Friday, September 1, 2017

আমি মেয়ে, আমি অবাঞ্ছিত

১৪ বয়সে প্রথম জেনেছিলাম - আমার জন্মের খবর পেয়ে ঠাম্মা মাথায় হাত দিয়ে বারান্দায় বসে পড়েছিল। 
Beautiful Baby Girl - Valobasa
আমি, বাবা মার দ্বিতীয় কন্যা সন্তান। 
এই ঘটনার ঠিক দেড় বছর পর আমার ভাইয়ের জন্ম হয়। 
ঠাম্মা আমাকে সারাজীবন 'লক্ষ্মীছাড়ী' বলেই ডাকতো। 
ছোটবেলাতেই বুঝে গিয়েছিলাম বাড়ীতে আমার আর দিদির জন্য এক রকম ব্যবস্থা, আর ভাইয়ের জন্য অন্যরকম। 
পুজোয় ভাইয়ের জন্য চারটে জামা; আমার-দিদির একটা একটা। ভাইয়ের টিফিনবক্সে আপেল-কলা-মিষ্টি। আমার-দিদির যা হোক কিছু। এসব কড়া নিয়মের বাইরে বেরোনোর ক্ষমতা আমার মায়ের ছিলনা। দিদিও কখনো নিয়ম ভাঙার চেষ্টা করেনি। 
কিন্তু আমাকে বারবার ঠাম্মার কাছে শুনতে হয়েছে, -"এ মেয়ের বড় নোলা, ভীষন লোভ, এক্কেবারে অলক্ষ্মী এসেচে কোথা থেকে।
তবুও আমার বায়নার অন্ত ছিলনা। মা মাঝে মাঝেই আমার বায়না মেটাতে, সবাই কে লুকিয়ে পয়সা দিত। দিদিকে কখনো কিছু চাইতে দেখিনি। 
আমি তখন ক্লাস সিক্স-এ। 
স্কুল থেকে ফিরে দেখি মা'র মুখ থমথমে। 
কিছু একটা হয়েছে আন্দাজ করতে পারছি। সন্ধ্যেবেলা পড়তে বসে দিদি বলল- "তুই মা কে এত বিপদে ফেলিস কেন? 
আজ ঠাম্মা দেখেছে,মার থেকে লুকিয়ে পয়সা নিচ্ছিস।"
আমার থেকে সাড়ে তিন বছরের বড় দিদি সেদিন আমাকে বুঝিয়ে ছিল 'এ বাড়ীতে মেয়েদের কি কি করতে নেই।
মেয়েদের মুখফুটে কিচ্ছু চাইতে নেই;  বেশী কথা বলতে নেই; লাফাতে নেই;  দৌড়াতে নেই। মেয়েদের চিৎকার করতে নেই; ঘুড়ি ওড়াতে নেই;  গুলি খেলতে নেই; পা ছড়িয়ে বসতে নেই;  হা হা করে হাসতে নেই, সব সময় খাই খাই করতে নেই। 

অবাক হয়ে সেদিন আমি ..."নেই"-য়ের ফর্দ শুনেছিলাম।
দিদিকে খুব বেশীদিন এত 'নেই' মানতে হয়নি। আমার রোগা ভোগা দিদিটা বিয়ের ধকল সামলাতে পারেনি। বিয়ের দু'বছর পর, মাত্র বাইশে, শ্বশুরবাড়ীতেই মারা যায়। 

সেদিন প্রথম আমার মা, সারাদিন বিছানায় শুয়ে ছিল। ঠাকুমা, ভাই আর বাবার মানবিকতা বোধকে, সেই একদিনের জন্য কিছুটা জাগ্রত অবস্থায় দেখেছিলাম। সারাদিন কেউ মাকে কোনো ফরমাইশ করেনি। 
সত্যি বলব- এত দুঃখের দিনেও, সেদিন আমার ভালোলাগছিল;  একটাই কথা ভেবে আমার কাকভোরে ওঠা মা, এই সুযোগে, একটা পূর্ণ দিনের বিশ্রাম তো পেল!!
কলেজে এক অধ্যাপক, ফাঁকা ক্লাসরুমে আমার এক বন্ধবীর হাত চেপে ধরেছিল। ব্যাপারটা প্রিন্সিপল্ কে জানাতে গেলাম। তিনি বললেন- "গার্লস কলেজে ওসব হয়েই থাকে। এ'নিয়ে বেশী সোরগোল কোরোনা। আমি দেখছি কি ব্যবস্থা নেওয়া যায়।" তিনি যে কি ব্যবস্থা নিয়ে ছিলেন আজও জানতে পারিনি। 
কিন্তু, আমার ভাই ব্যাপরটা কোনো ভাবে জেনে, আমাকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল। বাবার সামনে দাঁড়িয়ে সে সোজা ভাষায় আমাকে বলল- "তোর আর সেজেগুজে কলেজ যাবার দরকার নেই। বাড়িতে পড়ে পরীক্ষা দে।"
Baby Girl Studying - Valobasa

আমিতো দিদির মত লক্ষ্মী মেয়ে নই, তাই অন্যের করে দেওয়া ব্যবস্থা, আমার পক্ষে মানা সম্ভব হয়নি।

আমার 'মেয়েবেলার', আর এক দিনের কথা খুব মনে পড়ে। 
বাড়ীতে কি একটা পুজো ছিল। দিদি মাকে রান্নাঘরে সাহায্য করছে। ঠাম্মা আমাকে ঠাকুরঘরে নিয়ে গিয়ে প্রসাদ, ঘট, ফুল বেলপাতা সাজানোর প্রশিক্ষন দিচ্ছে। পুজোর জোগাড় শেষ হল, আমার শিক্ষা সম্পূর্ণ হল।  কিন্তু, আমার চোখ তখনো আটকে আছে, নারায়নের জন্য সাজানো প্রসাদী নৈবেদ্যর থালায়। নৈবেদ্যর চূড়ায় চূড়ামনী হয়ে বসে আছে, বেশ বড় সাইজের একটা নলেনগুড়ের সন্দেশ। 
যথা সময়ে পুজো শেষ হল। মা প্রসাদ ভাগ করার তোরজোড় করছে। হঠাৎ‌ ! সবকিছু সরিয়ে, সবাইকে অবাক করে দিয়ে,আমি - সেই মহার্ঘ্য সন্দেশ, ছোঁ'মেরে তুলে নিয়ে, মুখে পুড়ে দিলাম। 
মুখভর্তি সুস্বাদে আমি তখন অবিভূত। 
হুঁশ ফিরল, যখন সন্দেশ ভরা গালে মায়ের প্রচন্ড এক চড় এসে পড়লো। 

ঠাকুমার প্রভূত গালিগালাজ থেকে বুঝলাম--- নৈবেদ্য যতই আমার সাজানো হোক; সেই প্রসাদের সিংহভাগের অধিকারী বাড়ীর পুরুষ সদস্যরা। 
দু'গালে মায়ের পাঁচ আঙুলের দাগ নিয়ে কখন ঘুমিয়ে পড়েছি। অনেক রাতে মায়ের ছোঁয়ায় ঘুম ভাঙলো। অভিমানে-রাগে মুখ ফিরিয়ে শুয়ে রইলাম। কিন্তু,  আমার চুলে হাত বুলাতে বুলাতে,  মায়ের অসহায়  কান্না, কোনোদিন ভুলতে পারি নি।
"মরার সময় ছেলের হাতের জল না পেলে স্বর্গবাস হয়না।"...... ঠাম্মার এই কথাটা বাবা মনে প্রানে বিশ্বাস করতো। ভাই ছিল আমার বাবার সেই স্বর্গবাসের ইনভেস্টমেন্ট। 
আমার ভাই, বর্তমানে ব্যাঙ্গালোরের এক বহুজাতীক সংস্থায় কর্মরত এবং বিবাহিত। তার অবাঙালী পরিবারকে নিয়ে সেখানেই নিরাপদ জীবন যাপন করছে। এ শহরে খুব একটা আসার দরকার পড়েনা। এলেও অফিসের ভি.ই.পি গেস্টহাউজে থাকে। পূর্ব- দক্ষিণ খোলা বিশাল ফ্ল্যাটের অভ্যস্থ জীবন; এ'বাড়ীর স্যাঁতস্যাতে দেওয়ালে ওদের কষ্ট হয়। বাবা মারা গেছেন প্রায় দু'বছর হল। প্রভিডেন্ট ফান্ডের ষাট শতাংশ ছেলের ক্যারীয়ারে খরচ করেছেন। ইনভেস্টমেন্টের পুরোটাই যে জলে গেছে সেটা মৃত্যুর দিনেও বিশ্বাস করেতে পারেননি।
ঠাকুমার প্রায় চুরাশী চলছে। বৃদ্ধার আর ছেলের হাতের জল পাওয়া হলনা। আমার ছাত্র পড়ানো আর স্কুলে চাকরীর টাকায়, সংসারটা কোনো মতে দাঁড়িয়ে আছে। 
সেদিন সবে বাড়ীর দরজায় পা রেখেছি। মা ছুটে এল........
 "তাড়াতাড়ি আয়। সকাল থেকে কিচ্ছু খাচ্ছে না। বারবার তোকে খুঁজছে।"......
ঘরে ঢুকে বৃদ্ধার মাথার কাছে বসলাম। 
মনে হল আমাকে দেখে, একটু যেন হাসলো। 
আমার হাতে ধরা দুধের গ্লাস থেকে দু'চুমুক মুখে দিয়েই, আবার ক্লান্তিতে মাথাটা বিছানায় এলিয়ে দিল। 
ইশারায় আমাকে কাছে ডাকলো। আমি মুখটা নামিয়ে আনলাম মুখের কাছে। 
খুব আস্তে, প্রায় নিভে যাওয়া কন্ঠে ঠাম্মা বলল - "লক্ষ্মীছাড়ী বিয়ে কোরিস; তোর মেয়ে হতে ইচ্ছা হয়। 
বুড়িটাকে ক্ষমা করে দিস।"
Girl With Mom travelling- Valobasa
মা আর আমি সেদিন সারারাত জেগে বসে রইলাম। 
সারারাত ঠাম্মার বন্ধচোখ থেকে গড়িয়ে পড়া জল মুছলাম।
এত দিন পরে বৃদ্ধার কাছে আমার 'অলক্ষ্মী' জন্ম সার্থক হয়েছে।

# জানিনা কার লেখা, তবে Aparna Chakraborty নামের কেউ হতে পারে। 

Saturday, August 19, 2017

কিছু ভুল শোধরানো যায়না

কিছু লিখবনা ফালতু কথা।
গল্প পড়ুন,...
Boyfriend and Girlfriend with Guiter
Boyfriend and Girlfriend with Guiter

আমি আর আগের মতো অবাক হই না।
অবাক হতে পারি না।
হয়তো অবাক হওয়ার ক্ষমতা টা নষ্ট হয়ে গিয়েছে।
মানুষ কারনে অকারনে অবাক হয়।
মানুষ হওয়ার সুবাধে আমার অবাক হওয়ার প্রয়োজন ছিলো।
কারন ইন্টার্ভিউ দিতে গিয়ে আমার প্রাক্তন প্রেমিকার সাথে অনেকদিন পর দেখা হয়ে গিয়েছে।
সে কিন্তু আমার মতো ইন্টার্ভিউ দিতে আসে নি।
সে স্বয়ং একজন ইন্টার্ভিউয়ার।
এই কারনে আমার অবাক হওয়ার দরকার ছিলো।
কিন্তু আমি এখন কোনকিছুতে অবাক হওয়ার আগে জিনিসটা ব্যাখ্যা করি।
ব্যাখ্যা করতে ব্যার্থ হলেও অবাক হই না।
সবকিছুরই একটা ব্যাখ্যা আছে।
এখন না পারি পরে হয়তো এর ব্যাখ্যা অবশ্যই পেয়ে যাবো।
নীরা আমার প্রাক্তন প্রেমিকার নাম।
এখন তো প্রাক্তন কেউ বলে না।
ইংরেজি শব্দ ব্যাবহার করে, এক্স গালফ্রেন্ড।
যাকে আজ ইন্টার্ভিউ রুমে দেখলাম।
কিন্তু সে আমার মতো না। সে অনেক অবাক হয়েছে।
তার অবাক হওয়া দৃষ্টি আমি দেখেছি।
তার অবাক হওয়ার অনেক কারন আছে।
এর প্রধান কারন হতে পারে আমি এখন ও চাকরির জন্য ঘুরছি যা হওয়ার কথা না।
আমি ক্যারিয়ারের ভালোর জন্য, একটা ভালো ভবিষ্যৎ এর জন্য তার সাথে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করেছি।
বর্তমানে যাকে বলে ব্রেক-আপ। সবচেয়ে বহুল ব্যাবহ্রত শব্দ।
কারনে অকারনে এই শব্দের প্রয়োগ হয়।
সবাই যখন বিভিন্ন সাধারন প্রশ্ন করছে চাকরির বিষয়ে আমার সম্পর্কে। 
তখন নীরা করলো অদ্ভুদ এক প্রশ্ন। যা এখানে মানায় না।
সে বললো,'মি. সাহেব আপনি কি কোন রিলেশনে আছেন বর্তমানে?' আমি অবাক হলাম।
মনে হলো পৃথিবীর সবচেয়ে অবাক করা প্রশ্ন এটি যা আমার অবাক হওয়ার গুন ফিরিয়ে এনেছে।
অবাক হওয়ার ভঙ্গি না করে উত্তর দিলাম,'না'
নীরার সাথে সম্পর্কের সময় এর চেয়ে আরো বেশি অবাক করা কথা বলতো।
তার সাথে আমার সম্পর্কের শুরু ইউনিভার্সিটির সময় থেকে।
আমি তখন ৩য় বর্ষ আর সে নতুন।
তাকে প্রথম দেখি আমার বন্ধুর সাথে।
আমার বন্ধুর দূরসম্পর্কের বোন হয় নীরা।
আমরা বন্ধুরা মিলে আড্ডা দিচ্ছিলাম তখন। 
আমি গিটার আর অন্য সবাই গান গাইছিলো।
গিটার বাজানোর শখ আমার স্কুল জীবন থেকে ছিলো।
কিছু শখ সময়ের সাথে সাথে মিটে যায়।
আমারো তাই হলো।
অনেকদিন হলো গিটারের তারগুলোতে হাত বুলায় না!!!
নীরা কে আমাদের সবার সাথে পরিচয় করালো আমার বন্ধুটি।আমাদের ভার্সিটিতে সে নতুন ভর্তি হয়েছে।
প্রথমদিন তেমন রুপবতী মনে হয়নি নীরাকে আমার কাছে।
যদিও আমি তেমন ভাবে দেখিনি।
মেয়েদের দিকে তেমন তাকাতামও না।
চোখে চোখ পড়লেই ভয় লাগতো। বুক ধড়ফড় করতো।
যার কারনে সব বন্ধুরা যখন ইন আ রিলেশনশিপ আমি তখন সিংগেল।
নীরার সাথে যখন পরেরবার দেখা হলো।
মনে হলো পৃথিবীর সবচেয়ে রুপবতী মেয়ে নীরা।
চোখে কাজল দেওয়ার কারনে হয়তো চেহারা টা আরো সুন্দর দেখাচ্ছিল। 
তখন মনে হলো এই কারনেই হয়তো আমি সিংগেল ছিলাম।
প্রেম মনে হয় নীরার কারনেই করা হয়নি।
Baby Boy and Girl with Flower

আমার প্রেম জীবনের অভিষেক হয়তো নীরার মাধ্যমেই হবে।
তাকে নিয়ে গেলাম ক্যাম্পাস টা ঘুরে দেখাবার জন্য।
তার চোখের দিকে তাকিয়ে ক্যাম্পাস সম্পর্কে বর্ণনা দিতে লাগলাম।যা আগে কোন মেয়ের সাথে করা হয় নি।
তার পরিবার ও তার নিজের সম্পর্কে কিছু জেনে নিলাম।
আমার নিজের সম্বন্ধেও কিছু পজিটিভ কথা বললাম কারন
আমার এখন মেইন টার্গেট নীরার সাথে প্রেম করবো তা না হলে জীবনের ষোল আনায় বৃথা হয়ে যাবে বলে মনে হয়েছিলো।
আমার ফোন নাম্বার টা সে নিজে থেকে নিয়ে আমার মোবাইলে কল
করল যাতে আমি ওর নাম্বার টা পাই।
এর পরে কিভাবে যেন আমাদের সম্পর্ক টা হয়ে গেলো।
যতো কঠিন ভেবেছিলাম তত কঠিন লাগে নি।
আমার বন্ধুকে জিজ্ঞেস করেছিলাম নীরা সিংগেল কিনা?
কিন্তু সে এমন ভঙ্গি করে আমার দিকে তাকিয়েছিলো যেন সব বুঝে গেছে আর কিছু বলতে হবে না।
পরেরদিন ঘটলো অবাক করা ঘটনা।
সে আমাকে সবার আলাদা নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো, 'আপনি নাকি আমাকে পছন্দ করেন' আমার দিকে তাকিয়ে উত্তরের জন্য অপেক্ষা করলো।
'কে বললো এ কথা?' কারন আমি এ কথাটির জন্য অপ্রস্তুত ছিলাম।
'তার মানে পছন্দ করেন না'
'মানে!' আমতা আমতা করতে লাগলাম। 
'পছন্দ না করলে আমাকে অন্য একটি নাম্বার দিয়ে কল দিয়ে কথা বলেন না কেন? 
আমার ফেসবুকে রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে আবার ক্যান্সেল করে দেন কেন? 
নিলয় ভায়ের কাছ থেকে আমার খোজ নেন কেন।
আমি সিংগেল আছি কিনা জিজ্ঞেস করলেন কেনো?' 
এতো প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তাই আসল কথাটা বলেই ফেললাম।
মনে হচ্ছিল দেরি করা ঠিক হবে না।'
আমি তোমাকে পছন্দ করি। আমি তোমাকে ভালোবাসি।'
সেই থেকে অনেক দিন আমাদের সম্পর্ক চললো।
ফোন কোম্পানিকে বড়লোক করার পদ্ধতি টা আমাদের গ্রহন করা শুরু হয়েছিল।
রাতের পর রাত শুধু ফোনালাপ।
নীরার সাথে আমার যেদিন শেষ কথা ও দেখা হয়েছিলো। 
সেদিন তার আংগুলে আমার দেওয়া আংটি টি দেখতে পাই নি।
সেদিন আমি তাকে ফোন করে বলেছিলাম তাকে একটা জরুরী কথা বলবো।
সেও বলেছিলো তার একটা জরুরী কথা আছে। 
আমার মনে হয়েছিলো তার জরুরী কথা টা এমন হবে যার কারনে আমি তার মায়া ছাড়তে পারবো না।
মায়া ছাড়াতে এসেছি, এখন আবার মায়ায় পড়ে গেলে হবে না।
তাই আমি কথাটা আগে বলতে চাইছিলাম। 
কিন্তু নীরা আমাকে বাধা দিয়ে সে আগে বলতে চেয়েছিলো। 
তখন বুঝি নি কেনো সে তার জরুরী কথা টা আগে বলতে চেয়েছিলো? 
পরে বুঝেছিলাম, কারন সেও আজকে মায়ার বাধন ছিঁড়তে এসেছিলো ছড়াতে নয়!
নীরা কিছু বলতে যাবে সে মুহূর্তে আমি বলে দিলাম' আমি তোমার সাথে আর থাকতে চায় না। আমি আমার ক্যারিয়ারের দিকে মন দিতে
চাই।'
নীরা চুপ করে নিচের দিকে তাকিয়ে ছিলো।
'আমি তোমার সাথে সম্পর্ক চালাতে গিয়ে নিজের লাইফটাকে ভালো করে চালাতে পারছি না।'
নীরা আমার দেওয়া আংটিটা দিয়ে বললো' আমি ও তাই চাইছিলাম।এজন্যই এসেছি। আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গিয়েছে'
সেদিনের পর আজ তাকে ইন্টার্ভিউ রুমে দেখলাম।
আমার তিন বছরের জুনিয়র হয়েও আমার আগে চাকরি করছে এ নিয়ে আমি অবাক হয়নি। কারন এর একটি  ব্যাখ্যা দাড় করিয়েছি।
নীরার সাথে সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর তার দাদা মানে আমার বন্ধু নিলয়ের কাছ থেকে শুনতে পাই যে নীরার বিয়ে হয়েছে বিরাট ধনী এক লোকের সাথে। মাথায় চুল নেই। 
টাক হওয়ার কারনে সবসময় চুল শেভ করে রাখে।
ইন্টার্ভিউ রুমেও আজকে এরকম একটা লোককে দেখতে পেয়েছি।হতে পারে এটাই নীরার স্বামী। 
আর নীরা এখানে নিজের স্বামীর কোম্পানিতে বড় কোন পদে চাকরী করে। .
আরেকটা নতুন বায়োডাটা অন্য কোম্পানিতে পাঠাবো বলে ভাবছিলাম। 
পত্রিকায় একটা চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখতে পেয়েছি।
কারন আমি নিশ্চিত ছিলাম নীরার কোম্পানিতে আমার
চাকরি হয়ে যাবে। 
তার ভুল বা আমার ভুল যার ভুলের কারনেই আমাদের সম্পর্ক ভাঙুক না কেন। নীরা তার স্বভাব মতো দয়ালু হবে।
আমার যোগ্যতা থাকুক আর না থাকুক এই চাকরিটা আমার হওয়ার পিছনে তার বিশাল অবদান থাকবে।
আমার ধারনা ভুল প্রমানিত হয় নি। 
নীরার কোম্পানি থেকে আমাকে জয়েন করার জন্য বলা হয়েছে সকালে আমার নামে দুটি চিঠি এসেছে।
জয়েন করার আগে কোম্পানির এমডির সাথে দেখা করার জন্য আলাদা আরেকটি চিঠি দেওয়া হয়েছে।
আমি নিশ্চিত এইটা নীরার কাজ।
নীরার কাজ সফল হক আমি তা চাইছি না এই মুহূর্তে। 
তাই চিঠি আর এপয়েনমেন্ট লেটার টা ছিড়ে ফেলে দিলাম আর চাকরির সংবাদ ফিচারে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি খুজতে লাগলাম।

Tuesday, August 8, 2017

ছেলেরাও তো মানুষ

লেখাটি হয়ত কোন মেয়ের লেখা।
আমি তার লেখাটী সম্পূর্ণ কপি করে আপনাদের সামনে তুলে দিলাম।
Alone Fool Boy - Valobasa

আমি একটা মেয়ে হয়ে ছেলেদের সাইড নিয়ে কথা বলছি, 
তাতে অনেক মেয়ে ভাবতে পারে... আলগা পিরিত। কিন্তু অতি বাস্তব।
একটি ছেলে আমার ভাই, একজন পুরুষ আমার বাবা আর একজন পুরুষ যে হবে আমার ভবিষ্যৎ..., তাই কথা গুলা সব মেয়ের পড়া উচিত।
রাস্তায় হেঁটে যাচ্ছি। পিছন থেকে একটা ছেলে কিছু বললে অথবা শিস বাজালেই এটি ইভটিজিং এবং ওরা মানুষ রূপী অমানুষ..! 
ওদের কি ঘরে মা বোন নেই?
এই কথা কেন আসলো?
কারণ আমি মেয়ে। মেয়ে হচ্ছে মায়ের জাতি। তাদের সম্মান দিতে হয়।
আচ্ছা, যখন মাথায় তেল দিয়ে নম্র ভদ্র শান্ত ছেলেটি বালিকা বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে হেঁটে যায় চুপচাপ, তখন হুঁ হুঁ করে হেসে ওঠা মায়ের জাতিরা কেমন করে বিব্রত করে ছেলেটিকে?
আমাদের কি ঘরে বাপ ভাই নেই? ছেলেটি কি বাপের জাত না??

বাপকে কি সম্মান করা যায় না..!
আচ্ছা, প্রেম করছি দু'জনেই। প্রেমিক সাহেবও তো বেকার, ছাত্র মানুষ।
তাহলে কেন আমিই মিসকল দেব?
ও যদি একটা সিগারেট কম খেয়ে ১০টাকা লোড করতে পারে,
আমি কেন ওর জন্য একটি হেয়ার ব্যান্ড না কিনে কল করার পয়সা জমাতে পারি না?
বন্ধুরা মিলে রেস্তোরাঁ আড্ডা দিচ্ছি। আড্ডার ফাঁকে মুখরোচক খাবার ও খেলাম কয়েক পদ।
আচ্ছা, ছেলে বন্ধুটিই কেন ওয়ালেট টি বের করে বিল দিবে?
আমার পার্স থেকে কেন বের হয় না বিলটা?
ও তো আমাকে টেডিবিয়ার, চকোলেট কত্তকিছু উপহার দেয়।
কই আমি তো একটি গোলাপ ও কেনার কথা মনে করিনা।
গাড়িভাড়া গুলোও আমার ঐ বন্ধুরাই দিচ্ছে, বাসের সিট ছেড়ে দিচ্ছে,
লাইনে দাঁড়ালে আগে যেতে দিচ্ছে (লেডিস ফার্স্ট)। বিপদে পড়লে দৌড়ে আসছে, আনন্দে হাসছে, বেদনায় সান্ত্বনা দিচ্ছে, আশা দিচ্ছে, ভরসা দিচ্ছে, রাগ করে গালিও দিচ্ছে, আবার অতি কষ্টের ভাগীদার হয়ে গোপনে কাঁদছে।
কখনো ভেবেছি সম্মানিত মা জাতি হিসেবে, কেমন লাগে ঐ তেল মাথায় কেবলাকান্ত ছেলেটির, যখন বুঝতে পারে একদল মেয়ে ব্যঙ্গ করছে তাকে নিয়েই??
প্রেমিক টি কয়েক মিনিট কথা বলতে প্রতিদিন রিচার্জ করছে কত ধান্ধা করে। 
কিন্তু ভেবেছি কি কখনো? আমারও কল করা উচিত, ও কেন কেটে ব্যাক করে সবসময়? 
কখনো অনুভব করেছি কি..! কেমন লাগে ঐ মুহূর্তে একটি ছেলের যখন তার পকেট পুরো ফাঁকা। অথবা শেষ ১০০টাকা বিল দিলে আগামী সাতদিন তাকে হেঁটে টিউশন করতে যেতে হবে, তবুও বিল টা সেই দেয়।কারণ সে বাপের জাত।
কই কখনো ভাবি নি তো, একটি গোলাপ তার হাতে দিলে আবেগে সে কতটা আত্মহারা হতে পারে..! 
তার বিপদে কখনো হাতটা চেপে ধরে দেখেছি..! একটু হলেও তো আস্থা পেত ছেলেটি। হতাশ ছেলেটিকে সাহস দিয়ে বলেছি কি..!
"আর বিড়ি খাস না, ভাল দিন আসবেই।"
তারা তো কাঁদতে জানে না। বালিশ না ভিজলেও নিকোটিনের ধোঁয়া জানে কতটা নির্ঘুম রাত কাটায় তারা।
তারা ভাই, তারা বাবা, তারা প্রিয়তম, তারা বন্ধু, তারা হারামী।
কিন্তু তাদের কত্ত দায়িত্ব..!
আমরা শুধু নিয়েই যাচ্ছি। কেন বিনিময়ে দিতে পারছি না?
মায়ের জাতি হয়ে তিন গুণ বেশি পাওনা আমার। কিন্তু বাপের জাতিকে এক ভাগ ও দিই না কেন?

ভাবি নি... ভাবার সময় হবেও না হয়তো......।

Sunday, July 23, 2017

মোরাল অব দ্য স্টোরি

এই গল্পটার শুরু এক আর শেষ আরেক!
পুরোই উল্টো পুরাণ!!
পিঁপড়া আর ঘাসফড়িং দুই বন্ধু।
বিশ্ববিদ্যালয়ে উঠে ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট খুলল তারা। 
পিঁপড়া তার আইডির নাম দিল ‘অর্থহীন পিপীলিকা’,
আর ঘাসফড়িং তার আইডির নাম দিল ‘ড্রিমবয় হপার’। 
টাইমলাইনে প্রতিদিন মেয়েদের এডিট করা ছবি দেখে দেখে পিঁপড়া আর ঘাসফড়িং মিনিটে মিনিটে ক্রাশ খেতে লাগল।
ঘাসফড়িং একদিন নিউজফিড স্ক্রল করতে করতে আফসোস করে বলল, ‘আহা, এ রকম একটা মেয়েরে পেলে লাইফে আর
কী লাগে!’ 
এ কথা শুনে পিঁপড়া বলল, ‘তাহলে দোস্ত চল, আমরা ফেসবুকিং বাদ
দিয়ে ঠিকমতো লেখাপড়া করি।
লেখাপড়া শেষ করে ভালো কোনো চাকরি পেলে আমরাও এ রকম সুন্দরী মেয়েকে বিয়ে করতে পারব।’
ঘাসফড়িং মাথা নাড়ল, ‘উহু, আমার পক্ষে চার বছর অপেক্ষা করা পসিবল না। 
আমি এখনই একটা মেয়ের প্রেমে পড়তে চাই।’
অতঃপর একদিকে পিঁপড়া আইডি ডিঅ্যাকটিভ করে মন দিয়ে লেখাপড়া করতে লাগল; 
অন্যদিকে ঘাসফড়িং ফেসবুকে সারা দিন মেয়েদের ইনবক্সে
ইনবক্সে নক করতে শুরু করল। 
বন্ধুর ডিএসএলআর ক্যামেরা দিয়ে তুলতে লাগল ছবি।
সেগুলো আপলোড করতে লাগল প্রোফাইল পিকচার হিসেবে। 
সঙ্গে দিতে লাগল লুতুপুতু রোমান্টিক স্ট্যাটাস। 
কিছু কিছু মেয়ে পছন্দ করে ফেলল ঘাসফড়িংকে।
তার দিন কাটতে লাগল চ্যাটিং আর ডেটিং করে। 
এভাবে পেরিয়ে গেল পুরো চার বছর।
অনার্স ফাইনাল ইয়ারের রেজাল্ট দিল। 
পিঁপড়া ফার্স্টক্লাস সেকেন্ড হয়েছে আর ঘাসফড়িং কোনোমতে
টেনেটুনে থার্ডক্লাস। 
ভার্সিটি থেকে বের হয়েই পিঁপড়ার সরকারি চাকরি হয়ে গেল। 
বিয়ে করে ফেলল পরির মতো সুন্দর এক মেয়েকে।
আর অন্যদিকে ঘাসফড়িং অল্প বেতনে একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি পেল। 
তার দিন কাটতে লাগল শহরে একটা মেসে একা একা। 
কোনো মেয়েই তাকে বিয়ে করতে রাজি হয় না। 
তার যেসব গার্লফ্রেন্ড ছিল, তাদের সবারই বড় বড় চাকরিওয়ালা ছেলের সঙ্গে বিয়ে হয়ে গেছে।

প্রায় দুই বছর পরের কথা। 
ঘাসফড়িং এক রাতে ফেসবুকিং করছিল। 
নিউজফিড স্ক্রল করতে করতে হঠাৎ করেই তার একটা ছবিতে এসে চোখ আটকে গেল।
বন্ধু পিঁপড়া ভীষণ সুন্দরী এক মেয়ের সঙ্গে কাপল পিক আপলোড করেছে।
ক্যাপশনে লেখা: ‘বিয়ের আগেই হোক আর পরে; কোনো মেয়ের প্রথম প্রেম হতে পারার অনুভূতি আসলেই স্বর্গীয়।’
ঘাসফড়িং সেখানে কমেন্ট করল, ‘আহা দোস্ত, তোমারই তো ভাগ্য। ইউ আর সো লাকি ম্যান। 
ইশ্, আমিও যদি এমন কাউকে বিয়ে করতে পারতাম!’ 
পিঁপড়া কমেন্টের রিপ্লাই দিল, ‘যখন লেখাপড়া করার টাইম ছিল, তখন তুমি ফেসবুকিং করে কাটিয়ে দিয়েছ, এখন আর আফসোস করে কী লাভ? 
সময়ের কাজ সময়ে না করলে তার ফল কখনো ভালো হয় না।’
ঘাসফড়িং রিপ্লাইয়ে কী লিখবে ভাবছিল। 
এমন সময় মেসেঞ্জারে টুং করে শব্দ। 
একটা মেসেজ রিকোয়েস্ট এসেছে। 
পাঠিয়েছে পিঁপড়ার স্ত্রী ‘অ্যাঞ্জেল খরগোশ’।
মেসেজ রিকোয়েস্ট অ্যাকসেপ্ট করে ঘাসফড়িং লেখাটা পড়ল, ‘প্লিজ হপার, তোমার সাথে ভার্সিটি লাইফে আমার যে দুই বছর প্রেম ছিল, সেটা তুমি পিঁপড়াকে বোলো না, প্লিজ! 
তুমি আমার সংসার ভেঙো না, প্লিইইইজ!’
মোরাল অব দ্য স্টোরি: লেখাপড়া শেষ করে অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ করলে অন্যের প্রেমিকাকেবিয়ে করতে হয়।

Thursday, June 22, 2017

মানবতা শেষ হয়ে যায়নি

জীবন খুব কম সময়।
আর জন্ম আমাদের শুধু একবার।
তবুও কেন এত হিংসা , মারামারি। কেন এত নিষ্ঠুরতা! 
Helpful Persons - Bhalobasa
এক গলি রাস্তার মোড় দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ করে তাকিয়ে দেখি ইলেকট্রিক পোষ্টের সাথে একটি কাগজ ঝুলছে। 
উৎসাহ নিয়ে সামনে এগিয়ে দেখি কাগজের গায়ে লেখা,
''আমার ৫০ টাকার একটা নোট এখানে হারিয়ে গেছে। আপনারা যদি কেউ খুঁজে পান তবে আমাকে সেটি পৌছে দিলে বাধিত হব, আমি বয়স্ক মহিলা চোখে খুব কম দেখি"। 
তারপরে নিচে একটি ঠিকানা ।
আমি এরপর খুঁজে খুঁজে ঐ ঠিকানায় গেলাম।
হাঁটা পথে মিনিট পাঁচেক। 
গিয়ে দেখি একটি জরাজীর্ণ বাড়ির উঠোনে এক বয়স্ক বিধবা মহিলা বসে আছেন। 
আমার পায়ের আওয়াজ পেয়ে জিজ্ঞাসা করলেন "কে এসেছ?"
আমি বললাম, "মা, আমি রাস্তায় আপনার ৫০ টাকা খুঁজে পেয়েছি আর তাই সেটা ফেরত দিতে এসেছি।"
এটা শুনে মহিলা ঝরঝর করে কেঁদে দিয়ে বললেন, 'বাবা, এই পর্যন্ত অন্তত ৩০-৪০ জন আমার কাছে এসেছে এবং ৫০ টাকা করে দিয়ে বলেছে যে তারা এটি রাস্তায় খুঁজে পেয়েছে। 
বাবা, আমি কোন টাকা হারাই নাই, ঐ লেখাগুলোও লিখিনি। 
আমি খুব একটা পড়ালেখা জানিও না।
আমি বললাম, সে যাইহোক সন্তান মনে করে আপনি টাকাটা রেখে দিন। 
আমার কথা শোনার পর টাকাটা নিয়ে বললেন 'বাবা আমি খুব গরীব কি যে তোমায় খেতে দি! একটু বসো। একটু জল অন্তত খাও। 
'বলে ঘরে গিয়ে এক গ্লাস জল নিয়ে এলেন। 
ফেরার সময় তিনি বললেন, "'বাবা, একটা অনুরোধ তুমি যাওয়ার সময় ঐ কাগজটা ছিঁড়ে ফেলো সত্যি আমি লিখিনি।"
আমি ওনার বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় মনে মনে ভাবছিলাম, সবাইকে উনি বলার পরেও কেউ ঐ কাগজটি ছেড়েনি!!
আর ভাবছিলাম ঐ মানুষটির কথা যিনি ঐ নোটটি লিখেছেন। 
ঐ সহায়সম্বলহীন বয়স্ক মানুষটাকে সাহায্য করার জন্য এত সুন্দর উপায় বের করার জন্য তাকে মনে মনে ধন্যবাদ দিচ্ছিলাম। 
হঠাৎ ভাবনায় ছেদ পড়লো একজনের কথায়। 
তিনি এসে বললেন, 'ভাই, এই ঠিকানাটা কোথায় বলতে পারেন, আমি একটি ৫০ টাকার নোট পেয়েছি , এটা ওনাকে ফেরত দিতে চাই।'
ঠিকানাটা দেখিয়ে দিয়ে হঠাৎ করে দেখি চোখে জল চলে আসল, আর আকাশের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বললাম, দুনিয়া থেকে মানবতা শেষ হয়ে যায়নি!

Tuesday, May 23, 2017

মনের কথা

অগোছালো কথা।
আগা মাথা কিচ্ছু নেই, পড়ে যান...
Mon Theke Valobasi - Valobasa
অবহেলার একটা লিমিট থাকা দরকার...।
কেউ একজন তোমাকে দিনের পর দিন কেয়ার করে যাচ্ছে 
আর তুমি সেগুলো মুচকি হেসে এড়িয়ে গিয়ে ভাবছো 'এসবই তোমার প্রাপ্য...
এরকম তো কতোজনই আছে কেয়ার করার মতো,
যদি এমনটি ভেবে থাকো তাহলে তুমি ভুল ভাবছো...।
হাজার মানুষের কেয়ারের ভিড়ে তুমি আসল মানুষের আলাদা কেয়ারটুকু টের পাচ্ছোনা। একদম না।
কেউ একজন তোমার ছোট্ট একটি "লেখার আশায় ঘন্টার পর ঘন্টা মোবাইলে ডাটা অন রেখে
কি পরিমান ছটফট করতে পারে তুমি সেটা দেখতে পাওনা বলে এমনটা ভাবছো...।
মেসেজবক্সে হাজার হাজার শব্দ মিলিয়ে দু-ঘন্টা ধরে সাজানো কষ্টের
ভাষা গুলো লিখে সেন্ড করার ঠিক আগ মূহুর্তে ডিলিট বাটনে
চাপ দিয়ে ধরে রাখাটা যে কতটা যন্ত্রনার তুমি সেটা বোঝোনা বলে এমনটি করো...।
তোমার একটি মাত্র ফোন কলের আশায়
বিছানার এপাশ-ওপাশ করে কতো যে নির্ঘুম রাত কেটে গেছে।
তুমি সেটা কখনই জানতে চাওনি বলে মানুষটিকে সস্তা ভাবো...।
বিশ্বাস করো তোমার থেকে অবহেলা পাওয়া এই মানুষটা মোটেই সস্তা কোনো মানুষ নয়.., অদ্ভুত রকমের একটা ধর্য্য- শক্তি আছে এর মাঝে...।
মনে রাখবে "ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া মানুষের অভাব নেই পৃথিবীতে...।
কিন্তু পড়ে যাওয়া মানুষটিকে হাত ধরে টেনে তোলার মানুষের বড়ই
অভাব..। খুব, খুব অভাব..।
তাই কাউকে পেয়েও হারিয়ে যেতে দিওনা।

Saturday, April 15, 2017

শুভ নববর্ষ

শুভ নববর্ষ
সবাইকে  নববর্ষের অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল। 
আর একটা কথা, এর আগের লেখাটা না পড়ে থাকলে, পড়ে নিন, অনেক ভালো লেখাটা। 
Esho He Boishakh - Bhalobasa.com

বর্ষশেষের বিদায় মালা
   কেমন করে খুলি ?
বছর ভরা অনেক স্মৃতি
    কেমন করে ভুলি ?

যা পেয়েছি সারা বছর
   আঁকড়ে ধরেছি,
ভাল মন্দ সব কিছুকে
   হৃদয়ে ভরেছি।

বিশ্লেষনে দুঃখ বাড়ে
    উদাস থেকেছি,
অন্ধকারকে সরিয়ে দিয়ে
      স্বপ্ন গড়েছি।

সবার স্বপ্ন সজীব থাকুক
   নববর্ষের কোলে,
সবাই যেন সুখের আলোয়
    খুশীর হাওয়ায় দোলে।

Thursday, April 13, 2017

সৎমা কোনো নির্দিষ্ট শব্দ নয়

এই লেখাটা সবাই পড়বেন অবশ্যই।
সত্যি খুব ভালো লাগলো, আপনারও ভালো লাগবে আশা করি।
Mom - Baby Lovly Pic - Valobasa.com
ঘরের একটা কোনে চুপটি করে দাঁড়িয়ে আছে রোহিনী।
বছর সাতের রোহিনী ,ভয়ে জড়োসড়ো, একটা নতুন অপরিচিত মানুষ হঠাৎ তাদের বাড়িতে এসে ঢুকলো।
রোহিনীর বাবার নতুন বউ। রাঙা দিদা বলেছে ,নতুন মা বলতে।
রোহিনী বলেছিলো, আন্টি বললে হয় না?
মায়ের ছবিটা চোখের সামনে এখনো ভাসছে। 
মাত্র বছর খানেক হলো কিডনি অকেজো হয়ে মা চলে গেলো রোহিনীকে ছেড়ে।
রোহিনী তো ভীষণ শান্ত তবুও যে কেন বাবা রোহিনীকে সামলাতে পারছে না বলে একটা নতুন মা নিয়ে এলো কে জানে!! 
এই মায়ের নাম নাকি নিবেদিতা। বেশ মিষ্টি মিষ্টি দেখতে ,ফর্সা ,রোহিনীর মত কালো নয়। 
রোহিনীকে নাকি আর বাবা ভালোবাসবে না, নতুন মাকে নাকি সৎ মা বলে, সে তো রোহিনীকে খেতেও দেবে না। পাশের বাড়ির আন্টিরা বলেছে। ভীষণ ভয় করছে রোহিনীর।

সোফায় বসেই নতুন মা রোহিনীকে ডাকলো, রোহিনী জড়সড় হয়ে গিয়ে বলল, আমি তোমাকে আমার সব টেডি দিয়ে দেব, প্লিজ আমাকে মেরো না। 
নতুন মা বললেন, ওসব কথা পরে হবে এখন তুমি আমাকে কি বলে ডাকবে বলো তো?
রোহিনী বললো, আন্টি বলবো না, নতুন মা বলবো,তাহলে...
কথা শেষ না হতে দিয়েই উনি রোহিনীকে কোলের কাছে বসিয়ে বললেন, ঐ যে ছবিটা দেখছো ওটা তোমার মা। 
আমি তোমার একটা বন্ধু। তুমি আমাকে নিনি ডেকো, ওটা আমার ডাকনাম।
আরেকটা কথা আমি ঐ তুলোর কথা না বলা টেডি পছন্দ করি না, আমার এইরকম চোখ নাক নড়ছে, মিষ্টি মিষ্টি কথা বলা টেডিই পছন্দ, আমার এটাকে চাই। বলেই রোহিনীর গলায় কাতুকুতু দিতে লাগলো।

তারমানে বাবা রোহিনী একা থাকে বলে রোহিনীর জন্য একটা বন্ধু এনেছে, সৎ মা নয়...
বন্ধ নিঃশ্বাসটা একটু একটু করে বেরিয়ে গেলো রোহিনীর। 
নিনি বেশ ম্যাজিক জানে....দশ মিনিটের মধ্যেই ওর পছন্দের এগ টোস্ট বানিয়ে দিলো। রাত্রিবেলা রোহিনী ভয় পাবে বলে নিনি রোহিনীর পাশেই ঘুমোতো।
যেদিন স্কুলের স্পোর্টসে রোহিনী হেরে গিয়েছিলো, খুব কাঁদছিলো, সেদিন ওর নিজের সেই চুলে ঝোটকন বাঁধা ছবিটা দেওয়া একটা কফি মগ  নিনি ওকে প্রাইজ দিয়েছিলো। বলেছিলো, হেরে যাওয়া আছে  বলেই না জয়ের আনন্দ আছে। তাই হেরে যাওয়াকেও সেলিব্রেট করো। 
Mom Dressing Her Baby - Valobasa.com


তারপর কবে যেন রোহিনী বড় হয়ে গেছে, কিন্তু নিনি কোনোদিন মা হয়নি। রোহিনী এখন কলেজের স্টুডেন্ট, নিনির সাথে একই বিছানায় শোয় না। নিনিও বাবার ঘরে ঘুমায় না, ও বাবার স্টাডির ছোট্ট ডিভানে ঘুমোয়।

মাঝে মাঝে নিনিকে মা বলে ডাকতে ইচ্ছে করে রোহিনীর কিন্তু এতো বছরের অনভ্যাসে, সংকোচ কাটিয়ে ডাকা হয়ে ওঠেনি।
রোহিনীর খুব ইচ্ছে ফিল্ম মেকিং নিয়ে পড়ার, পুনেতে গিয়ে থাকতে হবে শুনেই রোহিনীর বাবা এক বাক্যে না করে দিয়েছে। এখন একমাত্র ভরসা নিনি। 
রোহিনী অপেক্ষা করছিল নিনির ঘরে, নিনি বোধহয় বাথরুমে ঢুকেছে।  ভিজে কাপড়েই নিনি ঘরে ঢুকলো। রোহিনী অবাক হয়ে দেখছিল, দুধে আলতা গায়ের রঙে আকাশনীল ভিজে কাপড়টা কি অদ্ভুত ভাবে নিনির শরীরের মধ্য যৌবন ফুটিয়ে তুলেছে। 
হঠাৎ রোহিনীর মনে একটা প্রশ্ন জাগলো! আচ্ছা নিনি আর বাবাকে তো কোনোদিন কোনো অন্তরঙ্গ মুহূর্তে দেখেনি  সেই ছোট্ট থেকে।রোহিনীর ছোট বেলায় নিনি ঘুমোতো ওর ঘরে এখন বাবার স্টাডিতে।বাকি সময় হয় রান্না ঘর নয় ডাইনিংয়ের টিভির সামনে তাহলে নিনির সাথে কি বাবার কোনো স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক নেই?

নিনির আদরের মধ্যেও এমন একটা গাম্ভীর্য আছে যেটার জন্য রোহিনী কিছুতেই প্রশ্নটা করে উঠতে পারে না।

নিনি রোহিনীর মুখের দিকে তাকিয়ে বলল, মনের ভিতরের কথাটা মনে চেপে না রেখে বলে ফেলাই উচিত। রোহিনী লজ্জা পেয়ে বললো, আমি পুনেতে গিয়ে পড়তে চাই বাবাকে রাজি করানোর দায়িত্ব তোমার। 

নিনি যেন চমকে উঠলো, অথচ এর আগে রোহিনীর খেলনার বায়না, চকলেটের বায়না, পোশাকের বায়না  সবই তো বাবাকে বলে নিনিই সামলেছে, আজ কেন নিনি এতটা ফ্যাকাসে হয়ে গেলো?

রোহিনীর মাথায় আস্তে আস্তে সেই ছোটবেলার মতো হাত বোলাতে বোলাতে নিনি বললো, রোহিনী আমার বোধহয় এতটা অধিকার নেই। তুমি ফিল্ম মেকিং নিয়ে ডিগ্রি কোর্স করার জন্য পুনে যেতে চাও সেটাতে তো তোমার বাবার আপত্তি আছে। অন্য মায়ের মতো সন্তানের ওপর অধিকার তো আমার নেই তাই, রোহিনী অবাক হয়ে দেখছে অন্য এক নিনিকে। যে খুব কষ্ট করে কান্নাগুলোকে গলার মধ্যে গিলে নিচ্ছে। রোহিনী ,তুমি বড় হয়েছ সত্যিটা জানানোর সময় এবার এসেছে ....।
আমি ছিলাম তোমার বাবার অফিসের পি.এ। আমার সৎ মা আমাকে একটা খারাপ পাড়ায় বিক্রি করে দিচ্ছিল, সেই অবস্থায় আমি খুব বিপদে পড়ে তোমার বাবার কাছে সাহায্য চাই। উনি তোমার দেখাশোনার জন্য গভর্নেস হিসেবে আমাকে নিযুক্ত করেন কিন্তু আমরা রেজিস্ট্রি ম্যারেজ করি শুধু সমাজের ভয়ে। এক বাড়িতে থাকবো কোনো পরিচয় ছাড়াই তা হয়না। 
রোহিনীর এই প্রথম মনে হলো নিনি নয়, নতুন মা নয়, শুধু মা বলে ডাকা উচিত নিনিকে। 
রোহিনী গলাটা জড়িয়ে ধরে মা বলে ডেকে উঠলো নিবেদিতাকে। 
নিবেদিতা যেন সর্বস্ব দিয়ে আগলে ধরলো রোহিনীকে। 

মায়ের ছোঁয়ায় কোথাও সৎ মায়ের স্পর্শ ছিল না। সেই তেরো বছর  আগের এক রাতের কথা মনে পড়ে গেলো রোহিনীর....।

জ্বরে রোহিনীর গা পুড়ে যাচ্ছে। চোখ মেলে দেখলো একটা ঠান্ডা হাত ওর কপালে, আর দুটো রক্তিম নির্ঘুম চোখ ওর মুখের দিকে এক দৃষ্টে তাকিয়ে আছে। 

সেদিনও নিনির ছোঁয়াটা ঠিক আজকের মতোই ছিল তারমানে এই তেরো বছরে রোহিনী বদলেছে কিন্তু নিনি বদলায়নি একটুও। তারমানে সত্যিই সৎ মা বলে নির্দিষ্ট কোনো শব্দ হয় না। ভালোবাসা থাকলে মা হয়ে উঠতে দেরি হয়না। আর বন্ধনহীন সম্পর্ক যতই নাড়ি ছেড়া হোক সেটা দূরে যেতেও সময় লাগে না। 
Mom and Baby Playing - Valobasa.com
রোহিনীর বাবা রাধাকান্ত সরকার আজ একটু তাড়াতাড়ি অফিস থেকে ফিরে এসে দেখলেন, নিবেদিতার কোলে রোহিনী শুয়ে আছে আর নিবেদিতা ওর চুলে বিলি কেটে দিচ্ছে। ওকে দেখেও মা মেয়ের কারোর নিজেদের সুখানুভুতি থেকে  একটুও সরতে ইচ্ছে করছে না সেটা ওদের দেখেই বোঝা যাচ্ছে। রাধাকান্তর সত্যিই মাঝে মাঝে অবাক লাগে নিবেদিতাকে দেখে, সেই যে কথা দিয়েছিলো শুধুই রোহিনীর মা হবার চেষ্টা করবে বাড়ির গৃহিণী নয়, সে কথার মর্যাদা ও রেখেছে। 

রোহিনী ডেকে উঠলো,বাবা! 
আমার একটা অনুরোধ তোমায় রাখতে হবে। আজ থেকে তোমার বেডরুমটা মায়ের হবে, মা আর স্টাডিতে শোবে না। 
নিবেদিতা রোহিনীর মুখে হাত চাপা দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করছে। রাধাকান্ত অবাক!!
রোহিনী কোনোদিন ওর সামনে দাঁড়িয়ে এভাবে কথা বলেনি, আজ হঠাৎ কি হলো?
রাধাকান্ত বললো, আমি তোমার মাকে বলিনি কোনোদিন আমার ঘরে ঢোকা তার বারণ আছে। সে যেকোনো সময় এই বাড়ির যেকোনো ঘরে যেতেই পারে, তার সে অধিকার আছে। 

নিবেদিতা আবার মনে মনে প্রণাম করলো ভগবানের মত মানুষটাকে।মারা যাবার আগে নিশ্চয় স্ত্রীর পরিচয়ে তার বুকে একবার মাথা রাখবেই নিবেদিতা।

রোহিনীর পাগলামি মাত্রা ছাড়িয়েছে। নিবেদিতার কোনো কথাই সে শুনছে না আজ, কিছু বারণ করতে গেলেই বলছে তাহলে কিন্তু জলে ভিজে ঠান্ডা লাগবো। রোহিনীর জলে ভিজলেই জ্বর আসে নিবেদিতা তাই ওই ব্যাপারে খুব সাবধানে রেখেছে মেয়েকে। 
গতকাল থেকে আর একবারও রোহিনী নিনি বলে ডাকেনি।
কারণে অকারণে মা বলে ডেকে চলেছে। ভালোলাগায় শিউরে উঠেছে নিবেদিতা কিন্তু রোহিনী এখন যেটা শুরু করেছে সেটা তো মানা যায় না!!
Maa R Meyer Bhalobasa

নিবেদিতার সমস্ত শাড়ি, জিনিসপত্র সব এনে বাবার আলমারিতে বাবার জামা কাপড়ের পাশে সাজিয়ে রাখছে। 
লজ্জায় মরে যাচ্ছে নিবেদিতা। রাধাকান্ত বাবু মেয়ের কান্ড দেখে মুচকি মুচকি হাসছেন।

রাতে জোর করে নিবেদিতাকে বাবার ঘরে পাঠিয়ে দিলো রোহিনী।
ওর চোখে মুখে যেন বিশ্ব জয়ের হাসি। 
নিবেদিতা ধীর পায়ে ঘরে ঢুকছে। ৪১ বছরের নিবেদিতা যেন নববধূ এতটা সংকোচে সে আর কখনো পড়েনি।
রাধাকান্ত বাবু হাত ধরে নিবেদিতাকে পাশে বসালেন, ধীরে ধীরে বললেন, একটা জীবন চালানোর জন্য স্ত্রীর থেকেও বেশি দরকার হয় একজন বন্ধুর। যে মনের কাছাকাছি থাকবে, যার সাথে সুখ দুঃখের সব কথা প্রাণ খুলে বলা যাবে, কিছু কিছু সম্পর্ক থাকে যেগুলোর হয়তো সঠিক নাম নেই কিন্তু সে না হলে সব অকেজো হয়ে যায় নিমেষে, তুমিও ঠিক তেমনই আমার কাছে। নিবেদিতা চলো আমরা বন্ধু হই আজ থেকে। 

নিবেদিতা নীরবে নিজের হাতটা রাধাকান্ত বাবুর হাতের উপর আলতো করে দিয়ে নিজের সম্মতি জানালো। 
 - অর্পিতা সরকার

Thursday, March 23, 2017

বেশ্যার ছেলে কি স্কুলে যাই

আজ একটু অন্য ধারার লেখা।
তবে..., না কিছুনা, আসুন সুরু করি।
Baby With Mother - India - Valobasa
কিরে মাগী তুই নাকি আবার ছেলে টাকে মডার্ণ স্কুলে ভর্তি করেছিস? 
হাঁ বাবু ছেলে টা পড়াশোনায় খুব ভালো! 
ওই যে অপু মাস্টর আসতো আমাদের বস্তিতে পড়াতে ঔ তো বলতো মালতী তোর ছেলেটার মাথা আছে রে,ওকে ভালো করে পড়াস! 
তাই ভর্তি করলাম বাবু! 
একরাশ গর্ব যেনো মালতীর ঠোঁটে, আর না হবারই বা কি আছে ; বস্তির এই রকম শরীর বেঁচা কটা মায়ের ছেলে মর্ডান স্কুলে পড়ে? 
উফ শালা বেশ্যা মাগী তোর ছেলে শালা মর্ডান স্কুলে পড়বে ? 
শালি কোনো পার্থক্য রাখবি না নাকি ভদ্রলোকেদের সাথে, তুই জানিস শালা আমার ছেলে টাও ওই স্কুলে পড়ে একপ্রকার মারতে মারতে বলে দেবীবাবু ! 
শালী ডাক তোর ছেলেকে বলছি শালা বেশ্যার ছেলে হয়ে এতো শখ কিসের ওর, ডাক শালী তোর ছেলেকে !
মালতী দেববাবুর পায়ে ধরে কোনো রকম বোঝাতে সম্মত হয় যে যেনো ওর ছেলেকে দেবীবাবু ওর বেপারে কিছু না বলে, নাহলে ওর ছেলে যে আর সভ্য জগতে মিশতে পারবে না, তাহলে ওর পড়াশোনায় ক্ষতি হবে !! 
যাইহোক সেদিন হয়তো সামলানো গেলো দেবীবাবুকে এই মর্মে যে আজ তাকে বিনি পয়সায় শরীর দিতে হবে ! 
বেশ্যা তো ! দিতে রাজি হয়ে গেলো মালতী ! 
এখন মালতী নিজের ছেলের দিকে ঠিক ঠাক তাকাতেও পারেনা লজ্জাই ! 
ছেলে ভদ্র লোকের স্কুলে পড়ে যে আর সে তো বেশ্যা, কোথাও যেনো ভেতর থেকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছিলো মালতীকে ! 
ভয় ছিলো যদি ছেলে ভদ্র হয়ে বেশ্যা মাকে ছেড়ে দেই, এই সব চিন্তা ভয় আর মর্ডান স্কুলের খরচ চালাতে গিয়ে হিমশিম খেয়ে গেছে মালতী ! 
Indian Baby With Mom -Valobasa

এভাবেই চলতে থাকে মালতীর সংসার ! 
তবে এই বেশ্যা টাকেও হয়তো সাথ দিয়েছিলো ভগবান, তার ছেলে পরীক্ষায় প্রথম হয়েছে যে !
আজ মালতী তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরেছে আজ ও ধান্দা করেনি, কাওকে ছুঁতেও দেইনি! 
ছেলে বাড়ি ফিরতেই মাকে জড়িয়ে ধরে বলে মা আমাদের স্কুলে কাল পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান, তোমাকে নেমন্তন্ন করেছে, এই দেখো কার্ড ! 
তুমি যাবেনা মা ? 
নারে তোদের মস্ত স্কুল, সব বড় বড় লোক জন আমি গরীব মানুষ গিয়ে কি করবো বল?
না মা তোমাকে কাল যেতেই হবে, নাহলে আমিও যাবোন ! 
কোনো রকম জোর পূর্বক মালতী যেতে রাজি ! 
পরদিন ভোর ভোর উঠে মালতী খুঁজে রেখেছে মালতীর বরের দেওয়া প্রথম উপহারের তাঁতের শাড়ী টা, খুব আনন্দ তার আজ যে আবার সে ভদ্র লোকেদের সাথে মিশবে কিছুক্ষনের জন্য, স্বামী মারা যাওয়ার পর প্রথম !
যাইহোক মর্ডান স্কুলে ছেলের সাথে মালতী, অপূর্ব অনুভূতি হচ্ছে তার,কতো লোক, ভদ্র লোক, কতো বড় বড় বেপার, কিন্তু সেই ভয় টা পিছু ছাড়েনি "ছেলে যদি বুঝে যায় আমি বেশ্যা" !
অনুষ্ঠান হলে ঢুকতেই মালতী দেখে সামনের সিটে বসে দেবীবাবু ! 
মালতী লজ্জায়, ভয়ে পিছনে গিয়ে এক সিটে মাথা নামিয়ে বসে পড়ে, পাছে দেবীবাবু যেনো দেখে না নেই, দেখলেই আজ হয়তো সব জেনে যাবে সবাই, ছেলের কাছে মালতীও আজ বেশ্যার পরিচয় পাবে হয়তো !
অনুষ্ঠান তখন শুরু হয়ে গেছে, এবার মালতীর ছেলেকে স্টেজে ডাকলো পুরস্কার নেওয়ার জন্য কিন্তু মালতীর চোখ নীচে, মুখ নীচে সে দেখবে না কারণ যদি দেবীবাবু দেখে ফেলে !
স্টেজে মালতীর ছেলে, পুরস্কার নেওয়ার পর কিছু বলার জন্য অনুরধ করলো প্রিন্সিপল মেম ! 
Mom And Son - Valobasa

"আমি দেহব্যাবসায়ির ছেলে " হাঁ মেডাম আমি গর্বিত,আমি ওনার ছেলে " গোটা ঘর নিস্তব্ধ হয়ে গেলো মালতীর ছেলের কথায়!
ওই দেখো সবাই আমার মা!!!
শেষ সিটে মাথা লুকিয়ে বসে আছে। 
মাথা তোলো মা, সবাই আজ দেখুক তোমায় তুমি আমার মা, আমি গর্বিত মা তোমার জন্য !
সেদিন যখন দেবীবাবু তোমাকে অপমান করেছিলো সেদিন আমি দরজার পাশে দাঁড়িয়ে সব শুনেছি, সেদিনই প্রতিজ্ঞা করেছিলাম মা তোমার মাথা উঁচু করবো , এটাই তোমার উপহার মা !
আজ আমি প্রথম হয়েছি এটা সাধারণ কিন্তু এক দেহব্যাবসায়ির ছেলে প্রথম এটাই অসাধরণ কিছু মা ! মালতীর চোখে আনন্দ অশ্রু, সেও আজ গর্বিত, এখন তার লজ্জা নেই, নেই ভয় !
সমগ্র ঘর শুনে যাচ্ছিলো সেদিন এক বেশ্যার ছেলের চিত্কার !!!