্যই পেয়ে যাবো।
নীরা আমার প্রাক্তন প্রেমিকার নাম।
এখন তো প্রাক্তন কেউ বলে না।
ইংরেজি শব্দ ব্যাবহার করে, এক্স গালফ্রেন্ড।
যাকে আজ ইন্টার্ভিউ রুমে দেখলাম।
কিন্তু সে আমার মতো না। সে অনেক অবাক হয়েছে।
তার অবাক হওয়া দৃষ্টি আমি দেখেছি।
তার অবাক হওয়ার অনেক কারন আছে।
এর প্রধান কারন হতে পারে আমি এখন ও চাকরির জন্য ঘুরছি যা হওয়ার কথা না।
আমি ক্যারিয়ারের ভালোর জন্য, একটা ভালো ভবিষ্যৎ এর জন্য তার সাথে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করেছি।
বর্তমানে যাকে বলে ব্রেক-আপ। সবচেয়ে বহুল ব্যাবহ্রত শব্দ।
কারনে অকারনে এই শব্দের প্রয়োগ হয়।
সবাই যখন বিভিন্ন সাধারন প্রশ্ন করছে চাকরির বিষয়ে আমার সম্পর্কে। 
তখন নীরা করলো অদ্ভুদ এক প্রশ্ন। যা এখানে মানায় না।
সে বললো,'মি. সাহেব আপনি কি কোন রিলেশনে আছেন বর্তমানে?' আমি অবাক হলাম।
মনে হলো পৃথিবীর সবচেয়ে অবাক করা প্রশ্ন এটি যা আমার অবাক হওয়ার গুন ফিরিয়ে এনেছে।
অবাক হওয়ার ভঙ্গি না করে উত্তর দিলাম,'না'
নীরার সাথে সম্পর্কের সময় এর চেয়ে আরো বেশি অবাক করা কথা বলতো।
তার সাথে আমার সম্পর্কের শুরু ইউনিভার্সিটির সময় থেকে।
আমি তখন ৩য় বর্ষ আর সে নতুন।
তাকে প্রথম দেখি আমার বন্ধুর সাথে।
আমার বন্ধুর দূরসম্পর্কের বোন হয় নীরা।
আমরা বন্ধুরা মিলে আড্ডা দিচ্ছিলাম তখন। 
আমি গিটার আর অন্য সবাই গান গাইছিলো।
গিটার বাজানোর শখ আমার স্কুল জীবন থেকে ছিলো।
কিছু শখ সময়ের সাথে সাথে মিটে যায়।
আমারো তাই হলো।
অনেকদিন হলো গিটারের তারগুলোতে হাত বুলায় না!!!
নীরা কে আমাদের সবার সাথে পরিচয় করালো আমার বন্ধুটি।আমাদের ভার্সিটিতে সে নতুন ভর্তি হয়েছে।
প্রথমদিন তেমন রুপবতী মনে হয়নি নীরাকে আমার কাছে।
যদিও আমি তেমন ভাবে দেখিনি।
মেয়েদের দিকে তেমন তাকাতামও না।
চোখে চোখ পড়লেই ভয় লাগতো। বুক ধড়ফড় করতো।
যার কারনে সব বন্ধুরা যখন ইন আ রিলেশনশিপ আমি তখন সিংগেল।
নীরার সাথে যখন পরেরবার দেখা হলো।
মনে হলো পৃথিবীর সবচেয়ে রুপবতী মেয়ে নীরা।
চোখে কাজল দেওয়ার কারনে হয়তো চেহারা টা আরো সুন্দর দেখাচ্ছিল। 
তখন মনে হলো এই কারনেই হয়তো আমি সিংগেল ছিলাম।
প্রেম মনে হয় নীরার কারনেই করা হয়নি।
Baby Boy and Girl with Flower

আমার প্রেম জীবনের অভিষেক হয়তো নীরার মাধ্যমেই হবে।
তাকে নিয়ে গেলাম ক্যাম্পাস টা ঘুরে দেখাবার জন্য।
তার চোখের দিকে তাকিয়ে ক্যাম্পাস সম্পর্কে বর্ণনা দিতে লাগলাম।যা আগে কোন মেয়ের সাথে করা হয় নি।
তার পরিবার ও তার নিজের সম্পর্কে কিছু জেনে নিলাম।
আমার নিজের সম্বন্ধেও কিছু পজিটিভ কথা বললাম কারন
আমার এখন মেইন টার্গেট নীরার সাথে প্রেম করবো তা না হলে জীবনের ষোল আনায় বৃথা হয়ে যাবে বলে মনে হয়েছিলো।
আমার ফোন নাম্বার টা সে নিজে থেকে নিয়ে আমার মোবাইলে কল
করল যাতে আমি ওর নাম্বার টা পাই।
এর পরে কিভাবে যেন আমাদের সম্পর্ক টা হয়ে গেলো।
যতো কঠিন ভেবেছিলাম তত কঠিন লাগে নি।
আমার বন্ধুকে জিজ্ঞেস করেছিলাম নীরা সিংগেল কিনা?
কিন্তু সে এমন ভঙ্গি করে আমার দিকে তাকিয়েছিলো যেন সব বুঝে গেছে আর কিছু বলতে হবে না।
পরেরদিন ঘটলো অবাক করা ঘটনা।
সে আমাকে সবার আলাদা নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো, 'আপনি নাকি আমাকে পছন্দ করেন' আমার দিকে তাকিয়ে উত্তরের জন্য অপেক্ষা করলো।
'কে বললো এ কথা?' কারন আমি এ কথাটির জন্য অপ্রস্তুত ছিলাম।
'তার মানে পছন্দ করেন না'
'মানে!' আমতা আমতা করতে লাগলাম। 
'পছন্দ না করলে আমাকে অন্য একটি নাম্বার দিয়ে কল দিয়ে কথা বলেন না কেন? 
আমার ফেসবুকে রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে আবার ক্যান্সেল করে দেন কেন? 
নিলয় ভায়ের কাছ থেকে আমার খোজ নেন কেন।
আমি সিংগেল আছি কিনা জিজ্ঞেস করলেন কেনো?' 
এতো প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তাই আসল কথাটা বলেই ফেললাম।
মনে হচ্ছিল দেরি করা ঠিক হবে না।'
আমি তোমাকে পছন্দ করি। আমি তোমাকে ভালোবাসি।'
সেই থেকে অনেক দিন আমাদের সম্পর্ক চললো।
ফোন কোম্পানিকে বড়লোক করার পদ্ধতি টা আমাদের গ্রহন করা শুরু হয়েছিল।
রাতের পর রাত শুধু ফোনালাপ।
নীরার সাথে আমার যেদিন শেষ কথা ও দেখা হয়েছিলো। 
সেদিন তার আংগুলে আমার দেওয়া আংটি টি দেখতে পাই নি।
সেদিন আমি তাকে ফোন করে বলেছিলাম তাকে একটা জরুরী কথা বলবো।
সেও বলেছিলো তার একটা জরুরী কথা আছে। 
আমার মনে হয়েছিলো তার জরুরী কথা টা এমন হবে যার কারনে আমি তার মায়া ছাড়তে পারবো না।
মায়া ছাড়াতে এসেছি, এখন আবার মায়ায় পড়ে গেলে হবে না।
তাই আমি কথাটা আগে বলতে চাইছিলাম। 
কিন্তু নীরা আমাকে বাধা দিয়ে সে আগে বলতে চেয়েছিলো। 
তখন বুঝি নি কেনো সে তার জরুরী কথা টা আগে বলতে চেয়েছিলো? 
পরে বুঝেছিলাম, কারন সেও আজকে মায়ার বাধন ছিঁড়তে এসেছিলো ছড়াতে নয়!
নীরা কিছু বলতে যাবে সে মুহূর্তে আমি বলে দিলাম' আমি তোমার সাথে আর থাকতে চায় না। আমি আমার ক্যারিয়ারের দিকে মন দিতে
চাই।'
নীরা চুপ করে নিচের দিকে তাকিয়ে ছিলো।
'আমি তোমার সাথে সম্পর্ক চালাতে গিয়ে নিজের লাইফটাকে ভালো করে চালাতে পারছি না।'
নীরা আমার দেওয়া আংটিটা দিয়ে বললো' আমি ও তাই চাইছিলাম।এজন্যই এসেছি। আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গিয়েছে'
সেদিনের পর আজ তাকে ইন্টার্ভিউ রুমে দেখলাম।
আমার তিন বছরের জুনিয়র হয়েও আমার আগে চাকরি করছে এ নিয়ে আমি অবাক হয়নি। কারন এর একটি  ব্যাখ্যা দাড় করিয়েছি।
নীরার সাথে সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর তার দাদা মানে আমার বন্ধু নিলয়ের কাছ থেকে শুনতে পাই যে নীরার বিয়ে হয়েছে বিরাট ধনী এক লোকের সাথে। মাথায় চুল নেই। 
টাক হওয়ার কারনে সবসময় চুল শেভ করে রাখে।
ইন্টার্ভিউ রুমেও আজকে এরকম একটা লোককে দেখতে পেয়েছি।হতে পারে এটাই নীরার স্বামী। 
আর নীরা এখানে নিজের স্বামীর কোম্পানিতে বড় কোন পদে চাকরী করে। .
আরেকটা নতুন বায়োডাটা অন্য কোম্পানিতে পাঠাবো বলে ভাবছিলাম। 
পত্রিকায় একটা চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখতে পেয়েছি।
কারন আমি নিশ্চিত ছিলাম নীরার কোম্পানিতে আমার
চাকরি হয়ে যাবে। 
তার ভুল বা আমার ভুল যার ভুলের কারনেই আমাদের সম্পর্ক ভাঙুক না কেন। নীরা তার স্বভাব মতো দয়ালু হবে।
আমার যোগ্যতা থাকুক আর না থাকুক এই চাকরিটা আমার হওয়ার পিছনে তার বিশাল অবদান থাকবে।
আমার ধারনা ভুল প্রমানিত হয় নি। 
নীরার কোম্পানি থেকে আমাকে জয়েন করার জন্য বলা হয়েছে সকালে আমার নামে দুটি চিঠি এসেছে।
জয়েন করার আগে কোম্পানির এমডির সাথে দেখা করার জন্য আলাদা আরেকটি চিঠি দেওয়া হয়েছে।
আমি নিশ্চিত এইটা নীরার কাজ।
নীরার কাজ সফল হক আমি তা চাইছি না এই মুহূর্তে। 
তাই চিঠি আর এপয়েনমেন্ট লেটার টা ছিড়ে ফেলে দিলাম আর চাকরির সংবাদ ফিচারে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি খুজতে লাগলাম।

Tuesday, August 8, 2017

ছেলেরাও তো মানুষ

লেখাটি হয়ত কোন মেয়ের লেখা।
আমি তার লেখাটী সম্পূর্ণ কপি করে আপনাদের সামনে তুলে দিলাম।
Alone Fool Boy - Valobasa

আমি একটা মেয়ে হয়ে ছেলেদের সাইড নিয়ে কথা বলছি, 
তাতে অনেক মেয়ে ভাবতে পারে... আলগা পিরিত। কিন্তু অতি বাস্তব।
একটি ছেলে আমার ভাই, একজন পুরুষ আমার বাবা আর একজন পুরুষ যে হবে আমার ভবিষ্যৎ..., তাই কথা গুলা সব মেয়ের পড়া উচিত।
রাস্তায় হেঁটে যাচ্ছি। পিছন থেকে একটা ছেলে কিছু বললে অথবা শিস বাজালেই এটি ইভটিজিং এবং ওরা মানুষ রূপী অমানুষ..! 
ওদের কি ঘরে মা বোন নেই?
এই কথা কেন আসলো?
কারণ আমি মেয়ে। মেয়ে হচ্ছে মায়ের জাতি। তাদের সম্মান দিতে হয়।
আচ্ছা, যখন মাথায় তেল দিয়ে নম্র ভদ্র শান্ত ছেলেটি বালিকা বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে হেঁটে যায় চুপচাপ, তখন হুঁ হুঁ করে হেসে ওঠা মায়ের জাতিরা কেমন করে বিব্রত করে ছেলেটিকে?
আমাদের কি ঘরে বাপ ভাই নেই? ছেলেটি কি বাপের জাত না??

বাপকে কি সম্মান করা যায় না..!
আচ্ছা, প্রেম করছি দু'জনেই। প্রেমিক সাহেবও তো বেকার, ছাত্র মানুষ।
তাহলে কেন আমিই মিসকল দেব?
ও যদি একটা সিগারেট কম খেয়ে ১০টাকা লোড করতে পারে,
আমি কেন ওর জন্য একটি হেয়ার ব্যান্ড না কিনে কল করার পয়সা জমাতে পারি না?
বন্ধুরা মিলে রেস্তোরাঁ আড্ডা দিচ্ছি। আড্ডার ফাঁকে মুখরোচক খাবার ও খেলাম কয়েক পদ।
আচ্ছা, ছেলে বন্ধুটিই কেন ওয়ালেট টি বের করে বিল দিবে?
আমার পার্স থেকে কেন বের হয় না বিলটা?
ও তো আমাকে টেডিবিয়ার, চকোলেট কত্তকিছু উপহার দেয়।
কই আমি তো একটি গোলাপ ও কেনার কথা মনে করিনা।
গাড়িভাড়া গুলোও আমার ঐ বন্ধুরাই দিচ্ছে, বাসের সিট ছেড়ে দিচ্ছে,
লাইনে দাঁড়ালে আগে যেতে দিচ্ছে (লেডিস ফার্স্ট)। বিপদে পড়লে দৌড়ে আসছে, আনন্দে হাসছে, বেদনায় সান্ত্বনা দিচ্ছে, আশা দিচ্ছে, ভরসা দিচ্ছে, রাগ করে গালিও দিচ্ছে, আবার অতি কষ্টের ভাগীদার হয়ে গোপনে কাঁদছে।
কখনো ভেবেছি সম্মানিত মা জাতি হিসেবে, কেমন লাগে ঐ তেল মাথায় কেবলাকান্ত ছেলেটির, যখন বুঝতে পারে একদল মেয়ে ব্যঙ্গ করছে তাকে নিয়েই??
প্রেমিক টি কয়েক মিনিট কথা বলতে প্রতিদিন রিচার্জ করছে কত ধান্ধা করে। 
কিন্তু ভেবেছি কি কখনো? আমারও কল করা উচিত, ও কেন কেটে ব্যাক করে সবসময়? 
কখনো অনুভব করেছি কি..! কেমন লাগে ঐ মুহূর্তে একটি ছেলের যখন তার পকেট পুরো ফাঁকা। অথবা শেষ ১০০টাকা বিল দিলে আগামী সাতদিন তাকে হেঁটে টিউশন করতে যেতে হবে, তবুও বিল টা সেই দেয়।কারণ সে বাপের জাত।
কই কখনো ভাবি নি তো, একটি গোলাপ তার হাতে দিলে আবেগে সে কতটা আত্মহারা হতে পারে..! 
তার বিপদে কখনো হাতটা চেপে ধরে দেখেছি..! একটু হলেও তো আস্থা পেত ছেলেটি। হতাশ ছেলেটিকে সাহস দিয়ে বলেছি কি..!
"আর বিড়ি খাস না, ভাল দিন আসবেই।"
তারা তো কাঁদতে জানে না। বালিশ না ভিজলেও নিকোটিনের ধোঁয়া জানে কতটা নির্ঘুম রাত কাটায় তারা।
তারা ভাই, তারা বাবা, তারা প্রিয়তম, তারা বন্ধু, তারা হারামী।
কিন্তু তাদের কত্ত দায়িত্ব..!
আমরা শুধু নিয়েই যাচ্ছি। কেন বিনিময়ে দিতে পারছি না?
মায়ের জাতি হয়ে তিন গুণ বেশি পাওনা আমার। কিন্তু বাপের জাতিকে এক ভাগ ও দিই না কেন?

ভাবি নি... ভাবার সময় হবেও না হয়তো......।