Monday, September 5, 2016

ভালোবাসার আষাড়ে গল্প

আগেই বলে দিচ্ছি, 
গল্পের সাথে মিল করে গল্পের নাম দেওয়া হয়নি।
এখন প্রতিদিন জে আষাড়ে বৃষ্টি হচ্ছে, তাতেই এই নাম মনে আসলো।
Boyfriend and Girlfriend On Bench- Valobasa

তুই আমাকে এখনো ভালোবাসিস?
– না।
– কেন?
– কেন আবার কি?
– ভালোবাসিস না কেন?
– যখন ভালোবেসে ছিলাম তখন তো মূল্য দিলি না।
– তুই তো আমাকে বলিসনী কোন দিন!
– তোর বোঝা উচিত ছিলো।
– তুই না বললে কেমন করে বুঝবো??
– কেমন করে বলব? বলার আগেই তো তুই ওই ছেলেটাকে আমাদের মাঝে নিয়ে আসলি।
– ও আমার জাষ্ট ফেন্ড ছিলো আর কিছু না।
– আমি তো তোর বেষ্ট ফেন্ড ছিলাম। মাএ দুই দিনের একটা ছেলের জন্য তুই আমাকে ভুলে গেলি?
– আমি তোকে ভুলিনী, তুই আমার কাছ থেকে দূরে চলে গেছিস।

– কেন গেছি তু্ই জানিস না ?
– না।
– জানবি কেমন করে? আমি তো তোর কেউ ছিলাম না।
– এমন ভাবে বলিস কেন? তু্ই তো জানিসই আমি একটু কম বুঝি। বললেই পারিস।
– আমি তোর পাশে অন্য কাউকে সহ্য করতে পারি না।
– একবার বললেই পারতি!!
– কেন বলব ? তুই বুঝিতে পারিস না?
– বুঝলে কি আর তোর থেকে দূরে থাকতাম। দুজনেই চুপ। কিছুটা সময় নিরবতার পর দিশা বলে উঠল, চুপ কেন?
– এমনিই।
– কাউকে ভালোবাসিস?
– না।
– ভালোবাসতি?
– হ্যা।
– সেদিন বলিসনী কেন?
– বলার সাহস ছিলো না।
– কেন ?
– তোকে হারানোর ভয়ে।

– কেন হারাবি আমায়?
– তোকে বলার পর যদি তুই যদি “না” বলে দিস। যদি তুই চলে যাস আর আমাদের বন্ধুত্বটা নষ্ট করে দিস।
– তুই কেমন করে ভাবলী “তোকে ছেড়ে আমি চলে যাবো?”
– তাহলে এই দুই বছর কোথায় ছিলি?
– ওটা তো……………….!!! থাক পুরানো কথা বাদ দে।
– ok, দিলাম। আবারো নিরবতা দুজনের মাঝে। প্রকৃতিও কেমন যেন ওদের সাথে শান্ত হয়ে গেল। মনে হচ্ছে আকাশেরও বুঝি আজ মন
খারাপ। এই বুঝি কান্না শুরু করবে।
– কিছু বলবি?
– কি বলবো?
– যা ভাবছিস এখন।
– তুই বলতে পারিস না?
– না।
– কেন?
– তুই জানিস না, “মেয়েদের বুক ফাটে তোবুও মুখ ফোটে না”।
– কেন ফোটে না? তোরা ফোটাতে চাসনা দেখেই ফোটে না।
– হা……..হা……..হা……..হা……..!!!
– তোর হাসিটা এখনো আগের মতোই সুন্দর। (দিশার দিকে তাকিয়ে বলল বিপলু)
– যাক বাবা, আমার হাসির কারণে হলেও তুই একবারের জন্য আমার দিকে তাকালি। এতক্ষণ তো আমার মনে হয়েছিলো আমি কোন গাছের সাথে কথা বলছি।
– (চুপ)
– আচ্ছা আমি আসি (দিশা উঠতে যাবে ঠিক তখনি দিশার হাত ধরে ফেলল বিপলু)
– বস।
– কেন বসবো ? তুই তো কিছু বলবি না!!
– বস বলছি।
– বল, কি বলবি?
– আমার হাতটা একটু শক্ত করে ধরবি?
– হুম ধরলাম।
– ছোটবেলায় তোকে হরলিক্স খাওয়ানী?
– কেন ? (বিস্মিত হয়ে)
– তোকে শক্ত করে ধরতে বলেছি, স্পর্শ করতে বলিনী।
– ok বাবা, ধরলাম। এবার বল কি বলবি?
– দিশা, আমি…….
– হুম….!!
– আমি……
– তারপর ?
– তোকে…
– হুম…..!!
– তোকে…
– তোকে কি …..??
– আমি একটু জল খাবো…।
– (হাত ছেড়ে দিয়ে রাগান্বিত হয়ে) যা ওই দোকান থেকে খেয়ে আয়।
– তোর কাছে নেই?
– না। বিপলু উঠে জল খেতে চলে গেল। এমন ভাবে গেল মনে হয় কত বছরের তৃষ্ণার্ত। অপর দিকে দিশার মনটা খারাপ হয়ে গেল।
Boy Proposing a Girl Cartoon - Valobasa
আজ দুই বছর পর ওদের দেখা অথচ বিপলু ওর মনের কথাটা আজও বলতে পারলো না। 
আজ থেকে ঠিক তিন বছর আগে এই দিনে দিশার সাথে বিপলুর প্রথম পরিচয় হয়।
বন্ধুত্বের কিছুদিন পরেই দিশাকে ভালোবাসতে শুরু করে বিপলু। দিশাও ব্যাপারটা বুঝতে পারে কিন্তু না বোঝার ভান করে থাকে।
মেয়েদের এই এক স্বভাব, “বুক ফাটে তো মুখ ফোটে না”। 
ওই দিকে বিপলু নানা কথা- বার্তায়, চাল-চলনে দিশাকে বোঝাতে চেষ্টা করে যে সে দিশাকে ভালোবাসে। 
দিশা বুঝেও সবসময় না বোঝার ভান করে থাকতো। কারণ, দিশা সবসময় চাইতো বিপলু দিশাকে সরাসরি প্রপোজ করুক। 
সব মেয়েরেই এই রকম স্বপ্ন থাকে যে তার ভালোবাসার মানুষ তাকে আগে প্রপোজ করুবে, তার মনের কথাটা বলবে কিন্তু বিপলু সেটা পারছে
না শুধুমাএ বন্ধুত্বটা নষ্ট হওয়ার ভয়ে।
কোনদিন আর পারেওনী। 
মাঝে অন্য একটা ছেলের জন্য দুই জনের বন্ধুত্বের ফাটল দেখা দেয়। 
অতঃপর দীর্ঘ দুই বছর পর আজ আবার তাদের দেখা কিন্তু বিপলু আজও দিশাকে মনের কথা না বলায় দিশার মন খারাপ।
২০ মিনিট হয়ে গেল বিপলু এখনো আসছে না।
দিশা ফোন করল কিন্তু বিপলু ফোনটাও ধরছে না। 
হয়তো বিপলু চলে গেছে, হয়তো বিপলুর আজও বলার সাহস হয়নী এমনটা ভেবে দিশা উঠে দাড়ালো। 
হঠাৎ পিছন থেকে কে যেন “দিশা” বলে চিৎকার করে উঠল।
দিশা পিছনে ফিরে তাকালো।
আরে এতো বিপলু! 
ও একটু দূরে হাটুগেড়ে বসে আছে, হাতে এক গুচ্ছ লাল গোলাপ। 
বিপলু লাল গোলাপ গুলো দিশার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে চিৎকার করে বলে উঠল, 
– দিশা……, I……Love…… You……. .!!!
লেকের পাড়টা যেনো বিপলুর চিৎকারে কেপেঁ উঠল। 

লেকের পাড়ের উৎসুক মানুষ গুলোর দৃষ্টি এখন শুধু বিপলু আর দিশার দিকে।
এমন দৃশ্য হয়তো আজ বিরল তাই কেউ কেউ ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে গেল।
অন্য দিকে দিশা অপলক দৃষ্টিতে বিপলুর দিকে তাকিয়ে রইল। 

যে বিপলু ভালোবাসি কথাটা বলতে তিন বছর সময় নিলো, যে বিপলুর মনের কথাটা বলতে গেলে হাত কাপঁতে শুরু করে সেই বিপলু আজ পুরো পৃথিবীর সামনে প্রপোজ করল!
এটা ভাবতেই দিশা অবাক হয়ে গেল।
দিশা কেমন যেনো নিস্তব্ধ হয়ে গেলো।
দিশার বিস্ময় যেনো কাটছে না। 
বিপলু সত্যি আজ প্রপোজ করল নাকি দিশা স্বপ্ন দেখছে। 
কেন যেনো আজ নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না দিশা। 
সব কিছুই যেনো আজ স্বপ্ন মনে হচ্ছে। 
এই সব কথা ভাবতে ভাবতে দিশার চোখে জল চলে আসল।
– কিরে আর কতক্ষণ বসে থাকবো ??
বিপলুর কথায় যেনো জ্ঞান ফিরল দিশার।
দিশা আস্তে আস্তে বিপলুর দিকে এগিয়ে আসলো। 
বিপলুর হাত থেকে ফুলের তোড়াটা নিলো। 
বিপলু উঠে দাড়ালো। দিশা বিপলুর দিকে তাকিয়ে স্তব্ধ হয়ে দাড়িয়ে রইল।
কিছুক্ষণ পর......
– কিরে, কিছু বলবি না ?
– কি বলবো ? (দিশার চোখে জল)
– তুই কাঁদছিস কেন ?
– মার খাবি। এই কথাটা বলেতে এত সময় লাগলো?
– ওকে, সরি…..।
– কান ধর।
– কার? তোর না আমার?
– তোর, শয়তান। (ধমক দিয়েই বলল দিশা)
বিপলু কানে ধরতে যাবে ঠিক তখনি দিশা “I Love You Too” বলে বিপলুকে জড়িয়ে ধরল। 
দিশার চোখ দিয়ে জল পড়তে লাগলো। 
বিপলু জানে দিশার চোখে আজ কোনো কষ্টের কান্না ছিলো না, যা ছিলো তা ছিলো আনন্দের।
আর বিপলুর চোখে- মুখে ছিলো আনন্দের হাসি। 
গত দুই বছর বিপলু দিশার জন্য অনেক কেঁদেছে, সেই কাঁন্না আজ হাসিতে রুপান্তরিত হয়েছে।

Monday, August 29, 2016

বাবা কি বোকা

আজ আপনাদের জন্য রয়েছে,
দুটো ছোট ছোট মজার গল্প, এবং দুটোতেই রয়েছে বাবার চরিত্র।
Funny Hindi Jokes - Valobasa
বুল্টি ওর বাবা, ঘুঘুচাঁদ বাবুর সাথে বসে আছে!
এমন সময় হঠাৎ সেখানে বয়ফ্রেন্ড লেবু উপস্থিত!
ভয়ে প্রথমে বুল্টির মুখ শুঁকিয়ে গেল!
তারপর বুদ্ধি করে বুল্টি লেবুকে জিজ্ঞেস করলঃ- তুমি কি চমচম খাঁর লেখা "DADDY IS AT HOME " বইটা নিতে এসেছ?
লেবুঃ- না, আমি কুমকুম কুমারীর লেখা "WHERE SHOULD I WAIT FOR YOU?" বইটা নিতে এসেছি।
বুল্টিঃ- সরি, এই বইটা আমার কাছে নেই, তবে তুমি কুমার কার্তিকের লেখা "UNDER THE MANGO TREE" বইটা পড়ে দেখতে পারো।
লেবুঃ- ঠিক আছে, তবে তুমি কলেজ যাবার সময় "Retail Management guide, CALL YOU IN 5 MINUTES " টা আনতে ভুলো না।
বুল্টিঃ- আমি কলেজ যাবার সময় তোমার জন্য অচেতন ভগতের লেখা "I WON'T LET YOU DOWN" বইটাও নিয়ে আসব।
লেবু "Bye" জানিয়ে চলে গেলো।
তখন বুল্টির বাবা ঘুঘুচাঁদ বাবু বুল্টিকে জিজ্ঞেস করলেনঃ- "এত গুলো বই! ছেলেটা কি সব পড়ে ফেলতে পারবে?!" বুল্টি চোখ উজ্জ্বল করে বললঃ- "হ্যাঁ বাবা, ও খুব স্মার্ট, বুদ্ধিমান আর মেধাবী ছেলে!"
ঘুঘুচাঁদঃ- (বুল্টিকে চোখ টিপে) ও তাই নাকি! তাহলে ওকে বরং প্রেমকান্ত বাক্যবাগীসের লেখা "OLD MEN ARE NOT STUPID" বইটাও একবার পড়তে বলিস! 
তুইও পড়িস! বুঝলি? কাজে দেবে!
Hindi Funny Photo - Valobasa
মাঃ কি রে, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাত খাচ্ছিস কেন?
বল্টুঃ এখন থেকে এভাবেই খাবো।
মাঃ কেন রে ?
বল্টুঃ আর কত অপমান সহ্য করব?
.
.
.
.
.
.
.
বাবা রোজই বলে এত বড় ছেলে, এখনো বসে বসে খাস! :D :D

Monday, August 8, 2016

যুক্তি দিয়ে ভালোবাসা বিচার করুন

বলতে গেলে এটাকেও একটা মজার গল্প বলা যেতেই পারে।
কিন্তু একটু বুঝেই দেখুন, আসলে কথাটা খারাপ না।
ও হো আপনি তো এখনও গল্পোটাই জানেন না, আগে পড়ে ফেলুন তাড়াতাড়ি।
Indian Couple Love Momoent - Valobasa
ট্রেনে এক অর্থনীতিবিদের পাশে বসে ছিল এক যুবক।
যুবকের চেহারায় ছিল দুশ্চিন্তার ছাপ। 
কিছুক্ষণের মধ্যে তাদের দুইজনের পরিচয় হল। 
কথা-বার্তার এক পর্যায়ে যুবকটি অর্থনীতিবিদকে বলল...,

যুবকঃ আমি ৬ বছর আগে বিয়ে করেছি। আমার স্ত্রী আমাকে খুব ভালোবাসে। আমার ৫ বছরের একটি মেয়েও আছে। কর্মক্ষেত্রেও আমি যথেষ্ট সাফল্য অর্জন করেছি। কিন্তু ১ বছর আগে একটি সুন্দরী মেয়ের সাথে আমার পরিচয় হয় এবং আমরা একে-অপরের প্রেমে পড়ে যাই।

অর্থনীতিবিদঃ এখন আপনি কি করবেন?

যুবকঃ আমি আমার স্ত্রীকে ছেড়ে দিতে চাই। তবে, এখনো ফাইনাল ডিসিশন নিতে পারি নি। ভীষণ দুশ্চিন্তায় আছি। কি করা যায়, বলুনতো? 

অর্থনীতিবিদঃ হুম..., এই দুটোর মধ্যে একটি বাছাই করা সত্যিই খুব কঠিন কাজ। কিন্তু অর্থনীতির হিসাব দিয়ে বিশ্লেষণ করলে আপনার সমস্যার সমাধান করা যায়!! 
ধরুন, আপনি আপনার বসের কঠিন কোন সমস্যার সমাধান করে দিলেন।
এখন তিনি আপনাকে পুরষ্কার দিতে চান।
তিনি আপনাকে দুটো পুরষ্কারের থেকে একটি বেছে নিতে বললেন।
আপনাকে নগদ ৫ লাখ টাকা দেয়া হবে। অথবা, ২ বছর পর ৭ লাখ টাকা দেয়া হবে। তখন আপনি কোনটি নেবেন?

যুবকঃ অবশ্যই নগদ ৫ লাখ টাকাই নেবো।

অর্থনীতিবিদঃ কেন? 

যুবকঃ কে জানে ২ বছর পর কী ঘটবে? ২ বছর পর আমি টাকাটা পাবোই এমন তো কোন নিশ্চয়তা নেই। 
কিন্তু ৫ লাখ টাকা তো আমাকে এখনই দেওয়া হবে। 

অর্থনীতিবিদঃ (হেসে বলল) আপনি একদম ঠিক বলেছেন। 
একইভাবে, ভবিষ্যতে ঐ সুন্দরী আপনাকে এখনকার মতই ভালোবাসবে, এমন তো কোন নিশ্চয়তা নেই। কিন্তু আপনি তো এটা নিশ্চিত যে, আপনার স্ত্রী আপনাকে কতোটা ভালোবাসে..., যুবকটি তার ভুল বুঝতে পেরে প্রচন্ড আবেগে অর্থনীতিবিদকে জড়িয়ে ধরল এবং কেঁদে ফেলল...।

Friday, August 5, 2016

ভালোবাসা মানে পাশে থাকা

এই গল্পটা সেই দুজনের,
যাদের সন্তান নেই, আর হবেও না কোনোদিন।
Indian Lovly Actors Couple  Love -Valobasa
"কি ব্যাপার সকাল আটটা বাজে। আজ কি অফিসে যেতে হবে না নাকি?" - ঝুমের ডাকে চোখ ডলতে থাকে জীত।
জানালার পর্দাটা সরিয়ে দেয়ার সাথে সাথেই সকালের আলোটা চোখে এসে পড়ে জীতের।
বিছানার পাশেই ভেজা চুল ঝাড়তে শুরু করে ঝুম। 
ভেজা চুলের ছাট এসে জীতের মুখে পড়ে। 
জীত ঝুমের হাতটা ধরে কাছে নিয়ে এসে কপালে একটা চুমু একে দিয়ে বলে, "ভালোবাসি,ভালোবাসি, ভালোবাসি"
ঝুম ও জীতের নাকটা হালকা টেনে বলে, "ভালোবাসি,ভালোবাসি, ভালোবাসি"
এমনটা প্রতিদিনই হয়।
ভালোবাসা বাড়ে ধীরে ধীরে। কখনোই কমে না। 
ছ বছর হলো ঝুমের আর জীতের বিয়ে হয়েছে। 
এতটুকু পরিমান মন খারাপ করতে দেখেনি ঝুমকে। 
জীত এতেই খুশি। লাভ ম্যারিজ। দুজনকেই দুজন খুব সুন্দর করে বোঝে।
ঝুম কখনোই পুরো পৃথিবী দাবি করে না জীতের কাছে।
জীত ই তার জন্য যথেষ্ট। 
জীত ঝুমকে রাজকুমারী বলে ডাকে। 
ঝুমের খুব লজ্জা লাগে। আবার অনেক ভালোও লাগে।
জীত ঝুমকে ছাড়া কিচ্ছু বোঝে না। অফিসে যাওয়ার আগে ঝুম আমার রুমাল কই, ঝুম আমার মোবাইল কই,ঝুম আমার টাই কই,ঝুম আমার ফাইল কই, এইটা কই ওইটা কই নানা কথা বলে ঝুমকে অস্থির করে ফেলে। 
এমনকি টাইটাও নিজ হাতে বাধা শিখেনি কারন ঝুম বেধে দেবে বলে। 
বড্ড ক্লান্ত হয়ে যেত ঝুম। 
কিন্ত অফিসে যাওয়ার সময় যখন ঝুমের কপালে চুমু দিয়ে জীত বলে, 'সারাটাদিন তোমায় অনেক মিস করবো '
তখনই যেন ঝুমের ক্লান্তি নিমিষেই দূর হয়ে মুখে হাসি ফুটে ওঠে। 
পরম বিশ্বাসে মাথা এলিয়ে দেয় জীতের বুকে।
কিন্তু জীবনে সুখের পাশাপাশি দুঃখও আছে। 
জীত সবসময় তা লুকানোর চেষ্টা করে। 
ঝুম রোজ ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাদে। কিন্তু জীত ঝুমের শব্দ ছাড়া কান্না বুঝতে পারে। 
তখনই চোখের জল স্পর্শ করে ঝুমের অধর থেকে সরিয়ে দেয়। 
রাগ করে বলে, 'আবার কান্নাকাটি করলে আমি কিন্তু মরে যাবো ' এটা বলে জীতও কেঁদে দেয়। 
এভাবেই কষ্ট ঢেকে যায়। 
কিন্ত ঝুমের কষ্টটা যেন একটু বেশিই।
তিন বছর আগের ঘটনা। ছ মাসের অন্তঃস্বত্তা ঝুম। 
বেশ ভালোই চলছিল জীত আর ঝুমের দিনগুলো। 
পেটের ভেতর থাকা বাচ্চা টা পা দিয়ে ধাক্কা মারে আর ঝুম ব্যাথায় কাতরে ওঠে। এদিকে জীত হেসে হেসে প্রায় খুন।আর রেগে গিয়ে ঝুম বলত“ তোমার মতোই দুষ্টু হবে”।
কোনো এক দুপুরবেলা হঠাৎ বাথরুম থেকে চিৎকার এর আওয়াজ আসে। 
জীত বাথরুমের দরজা খুলে যেন চোখে মুখে অন্ধকার দেখা শুরু করলো।
বাথরুমের মেঝে রক্তে লাল হয়ে রয়েছে। 
আর ঝুম যন্ত্রনায় ছটফট করছে।
এরপরে ঘটনা স্বাভাবিক হতে পারতো।
কিন্তু ভাগ্যে হয়তো অস্বাভাবিক কিছু ছিল। 
প্রচন্ড আঘাতের কারনে মা হবার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে ঝুম।
ঝুম শুধু কেঁদে যায় জীতের হাত ধরে আর জীত মিথ্যে শান্তনা দিতে থাকে।
"কাঁদছ কেন? 
ধুর পাগলি। ভগবান হয়তো আরো বড় উপহার রেখেছে আমাদের জন্য। কিচ্ছু হবে না।
কাঁদবে না তো। তাহলে কিন্ত আমি কেঁদে দেবো।"
মুহূর্তগুলো খুবই কষ্টকর।
এখনো ঝুম যখন বারান্দায় একা একা বসে থাকে তখন জীত পাশে গিয়ে বসে আকাশের দিকে আঙুল দেখিয়ে বলে,
"ওই যে চাদটা দেখছো না? তার পাশের তারাটাই আমাদের বাচ্চা টা"
মনটা যেন আরো ভারী হয়ে যায় ঝুমের। ভারি মনটা আর ধরে রাখতে না পেরে জীতের বুকে এলিয়ে দেয়। 
আর জীত ঝুমের কপালে চুমু দিয়ে বলে, "ভালোবাসি,ভালোবাসি, ভালোবাসি" কী অদ্ভুত এই ভালবাসা তাই না।

Thursday, August 4, 2016

মায়ের তুলনা হয়না

একমাত্র মায়ের ভালোবাসা স্বার্থহীন।
বাকি সবেতেই স্বার্থ।
 তাই ভালোবাসার কথা আসলেই মায়ের কথা বলতেই হয়।
Indian Mother With Son Love - Valobasa
যে মেয়েটার বিছানায় গড়াগড়ি করে কিংবা হাত পা ছুঁড়ে ঘুমানোর অভ্যাস এক সময় সেই মেয়ে এক কাত হয়ে সারারাত পার করে দেয় কারণ সে জানে তার পাশে শুয়ে আছে ছোট্ট একটা বাবু। 
এখন কিছুতেই হাত-পা ছোড়া চলবে না।
যে একটা সময় লাল পিঁপড়ার কামড় খেয়ে চেঁচিয়ে বাড়ি মাথায় তুলত, আজ তার ভেতরে বেড়ে উঠা ছোট্ট প্রাণটা
সারাদিন হাত পা ছোড়াছোড়ি করে, প্রতিটা লাথি বেশ জোরেই আঘাত করে তবু মা দাঁতে ঠোট চেপে সব সহ্য করে, হয়ত দু ফোঁটা জলও গড়িয়ে পড়ে।
সে জল যতটা কষ্টের তার থেকে অনেক বেশি আনন্দের কারণ সে অনুভব করে তার বাবুটার জীবন্ত প্রাণের স্পন্দন।
একদিন নাড়াচাড়া না করলে অজানা আশংকায় বুক কেঁপে ওঠে "সবকিছু ঠিক আছে তো??"
একদিন হঠাৎ তীব্র যন্ত্রণা।
জানান দেয় তার সন্তানের পৃথিবীতে আগমন এর সময় হয়েছে। 
বোধ হয় পেটের ভিতরে কেউ কিছু টেনে ছিঁড়ে ফেলছে। 
কুড়িটি হাড় একসাথে ভেঙে দেওয়ার সমান কষ্ট নারীজাতি সেদিনই অনুভব করতে পারে। 
এত কষ্টের পর সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে মায়ের ক্লান্ত বিধ্বস্ত চেহারা খানি এদিক ওদিক খোঁজে ফেরে একজনকে, মৃদু করে বলে "আমার বাবু কোথায় ?"
ছোট্ট একটা রক্ত মাখা শরীর তুলে দেওয়া হয় তার কোলে। 
টপটপ করে নোনা জল গড়িয়ে পড়ে সে দেহে।
তার বুকে মাথা রেখে মা বাবুটার হৃদস্পন্দন শোনে। 
আচ্ছা এটা কেন বলে না "তুই আমায় খুব দিয়েছিস। তোকে আমার লাগবে না।
"মা জানে তার এই ছোট্ট বাবুটা ছাড়া তার একদম চলবে না। 
বাবুটা মায়ের বুকের উষ্ণতায় চুপটি শুয়ে থাকে মায়ের নির্ঘুম চোখ তাকে সারারাত পাহারা দেয়। 
ফিসফিস করে বাবুটাকে শোনায় "তুই ভাল থাকলেই আমি ভাল থাকব।
"তুমি কি করে পার মা?
তবুও কেন আমরা তোমার মর্যাদা দিতে পারি না..??
কেন শেষ বয়সে তোমার ঠিকানা হয় ওই বৃদ্ধাশ্রম!

Wednesday, July 27, 2016

ভালোবাসা আমাকে মানায় না

সব লেখা তো আর সবার ভালো লাগেনা।
এটা আপনার কাছে খারাপ লাগলো বাট অন্য কারোর কাছে ভালোও লাগতে পারে,
তাই খারাপ ভালো সবই পোস্ট করতে হয়, আজকের টা শুরু করি।
Sad Girl Tears - Valobasa
- হ্যালো! ভালো আছো?
- তোমাকে না বলেছি আমাকে আর ফোন করবেনা।
- কেন এমন করছ আমার সাথে? ফোনের অপর প্রান্তে কাঁদো কাঁদো স্বর দিপ্তীর। আমি কি করেছি?
- আমি তো তোমাকে বলেছি, আমি অন্য একটা মেয়ের সাথে রিলেশনে আছি, কথা কি মাথায় ঢোকেনা তোমার?
- তাহলে আমার কি হবে? আমার সাথে কেন ব্রেক-আপ করলে?
- তোমাকে এখন আর আমার ভালো লাগেনা।
-আমি বিশ্বাস করিনা।
এমন সময় হঠাৎ তীব্র মাথা ব্যাথায় চোখে অন্ধকার দেখতে থাকে সাগর, ফোন কেটে দিয়ে পেটে হাত দিয়ে চেপে ধরে ছটফট করতে থাকে।
সময় জ্ঞান হারিয়ে যায় মনে হতে থাকে যেন অনন্ত কাল ধরে এই মাথা ব্যাথা হয়েই যাচ্ছে।
যেভাবে আচমকা ব্যাথা টা এসেছিলো ঠিক সেভাবেই চলে যায় হঠাৎ করে।
সাগর ঘড়ির দিকে তাকায় প্রায় টানা তিন ঘণ্টা ধরে ছটফট করেছে সে।
ওষুধ খাবার সময় হয়ে এলো, এখনি আবার ডাক্তার আঙ্কেল আসবেন দেখে যাওয়ার জন্য।
সাগর জানে তার হাতে আর বেশীদিন সময় নেই, কিডনিটা দিন দিন খুব খারাপ হচ্ছে ধীরে ধীরে।
- দাদা ওষুধ খেয়েছিস?
- ওষুধ খেয়ে কি হবে বোন? সাগর মলিন স্বরে হেসে ওঠে।
- ছোট বোনটা থমকে দাঁড়ায়, কান্না আটকে রাখার আপ্রান চেষ্টা করেও আর না পেরে বের হয়ে যায় রুম থেকে।
সাগর বুঝতে পারে কাজটা ভালো হয়নি।
সে ওষুধ খেয়ে, বোনের কাছে গিয়ে বোনকে জড়িয়ে ধরে, বোন তার মাথায় হাত বুলাতে থাকে আর সাগর চুপ করে বোনের  কোলে মাথা দিয়ে বসে থাকে।
এমন সময় সাগরের ফোনে মেসেজ আসে একটা, স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখে দিপ্তীর মেসেজ।
“আই হেট ইউ” - তোমার সাথে আর কখনো যোগাযোগ করবোনা আমি। আমার ভাবতেই ঘৃণা হচ্ছে যে আমি তোমার মত ছেলে কে ভালোবেসে ছিলাম।

সাগরের চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরতে থাকে,
সে ফিস ফিস করে বলে, “আমাকে ঘৃণা করে তুমি সুখে থাকো দিপ্তী।
অন্য কাউকে ভালবেসো তুমি।
তুমি তো জাননা ভালোবাসা আমাকে আর মানায় না।”

Tuesday, July 19, 2016

সাবধান

আজ একটা নির্ভেজাল মজার গল্প নিয়ে হাজির হলাম।
তবে কেউ মাইন্ড কইরেন না। :D
Bapi VS Baba - Valobasa.In
আপনি বাস থেকে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে রাস্তায় পড়ে গেলেন।

পিছন থেকে আরেকটা বাস এসে আপনাকে চাপা দিয়ে পিষে চলে গেল!

আপনি মারা গেলেন।

আপনি মারা যাওয়ায় আপনার বন্ধুরা মিলে সেই বাস কোম্পানির বাসগুলো ভাঙচুর শুরু করল! আগুন ধরালো!

এর ফলে বাসের পেট্রোলের ট্যাঙ্কিতে আগুন ধরে প্রচন্ড বিস্ফোরন ঘটল!

এদিকে দেখা গেল যে এই বিস্ফোরনের দায় আইএস স্বীকার করে নিয়েছে। ফলে সারা বিশ্বে খবরটা ছড়িয়ে পড়ল!

আমেরিকা এ নিয়ে উদ্ধেগ প্রকাশ করল! রাশিয়া আইএস দমন করার জন্য ইচ্ছা পোষন করল! 

রাশিয়া ইচ্ছা পোষন করায়, আমেরিকা দেরি না করে বিনা নোটিশে বোমারু বিমান আকাশে পাঠিয়ে দিল আইএস দমন করার উদ্দেশ্যে।

বিমান থেকে টপাটপ বোম পড়তে থাকল এবং শহর ধ্বংস হতে থাকল!

এদিকে রাশিয়াও বসে নেই। তারাও বোমারু বিমান পাঠিয়ে দিলো শক্তি প্রদর্শনের জন্য।

একদিন দেখা গেলো, আমেরিকার বিমান ও রাশিয়ার বিমানে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়ে দুটো বিমানই ধ্বংস হয়ে গেছে।

এই খবর ছড়িয়ে পড়ল বিশ্বের আনাচে কানাচে।

আমেরিকা দাবি করল, রাশিয়া তাদের উপর হামলা চালিয়েছে আর রাশিয়া দাবি করল,এসব আমেরিকার দোষ। বেজে উঠল যুদ্ধের দামামা। শুরু হয়ে গেল "তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ"...

আমেরিকা রাশিয়াকে পারমানবিক বোমা মারল, রাশিয়া মারল আমেরিকাকে।

সুযোগ বুঝে ভারত-পাকিস্থান, ইরান-ইজরাইল ইত্যাদি দেশগুলোর মধ্যেও পারমানবিক বোমা বিনিময় হল।

এক বছরের মধ্যে দেখা গেল, পৃথিবী ধ্বংস হয়ে গেছে চিরতরে ....

সুতরাং, বাস থেকে ধীরে সুস্থে নামুন এবং পৃথিবীকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করুন। :D :D

Saturday, July 16, 2016

মধ্যবিত্ত ছেলেমেয়ের ভালোবাসা

মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেদের ভালোবাসা!
সে একদম অন্য রকম ভাবে হয়, তাহলে একটা গল্প শোনানো যাক মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেদের ভালোবাসা সম্পর্কে।
Boy In Rain - Valobasa
মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেগুলা হুট করে কোন মেয়েকে বলতে পারেনা ভালোবাসি।
কারন ওরা নিজেদের নিয়ে একধরনের হীনমন্যতায় ভোগে।
ওদের মনে সবসময় একটা ভীতি কাজ করে, ওর সামাজিক অবস্থান জানার পর মেয়েটি যদি ওকে ফিরিয়ে দেয়।
মেয়েটা যদি ছেলেটার প্রস্তাবে সাড়া দেয় তবুও দুশ্চিন্তার শেষ নেই!
একটা সম্পর্কে জড়ানোর চেয়ে সে সম্পর্কটা টেনে নেয়ার কাজটা বরং বেশি কঠিন।
মেয়েটার সাথে নিয়মিত ফোনে কথা বলা। কোন উতসবে দুজনে মিলে ঘুরতে বের হওয়া।ভালো কোথাও খেতে যাওয়া কিংবা জন্মদিনে টুকটাক কিছু গিফট করার কথা মাথায় আসলে চোখেমুখে অন্ধকার দেখে ছেলেটা। 
এই চিন্তা থেকে অনেক ছেলেই কোন মেয়েকে তার ভালোবাসার কথা কোনদিন মুখ ফুটে বলতে পারেনা। 
এ সবকিছুর পরও অনেক ছেলে সাহস করে মেয়েটাকে ভালোবাসি বলে ফেলে।
মেয়েটাও একসময় ভবিষ্যতের কথা না ভেবেই রাজি হয়ে যায়। 
ছেলেটা তখন থেকে নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করে। 
স্বপ্ন দেখে খুব অল্প সময়ের মধ্যে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে মেয়েটাকে বিয়ে করে সুখের সংসার বুনবে।
মেয়েটা কলেজের সেকেন্ড কিংবা থার্ড ইয়ারে উঠতেই বাড়ীতে বিয়ের প্রস্তাবের হিড়িক পড়ে যায়।
মেয়েটা গভীর রাতে দিশেহারার মত ছেলেটাকে ফোন করে অসহায়ের মত চোখের জল ফেলে আর ছেলেটা পাথরের মূর্তির মত মন দিয়ে সব কথা শোনে এবং দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
আর মধ্যবিত্ত হয়ে জন্ম নেয়ার জন্য মনে মনে নিজেকে অভিশাপ দেয়।
একসময় ওরা দুজন নিয়তিকে মেনে নেয়। 
ওরা কেউ কাউকে দোষ দেয়না।
যেন ওদের ভাগ্যে এমনটাই হবার কথা ছিল।
সারাজীবন হয়ত একটা অপূর্নতা বয়ে বেড়াতে হবে এটাই যা আফসোস। মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়েদের সবচেয়ে বড় গুন ওরা অনানুষিক কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা নিয়ে জন্মায়।
যেদিন বাড়িতে ছেলেপক্ষ মেয়েটাকে দেখতে আসে মেয়েটা তখন বুকে পাথর রেখে শাড়ি পরে মাথা নিচু করে ওদের সামনে গিয়ে বসে।
মেয়েটার বুকের মাঝে যে রক্তক্ষরন হয় সেটা কেউ টের পায়না। 
একসময় মেয়েটার বিয়েও হয়ে যায়।
আবার চলতে থাকে কম্প্রোমাইজ, মেনে নেওয়ার খেলা।
থেমে থাকে না কিছুই.., মধ্যবিত্ত মানুষদের থামতে নেই।

Saturday, July 2, 2016

ভালোবাসা বর্তমানে

আজ কিছুদিন পর পোস্ট করছি,
কোনও গল্প নয় একদম সত্যি যা ঘটছে আজকাল।
Alone Sweet Sexy Girl - Valobasa

'সেক্স না করলে তোমার সাথে রিলেশন রাখবোনা' - এমনই হুমকি দিয়েছে আমার পরিচিত এক মেয়ে বন্ধুকে তার বয়ফ্রেন্ড,শুনে খুব খারাপ লাগলো। 
সে জিজ্ঞেস করলো কি করবে, ছেলেটিকে নাকি সে খুব ভালবাসে। 
আমি তাকে বললাম তুমি চিন্তা করে দেখ কি করবে।
আর এটা ভালবাসা নয় জাস্ট মোহ এবং সেক্সের ফাঁদ সুতরাং এইসব প্লেবয় থেকে দুরে থাকাই শ্রেয়।
শুনেছি তাদের ব্রেক-আপ হয়ে গেছে কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্রেক-আপ হয়না বরং দুজনে সমান তালে চালিয়ে যায় ফোনসেক্স তারপর রুমডেট, লিভ টুগেদার ইত্যাদি ইত্যাদি। 
এরপর অবহেলা, ঝগড়া অতঃপর ব্রেক- আপ। 
শুরু হয় অন্যকারো সাথে রিলেশন আবার এইসব নোংরামি।
এটাই হচ্ছে ডিজিটাল যুগের ওভারস্মার্ট ছেলেমেয়ের প্রেমের প্রকৃতি।
তাদের কাছে প্রেম এখন ডেটিং সেক্স কিস আর চ্যাটসেক্স ফোনসেক্সের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে, আর কিছু প্লেগার্ল আছে তারাতো ফোনসেক্স বা লিভ
টুগেদারের ক্ষেত্রে ছেলেদের চাইতে এগিয়ে, ভালবাসায় এখন নেই কোন আন্তরিকতা, বিশ্বাস ও হৃদয়ের টান।
লিভ টুগেদার, নামমাত্র প্রেম করে দুদিনের মাথায় অমুক তমুখ সন্তু রিন্টু দেবুর ফ্ল্যাটে নিয়ে গিয়ে সেক্স আদান প্রদানই হাল যুগের ছেলেমেয়ের কাছে এখন অত্যাধুনিক ফ্যাশন, ভালোবাসার অপর নাম।
আর সেক্স করতে রাজি না হলে ব্রেক-আপ করে ওভারস্মার্ট ছেলে। আবার কিছু মেয়েও আছে যারা সেক্সকেই প্রেমের মুল উপাদান মনে করে থাকেন।এক মেয়ে এমনই একটি কমেন্ট করেছিলো লিভ টুগেদার বিষয়ক এক পোস্টে, কমেন্টটি এইরূপ "প্রেম করলে বয়ফ্রেন্ডের সাথে সেক্স করতেই পারে এটা ব্যভিচার কেন হবে?
এরপর তার কমেন্টের রিপ্লাই দেয়ার প্রয়োজন হয়না সে কোন স্কেলের মেয়ে
তা দুধের শিশুও অবগত হয়ে যাবে নিমিষে।
খুব অবাক লাগে ওভারস্মার্ট একটি মেয়ে যখন তার বয়ফ্রেন্ডের দামি গিফটের
বিনিময়ে রুমডেটে সেক্স করে তাকে স্যাটিসফাই করে।
ধীরেধীরে আমরা তলিয়ে যাচ্ছি অন্ধকার যুগে যখন বিনা বিবাহবন্ধনে মিলন
হত।
অবশ্য এসব ওভারস্মার্ট প্লেবয় বা প্লেগার্লদের ভাগ্যই প্রেম জোটে আর ভালো
ছেলেমেয়েরা সিঙ্গেল।
এরা সেকালে কারন এরা সারারাত ব্যাপি ফোনসেক্সে বিশ্বাসী নয় বা লিভ টুগেদার করে প্রেমের সুনাম নষ্ট করতে নারাজ কারন এরা অতি আধুনিক হতে গিয়ে স্রষ্টার দরবারে অপরাধী হতে রাজি নয়।
তো আসুন নোংরামি বন্ধ করে প্রকৃত ভালবাসাকে শ্রদ্ধা করি।
কারন কিছু নোংড়া মানুষের কারনে ভালবাসার পবিত্রতা নষ্ট হোক এটা কারো কাম্য নয়।

Thursday, June 16, 2016

ইগো ফেলে দিন, সুখি থাকবেন

আজকাল বেশিরভাগ সম্পর্ক খারাপ হচ্ছে ইগোর কারনে।
আজ একটু ওটার উপর আলোকপাত করি।
খুব সহজেই নিজের ভুল মেনে নেওয়ার মানসিকতা খুব কম মানুষেরই থাকে।
অধিকাংশ সময় আমরা নিজেদের কষ্টটাকেই বড় করে দেখি, আমাদের কথায় বা ব্যাবহারে যে অন্য কেউ কষ্ট পেতে পারে সেই কথাই ভুলে যাই।
আমরা কখনই আগে সরি বলিনা, ওপাশের মানুষটি কখন সরি বলবে এই আশায় থাকি।
আমরা খেয়াল করি না যে সেও আমার মতোই মানুষ, সেও সরি না বলে অপেক্ষায় আছে।
এই দ্বন্দ্বের কারণেই দূরত্ব সৃষ্টি হয়। 
যে মানুষ একসময় হৃদয়ের অনেক কাছে ছিল সে অনেক দূরে সরে যায়।
এই ইট-পাথরের জগত অনেক বেশি স্বার্থপর, আপনজন খুব কম মেলে এখানে। 
নিজেদের ছোট ছোট কিছু ভুল, নিজেদের ইগোর কারণে সেই মানুষগুলোকেও আমরা দূরে সরিয়ে দিই। একা হয়ে যাই আমরা।
শুধু একটু প্রচেষ্টা, অন্যের দিকটা একটু বুঝতে পারার মানসিকতাই কাছের মানুষগুলোকে হারিয়ে যেতে দেবে না
কখনও।